হুমায়ূন আহমেদের শেষ ইচ্ছা কীভাবে পূরণ করবেন শাওন?

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাজীপুর
প্রকাশিত: ০৩:২৫ পিএম, ১৩ নভেম্বর ২০১৯

দুইবাংলার জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ একটা ক্যান্সার হাসপাতাল করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্নটি পূর্ণ হওয়ার আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেন হুমায়ূন।

মৃত্যুর সাত বছর পরেও তার শেষ ইচ্ছেটি পূর্ণ হয়নি। কীভাবে পূর্ণ হবে এই গুণী মানুষটির শেষ ইচ্ছে? এই বিষয়টি সংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন।

আজ ১৩ নভেম্বর হুমায়ূন আহমেদের ৭১তম জন্মদিন। গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে নানা আয়োজনে দিবসটি পালন করা হয়। বুধবার রাত ১২টা ১ মিনিটে গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী গ্রামে হুমায়ুন আহমেদের হতে গড়া নুহাশ পল্লীতে হাজার মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে পুরো নূহাশপল্লীকে আলোকিত করেন নুহাশ পল্লীর কর্মকর্মা-কর্মচারিরা।

ভোর পাঁচটার দিকে হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন ছেলে নিষাদ ও নিনিতকে নিয়ে নুহাশপল্লীতে আসেন। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি দুই ছেলেকে নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের কবরে পুস্পস্তবক অর্পণ এবং কবরের পাশে ফাতেহাপাঠ, কবর জিয়ারত ও মোনাজাত করেন। এসময় নুহাশপল্লীর কর্মচারী ও অসংখ্য হুমায়ূন ভক্তরা উপস্থিত ছিলেন।

কবর জিয়ারত শেষে মেহের আফরোজ শাওন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা খুবই দূর্ভাগ্য, ক্যান্সার হসপিটালের কথাটা বারবারই আমি বলে আসছি। আমি প্রতিবারই বলি আমি এটা করতে চাই। কিন্তু আমি দূর্ভাগ্যবান, আমি একা এত বড় দায়িত্ব নিতে পারছি না। একুট একটু করে আগানোর চেষ্টা করছি। ক্যান্সার হাসপাতাল করা আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। তারপর চেষ্টা করবো, প্রয়োজনে বড় বড় মানুষগুলোর কাছে যাবো।’

শাওন আরও বলেন, ‘ক্যান্সার হসপিটাল আর্থিক কারণে হচ্ছে না এ বিষয়টা ঠিক না। এটার উদ্যোগটা নিলে অবশ্যই একটু একটু করে হলেও অর্থের সংকুলান হয়ে যাবে। এখন উদ্যোগটা নেয়াই সবচে বড় ব্যাপার। যা আমি একা নিতে পারছিনা। হুমায়ূন আহমেদ যে ক্যান্সার হসপিটাল করতে চেয়েছিলেন সে স্বপ্নটা অনেক বড়। এখানে আসলেই পরিবারের সবাইকে একমত হয়ে শুরু করতে হবে, উদ্যোগটা নিতে হবে।’

হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে একটি স্মৃতি যাদুঘর করার কথাও বলে আসছেন শাওন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতি যাদুঘর কোন জায়গায় হবে সে জায়গাও নির্ধারণ করা আছে। হুমায়ূন আহমেদ যে নুহাশপল্লীতে শায়িত আছেন সেই নুহাশপল্লীর ভিতরেই একটি জায়গা মনে মনে পছন্দ করে রেখেছি। যে জায়গায় হুমায়ূন আহমেদ অনেক হাঁটাহাঁটি করতেন অনেক লম্বা একটা জায়গা যেখানে গাছ কাটতে হবে না।

আর হুমায়ূন আহমেদের হাতে লাগানো একটি গাছও যেন না কাটতে হয় সে বিষয়টি মাথায় রাখতে চেয়েছি। স্মৃতি যাদুঘরের জন্য জায়গা নির্ধারণ হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে এর একটি ডিজাইনও করা হয়েছে। যা তিনি নিজেই করেছেন। তিনি নিজে একজন স্থপতি হিসেবে হুমায়ূন আহমেদের সমাধির ডিজাইন, স্কুলের ডিজাইনও তিনি করেছেন। আর স্মৃতি যাদুঘরের ডিজাইনও তিনি করে রেখেছেন।’

শাওন বলেন, ‘যাদুঘর করার ব্যাপারে পরিবারের সবার সম্মতির জন্য অপেক্ষা করছি। বিষয়টি হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের সবাইকে জানানো হয়েছে। আশা করছি খুব শিগগিরই আমরা সম্মতি পাব এবং হুমায়ূন আহমেদ স্মৃতি যাদুঘর নির্মাণ শুরু হবে।’

শাওন জানান, শিক্ষা বিস্তারের ব্যাপারে হুমায়ূন আহমেদের একটা প্রচন্ড আগ্রহ ছিল। উনার গ্রামে কোন মাধ্যমিক স্কুল ছিলনা। সে হিসেবে তিনি তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার কেন্দুয়া কুতুবপুরে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার মায়ের স্বপ্ন পূরণ করার জন্য। এ স্কুলটির নাম শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপিঠ।

হুমায়ূন আহমেদের ৭১তম জন্মদিনে সবচে বড় যে সুখবর সেটা হচ্ছে শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপিঠ স্কুলটি নিন্ম মাধ্যমিক পর্যন্ত এ বছর এমপিওভুক্ত হয়েছে। হুমায়ূন আহমেদ মারা যাওয়ার পর সাতটি বছর এ স্কুলটি বিভিন্ন ধরণের ক্রান্তিকালের সম্মুখিন হয়েছে।

এই স্কুল নিয়ে শাওন বলেন, ‘আমার সাধ্য খুবই ছোট কাঁধও খুব ছোট, এই ছোট কাঁধে যতটুকু সম্ভব দায়িত্ব নেবার চেষ্টা করেছিলাম। হুমায়ূন আহমেদের ভক্তরা তার কাছের মানুষেরা আমার পাশে ছিল, স্কুলের পাশে ছিল।’

জিয়ারত শেষে নুহাশপল্লীতে হোয়াইট হাউসের পাশে স্থাপিত হুমায়ূন আহমেদের ম্যুরালের সামনে আপেল তলায় হুমায়ুন আহমেদের ৭১তম জন্মদিনের কেক কাটেন তার দুই ছেলে নিষাদ ও নিনিত। এ সময় শতাধিক হুমায়ূনভক্ত ভক্ত, গণমাধ্যমকর্মী ও নুহাশপল্লীর কর্মচারীরাসহ এলাকার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। জন্মদিন উপলক্ষে নুহাশপল্লীর ভাষ্কর আসাদ খান তার একক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী করেন। এতে কাঠ দিয়ে তার তৈরী ৭১টি শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়।

উল্লেখ্য, সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দূরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে তাকে সমাহিত করা হয়।

এমএবি/এলএ/এমকেএইচ

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com