তরুণরাই গড়বে স্বনির্ভর বাংলাদেশ

ফিচার ডেস্ক
ফিচার ডেস্ক ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:৩৮ এএম, ১৫ ডিসেম্বর ২০২০

সাজেদুর আবেদীন শান্ত

১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস। আর একদিন পরই বাঙালি জাতির জন্য অত্যন্ত আনন্দের একটি দিন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ৩০ লাখ শহীদের প্রাণ ও দু-লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর এদিনেই স্বাধীন হয়েছে প্রিয় বাংলাদেশ।

১৯৭১ সালের এইদিনে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর প্রায় ৯৩ হাজার সদস্য আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। তখনই আমরা পেয়ে যাই কাঙ্ক্ষিত বিজয়। পৃথিবীর বুকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে অভ্যুদয় ঘটে ‘বাংলাদেশ’ নামক রাষ্ট্রের।

প্রতিবছর ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় দিবস হিসাবে আমরা দিনটি পালন করে আসছি। ১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারি প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দিবসটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয় এবং সরকারিভাবে এ দিন ছুটি থাকে।

প্রতিবছর দিবসটি আমরা যথাযথ মর্যাদা ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মাধ্যমে পালন করে থাকি। ১৬ ডিসেম্বর ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর সারাদেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়। অনুষ্ঠানের মধ্যে থাকে কুচকাওয়াজ, প্রদর্শনী, ছবি অঙ্কন, খেলাধুলা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।

আমরা ৪৯তম বিজয়ের মুহূর্তে পৌঁছে গেছি। স্বাধীনতার স্বাদ উপভোগ করছি। কিন্তু তাও কোথাও যেন একটা কমতি রয়েছে। যে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় আমরা যুদ্ধের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত বিজয়টি এনেছিলাম, সেটি যেন মলীন হয়ে যাচ্ছে। আমরা গুটিকয়েক লোকের কাছে জিম্মি হয়ে আছি। চারিদিকে আজও অন্যায়-দুর্নীতি, চাদাবাজি-সন্ত্রাসী, খুন-রাহাজানি, ধর্ষণ-নিপীড়ন চলছে। চারদিকে সাম্প্রদায়িক উস্কানি মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। কিন্তু এমনটি হওয়ার কথা ছিল না।

আমরা অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক বাংলাদেশ চেয়েছিলাম। যেখানে থাকবে না কোনো ধর্মীয় ভেদাভেদ, সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ। হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবার এ দেশ। আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় আমরা বাঙালি। তাই আমাদের স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ উপভোগ করতে হলে সবাইকে শপথ নিতে হবে অসাম্প্রদায়িক এক বাংলাদেশের। যেখানে থাকবে না কোনো অন্যায়, দুর্নীতি, অবিচার। যেখানে থাকবে না কোনো সাম্প্রদায়িক উস্কানি, সেখানে থাকবে না কোনো ধর্ষক, নিপীড়ক।

আমরা বীরের জাতি। আমরা ভয় পাই না। আমরা যুদ্ধ করে আদায় করেছি আমাদের দেশ। তাহলে কেন আমরা গুটিকয়েক দুর্নীতিবাজের জন্য জিম্মি হয়ে থাকবো। আমরা যারা তরুণ রয়েছি, তাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে সকল প্রকার অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে। গড়তে হবে তাদের বিরুদ্ধে তুমুল প্রতিরোধ। তেজোদ্বীপ্ত সাহসী উদ্দীপনার মাধ্যমে তরুণরাই গড়বে আগামীর স্বনির্ভর বাংলাদেশ।

তাই স্বাধীনতার ৪৯ বছরে আমার চাওয়া, সকল প্রকার সাম্প্রদায়িকতা বন্ধ হোক। অন্যায়-অবিচার বন্ধ হোক। ধর্ম, বর্ণ, জাতির ঊর্ধ্বে আমরা হয়ে উঠি এক নতুন প্রজন্ম। কলুষতামুক্ত করি আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে। সবাই একসঙ্গে গেয়ে উঠি, ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’।

লেখক: ফিচার লেখক।

এসইউ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]