বিশ্ব নাট্যদিবসে কার্লোস সেলড্রানের বার্তা

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৫২ পিএম, ২৭ মার্চ ২০১৯

আজ বিশ্ব নাট্যদিবস। গোটা বিশ্বে নাটক সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে, ১৯৬১ সালে ভিয়েনায় ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইন্সটিটিউট এর এক সভায় ২৭ মার্চকে বিশ্ব নাট্যদিবস হিসাবে প্রস্তাব করা হয়। সেই থেকে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয় নানা আয়োজনে। দিবসটিকে কেন্দ্র করে নাট্য জগতের বিশেষ ব্যাক্তিদের নির্বাচন করে প্রতি বছর এক বা একাধিক ব্যাক্তির নাটক বিষয়ক বার্তা প্রকাশ করে আইটিআই।

এবছর কিউবার অধ্যাপক, নাট্যকার, নির্দেশক কার্লোস সেলড্রানের বার্তা প্রকাশ করেছে সংগঠনটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে। স্পানিশ ভাষার বার্তা থেকে ইংরেজিতে লুইস লেরেনা ডাইয়াজের অনুবাদ বাংলাতে ভাবানুবাদ করেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক হীরক মুশফিক। বিশ্ব নাট্যদিবসের বার্তাটি পাঠকদের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হলো।

কার্লোস সেলড্রানের বার্তা

আমার নাট্য জাগরণের পূর্ব থেকেই আমার শিক্ষকবৃন্দের পদার্পণ ছিলো সেখানে। জীবনাভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তারা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তাদের কাব্যিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং বসবাস। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই ছিলেন নিভৃতচারী বা প্রচারবিমুখ : মহড়া কক্ষে কিংবা দর্শকের সামনে নম্রতা ও নমনীয়তার সাথে চুপচাপ টানা কয়েক বছর কাজ করতেন, তারপর সঙ্গোপনে ধীরে ধীরে অন্যত্র চলে যেতেন তারা।

আমি বুঝতে পারলাম আমার ব্যাক্তিগত উদ্দেশ্যও তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে। আমি খুব ভালোভাবেই বুঝেছিলাম যে, অপরিহার্য সময়ের স্বচ্ছতা অর্জন ব্যতীত কোন প্রত্যাশা ছাড়া বর্তমানে টিকে থাকার যে অনবদ্য ঐতিহ্য , থিয়েটারের আড়ালে সময়ের সাথে সময়ের যে মোকাবেলা, সত্যকে আঙিগকভাবে প্রকাশ এর মত কার্যকরী আশ্রয় দ্বিতীয়টি নেই, মোট কথা আমি আমার শিক্ষকবৃন্দেরই উত্তরসুরী।

আমার নাটকের আঁতুর ঘরের সাথে সেই সকল সময়ের স্মৃতি মিশে আছে, যখন রাতের পর রাত শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শকেরা আসতেন আমাদের সাথে, থিয়েটারের সাথে চমৎকার কিছু সময় অতিবাহিত করার জন্য। আমার জীবন বিনির্মিত হতে শুরু করেছে সেইসব অসাধারণ মুহূর্তগুলোতে, যখন আমি থেমে থেমে যাচ্ছি নিজস্বতা উপলব্ধি করতে, যখন আমি নিজের জন্যই ভুগছি!

আর নাটক এর সাথে কাজ করার অর্থ, যাপিত জীবনের বিশুদ্ধ ক্ষুধার্ত সত্য আমার সামনে যখন পরিষ্কার হয়ে গেল! অথবা যখন বুঝতে পারলাম মঞ্চের আলোয় আমরা যা বলছি বা করছি সেটাই সত্য, গভীর, চূড়ান্ত ব্যাক্তিগত এবং আমাদের নিজেদেরই প্রতিফলন! আমি যেন পুনর্জন্ম লাভ করলাম। আমার নাট্যভ‚বন, আমার এবং আমার সহকর্মীদের জন্য এমন একটি জগৎ যেখানে রোপিত হয় দারুণ কিছু মূহুর্ত; যেখানে মুখোশ, অলংকার, চরিত্র হয়ে ওঠার ভয়, সবকিছুর আড়ালে অন্ধকারে হাতে হাত রেখে বাঁচি আমরা।

থিয়েটার এক বিস্তৃত ঐতিহ্য। কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারবেনা যে থিয়েটার কোন নির্দিষ্ট কেন্দ্র, শহর বা বিশেষায়িত ভবনের। আমার মনে হয় এটি এক অদৃশ্য ভৌগলিক পরিসীমায় বিস্তিৃত এবং সেই সকল নাট্যশ্রমিকের জীবনের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, যারা প্রতিটি ঐক্যবদ্ধ অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নাট্যিক নৈপুণ্যের প্রকাশ করে থাকে।

থিয়েটারে বিজ্ঞজনদের প্রয়াণ ঘটে প্রশংসিত কিংবা রক্ষা করার জন্য কোন ধরণের উদ্দীপনা ছাড়াই অপ্রকাশিত মুহূর্ত, প্রাঞ্জলতা আর সৌন্দর্যের আক্ষেপ নিয়ে। তারা সবাই একই ভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, যতক্ষণ না পর্যন্ত তাদের উত্তর পুরুষ তাদের কর্মকাণ্ডকে পুনরুদ্ধার করছে। আর এটিই আসলে আমাদের প্রধান কাজ। থিয়েটারের কাজ সত্যের অনুসন্ধান করা। আসলে কোনো কিছুই সর্বময় বর্তমান থাকেনা। শুধু মাত্র তথ্য অর্থাৎ ভিডিও বা ছবির মাধ্যমে সঞ্চয় করা সম্ভব বটে, কিন্তু তাতে পূর্ণতার অভাব থাকে কেননা সেখানে বড় শূন্যতা হলো দর্শকের অনুভূতি।

থিয়েটারের নিজস্ব একটা রাজত্ব রয়েছে, যা সমস্ত বিশ্বচরাচরের আধার। যেটি আমাদের মধ্যে স্বাধীনতার সঞ্চার করে, এর জন্যে দুরে কোথাও যাবার প্রয়োজন নেই। একজন থিয়েটার কর্মী যেখানে, দর্শকও সেখানেই থাকে। আর সব প্রয়োজনে সহকর্মীরাতো রয়েছেই তোমার পাশে! তুমিই হলে সেই যাত্রী যে প্রত্যেকের আবেগ, স্মৃতিকে পুঁজি করে পাড়ি জমাতে পারো দর্শক হৃদয়ে। তোমার এই হৃদয়যাত্রা পরিমাপ করার সাধ্য নেই কারো, কেউ বুঝবেও না হয়তো। কিন্তু তুমি তোমার না বলা কথা, মূল্যবোধের কথা তথাপি সত্যকে ছড়িয়ে দিতে পারো এই থিয়েটারকে পুঁজি করেই।

আমি নিজেও ছুটে বেড়াই না। কাছের মানুষগুলোর সাথে থিয়েটারকে নিজের করে নিয়ে দিনরাত কাজ করছি। কেননা, আমার কাছে রয়েছে এগিয়ে যাবার গোপন প্রেরণা।

এমএবি/এলএ/এমকেএইচ

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :