বইমেলা নিয়ে কবি-লেখকদের অভিমত

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ
সালাহ উদ্দিন মাহমুদ সালাহ উদ্দিন মাহমুদ , লেখক ও সাংবাদিক
প্রকাশিত: ০৫:১৩ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০২২

অমর একুশে বইমেলার জন্য সরকারের সিদ্ধান্ত চেয়েছে বাংলা একাডেমি। ১১ জানুয়ারি একাডেমির কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওমিক্রনের সংক্রমণ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় এককভাবে একাডেমির পক্ষে মেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। ফলে মেলা করা যাবে কি না বা করা গেলে কখন, সে বিষয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত চাওয়া হয়েছে।

আমরা জানি, ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই মেলা করার জন্য একাডেমির প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত স্টল বরাদ্দের জন্য আবেদন জমা দেওয়া যাবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে অবকাঠামো তৈরির প্রস্তুতি চলছে। মেলার প্রস্তুতিপর্ব চলতে থাকবে। তবে সরকারি নির্দেশনা পেলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অপরদিকে করোনা পরিস্থিতির কারণে চিন্তিত কবি-লেখকরা। জাগো নিউজকে তারা হতাশা ও আশার কথা জানিয়েছেন। মেলা হলেও কী কী প্রত্যাশা তাদের, এ ব্যাপারে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। সেসব অভিমত নিয়েই আজকের আয়োজন—

কবি ও শিশুসাহিত্যিক মাসুম আওয়াল বলেন, ‘আমি চাই আনন্দে ভরা এক বইমেলা হোক এবার। যেখানে কোনো শঙ্কার ছাপ থাকবে না। লেখক পাঠক ও প্রকাশকের পদচারণায় মুখর থাকবে চারদিক। গতবছর করোনা সংক্রমণে পণ্ড হয়ে গেছিল মেলা। এবার সেরকম না হোক। আমার বিশ্বাস, আবারও প্রাণ ফিরে পাবে জ্ঞানপিপাসু মানুষের প্রাণের উৎসব। বইমেলাকে ঘিরে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, শাহবাগ এলাকার চারপাশ মুখর থাকে প্রতিবছর। একুশের মাস, ফাল্গুন, ভালোবাসা দিবস ভিন্নমাত্রা পায়। গতবছর সে মাত্রার তাল কেটেছিল। ফেব্রুয়ারির বইমেলা পিছিয়ে হয়েছিল মার্চ মাসে। এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দারুণ পরিবেশে বেশ প্রশস্তভাবেই মেলা হয়। এবার সবকিছু ঠিকমত হোক। বাংলা একাডেমির নতুন মহাপরিচালক মেলায় নতুন কোনো মাত্রা যোগ করবেন আশা করি। সব মিলিয়ে ভালো কিছু পাওয়ার অপেক্ষায় থাকলাম। জ্ঞানপিপাসুদের জয় হোক।’

কবি ও গণমাধ্যমকর্মী রিক্তা রিচি বলেন, ‘টানা দুই বছরের বেশি সময় ধরে করোনা দাপট দেখাচ্ছে। ২০২১ সালের বইমেলা ছিল খুব সংকটের বইমেলা। লেখক- প্রকাশকদের জন্য আতঙ্কের ছিল গত বইমেলা। অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন লেখক-প্রকাশকরা। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় গতবছর লোক-সমাগম, বই বিক্রি কম ছিল। অনেক লেখক-প্রকাশক করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে গতবছরের শেষের দিকে করোনা শনাক্ত ও মৃত্যুর হার শূন্যে নেমে এসেছিল। লেখক-প্রকাশকরা নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিলেন। কিন্তু এখন আবার করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমি শঙ্কিত। আদৌ বইমেলা হবে কি না, হলেও কেমন হবে তা এখনো বলা যাচ্ছে না। করোনার মধ্যে বইমেলা সত্যিই আতঙ্কের। তবে যদি করোনা আবারও নিয়ন্ত্রণে আসে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়, তাহলে চাইব মেলাটা সুন্দর ও গোছালোভাবে হোক। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাই মেলায় আসুক। দূরত্ব বজায় রেখে স্টলগুলো সাজানো হোক। যথাযথ নিরাপত্তা মেনে যেন মেলার আয়োজন করা হয়, সেটিই চাইব।’

লেখক ও গণমাধ্যমকর্মী সাজেদুর আবেদীন শান্ত বলেন, ‘এবারেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের আনাগোনায় মুখরিত হবে বইমেলা চত্বর। প্রিয় লেখকের হাত থেকে অটোগ্রাফসহ নতুন বই নেওয়ার জন্য আবার লাইনে দাঁড়াবে পাঠক। বইমেলা প্রাঙ্গণে শিশুরা হাসবে, খেলবে। পছন্দমতো লেখকের বই কিনবে। তবে পাঠকদের উচিত জনপ্রিয় ও পরিচিত লেখকদের পাশাপাশি যারা তরুণ লেখালেখি করেন, স্টল ঘুরে ঘুরে তাদেরও বই কেনা। এতে তরুণ লেখকদের বই যেমন নজরে আসবে; তেমনই তরুণ লেখকদেরও আগ্রহ বাড়বে। শিল্প-সাহিত্যের আঁতুড়ঘর লিটল ম্যাগ চত্বর উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করবে—এমনটি আমার আশা।’

কবি অনামিকা সরকার সৃজন বলেন, ‘বই হচ্ছে আত্মার খোরাক। বইমেলা বাঙালির কাছে উৎসব। লেখক, কবি, সাহিত্যিক ও পাঠকের মিলনের উত্তম স্থান। করোনার কারণে গতবছর বইমেলা সফল হয়নি। তাই এবার বইমেলা নিয়ে সবারই আশা একটু বেশি। এখনো আমরা করোনা থেকে পুরোপুরি মুক্ত নই। ওমিক্রন নিয়েও আমরা শঙ্কিত। এ অবস্থায় বইমেলা হবে এটাই পাঠক-লেখক তথা আমাদের বড় পাওয়া।

বইমেলায় বই প্রকাশ হয় অনেক। প্রত্যেক বছর পুরাতন লেখকসহ নতুন নতুন লেখকদের বইও আসে প্রচুর। প্রকাশিত সব বইয়ের মানই যে উন্নত, তেমনটা আমি মনে করি না। প্রতিটি বই থেকেই আমরা কিছু না কিছু শিখি। আমার মনে হয়, বইমেলায় বই প্রকাশ করার আগে প্রকাশনীর নজর দেওয়া উচিত। কারণ শুধু ব্যবসায়িক কারণে আমাদের সাহিত্য নিয়ে আমরা যে গর্ববোধ করি, তা যেন একটুও কমে না যায়। আর মহামারির কথা চিন্তা করে সবার মাস্ক বাধ্যতামূলক এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও বইমেলায় যেন অনাকাঙ্ক্ষিত কোন ঘটনা না ঘটে। সেদিকে কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজর দেওয়া উচিত।’

এসইউ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]