বাংলাদেশের মেঘমল্লার টরেন্টোতে


প্রকাশিত: ১১:২৪ এএম, ২২ আগস্ট ২০১৫

জাহিদুর রহিম অঞ্জন পরিচালিত মেঘমল্লার ছবিটি দেশে বেশ প্রশংসা পেয়েছে। বেশ কিছু আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও সমাদৃত হয়েছে ছবিটি। এবার টরেন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শীত হতে যাচ্ছে মেঘমল্লার।

নির্মাতা জানালেন, ১০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে টরেন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৪০তম আসর। টানা দশ দিনের এই উৎসবে ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হবে জাহিদুর রহিম অঞ্জন পরিচালিত মেঘমল্লার ছবিটির। তাছাড়া ছবিটি প্রতিযোগিতা করবে ডিসকভারি বিভাগেও। উৎসবে অংশ নিতে কানাডা যাচ্ছেন ছবির পরিচালক।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বর্ষামুখর তিন দিনের কাহিনী নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘মেঘমল্লার’। সরকারি অনুদানের নির্মিত আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ছোটগল্প রেইনকোট অবলম্বনে ছবিটি প্রযোজনা ও পরিবেশনা করছে বেঙ্গল এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড। গত বছর ১২ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়া ছবিটিতে অভিনয় করেছেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, শহীদুজ্জামান সেলিম, অপর্ণা, অদিতি, মারজান হোসাইন জারাসহ আরো অনেকে।
 
ছবির গল্পে দেখা যাবে, সংক্ষেপে সিনেমার গল্পটা হলো- ‘উনিশশো একাত্তর। সময়টা তুমুল বর্ষাকাল। মূল চরিত্র নূরুল হুদা বাংলাদেশের একটি মফস্বল শহরের সরকারি কলেজের রসায়নের শিক্ষক। স্ত্রী আসমা এবং পাঁচ বছরের মেয়ে সুধাকে নিয়ে তার সুখ-দুঃখের মধ্যবিত্ত সংসার। তাদের সাথে থাকতো নূরুল হুদার শ্যালক, আসমার ছোট ভাই মিন্টু। একদিন কাউকে কিছু না জানিয়ে মিন্টু মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে চলে যায়। আর এদিকে নূরুল হুদাকে রেখে যায় জীবন-মৃত্যুর সংকটের মধ্যে।

এরপরও নূরুল হুদা নিয়মিত কলেজে যায় এবং পাকিস্তানপন্থী শিক্ষকদের সাথে তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টা করে। মধ্যবিত্তের শঙ্কা, ভয়, পিছুটান তাকে প্রতিনিয়ত অসহায় করে তোলে। ঘোর বর্ষণের এক রাতে মুক্তিযোদ্ধারা নুরুল হুদার কলেজে এবং পাশের আর্মি ক্যাম্পে আক্রমণ চালায় এবং কোনো কারণ ছাড়াই পাকিস্তানি আর্মি নূরুল হুদা এবং তার বন্ধু-সহকর্মী আবদুস সাত্তার মৃধাকে ধরে নিয়ে যায়।

বৃষ্টির মধ্যে যাওয়ার সময় আসমা তার ভাই মিন্টুর একটা ফেলে যাওয়া রেইনকোট নুরুল হুদাকে পরিয়ে দেয়। পাকিস্তানি আর্মির সামনে নূরুল হুদা প্রথমে ভয় পেয়ে যায়। প্রমাণ করার চেষ্টা করে, সে একজন শিক্ষক মাত্র, মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্রব নেই; কিন্তু নির্যাতনের মাত্রা ক্রমেই বাড়তে থাকে। আঘাতে নূরুল হুদার নাক-মুখ দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে।

রক্তের দিকে তাকিয়ে হঠাৎই তার মিন্টুর কথা মনে হয়; এবং সে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা ভাবতে শুরু করে। যার কাছে মৃত্যু বা আত্মদান কোনো ব্যাপারই না।

এলএ/আরআইপি

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :