বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের সাক্ষী কপোতাক্ষের তীর!

মাসুম আওয়াল
মাসুম আওয়াল , স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: ০৩:০৩ পিএম, ২০ মার্চ ২০১৮
ছবি : মাহবুব আলম

রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই, রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই, উর্দূ ভাষা মানিনা, মানব না- স্লোগানে মুখর চারপাশ। কলেজের সামনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে। শাদা রঙের শাড়িতে সেজেছে নারীরা আর পুরুষ শিক্ষার্থীরা পরেছেন সাদা পাঞ্জাবী সাদা কোর্তা। কাঁধে ভারি চাদর ঝোলানো। তুমুল আন্দোলন চলছে। অন্যরকম এক শিহরণ ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। যেনো সত্যিই চলছে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন।

কপোতাক্ষ নদীর পাড়ের পিসি রায় বঢ়ুলি কলেজে ভাষা আন্দোলনের আয়োজন। ২০১৮-তে এসে বায়ান্নর ভাষা আন্দোনের সাক্ষী হওয়াটা অন্যরকম এক অনুভূতির ব্যাপার বটে। চোখে, মুখে শরীরের রক্তে এক ঘোর লাগিয়ে দিলেন তৌকীর আহমেদ।

fagun-hawa

ভাষা আন্দোলনের গল্পকে কেন্দ্র করে সিনেমা নির্মাণ করছেন এই নির্মাতা। খুলনায় কপোতাক্ষের পাড়ে ‘ফাগুন হাওয়া’ নামের সিনেমাটির শুটিং চলছে। শুটিং স্পটে বসে দেখছিলাম এসব। ইতিহাসের চরিত্ররা হাঁটাহাঁটি করছে চোখের সামনে। কথা বলছে, গান গাইছে, নাটকের মঞ্চ কাঁপাচ্ছে। মায়ের মুখের বুলি প্রিয় মাতৃভাষার জন্য আন্দোলন করছে।

ইতিহাসের চেনা সেইসব পাত্র-পাত্রীর চরিত্রে অভিনয় করছেন জনপ্রিয় অভিনেতা সিয়াম, তিশা, সাজু খাদেম, রওনক হাসান, তানভীর শেখ, নুসরাত জেরী, সঞ্জয় গোস্বামী, হাসান, তানভীর শেখ, সূচি, রানা, নেওয়াজসহ এক ঝাঁক থিয়েটার কর্মী। বিশেষ চরিত্রে আছেন বলিউডের যশপাল শর্মাও।

fagun-hawa

শুটিয়ের এক ফাঁকে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বললেন তৌকীর আহমেদ। তিনি বলেন,‘ এই রকম একটা ছবি বানানো আসলে অনেক কঠিন। লোকেশন খুঁজে বের করা, ৭ দশক আগের একটা আবহাওয়া তৈরি করা, এই সময়ের অভিনয় শিল্পীদের মাধ্যমে অভিনয় করিয়ে সেটা ফুটিয়ে তোলা আসলেই কঠিন।’

তৌকীর আরও বলেন, ‘যারা অভিনয় বোঝে এমনই কিছু শিল্পীদের আমি একত্রিত করি। আমি কী চাই সেটা তারা খুব সহজেই ধরতে পারে। প্রত্যেকেই অনেকে ভালো অভিনয় করছেন। ৫২ সালের সময় মফস্বলের একটি থিয়েটার কীভাবে ভাষা আন্দোনে ভূমিকা রেখেছে সেটা দেখানো হচ্ছে। আমরা একটা গল্পের মাধ্যমেই তুলে ধরার চেষ্টা করছি ভাষা আন্দোলনের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র। তবে এটা কোনো ডকুমেন্টরি না। সিনেমার স্বাধ পুরোটাই পাবেন দর্শক।’

fagun-hawa

১০ মার্চ থেকে খুলনার পাইকগাছায় ‘ফাগুন হাওয়া’র শুটিং শুরু হয়। কপোতাক্ষ নদীর পাড়ে, ধানক্ষেতে, থানায়, কলেজের পুরোনো হলরুমে ও এখানকার নানা মনোরম লোকেশনে ছবিটির শুটিং চলছে। ২৫ মার্চ পর্যন্ত শুটিং চলবে এখানে। এরপরে বাঁকি অংশের শুটিং হবে ঢাকায়। এমনটিই জানালেন নির্মাতা।

চলতি বছরেই ছবিটির কাজ শেষে হবে বলেন তৌকীর। নতুন সিকুয়েন্সর সময় হয়ে গেল তৌকীর আহমেদের সাথে কথা বলতে বলতে। লাইট ক্যামেরা অ্যাকশন শুরু। শুটিং লোকেশন পিসি রায় কলেজের বাউন্ডারি ওয়ালে ঘিরে হাজার হাজার মানুষের ভিড়। ‘ফাগুন হাওয়া’য় ভাসছে সবাই। ২০১৮ সালে সবাই যেন ৫২ ভাষা আন্দোলনের সাক্ষী হতে চাইছেন।

এমএবি/এলএ/জেআইএম

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :