বইয়ের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টির জন্য বইমেলায় শিশুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:২০ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

শনিবার বেলা ১১টা। ৫-৬ জন শিক্ষকের সঙ্গে বই মেলার এসেছে প্রায় ৫০-৬০ শিক্ষার্থী। শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে তারা বইমেলার বিভিন্ন স্টলে ঘুরছেন। কেউ খেলাধুলা করছে সিসিমপুরের স্টলে।

শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তারা গোলাপবাগের জন ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল থেকে এসেছে। হেডমাস্টারের নির্দেশে শিশুদের বইয়ের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টির জন্যই আমরা নিজ উদ্যোগে তাদের বইমেলায় নিয়ে এসেছি।

bookfair-3.jpg

জাহাঙ্গীর হোসেন নামে স্কুলের এক শিক্ষক জাগো নিউজকে বলেন, একাধারে টেক্সবুক পড়তে পড়তে শিশুদের বইয়ের প্রতি অনীহা সৃষ্টি হয়ে যায়। তাই হেডমাস্টারের পরামর্শে আমরা তাদের গ্রুপ করে বইমেলায় নিয়ে আসি। শিশুরা পছন্দমতো ঘুরে, বই কেনে।

শনিবার সকালে অমর একুশের বইমেলা শিশু প্রহরে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট ছোট্ট শিশুরা বাবা-মায়ের সঙ্গে বই কিনছেন। শিশু চত্বরের স্টেজে ‘চলছে গাড়ি সিসিমপুরে’ গানে আপন মনে নাচতে দেখা যায় শিশুদের।

মেলার শিশু চত্বরে শিশুদের জন্য বিনোদনের পাশাপাশি ছিল ৩০টি স্টলে হরেকরকমের বই। বই পড়ার জন্য চত্বরে আলাদা জায়গা রয়েছে।

bookfair-3.jpg

এবারে প্রথম বইমেলায় এসেছে হলি মেরিস টিউটোরিয়াল স্কুলের কেজি ওয়ানের শিক্ষার্থী রাহাত আরা জান্নাত। মেলার আসার অনুভূতি জানতে চাইলে সে বলে, খুব মজা লাগছে, বই কিনেছি, আবারও মেলায় আসতে চাই।

গত ২ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বইমেলার উদ্বোধন করেন। বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় ৮ লাখ বর্গফুট জায়গায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের বইমেলা। এবার পুরো মেলা প্রাঙ্গণে মুজিববর্ষ উদযাপনের ছোঁয়া লেগেছে। নান্দনিকভাবে সাজানো হয়েছে মেলা প্রাঙ্গণ।

এবারের বইমেলায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ১২৬টি প্রতিষ্ঠানকে ১৭৯টি স্টল ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৩৪টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৯৪টি স্টলসহ মোট ৫৬০টি প্রতিষ্ঠানকে ৮৭৩টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলা একাডেমিসহ ৩৩টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ৩৪টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

bookfair-3.jpg

লিটল ম্যাগাজিন চত্বর স্থানান্তরিত হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে। ১৫২টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ ছাড়াও ছয়টি উন্মুক্ত স্টল রাখা হয়েছে। ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এ মেলা।

ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে মেলা। ছুটির দিন মেলা খোলা থাকবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বইমেলা খোলা থাকবে।

এআর/জেএইচ/এমএস