পরীমনির রিমান্ড: বিচারকের ক্ষমা প্রার্থনা, শুনানি ২৯ সেপ্টেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৩০ পিএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
ছবি : মাহবুব আলম

উচ্চ আদালতের নির্দেশনা না মেনে মাদক মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনিকে বারবার রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দুই বিচারক ক্ষমা প্রার্থনার আর্জি জানিয়েছেন। তবে তাদের বক্তব্যে সন্তুষ্ট হননি হাইকোর্ট। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য ২৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এর আগে পরীমনির রিমান্ডের বিষয়ে হাইকোর্টের চাওয়া ব্যাখ্যায় ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের দুই বিচারক আতিকুল ইসলাম ও দেবব্রত বিশ্বাস লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে তারা নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে ব্যাখ্যায় বলেন, এটি তাদের অনিচ্ছাকৃত ভুল।

আইনজীবী জহিরুল ইসলাম (জেডআই) খান পান্না জাগো নিউজকে বলেন, আমরা এখনো নথি হাতে পাইনি। তবে বিচারক লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন বলে শুনেছি।

এর আগে গত ২৯ আগস্ট পরীমনিকে বারবার রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়ে হাইকোর্টে স্ব-প্রণোদিত আদেশের জন্য আর্জি জানানো হয়। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও শালিস কেন্দ্রের (আসক) পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা নাসরিন এ আবেদন করেন।

এরপর ২ সেপ্টেম্বর একই বেঞ্চ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় পরীমনিকে বারবার রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়ে বিচারিক আদালতের ব্যাখ্যা ও নথি (কেসডকেট সিডিসহ) তলব করেন। একই সঙ্গে মামলার দুই তদন্ত কর্মকর্তাকে ১৫ সেপ্টেম্বর সশরীরে উপস্থিত হতে বলা হয়। এছাড়া তিন দফায় রিমান্ডের আদেশ দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিচারকের কাছে ব্যাখ্যাও চেয়েছিলেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল আবু ইয়াহিয়া দুলাল আদালতে শুনানির বিষয়ে জাগো নিউজকে বলেন, মাদক মামলায় আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণির রিমান্ডের বিষয়ে দুই বিচারকের দেওয়া ব্যাখ্যায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, তাদের (জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) বাখ্যা হাইকোর্টকে আন্ডারমাইন (হেয়) করেছেন। তাদের ব্যাখ্যা দেখে মনে হয়, হাইকোর্টকে তারা কিছু শেখাতে চায়। আমরা তাদের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নই। আদালত আরো বলেন, মামলা নথি পর্যালোচনা করে ২৯ সেপ্টেম্বর পরবর্তী আদেশ দেওয়া হবে।

ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, দুই ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দেওয়া তাদের বাখ্যায় বলেছেন, রাষ্ট্র মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এলএসডি, আইসসহ বিদেশি মাদক উদ্ধার করা হয়েছে বলে মামলার নথিতে এসেছে। এ কারণে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। এতে কোনো ত্রুটি- বিচ্যুতি হয়ে থাকলে তা হবে সরল বিশ্বাসের ভুল।

এ পর্যায়ে আদালত বলেন, ভুল হয়েছে সেটাও তারা স্বীকার করেনি। আমরা মনে করি, হাইকোর্টকে আন্ডারমাইন করেছে দুই ম্যাজিস্ট্রেট।

হাইকোর্ট আরও বলেন, উনারা (বিচারক) ব্যাখ্যায় বলেছেন, উপরোক্ত বিষয় সার্বিক বিবেচনায় দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করার আদেশের ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি হলে নিতান্তই ইচ্ছাকৃত নয়, সরল বিশ্বাসে ভুল। এখানে যে ত্রুটি হয়েছে তা (বিচারক) বিশ্বাস করেন না। এটা বলে তো হাইকোর্টকে আন্ডারমাইন করা হয়েছে।

এছাড়াও হাইকোর্টের নির্দেশে কেস ডকেটসহ আদালতে হাজির হয়েছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও)। এরপর এসব বিষয়ে পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।

এফএইচ/জেডএইচ/এমএস/এমকেআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]