‘হৃদিতা’ সিনেমার অনুদান ও কার্যক্রম স্থগিত করতে আইনি নোটিশ

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৫০ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি ‘হৃদিতা’ নিয়ে। অভিযোগ করেছেন জাদুকাঠি মিডিয়ার কর্ণধার চলচ্চিত্র প্রযোজক মো. মিজানুর রহমান। তার দাবি, তিনি যে নির্মাতাদ্বয়কে তার প্রযোজনায় আনিসুল হকের উপন্যাস ‘হৃদিতা’ থেকে ছবি বানানোর জন্য চুক্তি করেছিলেন সেই দুই পরিচালক চুক্তি ভঙ্গ করে নিজেরাই এই গল্প দিয়ে অন্য প্রযোজনায় ছবি বানাচ্ছেন।

ছবিটি এবার আইনি জটিলতার মুখে পড়লো। ছবিটির সরকারি অনুদান বাতিল করতে এবং এর সব কার্যক্রম স্থগিত করতে আইনি নোটিশ দেয়া হয়েছে। অনিয়ম এবং অনুদানের শর্ত ও নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ‘হৃদিতা’ ছবির অনুদান বাতিল ও শুটিংসহ যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিতের জন্য তথ্য সচিব এবং ‘হৃদিতা’র তথাকথিত প্রযোজকসহ ৯ জনকে নোটিশ দিয়েছেন জাদুকাঠি মিডিয়ার কর্ণধার মো. মিজানুর রহমান।

তিনি জাগো নিউজকে জানান, তার পক্ষে আইনি নোটিশটি পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আফতাব উদ্দিন ছিদ্দিকী।

২৪ সেপ্টেম্বর রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এবং ২৭ সেপ্টেম্বর ই-মেইলে পাঠানো ওই নোটিশে একই সঙ্গে ‘হৃদিতা’র জন্য ইতোমধ্যে ছাড়কৃত অনুদান ফেরত এবং অনুদানের মতো সরকারের একটি মহতী উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধও জানানো হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, ‘হৃদিতা’ মূলত ‘সময়’ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত লেখক আনিসুল হকের একটি উপন্যাস। লেখক ২০১৯ সালের ২৮ এপ্রিল, ৫০ হাজার টাকা সম্মানীর বিনিময়ে প্রযোজক মিজানুর রহমানকে এককভাবে ‘হৃদিতা’ থেকে চলচ্চিত্র নির্মাণের লিখিত অনুমতি দেন। ওই দিন মিজানুরের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘জাদুকাঠি মিডিয়া’র অফিশিয়াল প্যাডে আনিসুল হক নিজ হাতে লিখেন, ‘জাদুকাঠি মিডিয়াকে আমার উপন্যাস সময় প্রকাশনীর ‘হৃদিতা’ থেকে চলচ্চিত্র নির্মাণের অনুমতি প্রদান করা হলো।’

নোটিশে আরও বলা হয়, ‘হৃদিতা’ সম্পূর্ণরূপে নির্মাণাধীন একটি চলচ্চিত্র। কারণ লেখকের অনুমতি পাওয়ার পর মিজানুর রহমান ‘ড্রিমগার্ল’ নাম দিয়ে ছবিটি পরিচালনার জন্য ইস্পাহানি আরিফ জাহানকে নিয়োগ দেন, নায়ক-নায়িকা চূড়ান্ত করে তাদের সাইনিং মানি দেন, ছবির মহরত করেন। এমনকি পুরোদমে শুটিংয়ের প্রস্তুতিও সারেন।

jagonews24

এসব কাজে প্রচুর অর্থ ব্যয়ও করেন। কিন্তু করোনার তাণ্ডবে সব কিছু থমকে যায়। এরই মধ্যে ২৫ জুন, ২০২০ তারিখে জারি হয় ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য অনুদানের ছবির প্রজ্ঞাপন। তাতে দেখা যায়, ‘হৃদিতা’ ছবিটি অন্য প্রযোজকের (এম, এন ইস্পাহানী) নামে অনুদান পেয়েছে। অথচ ওই প্রজ্ঞাপনের এক বছর দুই মাস আগে এবং এমনকি ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য অনুদানের ছবি আহ্বান করে সরকার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিরও পাঁচ মাস আগে মিজানুর এককভাবে ‘হৃদিতা’ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের অনুমতি পান।

নোটিশে আরও বলা হয়, অনুদান নীতিমালা ২০২০ অনুসারে, নির্মাণাধীন চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য অনুদানের জন্য বিবেচিত হয় না। তাছাড়া অনুদানের আবেদনপত্রের সাথে লেখকের অনুমতিপত্র দাখিল করতে হয়। এই দুই ক্ষেত্রেই অনুদানপ্রাপ্ত ‘হৃদিতা’ ছবির পরিচালক বা প্রযোজক নিশ্চিতভাবে প্রতারণা ও অনিয়েমের আশ্রয় নিয়েছেন। এসব অবৈধ পন্থা অবলম্বনের কারণে ‘হৃদিতা’র অনুদান বাতিলযোগ্য।

নোটিশে অন্যদের মধ্যে চলচ্চিত্র অনুদান কমিটির সভাপতি তথ্যমন্ত্রী, সহ-সভাপতি তথ্য-প্রতিমন্ত্রী, সদস্য এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অনুদানপ্রাপ্ত ছবি ‘হৃদিতা’র পরিচালক প্রযোজক এম এন ইস্পাহানি ও পরিচালক আরিফ জাহানকে পক্ষভুক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে নোটিশদাতা আইনজীবী আফতাব উদ্দিন ছিদ্দিকী বলেন, ‘প্রার্থিত বিষয়ে তিন দিনের মধ্যে কোনো ব্যবস্থা না নিলে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে চিত্র পরিচালক এন ইস্পাহানির মুঠোফোনে জাগো নিউজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি নোটিশের প্রাপ্তি স্বীকার করে বলেন, ‘নোটিশ পেয়েছি। আইনিভাবেই বিষয়টি মোকাবিলা করা হবে। আমরা সিনেমা করতে চাই। দ্বন্দ্ব-বিবাদ নয়।’   

এলএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]