নতুন বছরে কেক কাটলো ডাক্তার-রোগীরা

ফিচার ডেস্ক
ফিচার ডেস্ক ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৪০ পিএম, ০৫ জানুয়ারি ২০২০

ডা. মারুফ হাসান

‘স্যার, একটু আসবেন ওয়ার্ডে?’ আমাদের রুমে এসে একজন রোগীর স্বজন বললেন। কেবিন ব্লক থেকে আমি আর ডা. ওয়াসেক কেবলই নেমেছি। রাত তখন বারোটা পাঁচ কি সাত। রোগির স্বজনকে বললাম, ‘ওয়ার্ডে তো আমাদের ডক্টর (ডা. নূর, শিক্ষানবিশ) আছেন, আগে ওনাকে দেখান। প্রয়োজন মনে করলে উনিই আমাদের জানাবেন।’ ‘না স্যার, একটু সাথে আসতেই হবে।’ একটু অনুরোধের সুরে বললেন তিনি।

বছরটা কেবল শুরু হলো। চারিদিকে আতশবাজি আর হৈ-হুল্লোড়ের চাপা শব্দ জানান দিচ্ছিল ২০২০ শুরু হওয়ার। এমন করে ডাকছে কী ভেবে, একটু দ্বিধা নিয়ে বললাম, ‘আচ্ছা আসছি’। ডা. ওয়াসেককে বললাম, ‘আপনি অ্যাটেন্ড করেন।’ ডা. ওয়াসেক ওয়ার্ডে যাওয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই আমাকে ফোন দিলেন, ‘ভাই, তাড়াতাড়ি ওয়ার্ডে আসেন।’

কোনো খারাপ কিছু হয়েছে কি-না, এমন কিছু চিন্তা করছিলাম। খুব দ্রুতই ওয়ার্ডে ঢুকে ওয়ার্কিং স্টেশনের সামনে জটলা দেখে ভাবলাম, হয়তো কোনো অপ্রত্যাশিত গ্যাঞ্জাম হয়েছে। কিন্তু সামনে এগোতেই ভুল ভাঙলো।

new-in

হাজারও অকৃতজ্ঞের মাঝে আমাদের হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের একটি অংশ নতুন বছরের শুরুতে কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ড বয়-সবার কথা চিন্তা করে দু’টো কেক এনেছে। কেকের আকৃতি যেমনই হোক না কেন। তাতে যে ভালোবাসা পুরোপুরিভাবে ঠাসা ছিল; তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ ছিল না।

ওনাদের উদ্দেশ্য ছিল হাসপাতালে অবস্থান করলেও সবার সাথে নতুন বছরের একটি শুভ সূচনা করা। মনের ভেতর একটি অন্যরকম অনুভূতি কাজ করলো, সাথে চাপা উত্তেজনা।

সম্প্রতি কাপাসিয়া বা ঈশ্বরদীতে চিকিৎসকদের প্রতি অপ্রত্যাশিত অসহিষ্ণু আচরণ প্রদর্শনকারী অকৃতজ্ঞ মানুষগুলো আসলে সংখ্যালঘু। দেশের বাকি চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী সবাই আসলে আমাদের আশার আলো। কর্তব্যরত নার্সরা সকালে থেকে দেওয়া হবে এমন ইঞ্জেকশনের ভায়েলগুলো দিয়ে লিখে ফেলল, ‘Happy New Year 2020’।

new-in

কেক কাটা পর্ব শুরু হওয়ার আগে বাকি রোগীদের কথা চিন্তা করে সবাইকে অনুরোধ করলাম, যেন কোনো শব্দ না করা হয়। অর্থাৎ ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ বলে উদযাপন বা তালি যেন না দেওয়া হয়। নিঃশব্দেই আমাদের জুনিয়র ডাক্তার, নার্স এবং আয়োজনকারী রোগী ও স্বজনদের দিয়ে কেক কাটার মাধ্যমে ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিনেই একটি অন্যরকম অভিজ্ঞতা অর্জন করার সৌভাগ্য হলো।

আমাদের হাসপাতালে রোগীদের মত, দেশের সবাই আসলে চিকিৎসক এবং চিকিৎসাসেবার সাথে জড়িত সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। কিন্তু কুলাঙ্গারদের একটি অংশের কারণে মন বিষিয়ে তুলেছে আমাদের অনেকের। আর এর ফায়দা লুটছে এক শ্রেণির সুবিধাবাদীরা।

তাই ভিশন ২০২০ হোক আমাদের সবার জন্য একটি অন্যরকম ল্যান্ডমার্ক। মুজিব বর্ষকে সামনে রেখে স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত আমরা যাতে এখন থেকে রোগীদের নির্দ্বিধায় বলতে পারি, ‘We are thankful to you, for choosing us to serve the humanity.’

লেখক: সার্জারি বিভাগ, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল।

এসইউ/পিআর