আপন জুয়েলার্সের লোকজন সবসময় আমাকে মামলার হুমকি দিতেন : পিয়াসা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:২৬ পিএম, ০৬ আগস্ট ২০২১
ফাইল ছবি

‘আমার এক্স হাজবেন্ড আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে। তারা আমাকে সবসময় মামলার হুমকি দিতেন। আমার বাসায় কোনো মাদক ছিল না।’ রিমান্ড শুনানি চলাকালে বিচারকের কাছে এমন দাবি করেন মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা।

শুক্রবার (৬ আগস্ট) প্রথম দফার রিমান্ড শেষে আসামি পিয়াসাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর গুলশান থানার মামলায় ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এছাড়া ভাটারা থানার মামলায় গ্রেফতার দেখানোসহ ১০ দিন এবং খিলক্ষেত থানায় গ্রেফতার দেখানোসহ সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরী গুলশান থানার মামলায় দুইদিন, ভাটারা থানার মামলায় তিনদিন ও খিলক্ষেত থানার মামলায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

শুনানি চলাকালে বিচারক পিয়াসাকে জিজ্ঞাসা করে বলেন, আপনার কিছু বলার আছে? তখন পিয়াসা বলেন, আমি গরুর ফার্মের মালিক না। জিসান ও মিশু আমার বন্ধু। আমার কোনো মাদক ব্যবসা ছিল না। আমি কোনো বিজনেস করি না। আমি কোম্পানিতে চাকরি করি। আমার এক্স হাজবেন্ড আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে। তারা আমাকে সব সময় মামলার হুমকি দিতেন। আমার বাসায় কোনো মাদক ছিল না।

শুনানিতে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবদুল্লাহ আবু বলেন, আসামি গরুর ব্যবসার আড়ালে মাদক ব্যবসা করতেন। এ ব্যবসার সঙ্গে কারা কারা জড়িত তা উদঘাটনের জন্য তাকে রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন।

অপরদিকে পিয়াসার আইনজীবী বলেন, আসামি কোনো মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নয়। তাকে আগে একবার রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। তাই তার রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করছি।

এর আগে সোমবার (২ আগস্ট) শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম শহিদুল ইসলামের আদালত মডেল পিয়াসার তিনদিন এবং ঢাকা মহানগর হাকিম আশেক ইমামের আদালত আরেক মডেল মৌয়ের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রোববার (১ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে প্রথমে রাজধানীর বারিধারায় মডেল পিয়াসার বাসায় অভিযান শুরু করে পুলিশ। পরে রাত পৌনে ১২টার দিকে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়।

এদিকে পিয়াসার দেয়া তথ্যে আরেক মডেল মরিয়ম আক্তার মৌয়ের রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাবর রোডের বাসায় অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ। তার বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মদ উদ্ধার করা হয়। পরে রাত ১টার দিকে মৌকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকেও ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়।

পুলিশ জানায়, মডেল পিয়াসা ও মৌ সংঘবদ্ধ একটি চক্রের সদস্য। তারা পার্টির নামে উচ্চবিত্তদের বাসায় ডেকে মদ ও ইয়াবা খাইয়ে আপত্তিকর ছবি তুলে রাখতেন। পরে সেই ছবি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিতেন।

দুই মডেলকে আটকের পর বাবর রোডে মৌয়ের বাসার নিচে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা (উত্তর) শাখার যুগ্ম-কমিশনার হারুন-অর-রশীদ।

সে সময় তিনি বলেছিলেন, তারা দুইজন একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে আমরা অনেক ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ পেয়েছি। সেসব ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে আজ তাদের বাসায় অভিযান চালানো হয়। দুইজনের বাসায় বিদেশি মদ, ইয়াবা, সিসা পাওয়া যায়। মৌয়ের বাড়িতে মদের বারও ছিল।

ডিবির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের পার্টির নামে বাসায় ডেকে আনতেন তারা। বাসায় আসলে তারা তাদের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তুলতেন এবং ভিডিও করে রাখতেন। পরবর্তীতে সেসব ভিডিও এবং ছবি ভিকটিমদের পরিবারকে পাঠানোর হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতেন এবং মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিতেন।

জেএ/এমআরআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]