হালদা দেখে ঠকবেন না : তৌকীর আহমেদ

নাহিয়ান ইমন
নাহিয়ান ইমন নাহিয়ান ইমন , বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:১৪ এএম, ০৪ নভেম্বর ২০১৭

অভিনেতা তৌকীর আহমেদ তার জনপ্রিয়তার মুকুটে নতুন পালক যোগ করেছেন নির্মাতা হিসেবে। জয়যাত্রা, রূপ কথার গল্প, দারুচিনি দ্বীপ ও অজ্ঞাতনামা এই চারটি ছবি মুক্তি পেয়েছে তার নির্মাণে। সবগুলো ছবি হয়েছে প্রশংসিত। তার পঞ্চম ছবি ‘হালদা’ মুক্তি পেতে যাচ্ছে আগামী ১ ডিসেম্বর। সে নিয়ে প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছেন তিনি। গেল সপ্তাহে জাগো নিউজের বিনোদন বিভাগে তৌকির আহমেদ কথা বলেছেন ‘হালদা’ নিয়ে..

বাংলাদেশে এত নদী রেখে দিয়ে ‘হালদা নদী’ নিয়ে ছবি নির্মাণ করলেন কেন?
হালদা বাংলাদেশের অন্যতম মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র। যেখানে কার্ভ জাতীয় মাছ (রুই, কাতল, মৃগেল) এসে ডিম পাড়ে। স্থানীয় মানুষ সেগুলো সারাদেশে ছড়িয়ে দেন। এটা বাংলাদেশের ইকনোমিতে হাজার কোটি টাকার কন্ট্রিবিউশন যায় এ নদী থেকে। অনেক নদীর মতো হালদাও এখন বিপন্ন। দূষিত হচ্ছে, বালু উত্তোলন ছাড়াও যতভাবে অপব্যবহার করা যায় তা হচ্ছে হচ্ছে। এখন এই নদীতে মাছ আগের মতো ডিম দিচ্ছে না। সবাই নদীটির প্রতি অমনোযোগী হয়ে পড়ছেন। সেই সচেতনতা বাড়াতেই ছবিটি নির্মাণের প্রয়াস। পাশাপাশি নদীটিকে ঘিরে মানুষের জীবনযাত্রা সবার সামনে তুলে ধরতে চেয়েছি।

কী আছে ‘হালদা’ ছবিতে?
নদীর কোনো জীবন নেই। নদী চলে তার দু-পাশের মানুষকে নিয়ে। গল্পের মধ্যে আমি দেখিয়েছি নদী ও নারীর বিষয়টি, যেটি শ্বাশত একটি বিষয়। এগুলো আমাদের জীবনের উৎস-আঁধার। যারা অভিনয় করেছে তারা সবাই চমৎকার অভিনয় করেছেন। এতটুকু বলতে পারি, মোশাররফ করিম, তিশা, জাহিদ হাসান প্রত্যেককেই দর্শক ভিন্নভাবে দেখবে পাবেন। যেমন মোশাররফ করিমকে হাস্যরসাত্মক চরিত্রে দেখা যাবে না, জাহিদ হাসানকে কিছুটা নেগেটিভ চরিত্রে দেখা যাবে। হালদা পাড়ের মানুষদের জীবন, সংস্কৃতি থাকবে।

এছাড়া হালদা ছবিতে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বার আলীর বলিখেলাও থাকবে, কবির লড়াই, নৌকা বাইচ, ব্যাঙের বিয়ে, মাছের ডিম ধরা নিয়ে হালদা পাড়ের মানুষদের উৎসব এবং হালদার দুই পাড়ের মানুষদের পরিচয়। সবমিলিয়ে হালদা দেখলে দর্শক ঠকবেন না।

‘হালদা’ নির্মাণের সময় কোন দিকটা বেশি খেয়াল করেছেন?
আমাদের নিজের দেশের গল্পেই হালদা নির্মিত হবে। নিজস্ব গল্প হবে, কিন্তু নির্মাণে নান্দনিকতা থাকবে। কিভাবে আরো সুন্দর পরিপাটি করে তুলে ধরা যায়, রুচিসম্মত করে তুলে ধরা যায় এই চেষ্টা করেছি। কিন্তু বিষয়টি একটু টাফ হয়ে গেছে কারণ সব জায়গায় বাণিজ্যিক প্রপাগান্ডা এসে গেছে। এই বাণিজ্যিক কারণে মানুষ কি চাইবে সেটা মূল্য দিতে যাচ্ছি। আমি সব শ্রেণির মানুষকে বলছি, হলে আসুন, দেখুন আমাদের চারপাশের গল্পগুলোকে। এই ছবিগুলোও আপনার ভালো লাগার খোরাক হতে পারে, এখানেও বিনোদন রয়েছে।

আপনার আগে ছবিগুলোতে বেশি গান দেখা যায়নি। ‘হালদা’য় পাঁচটি গান থাকছে। এটা কী বাণিজ্যিক প্রপাগান্ডারই প্রভাব?
‘রুপকথার গল্প’ ছবিতে কিন্তু অনেকগুলো গান ছিল। পরের ছবিগুলো গান ডিমান্ড করেনি। আবার ‘হালদা’য় ছবির প্রয়োজনে কিংবা বাণিজ্যিক দিক চিন্তা করেও কয়েকটি গান নেওয়া হয়েছে। এখানে মাইজ ভাণ্ডারির গান থাকছে, গ্রাম্য গানও থাকছে। আমি চেয়েছি দর্শকরা দেখুক। অনেক সময় হয় পোস্টার কিংবা শিল্পী দেখে অনেকে ছবি দেখেন না। আমি চাই সবাই হালদা দেখুক। তারপর সমালোচনা করুন।

মোশাররফ করিম, শহিদুজ্জামান সেলিম, ফজলুর রহমান বাবুর মতো দাপুটে সব অভিনেতাদের নিয়ে অজ্ঞাতনামা বানিয়ে ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ ছিলেন। আবারও মূল ধারার চলচ্চিত্রের বাইরের শিল্পীদের নিয়ে কাজ করেছেন। কেন এই ঝুঁকি নিলেন?
অজ্ঞাতনামা নিয়ে আমার কোনো খারাপ লাগা কাজ করেনি। আর আমার সিনেমায় দাপুটে অভিনেতা যারা ছিলেন তারা কিন্তু এদেশের সিনেমার ব্যবসফল অভিনেতা না। ব্যবসা সফল অভিনেতা হচ্ছে এফডিসি কেন্দ্রিক ছবির অভিনেতারা। আমারা যারা স্বাধীনধারার ছবি বানাই তাদের বেশিরভাগ অভিনেতারা আসেন টিভি কিংবা মঞ্চের। ওনাদের নিয়ে কাজ করি কারণ, আমরা জানি কারা কেমন অভিনয় করবেন। তাদেরকে আসলে ছবি ব্যবসা সফল করার জন্য নেইনা। তারা আমার চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে পারবেন এই বিশ্বাস রেখেই নেই। যদি আমি ছবি বানিয়ে ব্যবসায়িক দিকে যেতে চাই, তবে আমাকে ব্যবসাসফল অভিনেতাদের নিতে হবে। আর দর্শকের ভাবনা এখন বদলেছে। তারা সিনেমাতে আগের মতো আবারও সত্যিকারের অভিনয়টাই দেখতে চায়। সেক্ষেত্রে জাহিদ হাসান, তিশা, মোশাররফ করিম সবার কাছেই প্রিয় তারকা।

আপনি ‘ফাগুন হাওয়ায়’ নামের একটি ছবি নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন। সেটির কী খবর?
অজ্ঞাতনামার আগেই ‘ফাগুন হাওয়ায়’ নির্মাণ করতে চেয়েছিলাম। ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট নিয়ে ছবিটি। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হচ্ছে আমি লগ্নিকারক পাইনি। এমনকি অনুদান পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলাম। যারা অনুদান কমিটিতে ছিলেন তারা বিষয়টি গুরত্ব দেননি। এটা নিয়ে আমার অভিমান হয়েছিল। এরপর নতুন করে হালদার কাজ শুরু করি। তবে হালদার পর ২০১৮ তে ফাগুন হাওয়ায় ছবি নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে আছে।

নির্মাণ কিংবা অভিনয় কোনটি বেশি ভালো লাগে?
আমার কাছে কোনো কাজই ছোট নয়। মঞ্চ, টিভি সব জায়গায় আমি ভালোবাসা নিয়ে কাজ নিয়ে কাজ করেছি। সব পর্দা ভেদে কাজের বৈশিষ্ট আলাদা। ছোটপর্দার চেয়ে বড়পর্দার ক্যানভাস অনেক বড়। সেজন্য এখানে বেশি মনোযোগ দিতে হয়। আমার কাছে দুটি কাজই উপভোগ্য। তবে নির্মাণ করলে নিজের সৃষ্টিশীলতা ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটনা যায়।

আপনার রূপকথার গল্প ছাড়া বাকি ছবিগুলোতে অভিনয় করেননি। শুধু নির্মাণেই থেকেছেন। অভিনয় করলেন না কেন?
হাহাহা.. আমি খেয়াল করেছি যখন ক্যামেরার সামনে যাচ্ছি তখন পিছনে একটা শূন্যতা দেখা দিচ্ছে। আর অভিনয় এবং নির্মাণ দুদিকে একসাথে মনোযোগ দিলে কোথায় জানি ভাটা পড়ছে। তাই নির্মাণে শতভাগ সন্তুষ্ট থাকার জন্য অভিনয় করি না।

এনই/এলএ/জেআইএম

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - [email protected]