হতাশ হল মালিকরা, আশার আলো দেখছেন প্রযোজক নেতা

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:১৫ পিএম, ২৮ জুলাই ২০২১

করোনার কারণে বদলে গেছে সিনেমার চিত্রটা। গত চারটি ঈদে ছিল না সিনেমা। নেই কোনো উৎসব, উচ্ছ্বাস। দিন দিন হতাশা যেন আকড়ে ধরেছে ঢালিউডকে। এ সময়ে হল মালিকরা কি ভাবছেন সিনেমা নিয়ে? প্রযোজকরাই বা কী পরিকল্পনা করছেন?

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সিনেমা মুক্তির তালিকা বেশ লম্বা। সে তালিকায় রয়েছে অপারেশন সুন্দরবন, মিশন এক্সট্রিম, শান, বিক্ষোভ, বিউটি সার্কাস, জ্বীন, অন্তরাত্মা, আগামীকাল, অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন সিনেমাগুলো। সবাই অপেক্ষা করছেন মহামারি কেটে যাবে। হল চালু হবে আবারও। উৎসব আমেজে মুক্তি পাবে ছবিগুলো।

কিন্তু হল মালিকরা হতাশ সার্বিক অবস্থা বিবেচনায়। তাদের ভাষ্যমতে, এ ছবিগুলো বিগ বাজেটের, যে কারণে ঈদ ছাড়া মুক্তি দিয়ে এর লগ্নি উঠানো সম্ভব নয়। চার ঈদ পেরিয়ে গেলেও ছবিগুলো সিনেমা হলের মুখ দেখেনি। তৈরি হয়েছে হতাশা। কবে হল খুলবে, আর খুললেও ঈদের বাইরে এসব ছবি মুক্তি দেওয়া হবে কী না তা নিয়েও রয়েছে সংশয়।

এ বিষয়ে প্রদর্শক সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মিয়া আলাউদ্দিন বলেন, ‘এখন সিনেমা হলগুলো হল মালিকদের কাছে যন্ত্রণা হয়ে দাঁড়িয়েছ। হল ব্যবসা বন্ধও করতে পারছেন না, চালুও রাখা যাচ্ছে না। এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত। সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে না, হলগুলো চালানো যাচ্ছে না, কর্মচারীদের বেতন দেওয়া যাচ্ছে না। এভাবে তো চলতে পারে না।'

‘সিনেমা হল কবে খুলবে, এ বিষয়ে কিছুই বলা যাচ্ছে না। খুললেও লাভ নেই, কারণ কেউ সিনেমা মুক্তি দিতেও চাচ্ছে না। এসময়ে ছবি মুক্তি দিলেও দর্শক দেখতে আসবে না, আসলেও যা আসবে তা দিয়ে কিছুই হবে না। এমতাবস্থায় হল মালিকরা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন’- যোগ করেন হল মালিকদের এ নেতা।

হতাশ প্রযোজকরাও৷ বড় বাজেটের সিনেমাগুলো মুক্তি দেয়া যাচ্ছে না। নতুন সিনেমাও তৈরি হচ্ছে না৷ প্রযোজক নেতা খোরশেদ আলম খসরু বলেন, ‘গত বছরে প্রায় ৮ মাস সিনেমা বন্ধ ছিলো এরপর হল খোলার পর বিভিন্ন সময়ে ১৩-১৪ টা সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। এরপর করেনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে আবারও হল বন্ধ হলো। এরমধ্যে যে ছবিগুলো মুক্তি পেয়েছে সেগুলো তেমন আশার আলো দেখতে পারেনি।

যেহেতু ঈদকে ঘিরে বিগ বাজেটের অনেক সিনেমা নির্মিত হয়, প্রযোজকরা ঈদে সিনেমা মুক্তি দিতে চান কারণ এসময়টাতে ব্যবসা ভালো হয়। গত দুই বছরে ঈদে মুক্তির জন্য অনেক সিনেমা প্রস্তুত রয়েছে কিন্ত সেগুলো মুক্তি দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। এতে প্রযোজকরা ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যে ক্ষতি আসলেও কাটিয়ে উঠা সম্ভব কিনা জানিনা। কারণ অনেক হলই ভাড়ায় চলে, ঠিকমতো চালাতে পারছেনা। কিছু বন্ধও হয়ে যাচ্ছে একবারে। আর এরমধ্যে যদি হল খুলেও এসব ছবি মুক্তি দিলে দর্শক দেখতে আসবে কিনা, সেসব নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছি আমরা।'

তারপরও আশার আলো দেখছেন খসরু। তিনি বলেন, 'প্রতিকূলতা নিয়েই তো এগিয়ে যেতে হয়। এরইমধ্যে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিনেমা হল নির্মাণ ও উন্নয়নের জন্য ১ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করেছেন। এ টাকা দিয়ে আমরা নতুন সিনেমা হল নির্মাণ ও পুরাতন হল মেরামত করে নতুনভাবে ভালো কিছুই শুরু করতে পারবো বলে আশা করছি। আমাদের সিনেমার যতগুলো সংস্থা আছে সবার তাদরকিতে যদি এ কাজগুলো করা যায় তাহলে সামনে অবশ্যই ভালো কিছু হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

এছাড়াও বর্তমানে ওটিটির জোয়ারকেও ইতিবাচকভাবে দেখছেন এ নেতা। তিনি মনে করেন, সিনেমা হলের ভাল বিকল্প হয়ে উঠছে নানা অনলাইন স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম। ভালো ব্যবস্থাপনা হলে এখান থেকেও প্রযোজকরা লাভবান হতে পারেন৷

এলএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]