গোলাম মুস্তাফার শূন্যতা কাটবে না কোনোদিন

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৩৬ পিএম, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

নন্দিত কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ সিনেমার সেই অহংকার বৃদ্ধ জমিদার চরিত্রটি রিমেক করা হলে সেখানে কে এতোটা প্রতাপ নিয়ে অভিনয় দেখাতে পারবেন? যতোটা পেরেছিলেন গোলাম মুস্তাফা!

উত্তর পাওয়াটা হয়তো বিতর্কের হয়ে দাঁড়াবে। তবে শক্তিশালী অভিনয়ের পাশাপাশি ভরাট কণ্ঠে সুষ্পষ্ট নিখুঁত উচ্চারণে সংলাপ বলে যাওয়া অভিনেতা গোলাম মুস্তাফার বিকল্প এদেশ আজও পায়নি এই বাক্যে এক হওয়া যায় কোনো তর্ক ছাড়াই।

অভিনেতা হিসেবে তিনি কিংবদন্তি হয়ে আছেন এদেশের নাটক-সিনেমায়। সেইসঙ্গে অভিনয়ে মার্জিত ভাষা প্রয়োগে অনবদ্য একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে তিনি শ্রদ্ধেয়। চিৎকার চেঁচামেচি করে ভয় ধরিয়ে ভিলেন হওয়ার প্রথা ভেঙে দুর্দান্ত ভিলেন হয়ে পর্দা কাঁপানোর প্রমাণ তিনি। একজন গোলাম মুস্তাফার শূন্যতা তাই কাটছে না, কাটবেও না হয়তো কোনোদিন।

তাই মৃত্যুুর ১৬ বছর পেরিয়েও তিনি হারিয়ে যান না। বরং ফিরে আসেন ভক্তের স্মৃতিতে, সহকর্মীদের প্রশংসিত স্মৃতিচারণে, মজবুত অভিনয়শিল্পীর সংকট কাটানোর বৈঠকে।

খ্যাতিমান এই অভিনেতার ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ২০ ফেব্রুয়ারি। ২০০৩ সালের এইদিনে দেশীয় চলচ্চিত্রে অপূরণীয় অভাব রেখে গোলাম মুস্তাফা পাড়ি জমান জীবনের ওপারে।

অভিনেতা গোলাম মুস্তাফা ভালো কবিতা আবৃত্তি করতেন। তার হাত ধরেই এদেশে আবৃত্তি চর্চার উর্বর ভূমি রচিত হয়েছে। তাই আবৃত্তিতে তার ভূমিকা অনন্য। আর এ কারণেই এই কিংবদন্তির জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ’ ২০১৭ সাল থেকে চালু করেছে ‘গোলাম মুস্তাফা আবৃত্তি পদক’।

গোলাম মুস্তাফা ১৯৩৪ সালের ২ মার্চ বরিশালের দপদপিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ছেলেবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি ঝোঁক ছিলো তার। সেই সুবাদে ১৯৪৫ সালে বরিশালের টাউন হলে বি.ডি হাবিবুল্লাহ রচিত ‘পল্লীমঙ্গল’ মঞ্চনাটকে প্রথম অভিনয় করেন তিনি।

১৯৬০ সালে ‘রাজধানীর বুকে’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তার রূপালি পর্দায় অভিষেক। প্রথম ছবিতেই তিনি অভিনয় করেছিলেন খলনায়কের চরিত্রে। এতে তার অভিনয় দর্শকদের যেমন পছন্দ হয়, তেমনি নির্মাতাদের নজরেও বিশেষ আকর্ষণ লাভ করেন তিনি।

সেই থেকে শুরু। এরপর একে একে প্রায় তিন শতাধিক ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে বেশকিছু উর্দু চলচ্চিত্রও ছিলো। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য উর্দু ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘পীরিত না জানে রীত’, ‘কাজল’, ‘চোখাই’, ‘চান্দা’ ও ‘তালাশ’।

গোলাম মুস্তাফা অভিনীত বাংলা ছবিগুলোর মধ্যে ‘আলীবাবার চল্লিশ চোর’, ‘রাজধানীর বুকে’, ‘নিজেকে হারায়ে খুঁজি’, ‘রক্তাক্ত বাংলা’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘সুর্যসংগ্রাম’, ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ও ‘দেবদাস’ অন্যতম।

ক্যারিয়ার জীবনে কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ গোলাম মুস্তাফা অনেক পুরস্কারে ভূষিত হন। এর মধ্যে ১৯৮০ সালে ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’ ছবিতে সেরা পার্শ্ব-অভিনেতা হিসেবে, ১৯৮৬ সালে ‘শুভদা’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদান রাখায় ২০০১ সালে তিনি একুশে পদক সম্মানে ভূষিত হন।

গোলাম মুস্তাফা ১৯৫৮ সালে হোসনে আরাকে বিয়ে করেন। তাদের সন্তান সুবর্ণা মুস্তাফাও একজন খ্যাতিমান অভিনেত্রী। কাকতালীয়ভাবে বাবার মৃত্যুর দিনেই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন সুবর্ণা। আর একইদিনে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে গ্রহণ করবেন একুশে পদকও।

এলএ/এমকেএইচ

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :