নোটিশ ছাড়া ১৮৪ জনকে সহযোগী সদস্যকরণ, হাইকোর্টের রুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:১৭ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০২২
ফাইল ছবি

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ১৭তম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ২৮ জানুয়ারি। এই উপলক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাও চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। এরই মধ্যে কোনো ধরেনের নোটিশ ছাড়া শিল্পী সমিতির ১৮৪ জন পূর্ণ সদস্যকে সহযোগী সদস্য করা হয়েছে। ফলে তারা ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। কারণ পূর্ণাঙ্গ সদস্য হলে তাদের ভোট দিতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না।

এরপরে ওই সহযোগী সদস্যদের পক্ষ থেকে ১৬ জন তাদের পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ ফিরে পেতে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে গত ১১ জানুয়ারি শিল্পী সমিতির পুরোনো সদস্যদের সহযোগী সদস্য করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্টদের ১০ দিনের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

হাইকোর্টের বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) ওই রুল জারির তথ্য জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন রিটকারী আইনজীবী মো. মামুন অর রশিদ।

তিনি জানান, ওই ১৮৪ জনের মধ্যে ১৬ জন রিট আবেদন করেছিলেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট পূর্ণ সদস্য থেকে সহযোগী সদস্য করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না সেই মর্মে জানতে চেয়ে ১০ দিনের রুল জারি করেন।

আইনজীবী জানান, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দ্বিবার্ষিক ২০২২-২৩ মেয়াদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৮ জানুয়ারি। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চিত্রপাড়া সরগরম হয়ে উঠেছে। নির্বাচন কমিশন এরই মধ্যে একটি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, শিল্পী সমিতির ভোটার সংখ্যা ৪২৮ জন। তার মধ্যে ৪৮ জন আজীবন সদস্য। গঠনতন্ত্র অনুসারে যারা আজীবন সদস্য তারা ভোট দিতে পারলেও প্রার্থী হতে পারবেন না। কিন্তু অমীমাংসিত রয়ে গেছে, সদস্য পদ স্থগিত হওয়া ১৮৪ জনের বিষয়টি।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ১৮৪ সদস্যকে পূর্ণ সদস্য থেকে সহযোগী সদস্য করার ঘটনা ঘটে। সমিতির ১৮৪ জন সদস্যকে কোনো যুক্তি, কারণ ও নোটিশ ছাড়াই পূর্ণ থেকে সহযোগী সদস্য করা হয়েছে। এর ফলে তারা তাদের ভোটাধিকার হারিয়েছেন। এটি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করা হলে আদালত ১০ দিনের রুল জারি করেছে।

শিল্পী সমিতির গঠনতন্ত্র ৬-এর (ক)-তে বলা আছে, ‘একজন অভিনয়শিল্পী বিতর্কিত নয় এমন পাঁচটি ছবির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করা থাকলে পূর্ণ সদস্যের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এরপর কার্যকরী পরিষদের অনুমতিক্রমে সেই ব্যক্তি শিল্পী সমিতির পূর্ণ সদস্য হতে পারবেন।’

নির্বাচন ও কমিটির মেয়াদ নিয়ে সমিতির গঠনতন্ত্রের ৮ নম্বর অনুচ্ছেদের (চ)-এ আছে, ‘পূর্ববর্তী কার্যকরী পরিষদের মেয়াদান্তে অতিরিক্ত ৯০ দিনের মধ্যে অবশ্যই নির্বাচন হইতে হইবে।’

এফএইচ/এআরএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]