নির্বাচনী ইশতেহারে যেসব প্রতিশ্রুতি চান নাট্যকর্মীরা

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৪৯ পিএম, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮

নির্বাচনের আগে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে থাকেন রাজনৈতিক দলগুলো। মনে করা হয় ভোটার টানতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে সেই ইশতেহার। আগামী ৩০ ডিসেম্বর যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্বাচন হবে, এই নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা শুরু হবে কয়েকদিন পরেই।

নানা রকম উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিবেন রাজনৈতিক দলগুলো। তাদের প্রতিশ্রুতির মধ্যে যেন উঠে আসে টেলিভিশন নাটকের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও।

সেই লক্ষেই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার হলে শনিবার দুপুরে টেলিভিশন নাটকের বিভিন্ন সংগঠন এক হয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। টেলিভিশন নাটকের সঙ্গে সম্পৃক্তদের সংকট উত্তরণের লক্ষে প্রস্তাবনা জানান তারা।

এখানে পাঁচটি দাবি তুলে ধরে নাটকের সংগঠনগুলো। এই প্রস্তাবনা পত্রটি পাঠ করেন নাট্যকার সংঘের সভাপতি মাসুম রেজা। তাদের প্রধান দাবি, ‘বাংলাদেশে সরকারিভাবে টেলিভিশন নাটককে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করা হোক।’

অন্যান্য চারটি দাবি হলো-
টেলিভিশন নাটক সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর পেশকৃত সুপারিশমালা তথ্যমন্ত্রণালয় কর্তৃক বাস্তবায়ন এবং সম্প্রচার নীতিমালা বাস্তবায়নে সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করা।

বর্তমানে দেশের নাটক অনেক উন্নত হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন প্রচারের কারণে দর্শক হারাচ্ছে এবং এই দর্শক ক্রমাগতভাবে ঝুঁকে পড়ছে বিদেশি চ্যানেলের দিকে। তাই পে-চ্যানেলের বাস্তবায়ন করার দাবি জানিয়েছে তারা। তারা জানান, বাংলাদেশ ব্যতীত প্রায় সব দেশই পে-চ্যানেলের আওতাভুক্ত।

টিআরপি পদ্ধতিকে গ্রহণযোগ্য ও বিজ্ঞানসম্মত করা হোক। টিভি চ্যানেলগুলোর কাছে প্রযোজকদের যে বকেয়া আছে তা সরকারের মধ্যস্ততায় পরিশোধের ব্যবস্থা করা হোক।

নাটেকের নির্মাতাদের সংগঠন ডিরেক্টরস গিল্ডের সভাপতি সালাহ উদ্দিন লাভলু বলেন, ‘আমরা যে কাজটি করছি এটা সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত মানুষের মন। সারা বাংলা দেশের মানুষের এবং প্রবাসী যারা বাংলাদেশি আছে সবার কাছেই নাটক প্রাত্যহিক সচেতনতার একটা বড় মাধ্যম।

এভাবে যদি চিন্তা করি এটা অনেক জরুরি কাজের মধ্যেই পড়ে। সব কিছু বন্ধ হয়ে গেলেও টেলিভিশন চ্যানেল কিন্তু খোলা থাকে। নাটক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের এই কাজটি সুষ্ঠুভাবে হওয়ার জন্য সরাসরি সরকারের দৃষ্টি খুব স্ট্রংভাবে থাকা উচিৎ বলে আমি মনে করি।

আমাদেরকে অল্প বাজেটের কাজ দিয়ে এখন কোটি কোটি টাকার বিদেশি অনুষ্ঠানমালার সাথে ফাইট করতে হয়। স্বাধীনতার পরে যতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো মঞ্চ নাটক ও টেলিভিশন নাটক। আমাদের নাটকের যে গৌরবময় সময় সেই জায়গা থেকে এখন আমরা অনেক দূরে সরে এসেছি।

শুধুমাত্র আমাদের সিস্টেমের জন্য সরে আসতে হয়েছে। আমরা এক সঙ্গে হয়েছি। সবকিছু ঠিক করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’

অভিনয় শিল্পী সংঘের সভাপতি শহীদুল আলম সাচ্চু বলেন, ‘আমরা আশা করি যেন স্বাধীনতার স্বপক্ষের সরকার আসে। তাদের মেনুফেস্টুতে চাই ‘নাটককে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করা করা হোক। তাহলে যেটা হয়, প্রতিশ্রুতি রক্ষার দায়বদ্ধতা থেকে যায়।

পরবর্তীতে আমরা বলতে পারবো। আমরা দেখি অন্য খাত থেকে আমাদের সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে অনুদান দেওয়া হয়। সেটা না করে টেলিভিশনের জন্য আলাদা বরাদ্দ চাই।

আগামী ১১ ডিসেম্বর থেকে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করবেন। এই ঘোষণার মধ্যে নাটককে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করার প্রতিশ্রুতি যেন থাকে। এই দাবি জানাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুনেছি প্রধানমন্ত্রীকে যখন আমাদের সংকটের কথা বলা হয় উনি নাকি বলেন, ‘তোমাদের দুই দুইটি মন্ত্রী দিয়েছি। তোমাদের সংকট থাকবে কেন?’ আমরা কিছু বলতে পারি না। মেনুফেস্টের মধ্যে প্রতিশ্রুতি দিলে আমরা পরে সেটা বলতে পারব।’

নাটক্যকার সংঘের সাধারণ সম্পাদক এজাজ মুন্না বলেন, ‘দেশে উন্নয়নের জোয়ার বইছে।
কিন্তু একটি দেশের উন্নয়ন তখনই সার্থক হয় যখন সেই দেশের উন্নয়নের সাথে সাথে দেশের শিল্প সংস্কৃতির সকল শাখা বিকশিত হয়।

আমাদের টেলিভিশন মিডিয়া সেভাবে প্রফেশনালি বিকশিত হয়নি। যেকোনো প্রতিষ্ঠান নিয়মের মধ্যে দিয়ে চলে। কিন্তু আমরা দীর্ঘদিন থেকেই অনিয়মের মধ্যে দিয়ে যাপিত হচ্ছি। আমরা আমাদের কাজ ঠিকভাবেই করে যেতে চাই।

রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রতিশ্রুতিতে যদি উল্লেখ করে যে তারা কীভাবে টিভি নাটকের ইন্ডাস্ট্রিকে দেখতে চান তাহলে আমরা একটু হলেও শান্তি পাবো।’

এই আয়োজনের সভাপতি ও টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মামনুর রশীদ বলেন, ‘বিদেশি সিরিয়াল একটা স্বাধীন দেশে ২৪ ঘন্টা চলতে পারে না। পিকটাইমে তো চলতে পারেই না। ২০১৬ সাথে শহীদ মিনারে আমরা বিশাল সভা করেছিলাম সেখানে ১০টি দাবি জানিয়েছিলাম আমরা। সেই দাবিগুলোর বাস্তবায়ন হলেই আমাদের সমস্যার সমাধান হয়ে যেত।

আমরা এখন সামনের দিকে তাকিয়ে আছি। সামনে আমাদের সমস্যার সমাধান যেন হয়। রাজনৈতিক দলগুলো যেন তাদের ইশতেহারে এগুলো উল্লেখ করে। এবং সরকার গঠন করার পর পরই এগুলো বাস্তবায়ণ করে।’

এমএবি/এলএ/এমকেএইচ

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :