ভাঙল মেলা ভাঙল আড্ডা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৩৪ পিএম, ০২ মার্চ ২০১৯

মেলা একটি। আর গল্প হাজারটা। যে মেলা লাখো প্রাণের সম্মিলন, সে মেলায় গল্পের বুনন হবে রোজ রোজ, সেটাই তো স্বাভাবিক। শাহবাগ থেকে দোয়েল চত্বর, টিএসসি থেকে শহীদ মিনার, সমস্ত ঠিকানাজুড়েই আড্ডা। সাহিত্য আড্ডা। প্রেম আড্ডা। হাজারও গল্পের ঝাঁপি খুলে মনের মানুষের সঙ্গে আড্ডা।

মেলা ঘিরে যে আনন্দবাজার বসে শাহবাগ-টিএসসি চত্বরে, তাতে ভাটা পড়ছে আজই। মেলাকে উপলক্ষ করেই যে মধুর মিলন, তাতে আজ বিষাদের সুর বাজবে।

আজই পর্দা নামছে অমর একুশে বইমেলার। মাসব্যাপী মেলার শেষবেলায় এসে প্রকাশক সমিতির অনুরোধে আরও দু’দিন বর্ধিত করা হয়। ১ ফেব্রুয়ারি মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাজধানীর সাংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র শাহবাগই বটে। তবুও এখানে বইমেলা যেন বাড়তি আয়োজনের হাতছানি দিয়ে দেখা দেয় ফি বছর। আর গোটা মেলাই হয়ে ওঠে শিল্প-সাহিত্যের বিকাশ কেন্দ্র। সৃজনশীল মানুষেরা বইমেলাকেই আপন জানেন। স্বজনের সঙ্গে নতুবা বন্ধুর হাতে হাত রেখে রোজ মেলায় আসা এক মাসের রীতি হয়ে দাঁড়ায়। আর ছুটির দিনে তো কথাই নেই। বিশেষ দিনগুলোতে আড্ডাবেলা আরও জমে ওঠে। বসন্তবরণ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আর একুশে ফেব্রুয়ারি দিনে তো দিনব্যাপী চলে নানা আয়োজন।

আড্ডা প্রসঙ্গে কথা হয় শিপন আহমেদ নামের এক বামপন্থি ছাত্রনেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বইমেলা একেবারে আপন হয়ে গেল। মেলার সময় আর ঘরে বসে থাকতে পারি না। এই এক মাসে যতো বন্ধুর দেখা মেলে, তা আর অন্য সময়ে মেলে না। প্রিয় মেলা, প্রিয় আড্ডার জন্য বছর ধরে অপেক্ষা করি। আজ থেকে ফের অপেক্ষার পালা শুরু।’

বইমেলায় এবারে ৪ হাজার ৮৩৪টি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। এটি বইমেলার ইতিহাসে রেকর্ড বলে বাংলা একাডেমি সূত্রে জানা গেছে। গত বছর নতুন বই প্রকাশিত হয়েছিল ৪ হাজার ৫৯১টি। অন্যান্য বারের মতো এবারও সর্বোচ্চ কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। মেলার শেষ দিনেও নতুন বইয়ের প্রবাহ ছিল। এদিন মোট ৬৪টি বই এসেছে।

এবারের বইমেলায় ৫২৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এছাড়াও স্টল বরাদ্দ দেয়া হয় ১৮০টি লিটলম্যাগকে। এবার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ১০৪টি প্রতিষ্ঠানকে ১৫০টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩৯৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৬২০টি ইউনিটসহ মোট ৪৯৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৭০টি ইউনিট বরাদ্দ দেয়া হয়।

এএসএস/এমআরএম/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :