ফেরদৌসের এক হাত ভরা রাষ্ট্রীয় সাফল্য

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:২২ পিএম, ১২ নভেম্বর ২০১৯

চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ। যৌথ প্রযোজনার সিনেমা দিয়ে দুই বাংলার নায়ক হিসেবে যাত্রা করেন তিনি। বাসু চ্যাটার্জির পরিচালনায় সেই সিনেমা ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে কালজয়ী হিসেবে।

বাসুর চিত্রনাট্যে সেই ছবির গল্প-সংলাপ যেমন দর্শককে মজিয়ে রেখেছে তেমনি নচিকেতা চক্রবর্তীর কথা-সুরের দারুণ সব গান আজও মুগ্ধতার বৃষ্টি নামায়। আজও প্রেমযুগল আশায় বুক বাঁধেন ‘একদিন স্বপ্নের দিন’ গেয়ে গেয়ে।

ফেরদৌস অভিনীত সেই প্রথম ছবিটির নাম ‘হঠাৎ বৃষ্টি’। ১৯৯৮ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটিতে অজিত চরিত্রের ফেরদৌসের নায়িকা ছিলেন দীপা চরিত্রের প্রিয়াঙ্কা ত্রিবেদী। তিনি ছিলেন ১৯৯৬ সালের মিস ক্যালকাটা। বাঙালি নারীর সারল্য আর মার্জিত সংলাপ-অভিনয়ে তিনি জয় করে নিয়েছিলেন দুই বাংলার দর্শকের মন।

ছবিতে ফেরদৌসের বিপরীতে আলো ছড়িয়েছিলেন কলকাতার আরও দুই নায়িকা জুন মালিয়া ও শ্রীলেখা মিত্র। তাদের অভিনয়ও প্রশংসিত ছিলো ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ ছবিতে।

তবে আমাদের আজকের গল্পটা শুধু ফেরদৌসের; ফেরদৌসের নন্দিত এক ক্যারিয়ারের। যেখানে এক হাত ভরা সাফল্য তিনি পেয়েছেন রাষ্ট্রীয়ভাবে। অর্থাৎ, জয় করে নিয়েছেন সেরা অভিনেতা হিসেবে পাঁচটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। যা একজন অভিনেতার জন্য বিরাট গর্বের ও অর্জনের। এমনটাই মনে করেন ফেরদৌস নিজেও।

সম্প্রতি তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঘোষিত হয়েছে ২০১৮ সালের চলচ্চিত্রের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ীদের তালিকা। সেখানে ‘পুত্র’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য যৌথভাবে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন ফেরদৌস।

গেল ৮ নভেম্বর সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন ফেরদৌস। তার আগে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ফেরদৌস জানান, ‘এটা সত্যি গর্বের যে পাঁচ পাঁচবার রাষ্ট্র আমাকে সেরা অভিনেতার স্বীকৃতি দিয়েছে।’

এক হাতের পাঁচ আঙুল। পাঁচটি পুরস্কার মানে এক হাত ভরা সাফল্য। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন, মজার এই প্রশ্নে মজা করেই উত্তর দিলেন ফেরদৌস, ‘এভাবে তো ভাবিনি। বলাই যায়, আমার এক হাত ভরা সাফল্য। তবে আমি তৃপ্ত নই। অভিনয়ের জায়গায় আরও অনেক স্বপ্ন আছে আমার। দুই হাত ভরিয়ে তুলতে পারলেও হয়তো শিল্পী হিসেবে তৃপ্তি আসবে না।’

ফেরদৌস ক্যারিয়ারের প্রথম ছবি ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ দিয়েই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয় করে নেন সেরা অভিনেতা হিসেবে। এরপর তিনি ‘গঙ্গাযাত্রা’ (২০০৯), ‘কুসুম কুসুম প্রেম’ (২০১১), ও ২০১৪ সালের ‘এক কাপ চা’ ছবির জন্য সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয় করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় মাস্টার্স শেষ করা ফেরদৌস শোবিজে পা রাখেন একজন র্যাম্প মডেল হিসেবে। এরপর জড়িয়ে পড়েন চলচ্চিত্রে। দীর্ঘ দুই দশকের ক্যারিয়ারে এই অভিনেতা অভিনয় করেছেন শতাধিক ছবিতে।

এসব ছবিতে এপার বাংলার শাবনূর, মৌসুমী, পপি, পূর্ণিমার পাশাপাশি ওপার বাংলার প্রিয়াঙ্কা ত্রিবেদী, রচনা ব্যানার্জি, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তসহ অনেক নন্দিত অভিনেত্রীরা ফেরদৌসের সফল জুটি হয়েছেন। আর স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের দেয়া পাঁচটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ কোটি দর্শকের ভালোবাসা।

নায়ক ফেরদৌস একজন প্রযোজক হিসেবেও সফল। তিনি ‘এক কাপ চা’, ‘হঠাৎ সেদিন’, ‘পোস্টমাস্টার ৭১’ নামে ছবিগুলো প্রযোজনা করেছেন।

বর্তমানে ফেরদৌসের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান নুজহাত ফিল্মসের ব্যানারে ‘গাঙচিল’ নামে একটি সিনেমার নির্মাণ চলছে। নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল পরিচালিত এই ছবিতে ফেরদৌসের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন পূর্ণিমা। ছবিতে দেখা যাবে ফেরদৌসের বন্ধু কলকাতার ঋতুপর্ণাকেও।

পাশাপাশি নেয়ামুলের পরিচালনায় ‘জ্যাম’ নামের একটি ছবিতেও অভিনয় করছেন ফেরদৌস। সেখানেও তার নায়িকা পূর্ণিমা। বিশেষ একটি চরিত্রে রয়েছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তও।

এলএ/এমকেএইচ

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com