সিনেমার কথা তো বলবোই, আগে এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চাই : ফারুক

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৩৮ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০১৯

‘আগে মনে করতাম গুলশান, ক্যান্টনমেন্ট, ভাষানটেক এলাকায় বেশী কাজ করা লাগবে না। আমি নিজের এলাকা ঘুরেছি। পায়ে হেঁটে নিজ এলাকার মানুষের কষ্ট দেখেছি, তাদের জন্য কাজ করতে চাই। অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে এখানে। এই এলাকার নৌকা যেহেতু আমার, কাজ আমাকেই করতে হবে।’-কথাগুলো বলছিলেন ঢাকা – ১৭ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান ফারুক।

১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় বিনোদন সাংবাদিকদের মিলনমেলার আয়োজন করেন। সেখানেই মতবিনিময়কালে তিনি এমন কথা বলেন। নায়ক ফারুক মনে করেন নির্বাচনে জয়লাভের জন্য তার চিত্রনায়ক পরিচিতি ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। তবে শুধু সিনেমার জন্য নয়, দীর্ঘদিন রাজনীতি করার জন্যই মনোনয়ন পেয়েছেন বলেই মনে করেন তিনি ।

চিত্রনায়ক ফারুক বলেন, ‘শুধু সিনেমার মানুষ হিসেবে আমি সংসদে যাইনি। রাজনীতির মানুষ হিসেবে সংসদে গেছি। দল থেকে আমাকে দলের ও দেশের কাজ করার জন্য সুযোগ দেয়া হয়েছে। মানুষের কাজ করতেই এমপি হয়েছি। আমি আমার নির্বাচনী এলাকার জন্য কাজ করবো।’

চলচ্চিত্র নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, রাজনীতি আমার প্রাণ আর সিনেমা আমার অন্তর। দুটোর কোনোটাকেই আমি এড়াতে পারবো না। এখনো সংসদে যাইনি। সেখানকার পরিবেশ, কার্যক্রম সম্পর্কে আমি অজ্ঞ। সুযোগ পেলে চলচ্চিত্রের মানুষ হিসেবে চলচ্চিত্রের কথা তো বলবোই।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করেন, সিনেমার জন্য আমি কী করবো। এধরনের প্রশ্ন করা ঠিক না। একজন এমপি কখনো শুধুমাত্র সিনেমার উন্নয়নের জন্য নির্বাচিত হন না। তাকে এলাকার লোকজনের জন্য কাজ করতে হয়। আর আমি যেহেতু সিনেমার মানুষ, সুযোগ পেলে সিনেমার জন্য কাজ করা বা কথা বলার বিষয়টি আমাকে মনে করিয়ে দিতে হবে না। আমি নিজেই সেই সুযোগ কাজে লাগাবো।’

সিনেমার নানা সংকটে কীভাবে সমাধান আসতে পারে সেই প্রসঙ্গে চিত্রনায়ক ফারুক বলেন, ‘আমাদের সবাইকে একসাথে মিলেমিশে কাজ করতে হবে। এক থাকার বিকল্প নেই। সরকার এককভাবে এখানকার উন্নয়ন করতে পারবে না। আমরা সবাই মাল্টিপ্লেক্স, সিনেপ্লেক্স চাই। এখনকার পরিবেশে দর্শক হলে আনতে হলে এটা করতেই হবে।

প্রযোজক যদি সিনেমা বানিয়ে টাকা ফেরত না পান তবে তিনি থাকবেন না। আর প্রযোজক না থাকলে সিনেমাও শেষ। প্রযোজক বাঁচানোর চেষ্টা করতে হবে সবার আগে। ভালো গল্পের দরকার, টেকনোলজির উন্নয়ন দরকার। ভালোবাসে সিনেমা দেখানোর পরিবেশ নিশ্চিত করা দরকার।

আজকাল তো সিনেমা দেখানোরই সুযোগ পাচ্ছেন প্রযোজকরা। হলগুলো কুক্ষিগত হয়ে আছে নানা কৌশলে। সেগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কেউ কেউ নিজস্ব অর্থায়নে প্রজেক্টর এনেছেন। সেগুলোকে সার্বজনীন ভাবনায় ব্যবহার করতে হবে। ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এগুতে হবে।’

সিনেমা হলে সার্ভার সিস্টেম নিয়ে ফারুক বলেন, ‘এটি খুবই ব্যায়বহুল একটি ব্যাপার। প্রায় ৩০ থেকে ৫০ কোটি টাকা লাগবে। সরকারকে এই বিষয়ে দায় দেয়া যায় না। আমাদের এখানকার প্রেক্ষাপটে সরকার এইসব টেকনোলজি সম্পর্কে খুব একটা জানেও না। যারা সিনেমার মানুষ, তাদেরকে এটা নিয়ে কথা বলতে হবে। সোচ্চার হতে হবে। ব্যবসায়ীদের আগ্রহী করতে হবে সিনেমার উন্নয়নে এগিয়ে আসতে।

যখন একটা জায়গা তৈরি হবে তখন সরকারও সাহায্য করতে উৎসাহী হবে। আমি নিজের যেটুকু ক্ষমতা বা সুযোগ আছে সেটুকু দিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো আমার প্রাণের সিনেমার মানুষেরা যেন ভালো থাকে তেমন কিছু করার। এটা বারবার আমাকে বলতে হবে না। অপেক্ষা করছি সামনের দিনগুলো কেমন আসে সেটা দেখার জন্য।’

চলচ্চিত্রের মানুষদের একসঙ্গে বসা জরুরি, এমনটাই দাবি করেছেন অভিনেতা থেকে এমপি হওয়া ফারুক। কিন্তু সেটা কীভাবে হবে সেই প্রশ্নের জবাবে ফারুক বলেন, ‘এতকিছু তো আমি বলে দিতে পারি না। আমি চলচ্চিত্র পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছিলাম। কিছু কাজ করেছি। এখনো দায়িত্বে রয়েছি। তবে এখন আরও নতুন দায়িত্ব আমার কাঁধে। যারা সিনেমার জন্য কিছু করতে চায়, সিনেমাকে বাঁচাতে চায় তারাও ভাবুক কীভাবে কী করা উচিত। এটুকু তো বুঝে নিতে হবে। মুখে সব বলে দিতে হয় না।’

আবার কখনো অভিনয়ে দেখা যাবে কী না সেই প্রসঙ্গে ‘মিয়াভাই’খ্যাত এই অভিনেতা বলেন, ‘যদি ভালো গল্প পাই তবে অবশ্যই করবো। সিনেমার চরিত্র বাড়ানোর প্রচেষ্টায় শামিল হবো না। অনেকেই মৌলিক গল্প নিয়ে আসে, পরে খবর নিয়ে জানতে পারি সেটা অন্য কোনো সিনেমা বা কোথাও থেকে নেয়া। এমন গল্পে তো আর কাজ করা যায় না।’

ফারুকের নির্বাচনী প্রচারণায় বিনোদন সাংবাদিকরা কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন বলেও মনে করেন তিনি। সকল সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মিঞা ভাই।

এমএবি/এলএ/পিআর

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :