ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেবেন শর্মিলা ঠাকুর

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:১৪ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২১

বেশ জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘ঊনবিংশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-২০২১’। ‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’- শ্লোগান নিয়ে আগামী ১৬ জানুয়ারি থেকে পর্দা উঠছে আসরটির। চলবে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে এবারের আসরটি উৎসর্গ করা হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি।

এই উৎসবে বিশ্বের মোট ৭৩টি দেশের ২২৬টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। চলচ্চিত্র নিয়ে বিশাল এই যজ্ঞে অংশ নেবেন ভারতীয় সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর। আজ ১৪ জানুয়ারি উৎসব উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে উৎসব কর্তৃপক্ষ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, উপমহাদেশের কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আগামী ২০ জানুয়ারি বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে একটি বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। ‘সত্যজিৎ রায় : জাতীয় ও বৈশ্বিক’ শিরোনামের মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন জনাব মফিদুল হক।

এই সেমিনারে বরেণ্য অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর, এমপির সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত সিনেমা ‘অপুর সংসার’র অভিনেত্রী শর্মীলা ঠাকুর। তবে তিনি অংশ নেবেন অনলাইনে। স্বশরীরে বাংলাদেশে এসে এই চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেয়ার ইচ্ছে থাকলেও করোনার পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভার্চুয়ালেই তিনি এই উৎসবে যোগ দেবেন।

শর্মিলা ঠাকুর তার অভিনয় জীবন শুরু করেন সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় কালজয়ী সিনেমা ‘অপুর সংসার’ দিয়ে। এ সিনেমায় তিনি প্রয়াত অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বিপরীতে অভিনয় করেন। শর্মিলা এরপর ক্যারিয়ারে বহু সিনেমায় অভিনয় করে নিজেকে কিংবদন্তিতে পরিণত করেছেন। পেয়েছেন দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও।

শর্মিলা ঠাকুর ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক নবাব মনসুর আলী খান পাতৌধির স্ত্রী। তিনি অভিনেতা সাঈফ আলি খান ও অভিনেত্রী সোহা আলি খানের মা। কারিনা কাপুর শর্মিলার পুত্রবধু। তরুণ প্রজন্মের অভিনেত্রী সারা আলি খান তার নাতনি। আর নব্বই দশকের অভিনেত্রী অমৃতা সিংও তার পুত্রবধু। পুত্র সাঈফের প্রথম স্ত্রী অমৃতা।

বলিউডে শর্মিলা আরও সম্মানিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বংশধর হিসেবেও।

তারসঙ্গে আরও অংশ নেবেন ভারতের আরেক কিংবদন্তি অভিনেতা ধৃতমান চ্যাটার্জী। বাংলাদেশ থেকে থাকবেন বিচারপতি রিফাত আহমেদ এবং চলচ্চিত্র সমালোচক মঈনুদ্দীন খালেদ।

উৎসবে সত্যজিৎ রায়ের ৭টি কালজয়ী চলচ্চিত্রও প্রদর্শিত হবে। এগুলো হলো- পথের প্যাঁচালী (১৯৫৫), অপরাজিতা (১৯৫৬), জলসাঘর (১৯৫৮), অপুর সংসার (১৯৫৯), অশনি সংকেত (১৯৭৩), সোনার কেল্লা (১৯৭৪) এবং হীরক রাজার দেশে (১৯৮০)।

প্রসঙ্গত, এবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তন, জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তন ও কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তন, শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা ও নৃত্যশালা মিলনায়তন, শিল্পকলার নন্দন থিয়েটার (মুক্তমঞ্চ), বসুন্ধরার স্টার সিনেপ্লেক্স এবং সীমান্ত স্কয়ার সিনেপ্লেক্সে দেখানো হবে উৎসবে ঠাঁই পাওয়া চলচ্চিত্রগুলো।

এলএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]