আর্জেন্টিনা

Team Image

বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে অনেক বড় দল হতে পারে আর্জেন্টিনা। কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে আর্জেন্টিনার যাত্রাটা বলতে গেলে প্রায় উল্টো। অথচ শুধু জনপ্রিয়তা হিসেব করলে আর্জেন্টিনার সমকক্ষ পাওয়া যাবে কেবল ব্রাজিলকে। এই দলটার শো-কেসে বিশ্বকাপ কি না মাত্র দুটি।

তিনটি হওয়া বিচিত্র কিছু ছিল না। ব্রাজিল বিশ্বকাপে সে লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছিল লা আলবিসেলেস্তারা। একে একে সব বাধা পেরিয়ে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দুরন্ত গতিতে ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালে নাম লেখায় আর্জেন্টিনা। ফাইনালে তাদের সামনে জার্মানি। ৯০ মিনিট শেষ হওয়ার পরও কেউ গোল করতে পারেনি। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে মারিও গোৎসের দুর্দান্ত এক গোলে শিরোপা জিতে নেয় জার্মানি। বিশ্বকাপ বঞ্চিত থাকতে হয় সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি এবং আর্জেন্টিনাকে।

সেই মেসির দলটিই এবার কিনা রাশিয়া বিশ্বকাপে অযোগ্যদের কাতারে চলে যাচ্ছিল প্রায়। বাছাই পর্বে তারা ছিল একেবারে খাদের কিনারে। প্লে-অফ খেলার যোগ্যতাও অর্জন করবে কি না তা নিয়ে শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিল আর্জেন্টাইনরা। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরর মাটিতে গিয়ে তাদের বিপক্ষে অসাধারণ এক হ্যাটট্রিক করলেন মেসি। তার এই হ্যাটট্রিকেই শেষ মুহূর্তে রাশিয়া বিশ্বকাপে নাম লেখায় আর্জেন্টিনা।

বিশ্বকাপের এটি ২১তম আসর। এর মধ্যে আর্জেন্টিনা খেলেনি ৪ বার। ১৬৫৪ সালে সুইজারল্যান্ড, আর ১৯৭০ সালে মেক্সিকোতে নিজেদের অযোগ্যতায় বিশ্বকাপে অংশ নিতে ব্যর্থ হয় আর্জেন্টিনা। আর ১৯৩৮ সালে ফ্রান্স এবং ১৯৫০ সালে ব্রাজিলে নিজেরাই খেলতে যায়নি তারা। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের প্রথম আসর, ১৯৯০ সালে ইতালি বিশ্বকাপ এবং সবশেষ ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে রানারআপ দলের তালিকায় নাম ওঠে আর্জেন্টিনার। ১৯৭৮ এবং ১৯৮৬ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দল এছাড়া সেমিফাইনালেও উঠতে পারেনি আর।

১৯৭৪ সালের পর থেকে নিয়মিতই বিশ্বকাপে খেলছে আর্জেন্টাইনরা। ১৯৭৮ সালে মারিও কেম্পেসের হাত ধরে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের পর ১৯৮২ সালে দ্বিতীয় রাউন্ডেই বিদায় নিয়েছিল দেশটিকে। এরপর ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপটা শুধুই আর্জেন্টিনাময়। আরও নির্দিষ্ট করে বললে এই বিশ্বকাপেই বিশ্ববাসী দেখতে পেলো দিয়েগো ম্যারাডোনার মতো এক জাদুকরকে। সেমিফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তার অসাধারণ গোলের আগের ম্যাচেই (কোয়ার্টার ফাইনালে) ইংল্যান্ডকে উপহার দেন ‘ঈশ্বরের হাত’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’। এমন দুটি গোলে পুরো পৃথিবীকে তিনি এমনই হতভম্ব করে দিলেন যে সেই ‘দিয়েগো-ক্রেজ’ ধরাধামে আর্জেন্টিনাকে অন্যতম জনপ্রিয় দলে পরিণত করল। আজও আর্জেন্টিনা জগৎজোড়া খ্যাতির মূল কারণ দিয়েগো আরমান্ডো ম্যারাডোনা।

তবে গত এক দশকেরও বেশি সময়ে ম্যারাডোনার মতোই আরেক ক্ষুদে জাদুকর লিওনেল আন্দ্রেস মেসি তার বাঁ পায়ের জাদুতে বিমোহিত করে রেখেছেন পুরো ফুটবল বিশ্বকে। ১৯৮৬ সালে একক নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতান ম্যারাডোনা, ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপেও তার অসাধারণ ফুটবলের কারণেই ফাইনালে পৌঁছেছিল আর্জেন্টাইনরা।

১৯৯৪ সালে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় যতোটা না পোড়ায়, তার চেয়ে বেশি পোড়ায় আসলে ম্যারাডোনার ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়ে বিদায় নেয়াটা। এরপর গত ৫টি বিশ্বকাপেই ফেবারিটের তকমা গায়ে নিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেয় আর্জেন্টিনা। এই ৫ আসরে সেরা সাফল্য ব্রাজিল বিশ্বকাপে রানারআপ হওয়া। রাশিয়া বিশ্বকাপে এবারের আসরেও অন্যতম শক্তিশালী দল তারা। কিন্তু বাছাইপর্বে হতাশাজনক পারফরম্যান্স বড় কিছুর স্বপ্ন দেখার সাহস দিচ্ছে না আলবিসেলেস্তেদের।

Player Image

সার্জিও আগুয়েরো

সার্জিও কুন আগুয়েরো। সবাই তাকে আগুয়েরো নামের চেয়ে বেশি চেনে ম্যারাডোনার মেয়ের সাবেক জামাতা হিসেবে। ২০০৯ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার মেয়ে জিয়ান্না ম্যারাডোনার সঙ্গে বিয়ে হয় তার। স্পেনের মাদ্রিদে জন্ম নেয় আদের প্রথম সন্তান বেঞ্জামিন আগুয়েরো। চার বছর পর তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর ছেলেকে নিয়েই থাকছেন আগুয়েরো। ছোটবেলায় আর্জেন্টিনার মিডিয়ার কার্টুন ‘কুম কুম’ এর একট চরিত্র ‘কুন’ এর নামানুসারে তার ডাক নাম রাখা হয় কুন।

  • পুরো নাম: সার্জিও লিওনেল কুন আগুয়েরো
  • জন্ম : ২ জুন, ১৯৮৮
  • বয়স : ৩১
  • উচ্চতা : ৫ ফিট, ৮ ইঞ্চি
  • পজিশন : স্ট্রাইকার
  • আর্জেন্টিনার হয়ে : ৮৪ ম্যাচে ৩৬ গোল

তবে আগুয়েরোর আরও একটি বড় পরিচয়, তিনি লিওনেল মেসির সবচেয়ে ভালো বন্ধু। আর্জেন্টিনা বলুন আর বার্সেলোনা বলুন, সব জায়গাতেই মেসির সেরা বন্ধুদের তালিকা করলে আগুয়েরো থাকবেন সবার ওপরে। এ নিয়ে অন্য কোনো কিছুর সঙ্গেই আপোষ করতে রাজি নন খোদ মেসি নিজেই। তিনিই কিছুদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘কেউ আমার আর আগুয়েরের মধ্যে বন্ধুত্বের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে, তাকে থাপ্পড় মেরে দিতে ইচ্ছে হয়।’ এতটাই গাঢ় আগুয়েরো-মেসি বন্ধুত্ব।

১৯৯৭ সালে আর্জেন্টিনার ক্লাব ইন্ডিপেন্ডিয়েন্তের যুব দলের হয়ে খেলার সুযোগ হয় আগুয়েরোর। ২০০৩ সালে ইন্ডিপেন্ডিয়েন্তের প্রধান দলের হয়ে অভিষেক হয় তার। সর্বকণিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে মাত্র ১৫ বছর ৩৫ দিন বয়সে আর্জেন্টিনার প্রিমিয়ার লিগে অভিষেক হয় আগুয়েরোর।

আগের রেকর্ডটি ছিল তার সাবেক শ্বশুর দিয়েগো ম্যারাডোনার। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ী ফুটবলার অস্কার রুগেরি তখন ইন্ডিপেন্ডিয়েন্তের কোচ। তার অধীনেই অভিষেক হয় আগুয়েরোর। তবে ওই ম্যাচের পর দীর্ঘ সাত মাস দলে খেলার সুযোগ পাননি। সাত মাস পর আবার ইন্ডিপেন্ডিয়েন্তের হয়ে খেলতে নেমেই প্রথম ম্যাচে গোল করেন এই স্ট্রাইকার। চার মৌসুমে ক্লাবটির হয়ে ৫৬ ম্যাচে করেন ২৩ গোল।

২০০৬-০৭ মৌসুমে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের ক্লাব রেকর্ড ভেঙ্গে ২০ মিলিয়ন ইউরোতে তাকে দলে নিয়ে আসে ক্লাবটি। প্রথম মৌসুমে অ্যাটলেটিকোর হয়ে সাত গোল করেন। পরের মৌসুমে ফার্নান্দো তোরেস লিভারপুলে চলে গেলে তিনিই হন অ্যাটলেটিকোর প্রধান স্ট্রাইকার। দ্বিতীয় মৌসুমে ১৯ গোল করে লিগে তৃতীয় হয় তার দল।

বার্সেলোনার বিপক্ষে ২০০৮ সালে এক ম্যাচে জোড়া গোল করে ম্যান অফ দ্য ম্যাচও হয়েছিলেন। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের প্রথম গোলটি করেন ডাচ ক্লাব পিএসভির বিপক্ষে। ২০০৯ সালে বার্সেলোনার বিপক্ষে তার এবং ফোরলানের জোড়া গোলে ৪-৩ গোলের এক ঐতিহাসিক জয় পায় অ্যাটলেটিকো।

২০১০ সালে ইউরোপা লিগের ফাইনালে ফুলহ্যামের বিপক্ষে তার দেওয়া পাস থেকে জোড়া গোল করেন ফোরলান। প্রথম ট্রফি জয়ের উল্লাসে ভাসেন আগুয়েরো। উয়েফা সুপার কাপেও ইন্টার মিলানের বিপক্ষে একটি গোল করে শিরোপা জিততে সহায়তা করেন এই স্ট্রাইকার। পরের মৌসুমেও লিগে ২০ গোল করেন। পাঁচ মৌসুমে ২৩৪ ম্যাচে ১০১টি গোল করে পাড়ি জমান ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিতে।

৩৮ মিলিয়ন ইউরোতে ২০১১ সালে ম্যানসিটিতে যোগ দিয়ে প্রথম মৌসুমেই ক্লাবের ইতিহাসে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখান এই আর্জেন্টাইন। লিগের শেষ ম্যাচে কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের বিপক্ষে শেষ মিনিটে করা তার সেই গোলের মুহূর্তটা স্থান পেয়েছে প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সেরা মুহূর্তগুলোর একটিতে।
যেখানে ম্যানসিটিকে ৪৪ বছর পর লিগ জয় করতে মূখ্য ভূমিকা রাখেন আগুয়েরো। সিটিজেনদের হয়ে সাত মৌসুমে ২৯২ ম্যাচে করেছেন ১৯৯ গোল। এক গোলের আক্ষেপ থাকলেও আগামী মৌসুমেই সেটি যে পূরণ করবেন, তা আগুয়েরোর পারফরম্যান্সেই অনুমেয়। ম্যানসিটির হয়ে তিনটি প্রিমিয়ার লিগ, তিনটি ইএফএল কাপ এবং একটি কমিউনিটি শিল্ড জেতেন আগুয়েরো।

আর্জেন্টিনার জার্সি গায়েও উজ্জ্বল আগুয়েরো। ২০০৮ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে অলিম্পিকে স্বর্ণজয় করেন তিনি। তার সঙ্গে মেসিও সেই টুর্নামেন্টে খেলেছিলেন। ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ব্রাজিলের বিপক্ষে এক প্রীতি ম্যাচে অভিষেক হয় তার। ওই বছরের শেষ দিকে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বলিভিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে প্রথম গোলটি করেন। আর্জেন্টিনার হয়ে সবগুলো টুর্নামেন্টে থাকলেও কোন জায়গাতেই নিজের নামের প্রতি তেমন সুবিচার করতে পারেননি এই স্ট্রাইকার। এবার হয়তো তার সামনে সুযোগ সকল সমালোচনার জবাব দেওয়ার।

Coach Image

হোর্হে সাম্পাওলি

১৯৬০ সালের ১৩মার্চ আর্জেন্টিনার সান্তা ফে শহরের কাসিলদাতে জন্ম নেন হোর্হে সাম্পাওলি। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা সাম্পাওলির ফুটবল অধ্যায় তেমন সমৃদ্ধ ছিল না। ১৯৭৭ সালে নিওয়েলস ওল্ড বয়েজের হয়ে যুব দলের গন্ডি পেরুনোর আগেই ফুটবলকে বিদায় জানাতে হয় তার। মাত্র ১৯ বছর বয়সে টিবিয়া এন্ড ফিবুলায় আক্রান্ত হয়ে ফুটবলকে ছাড়তে বাধ্য হন সাম্পাওলি।

দীর্ঘদিন ফুটবলের বাইরে থাকলেও ফুটবলার হিসেবে যেটা পারেননি, সেটা কোচ হিসেবে করে দেখানোর লক্ষ্যে কোচিং পেশায় নেমে পড়েন সাম্পাওলি। ২০০২ সালে পেরুর দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব হুয়ান অরিচের কোচ হন তিনি। যদিও এখানকার সময়টা সুখকর ছিল না তার জন্য। মাত্র ৮ ম্যাচে কোচ হিসেবে দলটির দায়িত্বে থেকে ৫টিতেই হারতে হয়েছে তাকে।

২০০৩ সালে যোগ দেন পেরুর আরেক ক্লাব স্পোর্টস বয়েসে। সেখান থেকে ২০০৪ সালে কোচ হন করোনেল বলনেসি ক্লাবের। ক্লাবটিকে কোপা সুদামেরিকানাতে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে দেওয়ার পাশাপাশি লিগে তৃতীয় স্থান অর্জন করান তিনি। এমন সাফল্যে তাকে কোচ করা হয় আরেক পেরুভিয়ান ক্লাব স্পোর্টিং ক্রিস্তালের; কিন্তু ১৮ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ৪টিতে জয় পাওয়ায় সেখান থেকে বহিষ্কার হন। একই সঙ্গে শেষ হয় তার কোচিং জীবনের পেরু অধ্যায়।

২০০৮ সালে চিলির ফুটবল ক্লাব ‘ও হিংসের’ কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় সাম্পাওলিকে। ২০০৮ সালের চিলির প্রিমিয়ার ডিভিশনে তৃতীয় হয় দলটি। পরের বছরটি বেশ কঠিন কাটে তার জন্য। লিগে ৮ম স্থান দখল করার পর আগস্টে বহিষ্কার করা হয় তাকে। ২০১০ সালের শুরুতে যোগ দেন ইকুয়েডরের ক্লাব এমেলেকে। সাম্পাওলির অধীনে ক্লাবটি জায়গা করে নেয় ২০১০ সালের কোপা লিবারতোদরেসে; যদিও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয় তারা। পরের বছরেও চলে তার এমন সাফল্য।

২০১২ সালের ৩ ডিসেম্বর সাম্পাওলিকে প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় ইউনিভার্সিদাদ দে চিলি। ক্লাবটির হয়ে তিনটি লিগ জয়ের পাশাপাশি জয় করেন ২০১১ কোপা সুদামেরিকানা। এমন সাফল্যে মুগ্ধ হয়ে সাম্পাওলিকে সরাসরি চিলির প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় দেশটির ফুটবল এসোসিয়েশন। চিলি জাতীয় দলেল দায়িত্ব নিয়ে দেশটির ফুটবল ইতিহাসকে নতুন করে লিখে দিলেন তিনি।

তার অধীনেই ২০১৫ সালে চিলি জয় লাভ করে তাদের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম কোনো বড় শিরোপা, কোপা আমেরিকা। ২০১৫ সালে দক্ষিণ আমেরিকার সেরা কোচ হওয়ার পাশাপাশি আইএফএফএইচএস এর বিশ্বসেরা কোচের পুরস্কার জেতেন তিনি। চিলি ফুটবল এসোসিয়েশনের সাথে মতবিরোধের জের ধরে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে পদত্যাগ করেন দেশটির কোচের পদ থেকে।

২০১৬ সালের জুনে স্প্যানিশ ক্লাব সেভিয়া তাদের প্রধান কোচ হিসেবে সাম্পাওলির নাম ঘোষণা করে। দুই বছরের জন্য সেভিয়ার দায়িত্ব নিয়ে তার অধীনেই রিয়াল মাদ্রিদের মত দলকে ২-১ গোলে হারিয়ে লস ব্লাঙ্কোজদের ৪০ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডকে ধুলিস্যাত করে দেয় সাম্পাওলি। ওইদিকে সাম্পাওলির দেশ আর্জেন্টিনা ভুগছিল কোচ খরায়। তার উপর বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অংশগ্রহণ নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছিল।

এমন অবস্থায় ২০১৭ সালের মে মাসে আর্জেন্টিনার কোচ হন সাম্পাওলি। কিন্তু তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পরও তেমন কোন পরিবর্তন আসেনি দলের পারফরম্যান্সে; কিন্তু সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করে নেয় আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনার হয়ে ১১ ম্যাচের ৫টি জয়ের বিপরীতে হোর্হে সাম্পাওলি হেরেছেন ৩টিতে।

আর্জেন্টিনার ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত দল

গোলরক্ষক : নাহুয়েল গুজম্যান, উইলি কাবায়েরো, ফ্রাঙ্কো আরমানি।

ডিফেন্ডার : গ্যাব্রিয়েল মার্কাদো, ক্রস্টিয়ান আনসালদি, নিকোলাস ওতামেন্দি, ফেডেরিকো ফাজিও, মার্কস রোহো, নিকোলাস তালিয়াফিকো, মার্কোস আকুনা, এডুয়ার্ডো সালভিও।

মিডফিল্ডার : হ্যাভিয়ের মাচেরানো, লুকাস বিলিয়া, এভার বানেগা, জিওভানি লো সেলসো, এনজো পেরেজ, এঞ্জেল ডি মারিয়া, ম্যাক্সি মেজা।

ফরোয়ার্ড : লিওনেল মেসি, পাওলো দিবালা, সার্জিও আগুয়েরো, গঞ্জালো হিগুয়াইন, ক্রিস্টিয়ান পাভন।

আর্জেন্টিনা

প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ
১৬ মে, ১৯০১, মন্টেভিডিও
উরুগুয়ে ২ : ৩ আর্জেন্টিনা

সবচেয়ে বড় জয়
২২ জানুয়ারি, ১৯৪২, মন্টেভিডিও, উরুগুয়ে
আর্জেন্টিনা ১২ : ০ ইকুয়েডর

সবচেয়ে বড় হার
১৫ জুন, ১৯৫৮, হেলসিংবর্গ, সুইডেন
চেকোস্লোভাকিয়া ৬ : ১ আর্জেন্টিনা

১ এপ্রিল, ২০০৯, লা পাজ, বলিভিয়া
বলিভিয়া ৬ : ১ আর্জেন্টিনা

২৭ মার্চ, ২০১৮, মাদ্রিদ
স্পেন ৬ : ১ স্পেন

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ : এবার নিয়ে ১৭ বার, চ্যাম্পিয়ন : ২ বার (১৯৭৮, ১৯৮৬)
কোপা আমেরিকায় অংশগ্রহণ : ৪১ বার, চ্যাম্পিয়ন : ১৪ বার (১৯২১, ১৯২৫, ১৯২৭, ১৯২৯, ১৯৩৭, ১৯৪১, ১৯৪৫, ১৯৪৬, ১৯৪৭, ১৯৫৫, ১৯৫৭, ১৯৫৯, ১৯৯১ এবং ১৯৯৩)।
ফিফা কনফেডারেশন্স কাপে অংশগ্রহণ : ৩ বার, চ্যাম্পিয়ন : ১ বার (১৯৯২)
সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা খেলোয়াড় : হ্যাভিয়ের জানেত্তি, হ্যাভিয়ের মাচেরানো (১৪৩ ম্যাচ)
সর্বোচ্চ গোলদাতা : লিওনেল মেসি (৬৪টি)

যেভাবে রাশিয়া বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করলো আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনা ১-১ ব্রাজিল
আর্জেন্টিনা ১-০ উরুগুয়ে
আর্জেন্টিনা ৩-০ কলম্বিয়া
আর্জেন্টিনা ০-০ পেরু
আর্জেন্টিনা ১-০ চিলি
আর্জেন্টিনা ০-১ প্যারাগুয়ে
আর্জেন্টিনা ০-২ ইকুয়েডর
আর্জেন্টিনা ২-০ বলিভিয়া
আর্জেন্টিনা ১-১ ভেনিজুয়েলা
ব্রাজিল ৩-০ আর্জেন্টিনা
উরুগুয়ে ০-০ আর্জেন্টিনা
কলম্বিয়া ০-১ আর্জেন্টিনা
পেরু ২-২ আর্জেন্টিনা
চিলি ১-২ আর্জেন্টিনা
প্যারাগুয়ে ০-০ আর্জেন্টিনা
বলিভিয়া ২-০ আর্জেন্টিনা
ভেনিজুয়েলা ২-২ আর্জেন্টিনা
ইকুয়েডর ১-৩ আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের পয়েণ্ট টেবিল

অবস্থান

দল

ম্যাচ

জয়

ড্র

পরাজয়

গোল পার্থক্য

পয়েন্ট

ব্রাজিল

১৮

১২

+৩০

৪১

উরুগুয়ে

১৮

  ৯

+১২

৩১

আর্জেন্টিনা

১৮

+

২৮

কলম্বিয়া

১৮

+২

২৭

পেরু

১৮

+১

২৬

চিলি

১৮

−১

২৬

প্যারাগুয়ে

১৮

−৬

২৪

ইকুয়েডর

১৮

১০

−৩

২০

বলিভিয়া

১৮

১২

−২২

১৪

১০

ভেনিজুয়েলা

১৮

১০

−১৬

১২

 

সময়সূচি

১৬ জুন, ২০১৮, ০৭:০০ পিএম

গ্রুপ ডি , স্পার্টাক স্টেডিয়াম

আর্জেন্টিনা আর্জেন্টিনা ১ - ১ আইসল্যান্ড আইসল্যান্ড

ম্যাচ রিপোর্ট
২১ জুন, ২০১৮, ১২:০০ এএম

গ্রুপ ডি , নিঝনি নভগোরদ স্টেডিয়াম

আর্জেন্টিনা আর্জেন্টিনা ০ - ৩ ক্রোয়েশিয়া ক্রোয়েশিয়া

ম্যাচ রিপোর্ট
২৬ জুন, ২০১৮, ১২:০০ এএম

গ্রুপ ডি , সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়াম

নাইজেরিয়া নাইজেরিয়া ১ - ২ আর্জেন্টিনা আর্জেন্টিনা

ম্যাচ রিপোর্ট
৩০ জুন, ২০১৮, ০৮:০০ পিএম

গ্রুপ , কাজান এরেনা

ফ্রান্স ফ্রান্স ৪ - ৩ আর্জেন্টিনা আর্জেন্টিনা

ম্যাচ রিপোর্ট

আরও

বাংলাদেশকে ‘বিন্দু পরিমাণ’ ছাড় দিতেও নারাজ ভারত

বাংলাদেশকে ‘বিন্দু পরিমাণ’ ছাড় দিতেও নারাজ ভারত

‘বিনা যুদ্ধে নাহি দেবো সুচাগ্র মেদিনি’- লড়াই ছাড়া সুচের মাথার সমান বিন্দু...

পাঁচ বছর পর ফুটবলে মুখোমুখি বাংলাদেশ-ভারত

পাঁচ বছর পর ফুটবলে মুখোমুখি বাংলাদেশ-ভারত

শিরোনামটি দেখে অবাক হলেন? বাংলাদেশ আর ভারত তো মাঝেমধ্যেই ফুটবলে মুখোমুখি হয়।...

ফুটবল উত্তেজনায় কাঁপছে কলকাতা

ফুটবল উত্তেজনায় কাঁপছে কলকাতা

বাংলাদেশ-ভারত বিশ্বকাপ ফুটবল বাছাইয়ের ম্যাচটি নিয়ে দর্শক-সমর্থকদের উত্তেজনা প্রথম টের পাওয়া গেলো...

ভারতের মোকাবিলায় কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ!

ভারতের মোকাবিলায় কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ!

কলকাতায় বাংলাদেশ-ভারত বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচ। প্রতিবেশী দুই দেশের খেলা, সেটা ক্রিকেট...