বইমেলায় দীপকের বাংলাদেশের একটি মানচিত্র

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:১১ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

সাহিত্যিক ও সাংবাদিক দীপংকর দীপক কাব্যিক ছন্দে শব্দের পরে শব্দ বিষয়ে বাংলাদেশের একটি মানচিত্র-ই এঁকে ফেলেছেন। কবিতাটির নামও দিয়েছেন ‘বাংলাদেশ’। এটি তার সদ্য প্রকাশিত ‘হে বঙ্গ’ গ্রন্থে সংযোজন করা হয়েছে। এবারের গ্রন্থমেলা উপলক্ষে বইটি প্রকাশ করেছে মিজান পাবলিশার্স।

‘বাংলাদেশ’ কবিতায় বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সমৃদ্ধির কথা তুলে ধরা হয়েছে। কবি লিখেছেন, ‘আমরা স্বাধীন, আমার নবীন; আবার আমরা-ই চিরন্তন/ মানি না শোষণ, মানি না বারণ-আমরা পথচলি অবিরাম/ আমরা কোমল, আমরা সবল; ওগো- ফুল ছেড়ে ধরি কাঁটা/অধিকার আদায়ে রাজপথে নামি, করি গো বাংলাপেটা।’

বাঙালির সাহসিকতার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘গোলা-বারুদে ভয় নাহি পাই, করিনু-সম্মুখ লড়াই/জানি গো জানি আসবে বিজয়, সত্যি হল তাই।’ ধর্মনিরপেক্ষতার বিষয়টি তুলে ধরতে লিখেছেন, ‘মোরা ষোলো কোটি জনতা, জানে বিশ্বের সবাই/ আমরা-এক থালায় খাই, এক-ই গান গাই এক সুরে বলি কথা/ভেদাভেদ- নাহি মানি, শোনো ভাই/এমন অতিথিপরায়ণ জাতি-বিশ্বের আর কোথাও নাই।’

ইতিহাসের শক্তিমত্তা প্রকাশ করতে গিয়ে লিখেছেন, ‘আমাদের ইতিহাস দেখো ঘেঁটে-হবে অবাক বটে/ হাজারো সূর্য সন্তান-আমাদের ঘরে ঘরে, হৃদয়চিত্রপটে।’

কীর্তিমানদের স্মরণ করতে গিয়ে বলেছেন, ‘রবীন্দ্র-নজরুল, লালন-জগদীশ-রোকেয়া-বঙ্গবন্ধু-আসাদ/ মধু-তিতু-মাতুব্বর, সূর্য-দীপংকর; আর বায়ান্নের ভাষা শহীদ।’

কবিতার শেষ দিকে বাঙালির বিজয়যাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদা ব্যক্ত করেছেন কবি। তিনি লিখেছেন, ‘রুখবে মোদের কে? ও ভাই জানো তো; মোদের হুঙ্কারে/কাঁপে অস্ত্রধারী পাকেরা, চিরদিন মাথা নত করে/শ্বেতেরা লেজ গুটিয়ে পালায় সমুদ্র পাড়ি দিয়ে/আমাদের পতাকা ওড়ে আকাশ-চূড়া ছুঁয়ে/মাঠেময়দানে যত, বিশ্ব-চরাচরে/লালসবুজের জয়গান অবিরাম চলে।’

দীপংকর দীপক বলেন, ‘কবিতাটি লিখতে আমার প্রায় দুই মাস লেগেছে। এটি সাজাতে গাণিতিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। কবিতাটি এমনভাবে লেখা যে, ফন্ট যত বড় করা হোক না-ই কেন, মানচিত্রের বিকৃতি ঘটবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘কবিতা শুধু পড়ার বিষয় নয়, দেখার বটে। এ কবিতাটি বিষয়টিকে আরো সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এ ধারাকে চিত্রধর্মী কিংবা দৃশ্যকল্পধর্মী কবিতা বলা যেতে পারে।’

দীপংকর দীপকের ‘হে বঙ্গ’ গ্রন্থটি ৪১টি দেশাত্মবোধক কবিতা নিয়ে সাজানো হয়েছে। বইয়ের ভূমিকা লিখেছেন বিশিষ্ট কবি অসীম সাহা। প্রচ্ছদ এঁকেছেন শতাব্দী জাহিদ। এ বইয়ে স্বদেশপ্রেম, বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর কীর্তিগাথা, নারীমুক্তি, প্রকৃতিপ্রেমসহ গবেষণামূলক নানা বিষয় ফুটে উঠেছে। একইসঙ্গে কবিতার দৃশ্যপটে ধর্মনিরপেক্ষতা, জীবনমুখী সংগ্রাম, প্রথাবিরোধী মনোভাব, শ্রেণিচেতনা ও সমাজ বাস্তবতা জীবন্ত উপাদান হয়ে পরিস্ফুটিত হয়েছে। বইয়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পাঁচটি কবিতা রয়েছে। এ ছাড়াও পাঁচটি চতুর্দশপদী, একটি অষ্টাদশপাদী ও পাঁচটি গীতিকবিতা স্থান পেয়েছে।

এ পর্যন্ত দীপকের ডজনখানেক বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ‘নিষিদ্ধ যৌবন’, ‘নাস্তিকের অপমৃত্যু’ ও ‘ঈশ্বরের সঙ্গে লড়াই’ পাঠকমহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। তা ছাড়া তার সিক্যুয়াল কাব্যগ্রন্থ ‘নিষিদ্ধ যৌবন-প্রথম খণ্ড’ এবং ‘নিষিদ্ধ যৌবন-দ্বিতীয় খণ্ড’ও পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে।
কিছুদিন আগে ‘অন্ন কিংবা আত্মহত্যা’ শিরোনামে দীপকের একটি নাটক প্রচারিত হয়েছে। শিগগিরই তাঁর লেখা দুটি দেশাত্মবোধক গান প্রকাশিত হবে। তা ছাড়া সাহিত্যচর্চার স্বীকৃতি হিসেবে গত বছর তিনি ‘বেগম রোকেয়া সাহিত্য সম্মাননা’ অর্জন করেছেন।

এএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :