নন্দিত চলচ্চিত্রকার আলমগীর কবিরের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৩৪ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০১৯

১৯৮৯ সালের ২০ জানুয়ারি। আর দশটা দিনের মতোই শুরু হয়েছিলো স্বাভাবিক। চলচ্চিত্রপাড়াতেও ছিলো রোজকার ব্যস্ততা। হঠাৎ এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বদলে গেল দিনটা। নেমে এলো শোকের ছায়া।

চলচ্চিত্রপাড়া কেঁদে উঠলো এক প্রিয়জন হারিয়ে। সেই প্রিয়জনের নাম আলমগীর কবির। যার হাত ধরে ঢাকাই সিনেমা পেয়েছে বেশকিছু কালজয়ী চলচ্চিত্র। আজও সেইসব সিনেমা দর্শককে বিনোদিত করে, ছুঁয়ে যায় জীবনের নানামুখী ভাবনায়।

দেখতে দেখতে চলে গেল ৩০টি বছর। সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে চলচ্চিত্রকার আলমগীর কবিরের মৃত্যুরও ৩০ বছর হয়ে গেল আজ। প্রয়াণের এই দিনে গুণী এই নির্মাতার প্রতি রইলো শ্রদ্ধাঞ্জলি।

গুণী এই নির্মাতা ও চলচ্চিত্র সংগঠকের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে আজ সন্ধ্যা ৬টায় ‘আলমগীর কবির স্মরণ ও আলমগীর স্মৃতি বক্তৃতা’ অনুষ্ঠিত হবে। এটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, ম্যুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটি ও বাংলাদেশ ফিল্ম স্কুল।

আলমগীর কবির স্মরণে আলোচনা করবেন বরেণ্য চলচ্চিত্রকার মোরশেদুল ইসলাম ও বিশিষ্ট চলচ্চিত্র সমালোচক মাহমুদুল হোসেন এবং আলমগীর কবির স্মৃতি বক্তৃতা প্রদান করবেন বরেণ্য চলচ্চিত্রকার ও লেখক তানভীর মোকাম্মেল। স্মরণ আয়োজনে সভাপতিত্ব করবেন ম্যুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখক বেলায়াত হোসেন মামুন। স্মরণ আলোচনা শেষে আলমগীর কবিরের চলচ্চিত্র ‘রূপালী সৈকতে’ প্রদর্শিত হবে।

১৯৩৮ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে আলমগীর কবিরের জন্ম। তার পৈত্রিক বাড়ি বরিশাল। ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট থেকে তিনি চলচ্চিত্রের উপর প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৬৬ সালে ঢাকায় একটি ইংরেজি পত্রিকায় কাজ করেন এবং চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে পড়েন।

১৯৬৯ সালে পাকিস্তান চলচ্চিত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালে জহির রায়হানের সাথে এক্সপ্রেস পত্রিকার সম্পাদনা করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংবাদ পাঠক ছিলেন।

১৯৭১ সালে লিবারেশন ফাইটার্স নামে একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করে সরাসরি নির্মাণে যুক্ত হন। জহির রায়হানের স্টপ জেনোসাইডের ধারা বর্ণনাও দেন তিনি।

চলচ্চিত্র সংসদ ফেডারেশনের প্রথম সভাপতি ছিলেন তিনি। ফিল্ম আর্কাইভ এন্ড ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার পর অ্যাপ্রিসিয়েশন কোর্সের সমন্বয়কারী ছিলেন।

আলমগীর কবির চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রযোজক, সাংবাদিক, সমালোচক, কাহিনী সংলাপ ও চিত্রনাট্য লেখক, চিত্রগ্রাহক, সুরকার এবং চলচ্চিত্র প্রশিক্ষক হিসেবে সমাদৃত ছিলেন এদেশের চলচ্চিত্রশিল্পে।

তার নির্মিত চলচ্চিত্র ‘ধীরে বহে মেঘনা’, ‘সূর্যকন্যা’, ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রূপালী সৈকতে’, ‘মোহনা’, ‘মহানায়ক’, ‘পরিনীতা’, ‘ভোর হলো দোর খোল’ ঠাঁই করে নিয়েছে ইতিহাসের পাতায়। মহানায়ক’খ্যাত অভিনেতা বুলবুল আহমেদের সঙ্গে গড়ে উঠেছিলো তার সফল জুটি।

কলকাতার অভিনেত্রী জয়শ্রীও ছিলেন আলমগীর কবিরের প্রিয় শিল্পী। আলমগীর কবিরের সঙ্গে জয়শ্রী কবিরের জুটির জন্ম সত্তর দশকে। জয়শ্রী ছিলেন মিস ক্যালকাটা। তিনি ঢাকায় আসেন সিনেমায় অভিনয় করতে।

নির্মাতার নির্দেশনা শুনতে শুনতে এক সময় তাকে মন দিয়ে ফেলেন জয়শ্রী। দুজনে বসে যান বিয়ের পিঁড়িতে। আলমগীর কবিরের বেশির ভাগ ছবিতে অভিনয় করেছেন ভারতীয় সুন্দরী জয়শ্রী। তার পরিচালনায় অভিনেত্রী ‘সূর্যকন্যা’, ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রূপালী সৈকতে, মোহনা’ ইত্যাদি ছবিতে অভিনয় করেছেন এই নায়িকা।

এলএ/জেআইএম

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :