মাওয়া ঘাটের মামা ছোলা


প্রকাশিত: ১১:১৭ এএম, ০২ মার্চ ২০১৬

মাওয়া ঘাটের ব্যস্ততম সময়। বুধবার সকাল আনুমানিক ১০টা। তিন নম্বর জেটিতে অপেক্ষমাণ ফেরিতে ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কারের চালকরা দ্রুতবেগে ফেরিতে ওঠার প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত।

যাত্রীদের মধ্যে যারা ফেরিতে ওঠার পূর্ব মুহূর্তে চায়ের তেষ্টা মেঠাতে নিচে নেমেছিলেন গাড়ি ফেরিতে উঠতে দেখে প্রচণ্ড ধুলোবালিতে মুখে রুমাল চেপে তারাও দৌড়েও ফেরিতে উঠছিলেন। এমন ব্যস্ততার মাঝেই যাত্রীদের সকলেই এক যুবকের অভিনব হাঁকডাক শুনে বার বার সেদিকে তাকাচ্ছিলেন।

আনুমানিক বিশ-বাইশ বছরের মোটাসোটা গোছের তরুণ চিৎকার করে প্রায় এক নিঃশ্বাসে বলছিলেন, ‘খাসির কইলজা দিয়া, ইলিশ মাছের ঠ্যাং দিয়া, এইডা সেই ছোলা, মাওয়া ঘাটের মামা ছোলা, ঢাকায় পাইবেন না, খুলনায় পাইবেন না পাইবেন শুধু মাওয়া ঘাটে। লেবুর টক দিয়া, সালাত দিয়া, ছোলা বুট, যে না খাইবেন সে কিন্তু পস্তাইবেন, ফেরি ছাড়ার আগে আওয়াজ দিয়েন।’

অভিনব কায়দায় তরুণের চিৎকার শুনে কৌতুহলী কয়েকজন যাত্রী এগিয়ে গিয়ে তার ছোলার বুটের গামলায় উঁকি-ঝুঁকি মারেন। চেহারায় তাদের বিশ্বাস-অবিশ্বাসের ছাপ! কেউ একজন ক্ষীণ সুরে তরুণের প্রতি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, `ওই বেডা, খাসির কইলজা, ইলিশ মাছের ঠ্যাং কিছুইতো দেখি না, খালিতো ছোলা বুট, ডিম আর বড় বড় আলুর টুকরা দেখা যায়।’

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে ‘মামা ছোলা’ নামে মাওয়া ঘাটের সুপরিচিত স্বপন নামের ওই তরুণ জানান, গত পাঁচ ছয় বছর যাবত মাওয়া ঘাটে ঘুরেফিরে ছোলা বিক্রি করছে। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং এলাকার বাসিন্দা স্বপন মাওয়া ঘাটের অদূরেই স্ত্রী ও দেড়বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন। প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার ছোলা বুট বিক্রি করেন।
বিকেল থেকেই তার স্ত্রী পরের দিনে বিক্রির জন্য ছোলা বুট সেদ্ধ, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, লেবু, শসা, তেঁতুলের টক, ডিম সেদ্ধ করে সব প্রস্তুতি নিয়ে রাখে।

‘খালির কইলজা, ইলিশ মাছের ঠ্যাং’ ইত্যাদি বলে কেনো ছোলা বিক্রি করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, শুরুর দিকে শুধু ছোলা বুট ছোলা বুট বলে চিৎকার করে বিক্রি করতেন। লোকজন তেমন একটা ফিরে তাকাতেন না। পরে বুদ্ধি করে কৌশলে খালির কইলজা, ইলিশ মাছের ঠ্যাং ইত্যাদি প্যারোডি করে হাঁকডাক শুরু করলে বিক্রির পরিমাণ বেড়ে যায়।

তবে স্ত্রীর হাতে যাদু আছে, তার বানানো ছোলা বুট অন্যদের চেয়ে মজাদার বলেও দাবি করেন স্বপন।

এমইউ/এসএইচএস/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :