মাদকাসক্ত কঙ্গনাকে কেন সমন পাঠানো হচ্ছে না, প্রশ্ন নাগমার

বিনোদন ডেস্ক
বিনোদন ডেস্ক বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:২২ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

শুরুটা হয়েছিলো বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু দিয়ে। এরপর বিজেপি সমর্থিত অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতসহ বেশ ক’জন তারকা এটকে অন্য খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছেন। তারা সফলও হয়েছেন। ইচ্ছে করে অনেক বড় বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও তারকাদের নাম জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সেই চেষ্টার স্রোতে বলিউডে এখন টাল মাটাল অবস্থা।

অপমানিত হওয়ার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন প্রায় সব তারকারাই। মৃত্যু রহস্য খুঁজতে গিয়ে সেখানে তেমন কোনো রসদ না পেয়ে সেই মামলা ঘুরিয়ে নেয়া হয়েছে মাদক যোগে। অত্যন্ত হাস্যকরভাবে সুশান্তকে খুনের সন্দেহভাজন হিসেবে অভিযুক্ত রিয়া চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করা হয়েছে মাদক সংশ্লিষ্টতায়।

সেখানেই শেষ নয়। একের পর এক তারকাকে টার্গেট করা হচ্ছে। সে তালিকায় সর্বশেষ নাম এসেছে দিপীকা পাড়ুকোন, সারা আলি খান, শ্রদ্ধা কাপুর, রাকুলপ্রীত সিংয়ের মতো চার অভিনেত্রীর। জানা গেছে, মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে এই চার জনকে সমন পাঠিয়েছে ভারতের নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)। তিনদিনের মধ্যে সবাইকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দিয়েছে ভারতের সরকারি মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটি।

এদিকে অভিনেত্রী ও কংগ্রেস রাজনীতিবিদ নাগমা প্রশ্ন তুলেছেন, কেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো (এনসিবি) অতীতে মাদক সেবন করার কথা স্বীকার করে নেয়ার পরও কঙ্গনা রানাউতকে তলব করেনি বা সমন পাঠায়নি। তার সেই প্রশ্নটি এরই মধ্যে ভাইরাল হয়েছে।

ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলীর প্রেমিকা বলে খ্যাত অভিনেত্রী নাগমা আরও বলেছিলেন, এনসিবি চলমান তদন্ত সম্পর্কিত তথ্য মিডিয়াতে শেয়ার করে বলিউডের শীর্ষ অভিনেত্রীদের ইমেজ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। যা খুবই খারাপ একটি চর্চা। তাদের পুরো ব্যাপারটিই যে রাজনৈতিক সেটা স্পষ্ট। কারণ যে অভিযোগে তারা অভিনেত্রীদের সমন পাঠিয়েছে একই অভিযোগ থাকার পরও
একসময়ের মাদকাসক্ত কঙ্গনাকে তারা ডাকেনি। বরং বিভিন্ন সময় তার ভুল তথ্যের স্ট্যাটাসকে ফলো করছে এনসিবি। যা হাস্যকর এবং বেদনাদায়ক। এটা এনসিবির ভণ্ডামি বলেও আখ্যা দেন নাগমা।

সম্প্রতি কঙ্গনার একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল, যেখানে অভিনেত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন। ভিডিওটি মূলত কঙ্গনা তার ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এই বছরের মার্চ মাসে নবরাত্রির সময় শেয়ার করেছিলেন তার সোশাল সাইটে।

নাগমার প্রশ্নের সূত্রে অনেকেই তাই সোশাল মিডিয়ায় সেই ভিডিওটি শেয়ার করে জানতে চাইছেন, যেখানে অন্য অভিনেত্রীদের ‘মাদকসেবী’ প্রমাণ করতে সমন পাঠানো হয়েছে সেখানে একজন অভিনেত্রী নিজে ভিডিওতে প্রকাশ্যে মাদকে আসক্ত ছিলেন প্রমাণ দেয়ার পর তাকে কেন সমন পাঠানো হয় না? কেন তার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দেয়ার কথা ভাবা হয় না? কেন কঙ্গনার ইমেজকে এত ‘ক্লিন’ রাখতে চায় এনসিবি? টুইটারে সেসব প্রশ্নের নিচে দেখা যাচ্ছে এমন জবাবও, সরকারের বিরুদ্ধে থাকাদের এভাবেই ‘নোংরা’ বানানো হবে।

এলএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]