অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের কথা বারবার মনে পড়ে

ফিচার ডেস্ক
ফিচার ডেস্ক ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:৪৯ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০২০

জননেতা অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম ছিলেন চাঁদপুরের বরেণ্য ব্যক্তিত্ব এবং কৃতি সন্তান। তিনি ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের সভাপতি, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রকৌশলী, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সৎ ও আদর্শবান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। বরেণ্য এ ব্যক্তিকে নিয়ে লিখেছেন শাহাদাত হোসেন শান্ত-

দেখতে দেখতে ২১ বছর চলে গেল। কত স্মৃতি ভেসে ওঠে মনের আয়নায়। শৈশব থেকেই মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আর্দশ লালন করেছেন। সক্রিয় ছাত্র রাজনীতি শেষে মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকতা করেছেন। সৎ রাজনীতির আদর্শ, মানব প্রেমের মূর্ত প্রতীক, সততা, নিষ্ঠা ও শিষ্টাচারে পরিপূর্ণ বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম। তিনি সাবেক গণপরিষদ সদস্য ও চাঁদপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। একচালা টিনের ঘরে কেটেছে যাঁর এক জনমের পৃথিবী।

সর্বজনশ্রদ্ধেয় রাজনীতিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবদুল করিম পাটোয়ারীর কাছে প্রায়ই যাওয়া হতো আমার। দুই জনের মধ্যে অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের বাড়ি এবং আমার বাড়ি ফরিদগঞ্জে হওয়ায় সম্পর্কটা ছিলো খুবই নিবিড়। সিরাজুল ইসলাম সম্পর্কে বলতে গেলে, তিনি ছিলেন নীতিতে অটল, কর্মে নিষ্ঠাবান, স্পষ্টভাষী, সৎ ও স্বচ্ছ ব্যক্তি। যার জন্য দলমত নির্বিশেষে সব মহলে তাঁর ছিল ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা এবং জনপ্রিয়তা।

in-1

সিরাজুল ইসলাম নিঃসন্দেহে একজন জনবান্ধব, কর্মীবান্ধব এবং দলবান্ধব রাজনীতিবিদ ছিলেন। তার সময়ে রাজনীতিতে দেখেছি, যারা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন; তারা নীতি-নৈতিকতার চর্চা করেছেন। যার জন্য রাজনীতিবিদদের তখন সাধারণ মানুষ শ্রদ্ধা ও সম্মান করত।

রাজনীতি ছিল একসময় দেশ ও মানুষের সেবা করার সবচেয়ে উত্তম পন্থা। যারা রাজনীতির খাতায় নাম লেখাতেন; তারা আত্মস্বার্থ কখনো বিবেচনায় রাখতেন না। দেশ-জাতি, মানুষের কল্যাণই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। তারা জাতির কল্যাণ সাধনায় ব্রতী হয়ে নিজেদের দিকে তাকানোর সময় পেতেন না। জনগণের স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দিয়ে সত্য ও ন্যায়ের পথে এগিয়ে চলতেন সব ধরনের ভয়-ভীতি, লোভ-লালসাকে উপেক্ষা করে।

অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, আব্দুল করিম পাটোয়ারীদের মতো দক্ষ, সৎ, শক্তিশালী ও সুযোগ্য নেতাদের নেতৃত্ব ও রাজনীতি দেখে চাঁদপুরের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও রাজনীতি সম্পর্কে তখন যে ধারণা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সময়ের বাস্তব চিত্রে তা অনেকটাই দূরে।

in-1

‘একজন নেতার মৃত্যু কেবল তাঁর শারীরিক প্রস্থানে হয় না। তার প্রকৃত মৃত্যু ঘটে যখন তাঁর আদর্শের মৃত্যু হয়।’ ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের অমর এ উক্তির মতো অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের নীতি ও আদর্শ যতদিন পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে, আওয়ামী লীগের মধ্যে প্রতিফলিত হবে; ততদিন তিনি বেঁচে থাকবেন সবার মাঝে।

পরিশেষে আমার ‘কিছু অন্ধ কবিতা’ কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের মৃত্যুর দুই দিন পর ১৩ অক্টোবর ১৯৯৯ সালে তাঁকে নিয়ে লেখা কবিতাটি দিয়ে শেষ করছি। গত ১১ অক্টোবর ছিল সিরাজুল ইসলামের ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৯৯ সালের ১১ অক্টোবর দিবাগত রাতে তিনি ইন্তেকাল করেন।

স্মৃতিতে অম্লান
উৎসর্গ: অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামকে

মনে রেখ,
একদিন আমিও ছিলাম
তোমাদের কাছাকাছি
আপসহীন, ন্যায়বিচার ও দেশসেবার কাজে।

মনে রেখ! শুধু মনে রেখ,
কখনও আনন্দ, কখনও দুঃখ অপূর্ব সয়েছি কত।
স্পষ্ট ভাষায়, নীতিগত ভূমিকায়
বিবেক নামের জমিতে কখনওবা কারও
সংকীর্ণতার মাঝে ঘৃণা লালিত হয়েছে শত।
আজ আমি দুঃখিত অশ্রু ভারাক্রান্ত কোথাও কি করেছি ভুল?

মনে রেখ,
আদর্শময় জীবনে আছে সুখকর অনুভূতি
নীতিহীন জীবন এক স্বাচ্ছন্দ্যহীন অসুন্দর প্রকাশ।

শুধু মনে রেখ, একদিন আমিও ছিলাম
তোমাদের অতি কাছাকাছি... খুব নিকটে,
কিন্তু আজ!
এক চির নবান্নের দেশে আমার বসবাস।
কত দিন... আর হবে না দেখা... কত কাল তোমাদের তরে
কত কিছু ভাবি বলিতেও চাই স্মৃতির জানালা খুলে
জানি, আমার এ ভাবনা অপূর্ণই রয়ে যাবে আজন্ম আহ্বানে।
মনে রেখ, শুধু হৃদয়ে আমার স্মৃতির অনির্বাণে।

লেখক: সংবাদকর্মী, চাঁদপুর।

এসইউ/এএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]