রোজার উসিলায় পৃথিবীর মানুষ করোনা থেকে রক্ষা পাক : সাইমন

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:১৬ পিএম, ০১ মে ২০২১

কিশোরগঞ্জের ছেলে সাইমন সাদিক। শৈশব-কৈশোর পুরোটাই কেটেছে সেখানে। নির্মাতা জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘জ্বি হুজুর’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ঢালিউডে অভিষেক হয় তার। এরপর একই নির্মাতার ‘পোড়ামন’ ছবিতে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন। আরও বেশ কিছু আলোচিত সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি।

২০১৮ সালের ‘জান্নাত’ সিনেমাটির জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। জনপ্রিয় এই অভিনেতা জানালেন রোজা নিয়ে তার অভিজ্ঞতার কথা। জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো-

জাগো নিউজ : প্রথম রোজা রেখেছিলেন কবে?
সাইমন : প্রথম রোজা রেখেছিলাম খুব ছোটবেলায়। তখন তো আর সব রোজা রাখা হতো না। হঠাৎ জোর করে হয়তো একটা রোজা রাখলাম। এরপরে সারা এলাকাতে জানিয়ে দিতাম আমি রোজা রেখেছি। রোজা রাখার আনন্দটা সবাইকে জানাতে ভালো লাগতো। ঘরে ঘরে গিয়ে বলতাম যে আমি আজকে রোজা রেখেছি।

জাগো নিউজ : ছোটবেলায় রোজা রাখার অভিজ্ঞতা মনে পড়ে?
সাইমন : কষ্ট হতো খুব। দুপুরের পর এক ধরণের ছটফটানি শুরু হয়ে যেত। তখন খুব একটা ভালো স্বাস্থ্যের অধিকারীও ছিলাম না। রোজা রেখে কাহিল হয়ে যেতাম। বয়স আর কতো হবে; দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ি তখন। অনেক সময় এমন হয়েছে সেহরি খেয়েছি আবার দুপুরের পরে খেয়ে ফেলেছি। মনে মনে ভাবতাম যেহেতু দুপুর পর্যন্ত রোজা রেখেছি সেহেতু একটা রোজা হয়ে গেছে।

জাগো নিউজ : ছোটবেলায় সেহরী ও ইফতারের মজার কোনো স্মৃতি?
সাইমন : ছোটবেলা মানেই তো স্মৃতিতে ভরপুর৷ জন্মের পর থেকেই বাড়িতে দেখে এসেছি, অনেক বড় করে ইফতারের আয়োজন করা হতো। কারণ হচ্ছে আমাদের যৌথ পরিবার ছিল। দাদা, আব্বু, ছাড়াও বাড়ির সবাই মিলে একসঙ্গে বসে ইফতার করা হতো। ভাই-বোন ফুফুরা একসঙ্গে প্রতিদিনই প্রায় চল্লিশ-পঞ্চাশ জনের ইফতারের আয়োজন হতো।

অন্যরকম একটা পরিবেশ তৈরি হতো বাড়িতে। সেটা অনেক সুখের স্মৃতি। অন্যদিকে সেহরীর সময়ও একটা অন্যরকম পরিবেশ হতো। আমাদের বাড়ি ছিল ঠিক মসজিদের পাশে। সময় হলেই মসজিদের মাইক থেকে ডাকাডাকি শুরু হয়ে যেত। মনে পড়ে তখন শীতকাল ছিল। শীতের সময় লেপের ভেতর থেকে উঠতে ইচ্ছে হতো না।

অনেকদিন এমন হতো আমাকে ডাকতো না পরে আমি রাগারাগি করতাম। এরপর যখন আর একটু বড় হলাম সেহরি খাওয়ার পর মসজিদে নামাজ পড়ে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে হাঁটতে যেতাম। আবার সন্ধ্যার আগে দাঁত মাজার ধুম লেগে যেত। মডেলার ডাল নামে এক রকমের মাজনি ছিল, সেটা আমরা ব্যবহার করতাম। এই ডাল নিয়ে রীতিমতো কাড়াকাড়ি লেগে যেত। সেই সময়গুলো আসলেই খুব মজার ছিল। অনেকদিন পর সেগুলো মনে পড়ল।

জাগো নিউজ : ছোটবেলার রোজা আর এখনকার রোজার ভেতর মূল কোন পার্থক্যটা কোথায়?
সাইমন : ছোটবেলায় না বুঝেও অনেক কিছু করতাম। এখন কোন ভুল হলে সহজেই সেটা ধরতে পারি। চেষ্টা করি সঠিকভাবে রোজা পালন করার। যতটুকু পারি ভালো কাজ করার চেষ্টা করি। ছোটবেলায় এগুলো চিন্তা করতাম না। বরাবরই বন্ধুদের নিয়ে ইফতার করতে ভালো লাগে।

জাগো নিউজ : সাধারণত ইফতার ও সেহরীতে কি ধরনের খাবার খেয়ে থাকেন?

সাইমন : অনেকে বলে রোজায় ইফতারিতে ভাজা পোড়া খাওয়া নিষেধ। কিন্তু সত্যি কথা বলতে আমার এগুলো ছাড়া ইফতার করতে ভালোই লাগে না। মুড়ি, ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, এগুলো আমার ভালো লাগে। আর ভোর বেলায় তরকারি দিয়ে ভাত খাওয়ার পর দুধ কলা দিয়ে ভাত খেতে ভালো লাগে। যখন আম থাকে দুধের সঙ্গে পাকা আম দিয়ে ভাত খেতে ভালো লাগে।

জাগো নিউজ : এবার রমজানের বিশেষ প্রার্থনা কী?
সাইমন : এবারের আমাদের সবার প্রার্থনা একটাই- রোজার উসিলায় আল্লাহ যেন করোনাভাইরাস আমাদের দেশ থেকে এমনকি সারা পৃথিবী থেকে দূর করে দেন। পবিত্র রমজান মাসে সারা দেশের মানুষ অনেক আতঙ্কে আছে। আল্লাহ যেন আবার সবকিছু স্বাভাবিক করে দেন।

রমজানের শিক্ষা নিয়ে বছরের অন্যান্য মাসেও আমরা যেন পাপ মুক্ত থাকি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষকে মানুষ মনে করি। এটাই আমার চাওয়া। সবাই ভালো থাকুক। সুন্দর থাকুক। সবাই সবার জন্য শুভকামনায় নত হোক। পৃথিবীর সুন্দর হোক।

এলএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]