দোয়া করে আল্লাহকে বলতাম ঈদের ড্রেস পাঠাও : মনীরা মিঠু

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:২৩ পিএম, ২০ মে ২০২০

মনীরা আক্তার মিঠু। সবার কাছে মনীরা মিঠু বলেই পরিচিত। এদেশের অভিনয়ের আঙিনায় জনপ্রিয় এক নাম। পর্দায় যেমন তিনি সবার প্রিয় তেমনি পর্দার বাইরেও শোবিজের মানুষদের কাছে তার জনপ্রিয়তা দারুণ। নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা তাকে মা বলে ডাকেন। মিঠুও সবাইকে স্নেহ ভালোবাসায় আগলে রাখতে জানেন।

হুমায়ূন আহমেদের নাটক দিয়ে তার দর্শকপ্রিয় হয়ে ওঠা। এরপর বহু নাটকেই তিনি দর্শক মাতিয়েছেন সাবলীল অভিনয়ে। তার অভিনয়ের দ্যুতি ছড়িয়েছে সিনেমাতেও।

এই অভিনেত্রীর রোজা, ঈদ ভাবনা ও করোনায় ঘরবন্দী সময়ে দিনযাপন নিয়ে লিখেছেন অরণ্য শোয়েব-

জাগো নিউজ : গৃহবন্ধি জীবন কাটছে কেমন?
মিঠু : আর সবারই মতো। বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে ঘরেই। আমি ইন্ডিয়া থেকে ফিরেছি ১৩ মার্চ। এসে দুটো নাটকে কাজ করেছিলাম। মার্চ মাসের ১৮ তারিখ থেকেই ঘরে অবস্থান নিয়েছি।

জাগো নিউজ : করোনা সবাইকে বেশ লম্বা সময়ের অবসর দিয়েছে। এই অবসরে আপনি কি করছেন ?
মিঠু : এই সময়টা আমি কাজে লাগিয়েছি অসহায় ও আর্থিকভাবে খারাপ আছেন এমন মানুষদের সাহায্য করে। পরিচিত অপরিচিত মিডিয়ার ভেতরে বাইরে অনেককেই সাহায্য করেছি। লাইটম্যান, মেকাপম্যান, তাদের সহকারী, প্রোডাকশনের যে কেউই হোক যখন জেনেছি অমুক ভালো নেই যোগাযোগ করে তার জন্য ভালোবাসার হাতটি বাড়িয়ে দিয়েছি।

আমি যতটুকু পেরেছি করেছি। সাধ্যমতো। আমি একজন শিল্পী, কিন্তু শিল্পপতি না। অনেক ইচ্ছে থাকলেও সাধ্যে হয় না। আমার সার্কেলে বিত্তবান যারা আছেন বন্ধু-ভাই তাদের কাছে হাত পেতেছি যে আমার অমুক শিল্পীটা বিপদে আছেন একে কিছু দাও। তাদের বিকাশ নম্বর দিয়েছি। তারা অর্থ প্রেরণ করেছেন।

আবার কেউ ইনবক্সে নক করেছেন, তাদের সাহায্য করেছি। ফেসবুকে মাঝে মাঝে পোস্ট করেছি যে অমুককে সাহায্য করুন। এভাবেই যতটুকু পারা যায় করেছি। এভাবেই সময়টা কেটে যাচ্ছে। তাই বলা চলে এই অবসরেও আমি অবসরে ছিলাম না।

জাগো নিউজ : এটা তো খুবই চমৎকার ব্যস্ততা আপনার....
মিঠু : বলতেই পারেন। আসলে একা একা ভালো থাকা যায় না। মানুষকে ভালো থাকতে হয় সবাইকে নিয়ে। তাছাড়া অন্যের জন্য কিছু করতে পারার মধ্যে একটা আনন্দ আছে৷ জীবনের অন্যরকম একটা মানে খুঁজে পাওয়া যায়৷ যা সুন্দর।

জাগো নিউজ : এই ঈদে কয়টা নাটক আসছে আপনার অভিনীত?
মিঠু : এবার এমন একটা সময় চলছে যে কারণে ঈদের নাটক নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। এত বিপদ আর অর্থনৈতিক ধ্বস চলছে চারদিকে মন স্থির রাখা যায় না৷ এর মধ্যে নাটক আমাকে মোটেও স্পর্শ করছেনা এখন। তবুও কিছু কাজ করা ছিলো। সেগুলো প্রচার হবে।

তারমধ্যে সাত পর্বের একটি নাটক আরো কিছু খন্ড নাটক আছে। বিশেষ একটা কাজ হলো আমার গল্পে একটি নাটক যাচ্ছে দীপ্ত টিভিতে ঈদের দিন রাত সাড়ে ৯ টায়। নাটকটির নাম ঘরবন্দি সময়ের গল্প। এটা যার যার বাসায় বসে শিল্পীরা নিজেই শুট করেছি আমরা।

জাগো নিউজ : রমজান মাস চলছে। এবারের রোজায় বিশেষ কি করলেন?
মিঠু : মুসলমানদের জন্য রোজা একটা বিশেষ সময়। এ মাসে অনেক কিছুই বিশেষভাবে করা হয়। এ সময়ে রোজা, নামাজ, ইবাদাতের অন্যরকম গুরুত্ব থাকে। আমি চেষ্টা করেছি নিজেকে ইবাদাতে নিয়োজিত রাখতে। আসলে ছোটবেলা থেকেই নামাজ ও রোজা রাখি। এটা আমাদের ফ্যামিলির ঐতিহ্য।

জাগো নিউজ : করোনার রোজায় বিশেষ কোনো উপলব্ধি?
মিঠু : আছে। এবার উপলব্ধি করলাম যে রোজার মাসে শুটিং বা ব্যস্ততা রাখা উচিত না। এই মাসে বেশি বেশি করে বাসায় থেকে ইবাদাত করার মধ্যে একটা প্রশান্তি পাওয়া যায়। এবার রোজা রাখতে, নামাজ পড়তে, সেহেরি করতে এবং সবাই মিলে ইফতারি করতে গিয়ে দারুণ তৃপ্তি পেয়েছি। এর কারণ হলো কোনো বাড়তি দুশ্চিন্তা বা ব্যস্ততা ছিলো না বলে।

জাগো নিউজ : ঘরবন্দী এক নতুন অভিজ্ঞতার ঈদ আসতে চলেছে। এই ঈদে কি করবেন বলে ভাবছেন?
মিঠু : এবারে আর ঈদ কই। ঘরে বসেই কাটতে হবে। অবশ্য আমি সব ঈদেই ঘরবন্দি থাকি।আমার প্রয়াত বড় ভাই অভিনেতা চ্যালেঞ্জার। ঈদের তৃতীয় দিনে তার বাসায় যাওয়া হয়। ভাবী এসে জোর করে নিয়ে যান। একটু মজা করি। আমার বড় বোন পনেরো বছর ধরে অসুস্থ তার বাসায় একটু ঘুরে আসি। এবার হয়তো এসব হবে না।

জাগো নিউজ : ঈদে মজার কোনো স্মৃতি?
মিঠু : অনেক আছে। তবে গতবার ঈদের পরদিন আমাকে আমার ছেলেরা না বলে হঠাৎ করে কক্সবাজারে নিয়ে গিয়েছিলো। সেই মুহূর্তটা আমার বারবার মনে পড়ে। এবার আরও বেশি করে মনে পড়বে।

জাগো নিউজ : ছোটবেলার ঈদের কোনো স্মৃতি মনে পরে ?
মিঠু : আমার তো বাবা মা নেই। মা মারা যান আমার নয় মাস বয়সে। তাই ছোটবেলার ঈদের স্মৃতিগুলো খুব করুণ আর বেদনাদায়ক। আমি থাকতাম একটা এতিমের মতো। হয়তো কখনো আমার মামারা কিংবা আমার কাকা একটা জামা পাঠাতো সেটা দিয়ে ঈদ করতাম। সেই জামা কখন কবে পাঠাবে সে চিন্তায় ঘুমাতাম না।

দাদির সাথে ছোট্ট একটা শিশু বসে বসে দোয়া পড়ে বলতাম, আল্লাহ আমাকে ঈদের ড্রেস পাঠিয়ে দাও। এটা আমার খুব ভীষণ মনে পরে।

জাগো নিউজ স্পেশাল :
প্রশ্ন ১ : প্রিয় অভিনেত্রী ও অভিনেতা কে?
প্রশ্ন ২ : সুযোগ হলে কোন নায়কের বিপরীতে নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন দেখেন?
মিঠু : প্রথম প্রশ্নের উত্তর হলো শর্মিলী আহমেদ এবং মোশারফ করিম। এ দুজনের অভিনয় আমার ভিষণ প্রিয়।
উত্তর নম্বর দুই হলো সালমান শাহ। আমার প্রিয় নায়ক হচ্ছে তিনি। তার নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন এখনো আছে আমার। পাশাপাশি ওপার বাংলার প্রায়ত নায়ক ইরফান খান। এই সময়ের দুর্দান্ত অভিনেতা নেওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকীর বিপরীতেও কাজ করতে পারলে স্বপ্নপূরণ হতো।

এলএ/এমএবি/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - jagofeature@gmail.com