আজ শহীদ রাজুর ২৯তম শাহাদাতবার্ষিকী

ফিচার ডেস্ক
ফিচার ডেস্ক ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:০৭ এএম, ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯

আজ ৩ ডিসেম্বর। ১৯৯০ সালের এ দিনটি ছিল অগ্নিঝরা। ওইদিন এরশাদ বিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে ওঠে। চাঁদপুর জেলা শহরও যেন কাঁপছিল। ৫দিন আগে পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তে লড়তে এদিন সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চাঁদপুর সরকারি কলেজ শাখার তৎকালীন নেতা ও মেধাবী ছাত্র জিয়াউর রহমান রাজু পাটোয়ারী।

১৯৯০ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন চলাকালে ২৭ নভেম্বর ঢাকায় বিএমএর সাধারণ সম্পাদক ডা. সামছুল আলম মিলন নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে বিক্ষোভের দাবানল জ্বলে ওঠে। তারই প্রেক্ষিতে পরদিন ২৮ নভেম্বর সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য পরিষদ সরকারি কলেজ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। সেই মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের দ্বাদশ বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র ও ছাত্রলীগ নেতা জিয়াউর রহমান পাটোয়ারী রাজু।

মিছিলটি কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে চিত্রলেখা সিনেমা হল মোড়ে আসামাত্র কোনো প্রকার উস্কানি বা উত্তেজনা ছাড়াই পুলিশ মিছিলের ওপর গুলি চালায়। সে সময় একটি গুলি মিছিলের সম্মুখভাগে থাকা রাজু পাটোয়ারীর নাভির নিচ দিয়ে শরীরে ঢুকে পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। তখন সময় ছিল সকাল ১১টা ২০ মিনিট। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আহত রাজুকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয়। চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে দিনভর চিকিৎসার পর গুলিবিদ্ধ রাজুর জ্ঞান ফেরে রাত ১০টায়। সেদিন রাজুর চিকিৎসার জন্য প্রচুর রক্তের প্রয়োজন দেখা দিলে চাঁদপুরের সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা স্বেচ্ছায় রক্ত দেওয়ার জন্য হাসপাতালে ভিড় জমায়।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও বয়দের ছিল না কোনো অবহেলা। ৪১ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহের পর বেশিরভাগ রক্তই পুশ করা হয়েছিল রাজুর শরীরে। দীর্ঘ চেষ্টার পরও রক্তক্ষরণ বন্ধ করা যায়নি। টানা ৫ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ৬ দিনের মাথায় ৩ ডিসেম্বর সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে জিয়াউর রহমান রাজু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে চাঁদপুর শহরে বিক্ষোভের দাবানলের সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভে ফেটে পড়ে সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা। চাঁদপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আব্দুল করিম পাটোয়ারী, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম অ্যাড. আব্দুল আউয়াল, মরহুম অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম, মরহুম এম সফিউল্যাহ, অ্যাড. ফজলুল হক সরকারের হস্তক্ষেপে সেই দাবানল নিয়ন্ত্রণে আসে।

হাজার হাজার শোকার্ত মানুষের শোক মিছিল ও জানাজা শেষে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠের পশ্চিম পাশে ও শহীদ মিনারের ডান পাশে শহীদ জিয়াউর রহমান রাজু পাটোয়ারীকে সমাধিস্থ করা হয়। রাজু ছিলেন চাঁদপুর শহরের বহুল পরিচিত আজিম পাটোয়ারী (বর্তমান করিম পাটোয়ারী বাড়ি) বাড়ির মরহুম মো. ফজলুর রহমান পাটোয়ারীর জ্যেষ্ঠপুত্র এবং চাঁদপুরের সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব, চাঁদপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম আব্দুল করিম পাটোয়ারীর ভ্রাতুষ্পুত্রের ছেলে।

১৯৭৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি রাজু জন্মগ্রহণ করেন। মৃত্যু পর্যন্ত তার বয়স হয়েছিল ১৬ বছর ১০ মাস ২ দিন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও সে সময়কার বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা চাঁদপুরে সফরে এলে পাটোয়ারী বাড়ির প্রতিটি ঘরে দেখা করার পর শহীদ জিয়াউর রহমান পাটোয়ারী রাজুর মা-বা ও ভাই-বোনের সাথে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে তাদের সান্ত্বনা দিয়ে যান। ১৯৯৯ সালের ২৮ নভেম্বর ও ২০১০ সালের ২৫ এপ্রিল চাঁদপুরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা সরকারি সফরে এসেও রাজুর পরিবারের খোঁজ-খবর নেন।

শহীদ রাজুর ২৯তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে পারিবারিকভাবে এবং শহীদ রাজু স্মৃতি সংসদের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চাঁদপুর জেলা শাখা ও চাঁদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ এবং ছাত্রফ্রন্টের উদ্যোগে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- সকাল ১০টায় কালোব্যাজ ধারণ ও শহীদ রাজুর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ। এছাড়া শহীদ রাজুর পরিবারের পক্ষ থেকে আব্দুল করিম পাটওয়ারী সড়কের তালতলা পাটওয়ারী বাড়ি জামে মসজিদে রুহের মাগফেরাত কামনা করে বাদ আছর দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।

এসইউ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]