অনুষ্ঠান কীভাবে চলবে, আইন করে পাস করা হবে

বিনোদন ডেস্ক
বিনোদন ডেস্ক বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:০৭ এএম, ২৬ মে ২০১৯

‘ভারতের রাজধানী দিল্লি কিন্তু ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী কলকাতা। এদিকে আমরা বাঙালি সংস্কৃতি, কৃষ্টি লালন পালন সংরক্ষণ এবং অনুশীলনের ক্ষেত্রে এগিয়ে আছি। আমি মনে করি আমরা কলকাতার থেকেও এগিয়ে। এর কারণ আমাদের নির্মাতাদের কাজের মান। আমাদের নির্মাতাদের অল্পবাজেটের কাজও আন্তর্জাতিক পুরস্কার পায়।’

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে টেলিভিশন নাটকের নির্মাতাদের সংগঠন ডিরেক্টরস গিল্ড আয়োজিত ‘টেলিভিশন নাটকে পেশাদারিত্বের সংকট এবং উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় কথাগুলো বলেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

সভায় ডিরেক্টরস গিল্ডের সভাপতি সালাউদ্দিন লাভলু, সাধারণ সম্পাদক এস এ হক অলীক, আলী ইমাম, ইমদাদুল হক মিলন, গাজী রাকায়েত, অভিনেতা ও নির্মাতা মাহফুজ আহমেদসহ ছোটপর্দার নির্মাতারাসহ নাট্যঙ্গণের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তথ্যমন্ত্রীর সামনে নাটকের বর্তমান অবস্থার কথা তুলে ধরে বেশ কিছু দাবি-দাওয়া তুলে ধরা হয়।

তথ্যমন্ত্রীকে সামনে রেখেই মাহফুজ আহমেদ বলেন, ‘আগে আমরা নাটক বানাতাম। একটা নাটক বানাতে খরচ হতো তিন থেকে চার লাখ টাকা। সেটা বিক্রি হতো আট লাখ টাকায়। এখন একটা নাটক আমরা এক লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারি না। সমস্যার কথা আমরা আপনাকে না বলি। সমস্যার কথা না বলে কিছু জিনিস আমরা আপনার কাছে চাই। মাননীয় তথ্যমন্ত্রী আমাদের যথেষ্ট মেধাবী পরিচালক আছেন। যারা বিশ্বমানের চলচ্চিত্র নাটক নির্মাণ করতে পারেন। আমাদের উপযুক্ত মানের টেকনিশিয়ান আছেন যারা আন্তর্জাতিক মানের কাজ করতে পারেন। আমাদের সেই মানের অভিনেতা-অভিনেত্রী আছে। আমাদের কাজের ক্ষেত্র তৈরি করে দেন কাজ আমরা করবো। আজকে লাখ লাখ কলাকুশলী বেকার হওয়ার পথে।’

মাহফুজ আহমেদ আরও বলেন, ‘আমরা জানি এই সরকার শিল্পীবান্ধব সরকার। নির্বাচনের আগে এই কারণেই শিল্পীরা মাঠে নেমেছে। শিল্পীবান্ধব এই সরকারের জন্য আমরা মাঠে নেমেছি। কাজেই আমাদের সবার প্রতি অন্যদের চেয়ে আপনাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। আমাদের দাবি দেশের অন্য মানুষদের চেয়ে অনেক বেশি। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবাসি এটা বোঝানোর জন্য নতুন করে পরীক্ষা দেয়ার আর কিছু নাই। আপনিও সবকিছু জানেন। বাকিটা আপনার কাছ থেকেই শুনতে চাই।’

kolkata2.jpg

এরপর প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমি নিজে অভিনয় শিল্পী ছিলাম না কিন্তু নাট্যকর্মী ছিলাম। আমি থিয়েটারে কাজ করেছি। নাটকের সেট টেনেছি। টিকিট বিক্রি করেছি। চট্টগ্রামের তীর্যক নাট্যগোষ্ঠী আমাকে মনে রেখেছে। তারা ডাকলে আমি এখনও ছুটে যাই।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এখানে যে দাবি-দাওয়াগুলো তুলে ধরা হয়েছে এগুলো সম্পর্কে আমি জানি। ছয় বছরের বেশি সময় ধরে আমি দলে প্রচার সম্পাদকের কাজ করছি। সেই কারণেই আমার জানার সুযোগ হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় শিল্পীরা আমার সঙ্গে কাজ করেছে। প্রথম কথা হচ্ছে আজকে যে নাটক বানানোর খরচ কমে গেছে, এগুলো বিক্রি করে টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। সমস্ত কিছুর মূল কারণ হচ্ছে এই সেক্টরটি এখন আনহেলদি সিচুয়েশন বিরাজ করছে। টেলিভিশন চ্যানেল বেড়েছে কিন্তু টেলিভিশন চ্যনেলের যে বাজারটা তৈরি হওয়া দরকার ছিল সেটা তৈরি হয়নি। বরং আরও সংকুচিত হয়েছে। সেই কারণেই টেলিভিশন চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে মালিকপক্ষকে।’

কেন নাটকের বর্তমান অবস্থা এমন তার কারণও তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এর কারণ হলো দেশের বিজ্ঞাপন চলে যাচ্ছে বিদেশি চ্যানেলে। দেশের টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে। এগুলো কীভাবে পে করে সেটারও কোনো স্বচ্ছতা ছিল না। সমগ্র পৃথিবীতে আইন আছে। ভারতেই অন্য কোনো দেশের বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারে না। আমাদের দেশের বিজ্ঞাপন যদি ইউকে তে যায় তাহলে প্রদর্শন করতে পারে না। যদি কন্টিনেন্টাল ইউরোপে যায় প্রদর্শন করতে পারে না।’

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে আইন অমান্য করে এগুলো চলছিল আমরা সেটা বন্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছি। আপনারা জানেন এক চ্যানেল অন্য চ্যানেলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে গিয়েও বিজ্ঞাপন রেট কমেছে। সোশ্যাল মিডিয়ারও প্রভাবও পড়েছে। আমাদের সম্প্রচার নীতিমালা আছে এবার আমরা সম্প্রচার আইন করতে যাচ্ছি। কোন ধরনের অনুষ্ঠান চলবে, কোন ধরনের অনুষ্ঠান বর্জন করতে হবে, বিজ্ঞাপন কীভাবে চলবে এগুলো আইন আকারে পাস হবে। নীতিমালার আলোকেই আপনাদের পরামর্শেই আইন হবে। আমি মনে করি আবারও সুদিন ফিরবে নাটকের মানুষদের।’

এমএবি/বিএ/এমএস

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - [email protected]

আপনার মতামত লিখুন :