ইফতারে অনেক আইটেম থাকলে ভালো লাগে : ঈশানা

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:২৫ পিএম, ২২ এপ্রিল ২০২১

তারকাদের ধর্ম পালন নিয়ে তাদের ভক্তদের অনেক কৌতূহল। মুসলিম তারকারাও রোজা রাখেন। রোজা নিয়ে শুটিং করেন, ব্যস্ত থাকেন নানা রকম ধর্মীয় প্রার্থনায়। আর সবার মতো তাদেরও আছে রোজা রাখার অনেক মজার স্মৃতি। তাদের ভিড়ে লাক্স তারকা ঈশানা খান জানালেন রোজা নিয়ে তার দর্শন ও উপলব্ধির কথা।

এ মডেল ও অভিনেত্রী বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছেন৷ সেখানেই বছরের বেশিরভাগ সময় কাটে তার৷ জাগো নিউজের সঙ্গে অনলাইনে যোগ দিয়েছেন আলাপনে-

জাগো নিউজ : প্রথম রোজা কবে রেখেছেন? মনে পড়ে?
ঈশানা : আমি প্রথম রোজা রাখি যখন ক্লাস ফাইভে পড়ি৷ সে কী কষ্ট৷ সবাই বলছে পানি খেয়ে ফেল৷ আমি কিছুতেই ভাঙবো না৷ অবশেষে সফল হয়েছিলা। কি যে আনন্দ লেগেছিলো সেদিন সবার সঙ্গে ইফতার করে৷

জাগো নিউজ : শৈশবের দিনগুলো সবার কাছে সোনা দিয়ে বাঁধাই করে রাখার মতো৷ রোজা নিয়েও অনেকের শৈশবে নানা রকম স্মৃতি থাকে৷ যেখানে অনেক মজার ঘটনা লুকানো৷ আপনার কাছে শৈশবের সেহরী নিয়ে স্মৃতিকথা শুনতে চাই......
ঈশানা : সেহরীর কথা বলতেই আমার মনে পরে নানাবাড়ির কথা। আমাদের নানাবাড়ী ছিল ৩ তলা বিল্ডিং৷ শোবার ঘর দোতালায় আর খাবার ঘর ছিলো ৩ তলায়। মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে সবাই মিলে খেতে যেতাম। বিশাল আয়োজনের ব্যাপার৷ দারুণ লাগতো৷ সবাই মিলেমিশে বিয়েবাড়ির মতো সেহরি খাওয়া হতো একসঙ্গে। ছোট বড় সবার একইরকম আদর ছিলো।

জাগো নিউজ : ইফতার নিয়ে কোনো মজার স্মৃতি?
ঈশানা : ইফতারের স্মৃতি বলতে আম্মুর নিত্যনতুন ইফতার আইটেমের জন্য অপেক্ষা করতাম ছোটবেলায়। আম্মু সবসময়ই কিছু না কিছু মজাদার নতুন আইটেম বানাতো। প্রতিদিনই ভাবতাম আজ কি চমক থাকছে ইফতারে৷ সেটাই অনেক আনন্দের ব্যাপার ছিল আমার জন্য৷ বড় হয়েও আম্মুর বানানো ইফতারের বিকল্প পাইনি৷

জাগো নিউজ : শৈশব ও বড়বেলার রোজা রাখার মধ্যে কি পার্থক্য পান?
ঈশানা : শৈশবে রোজা রাখা ছিল উৎসব উৎসব একটা ব্যাপার। মনে হতো ৩০ দিন আগে থেকেই ঈদের উৎসব উপভোগ করছি। রোজা আসতেই ঈদের অপেক্ষায় দিন গুনতাম সবাই মিলে। একটা অন্যরকম মজা ছিলো।

কিন্তু এখন রোজা রাখি একজন মুসলমান হিসেবে আমার রব আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার আশায়৷ রোজা হলো ইবাদাতের মহা সুযোগের মাস৷ এই মাসকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। নিজের ভেতরে একটা দায়িত্ব ও প্রতিজ্ঞা কাজ করে। কখনো না রাখতে পারলে নিজেকে অপরাধী মনে হয়।

জাগো নিউজ : রোজা ও রোজার খাবারে বাঙালি হিসেবে একটা ঐতিহ্য রয়েছে৷ আপনি সাধারণত সেহরী ও ইফতারে কি ধরনের খাবার পছন্দ করেন?
ঈশানা : সেহরীতে আমি হালকা কিছু খাওয়া প্রেফার করি। সারাদিন যেন স্বস্তিতে থাকা যায়৷ সেহরীতে ফ্যাট ফ্রি মিল্ক আর সাথে একটা কলা খাই৷

কিন্তু ইফতারে আমার অনেক আইটেম থাকলে ভালো লাগে৷ সব কিছু থেকে অল্প অল্প করে খাবো, তবেই আমার ইফতার মনে হয়৷ তবে বেগুনি আর বিফ হালিম ছাড়া আমার ইফতার অসম্পূর্ণ।

জাগো নিউজ : রোজায় আপনার উপলব্ধি কি?
ঈশানা : রোজা আমাদের শিক্ষা দেয় স্যাক্রিফাইসের৷ রোজা রাখলে মনের ভেতর একটা তৃপ্তি পাই, শান্তি পাই৷ শরীরও অনেক ভালো থাকে বলে ফিল করি। রোজা সংযমের পাশাপাশি আমাদের ধোর্যশীল এবং প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকতে শেখায়।

এলএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]