মেলার স্থায়ী নকশা সময়ের দাবি  

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:০২ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৪:০০ এএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

‘মেলার পরিধি বাড়লো। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেলার আঙিনা বাড়ায় দম ফেলা যাচ্ছে। সবাই এমনটিই চেয়েছিল। এরপরেও কোথায় যেন ঘাটতি রয়েছে। এখনও মেলায় এসে মানুষকে ধাঁধায় পড়তে হয়। প্রতি বছরই নকশায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ধাঁধা কাটাতে মেলায় স্থায়ী নকশা সময়ের দাবি।’

বলছিলেন, অনন্যা প্রকাশনার সত্ত্বাধিকারী মনিরুল হক। মেলার আয়োজন নিয়ে কথা হয় জাগো নিউজ-এর সঙ্গে। এবারের মেলা প্রসঙ্গে মনিরুল হক বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ছিল না এ বছর। কিন্তু মেলা শুরুর আগেই চাপা উত্তেজনা কাজ করছিল। শেষ পর্যন্ত ভয় কেটে গেছে। চাপা উত্তেজনার কারণেই মেলার প্রথমভাগে ঠিক জমে ওঠেনি। মেলা জমে ওঠেছে মধ্য সময় থেকে।

বইয়ের কাটতির ব্যাপারে বলেন, বসন্তবরণ এবং বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের পর থেকেই স্টলগুলোতে বিক্রি বেড়েছে। শেষ পর্যন্ত বিক্রি ভালোই হবে বলে মনে করি।

মেলার নকশায় এখনও পূর্ণতা আসেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়ন হচ্ছে। মেলাতেও প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু কোথায় যেন এখনও ঘাটতি রয়ে গেছে। মেলার ঢোকার পরেই ত্রুটি চোখে পড়ে। প্রবেশমুখে এত স্টল দেয়ার দরকার কি? ওই জায়গাটি অন্তত দৃষ্টিনন্দন রাখা যায়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশাল জায়গা পড়ে থাকে। মেলাটি বিশ্বমানের করে তুলতে পরিধি আরও বাড়ানো যেতে পারে।

মেলার উদ্দেশ্য ও লেখার সাহিত্যমান প্রসঙ্গে বলেন, অনেক লেখক এখন বই লিখছে। বলতে গেলে মেলার সফলতা হচ্ছে প্রচুর লেখক তৈরি করা যাচ্ছে। তবে বইয়ের সংখ্যার উপরেই যেন সবাই জোর দিচ্ছেন লেখকরা। ভালো বই খুব কমই বের হচ্ছে। মেলা আয়োজনের হতাশা ঠিক এখানেই। লেখার সাহিত্যমান না বাড়াতে পারলে মেলার সার্থকতা ঠিক কোথায়?

প্রযুক্তির কারণেই মানুষ হয়তো সিরিয়াস বিষয়ে মন দিতে চাইছেন না, এমনটি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বাংলা ভাষা আর সংস্কৃতির মান উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে পাঠকের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্ব। পাঠক চায় বলেই লেখকরা লেখেন। পাঠক যা চাইবেন, লেখকরা তাই লিখবেন।

তবে দায়িত্ববোধের প্রশ্নে লেখক এবং প্রকাশককেও সাহিত্যমানে গুরুত্ব দেয়া সময়ের দাবি বলে মনে করি। বাংলা ভাষা এবং সংস্কৃতিকে বিশ্বমানের করে তুলতে হলে সবাইকে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে হবে।

এএসএস/এমআরএম