দেশের শাড়ির ঐতিহ্য তুলে ধরবে অনুদানের সিনেমা ‘জামদানী’

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:০৭ পিএম, ১৬ জুন ২০২১ | আপডেট: ০৩:০৯ পিএম, ১৬ জুন ২০২১

২০২০-২১ অর্থবছরে ২০টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অনুদান দেবে সরকার। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক তিনটি, শিশুতোষ দুইটি ও সাধারণ শাখায় ১৫টি চলচ্চিত্র রয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে এ বছর অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রগুলোর নাম ঘোষণা করা হয়। সে তালিকায় আছে ‘জামদানী’ সিনেমার নাম।

এটি নির্মাণ করবেন অনিরুদ্ধ রাসেল। যিনি এরইমধ্যে নিজেকে নাটকে নির্মাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ‘জামদানী’ সিনেমাটি প্রযোজনা করছেন, জানে আলম।

এই সিনেমার গল্পটি লিখেছেন মোস্তফা মনন। তিনি নিজেও একজন নির্মাতা। ডিরেক্টর গিল্ডের নির্বাচিত প্রতিনিধিও। লেখালেখিও করেন নিয়মিত। তিনি জানালেন ‘জামদানী’ সিনেমার গল্প ভাবনা ও এটি দর্শককে কি বার্তা দেবে, কতোটা বিনোদিত করবে সে নিয়ে বিস্তারিত।

অনুদানের চলচ্চিত্র ‘জামদানী’র গল্প কি নিয়ে? এ প্রশ্নের জবাবে মোস্তফা মনন বলেন, ‘‘জামদানী’ আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। আমার চাওয়া হলো, জামদানী কারুকাজ বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে দেওয়া যায়। জামদানী শাড়িতো আছেই, যারা শাড়িতো বিদেশিরা পড়ে না। বিদেশিরা যে পোশাক পড়বে, তাতে জামদানী কারুকাজ থাকতে পারে। তাদের নিজস্ব পোশাক আর স্টাইলের সাথে কীভাবে মানানসই ব্যবহার করা যায়, সে চেষ্টা করা।

আর এই কারুকাজ শুধু আমরাই সবচেয়ে ভালো ভাবে করতে পারি। ফলে বাংলাদেশের একটা নিজস্ব ব্রান্ড চালু হবার সম্ভাবনা থাকবে। আমাদের তাঁতীদের পেশাকে সম্মান করবে, তারা ধনী হবে। আমাদের গার্মেন্টস আছে, ডিজাইনার আছে, প্রয়োজন উদ্যোগ। যথাযথ উদ্যোগ নিলে আমাদের অর্থনীতি এবং মর্যাদা অনেক দুর এগিয়ে যাবে।’

তিনি এর গল্প ভাবনা সম্পর্কে জানান, ‘২০০৭/০৮ সাল থেকেই এই ভাবনা আমার মধ্যে কাজ করে। বাংলাদেশের ঐতিহ্য কি ভাবে বিশ্বব্যাপি পরিচিত করা যায়, তা নিয়ে ভাবতে ভাবতে জামদানীর কথা মাথায় আসে। আমি তাঁতী পল্লীতে বহুদিন গিয়েছি। তাছাড়া মসলিনের ঐতিহ্যের কথা আমরা সকলে জানি। এখন জামদানীর উন্নয়নে ভূমিকা রাখলে এই পণ্য এক সময় বিশ্ববাজারে ব্যাপক সুনাম বয়ে আনবে।’

‘আমাদের দেশে গল্পের কোনো অভাব নেই, প্রয়োজন অনুসন্ধান। পরিশ্রম করে নতুন আইডিয়া ডেভলাপ করতে চায় না কেউ। বিদেশি ছবি দেখে তার অনুকরণ, অনুসরণ করতে পছন্দ করে। আমাদের সম্ভাবনাময় অনেক ক্ষেত্র আছে। গৌরবের ঐতিহ্য আর ইতিহাস আছে। এসব নিয়ে আরো গবেষণা করা প্রয়োজন। আরো ভালো ভালো গল্প হওয়া প্রয়োজন। তাহলে দেশকে রিপ্রেজেন্ট করা সম্ভব।

বিদেশি কাহিনী বিদেশিরা দেখবে না, কারন তারা সেটা ভালো বুঝে। আমাদের গল্প আমরা বলতে পারলে সবাই দেখবে, শুনবে, বুঝবে। গর্বটা সেখানেই’- যোগ করেন মনন।

এলএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]