বেলজিয়াম

Team Image

ইউরোপের সবচেয়ে পুরনো ফুটবল সংস্থার নাম রয়্যাল বেলজিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। ১৮৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইউরোপের ঐতিহ্যবাহী সংস্থাটি। ফুটবলে প্রাচীন ইউরোপীয় সংস্কৃতিধারী দেশ হলেও, বেলজিয়ামের তেমন বড় কোন সাফল্য নেই। সেরা সাফল্য বলতে গেলে ১৯৮২ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত সবগুলো বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ এবং ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা।

এছাড়া ১৯৮০ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে রানারআপ এবং ১৯২০ অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জয়। এডিন হ্যাজার্ডের মতো মতো বড় তারকার উপস্থিতিতে বেলজিয়ামের ২০১৪ বিশ্বকাপেও প্রত্যাশা ছিল, দারুণ কিছু উপহার দেয়া। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়ে ভেঙে যায় তাদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন। আর্জেন্টিনার কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয় তাদের। এবারও সেই একই মানের, বরং বলতে গেলে ২০১৪ সালের চেয়েও সেরা দল নিয়ে রাশিয়ায় যাচ্ছে বেলজিয়াম। নিজেদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার মিশনে নেমেছে এবার রবার্তো মার্টিনেজের শিষ্যরা।

জি গ্রুপে এবার বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ পানামা, তিউনিসিয়া এবং ইংল্যান্ড। শক্তিশালি প্রতিপক্ষ হয়তো ইংল্যান্ড। তবে বিশ্বকাপে খেলা কোনো দলই কারো চেয়ে কম নয়। এ কারণে, কাউকে খাটো করে দেখতে রাজি নয় মার্টিনেজ। তবুও বলা যায়, অনায়াসেই হয়তো গ্রুপ পর্ব পার হয়ে যেতে পারবে রেড ডেভিলসরা। কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বীতার মুখোমুখি হতে হবে তাদের নকআউট পর্ব থেকে।

প্রায় ১১৪ বছর আগে, ১৯০৪ সালে নিজেদের প্রথম অফিসিয়াল ম্যাচ খেলে বেলজিয়াম। ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচটি শেষ হয় ৩-৩ গোলের ড্র’য়ে। বেলজিয়ামের স্টেডে ভিভিয়ের ডি’ওয়ে স্টেডিয়ামে ম্যাচটি দেখতে উপস্থিত হয় মাত্র ১৫০০ জন দর্শক।

তবে এর আগেও ফুটবল ম্যাচ খেলেছিল বেলজিয়াম। এর মধ্যে ফ্রান্সের বিপক্ষেই ৪টি। যদিও দলটিতে তখন কয়েকজন ইংলিশ খেলোয়াড় থাকায় ফিফা সেগুলোকে স্বীকৃতি দেয়নি। ফিফা স্বীকৃতি পাওয়ার আগে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এক ম্যাচে ৮-০ গোলে হেরেছিল বেলজিয়াম।

১৯০৬ সালেই পুরোপুরি ভিন্ন বেলজিয়ামকে দেখে ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডস। টানা তিন ম্যাচে ফ্রান্সকে ৫-০, নেদারল্যান্ডসকে ৫-০ এবং ৩-২ গোলে হারায় তারা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯১৫ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত নিজেদের ফুটবল কার্যক্রম বন্ধ রাখে ইউরোপের প্রাচীন ফুটবল ঐতিহ্যের দেশটি।

১৯২০ সালে এসে অলিম্পিক গেমসে প্রথম অংশগ্রহণ করে তারা এবং প্রথমবারেই করে বাজিমাত, জিতে নেয় স্বর্ণপদক। দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শুরুর আগে তিনটি বিশ্বকাপেই অংশ নেয় তারা। ১৯৪০ থেক ১৯৬০ পর্যন্ত সময় আটটি বড় টুর্নামেন্টের মাত্র একটিতে অংশ নেয় বেলজিয়ানরা। বেলজিয়াম ফুটবলে সোনালি সময় ধরা হয় ১৯৮০ থেকে ২০০২ পর্যন্ত সময়কালকে। সোনালি প্রজন্মের হাত ধরেই বিশ্বকাপের সেমি ফাইনাল খেলে তারা। এবার প্রত্যাশা নিজেদের সেরা সাফল্যকে পেছনে ফেলে নতুন দিগন্ত উন্মোচনা করার।

Player Image

কেভিন ডি ব্রুয়েন

বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডারদের একজন ধরা হয় তাকে। নিজের নিখুঁত বুদ্ধিদীপ্ত পাস এবং অসাধারণ ফিনিশিংয়ের জন্য বেশ সুপরিচিত বেলজিয়ারম মিডফিল্ডার কেভিন ডি ব্রুয়েন। তার এই বিধ্বংসী রূপের আত্মপ্রকাশ ঘটে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যান সিটির হয়ে।

মূলতঃ এই ক্লাবে এসেই যেন নিজেকে প্রতিনিয়ত ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় নামেন। বর্তমান মৌসুমে হয়েছেন ক্লাবটির সেরা খেলোয়াড়ও। ছিলেন ইংলিশ লিগের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার দৌড়েও; কিন্তু সালাহর কাছে হেরে যান। তাতে কী! সমর্থকদের কাছে এখনো তিনি অন্যান্য অনেকের চেয়ে সেরা।

  • নাম : কেভিন ডি ব্রুয়েন
  • জন্ম : ২৮ জুন, ১৯৯১
  • বয়স : ২৬ বছর
  • উচ্চতা : ৫ ফিট ১১ ইঞ্চি
  • পজিশন : মিডফিল্ডার
  • বেলজিয়ামের হয়ে : ৫৯ ম্যাচে ১৪ গোল

ডি ব্রুয়েনের ফুটবল অধ্যায় কেটেছে উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়ে। নিজ শহরের ক্লাব দ্রোঙ্গেনের হয়ে ২০০৩ সালে ফুটবল খেলা শুরু করেন। দুই বছর পর যোগ দেন বেলজিয়ান ক্লাব গেন্টে এবং সেখান থেকে চলে আসেন আরেক বেলজিয়ান ক্লাব গেঙ্কে। এই ক্লাবের যুব দলের হয়ে নিজেকে গড়ে তোলেন ডি ব্রুয়েন।

২০০৮ সালে গেঙ্কের প্রথম দলের স্কোয়াডে সুযোগ পান তিনি; কিন্তু অভিষেকের জন্য অপেক্ষা করতে হয় পরের বছর পর্যন্ত। ২০০৯ সালের মে মাসে গেঙ্কের অভিষেক ম্যাচে ৩-০ গোলের জয় পান ব্রুয়েন। পরের মৌসুমে ৩২টি লিগ ম্যাচে সুযোগ পান তিনি। যেখানে ৫ গোল করার পাশাপাশি ১৬টি এসিস্টও করেছেন। ২০১০-১১ সালে গেঙ্কের বেলজিয়ান লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে তার অবদান অনেক। ক্লাবটির হয়ে চার বছরে সব রকম প্রতিযোগিতায় ১১৩ ম্যাচে করেন ১৭ গোল। দুর্দান্ত পারফর্ম দিয়ে নজরে পড়ে যান ইংলিশ ক্লাব চেলসির।

২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে দলবদলের শেষ দিনে গেঙ্ক থেকে মাত্র ৭ মিলিয়ন পাউন্ডে চেলসিতে আসেন ডি ব্রুয়েন। পাঁচ বছরের চুক্তি হলেও ক্লাবের হয়ে তেমন খেলারই সুযোগ পাননি এই মিডিফিল্ডার। চেলসিতে যোগ দিয়েই আগস্টে লোনে চলে যান বুন্দেসলিগার ক্লাব ওয়ের্ডার ব্রেমেন। ১৫ই সেপ্টেম্বর ক্লাবটির হয়ে প্রথম গোলটি করেই দলকে জেতান।

ওয়ের্ডার ব্রেমেনের হয়ে দুর্দান্ত একটি মৌসুম কাটিয়ে আবার ফিরে আসেন চেলসিতে; কিন্তু এবারও কোচ হোসে মরিনহোর দ্বারা উপেক্ষিত হন ডি ব্রুয়েন। তার প্রতিভার কোন দামই দেননি তিনি। প্রিমিয়ার লিগে ২০১২-১৩ মৌসুমে মাত্র ৩টি ম্যাচে তাকে মাঠে নামান মরিনহো। দুই বছরের বিষাদময় চেলসি অধ্যায়ের ইতি টেনে আবার পাড়ি জমান বুন্দেসলিগায়। কিন্তু এবারের মিশন ভোলসবার্গ।

১৮ মিলিয়ন পাউন্ডে ভোলসবার্গের দুর্গে ফিরে এসে যেন নিজেকে আরো শাণিত করতে থাকেন এই বেলজিয়ান। প্রথম মৌসুমে মাত্র ১৬টি ম্যাচ খেললেও করেন তিনটি গোল। ডি ব্রুয়েনের ফুটবল অধ্যায়ের সবচেয়ে টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে আসে ২০১৫-১৬ মৌসুমটি। বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে জার্মান সুপার কাপ জয়ের পাশাপাশি ক্লাবকে সাহায্য করেন জার্মান ক্লাব কাপ জিততে।

ওই মৌসুমে ৫১টি ম্যাচ খেলে ১৬টি গোল করার পাশাপাশি করেন ২৭টি এসিস্টও। ২০১৫ সালে হন জার্মানির লিগের বর্ষসেরা ফুটবলারও। এমন দুর্দান্ত পারফর্মারকে ভোলসবার্গের মত ক্লাবে মানায় না, এমনটা বোধহয় বিধাতাও চেয়েছিলেন। তাই বর্তমান সময়ের টাকার ঝনঝনানিতে থাকা ম্যান সিটির নজর পড়ে তার উপর।

দলবদল শেষ হওয়ার আগে ৫৮ মিলিয়ন পাউন্ডে তাকে কিনে নেয় সিটিজেনরা। বাকিটা ইতিহাস। ক্লাবের হয়ে তিন মৌসুমেই অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হয়ে ওঠেন। নিজের প্রথম মৌসুমে করেন ৪১ ম্যাচে ১৬ গোল। দ্বিতীয় মৌসুমে করেন ৪৯ ম্যাচে ৭ গোল। সর্বশেষ বর্তমান মৌসুমে করেন ১২ গোল কিন্তু এবার তার এসিস্ট সংখ্যা ছিল অন্যান্য অনেকবারের থেকে বেশি।

দেশের হয়েও কম জাননি এই ফুটবলার। তার জন্ম ইংল্যান্ডে হলেও মা ছিলেন বুরুন্ডির নাগরিক। তার কাছে সুযোগ ছিল বুরুন্ডি, ইংল্যান্ড এবং বেলজিয়াম তিন দলের হয়েই খেলার। কিন্তু বেলজিয়ামকেই বেছে নিয়েছেন।

বেলজিয়ান মূল দলের হয়ে অভিষেক হয় ২০১০ সালের আগস্টে ফিনল্যান্ডের বিপক্ষে। যেখানে ১-০ গোলে পরাজিত হয় তার দল। ২০১৪ বিশ্বকাপেও দলে সুযোগ পেয়েছিলেন এই মিডফিল্ডার। অন্যদিকে ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে তার হাত ধরেই মূলতঃ খেলার সুযোগ করে নেয় বেলজিয়াম। রাশিয়া বিশ্বকাপে তাই আলাদা নজর থাকছে তার উপর।

Coach Image

রবার্তো মার্টিনেজ

রবার্তো মার্টিনেজ। ১৯৭৩ সালের ১৩ই জুলাই স্পেনের বালাউয়ের শহরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ছোট বেলাতেই ফুটবলের প্রতি অতি ঝোঁকের কারনে তাকে শহরের ক্লাব সিএফ বালাউয়ের ক্লাবে ভর্তি করিয়ে দেয় তার পরিবার। সেখান থেকে মাত্র ৯ বছর বয়সেই ক্লাবটির ইয়ুথ দলে সুযোগ করে নেন এই স্প্যানিশ।
পেশাদার ফুটবলে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে খেলা মার্টিনেক ১৯৯০ সালে যোগ দেন স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল জারাগোজাতে। ১৯৯১ সালে সেই ক্লাবের বি দলের হয়ে অভিষেক হয় তার। জারাগোজায় থাকাকালীন প্রথম তিন মৌসুম ক্লাবের যুব দলে খেললেও নিজেকে শাণিত করে জায়গা করে নেন মূল দলে।
১৯৯৩ সালের জুনে জারাগোজার হয়ে লা লিগায় প্রথম ম্যাচ খেলতে নামেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে তার দল ২-২ গোলে ড্র করে। জারাগোজার হয়ে ৪ বছরের ক্যারিয়ারে ঐ একটি ম্যাচেই খেলার সুযোগ হয়েছিল তার। বাকি মৌসুমগুলো ইয়ুথ দলের হয়েই খেলেছেন। এক ম্যাচ খেললেও জারাগোজার মূল দলের সঙ্গে থাকায় ১৯৯৪ সালের কোপা দেলরে ট্রফির শিরোপাও জেতেন তিনি।

১৯৯৪ সালে আবার ফিরে আসেন শৈশবের ক্লাব বালাউয়েরে। এক মৌসুম সেখানে কাঁটিয়ে ইংল্যান্ডের উইগান অ্যাথলেটিক ক্লাবে নাম লেখান এই স্প্যানিশ। ১৯৯৫ সালের আগস্টে উইগানের হয়ে প্রথম ম্যাচেই গিলিংহ্যামের বিপক্ষে গোল করেন মার্টিনেজ। ঐ ম্যাচে উইগান হারলেও জানান দিচ্ছিলেন তিনি ক্লাবের প্রধান কাণ্ডারি হতে চলেছেন।

১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতায় ক্লাবের হয়ে সর্বোচ্চ ১৩টি গোল করেন মার্টিনেজ। পরবর্তী মৌসুমে ক্লাবটির হয়ে তৃতীয় বিভাগ লিগ জয় করেন তিনি। দলের মূল ভুমিকায় থাকা মার্টিনেজ ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে উইগানের হয়ে জেতেন ইংলিশ ফুটবল লিগ ট্রফি। ২০০০-০১ মৌসুমে উইগান তাকে ছেড়ে দিলে নিজের নতুন ঠিকানা স্কটিশ ক্লাব মাদারওয়েলে যান তিনি।

কিন্তু সেখানে ব্রাত্যই থেকে যান এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। মাত্র ৮টি ম্যাচে প্রথম একাদশে নামার সুযোগ হয়েছিল তার। পরের মৌসুমেই ইংল্যান্ডের প্রথম বিভাগ লিগের ক্লাব ওয়ালসাল এ যোগ দেন ফ্রি ট্রান্সফারে।

চার মাস এই ক্লাবের হয়ে খেলে ২০০৩ সালের জানুয়ারিতে যোগ দেন আরেক ইংলিশ ক্লাব সোয়ানসিতে। সোয়ানসির হয়ে প্রথম দিকে দলে সুযোগ না পেলেও পরবর্তীতে পারফরম্যান্স দিয়ে দলে জায়গা করে নেন তিনি। ২০০৪-০৫ মৌসুমে সোয়ানসিকে প্রথম বিভাগে উন্নীত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মার্টিনেজ। ২০০৬ সালে ফ্রি ট্রান্সফারে চেস্টার সিটি ক্লাবে দুই বছরের জন্য যোগ দিলেও পরের বছরেই সোয়ানসিতে ফিরে আসেন। তবে খেলোয়াড় হিসেবে নয়; কোচ হিসেবে। ফুটবল ক্যারিয়রে ৪২৫ ম্যাচে ৩০ গোল করা এই ফুটবলার কখনই সুযোগ পাননি স্পেনের জাতীয় দলে।

৩৩ বছর বয়সে ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে সোয়ানসির কোচের ভূমিকায় আসা মার্টিনেজ প্রথম মৌসুমেই বাজিমাত করেন। প্রথম বিভাগের সেরা কোচ হওয়ার পাশাপাশি ২০০৮ সালে সোয়ানসিকে চ্যাম্পিয়নশীপে উন্নীত করেন মার্টিনেজ। পরের মৌসুমেই অবশ্য মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখেন তিনি। চ্যাম্পিয়নশীপে ভালো না করার দরুন ক্লাবের সবার সমালোচনা সহ্য করতে থাকেন মার্টিনেজ। সেল্টিক ও উইগানের কোচ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত সোয়ানসির সাথে পাট চুকিয়ে ২০০৯ সালে ১.৫ মিলিয়ন পাউন্ডে যোগ দেন উইগান অ্যাথলেটিকে।

উইগানে নাম লেখিয়ে সোয়ানসি সমর্থকদের রোষানলে পড়েন মার্টিনেজ। নিজের প্রথম মৌসুমে উইগানকে হাসি এবং কান্না দুটোই দেখিয়ে ছেড়েছেন এই স্প্যানিশ। তার আমলেই উইগান ৯-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে স্পার্সের সাথে। ২০১০ সালের এফএ কাপে নিজের সাবেক ক্লাব সোয়ানসির মুখোমুখি হলেও তাদের বিপক্ষে ঠিকই ২-০ গোলে জয় পান তিনি।

২০১১-১২ মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমন যখন এক প্রকার নিশ্চিত তাদের তখনই যেন আলাদীনের চেরাগ হাতে পেয়ে আর্সেনাল, লিভারপুল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং নিউক্যাসেলের মত বড় দলগুলোকে হারিয়ে অবনমন এড়ান তিনি। প্রথমবারের মত পান প্রিমিয়ার লিগের কোচ অফ দ্য মান্থ পুরস্কার। কিন্তু পরের মৌসুমে ঠিকই নিশ্চিত হয়ে যায় উইগানের প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমন। তবে সেই মৌসুমে উইগানকে প্রথমবারের মত এফএ কাপ জয় করান মার্টিনেজ। ফাইনালে তারা তখনকার শক্তিশালী ম্যান সিটিকে ১-০ গোলে হারায়।

প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমন হলেও মার্টিনেজ খুঁজে পান নতুন ক্লাব এভারটনকে। চার বছরের চুক্তিতে এভারটনে যোগ দিলেও তেমন কোন সুবিধা করতে পারেননি দলটির হয়ে। ক্লাবের হয়ে কিছু জিততে না পারার কারণে ২০১৬ সালের মে মাসে তাকে বরখাস্ত করে এভারটন ক্লাব কর্তৃপক্ষ। আগস্টেই চাকরি খুঁজে পান মার্টিনেজ।

তবে এবার আর কোন ক্লাব নয় সরাসরি বেলজিয়ামের জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া তাকে। প্রথম ম্যাচে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হারলেও বেলজিয়ামের কোচিং ক্যারিয়ারে ঐ একটি ম্যাচই কেবল হেরেছেন মার্টিনেজ। ইউরোপের দলগুলোর ভেতর সবার আগে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় মার্টিনেজের অধীনে খেলা বেলজিয়াম দল।

বেলজিয়ামের ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত দল

গোলরক্ষক: থিবাত কুর্তোয়া, সাইমন মিগনোলেট, কোয়েন ক্যাস্তিলস।

ডিফেন্ডার: টবি অ্যালডারউইয়ারল্ড, থমাস ভারমালিন, ভিনসেন্ট কম্পানি, ইয়ান ভারটোঙ্গেন, থমাস মিউনার, ডেডির্ক বোয়াতা, লেন্ডার ডেনডোঙ্কার।

মিডফিল্ডার: অ্যাক্সেল উইটজেল, কেভিন ডি ব্রুয়েন, মারুয়ানে ফেলাইনি, ইয়ানিক ক্যারাসকো, থোর্গান হ্যাজার্ড, ইউরি তিয়েলম্যান্স, নাসের চাদলি, মুসা দেম্বেলে।

ফরোয়ার্ড: রোমেলু লুকাকু, ইডেন হ্যাজার্ড (অধিনায়ক), ড্রাইস মারটেন্স, আদনান জানুজাই, মিচি বাতশুই।

বেলজিয়াম

প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ
১ মে ১৯০৪, উকল, বেলজিয়াম
বেলজিয়াম ৩ : ৩ ফ্রান্স

সবচেয়ে বড় জয়
৪ জুন, ১৯৯৪, ব্রাসেলস, বেলজিয়াম
বেলজিয়াম ৯ : ০ জাম্বিয়া

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০০১, ব্রাসেলস, বেলজিয়াম
বেলজিয়াম ১০ : ১ সান মারিনো

সবচেয়ে বড় হার
১৭ এপ্রিল, ১৯০৯, লন্ডন, ইংল্যান্ড
ইংল্যান্ড অ্যামেচার ১১ : ২ বেলজিয়াম

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ : এবার নিয়ে ১৩ বার, সর্বোচ্চ ফল : সেমিফাইনাল (চতুর্থ, ১৯৮৬)
ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ : ৫ বার, সর্বোচ্চ ফল : রানার্স আপ (১৯৮০)।
সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা খেলোয়াড় : ইয়ান বার্টোগেন (৯৯ ম্যাচ)।
সর্বোচ্চ গোলদাতা : রোমেলু লুকাকু (৩৩)।

যেভাবে রাশিয়া বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করলো বেলজিয়াম

বেলজিয়াম ১-১ গ্রিস
বেলজিয়াম ৪-০ বসনিয়া
বেলজিয়াম ৮-১ এস্তোনিয়া
বেলজিয়াম ৪-০ সাইপ্রাস
বেলজিয়াম ৯-০ জিব্রালটার
গ্রিস ১-২ বেলজিয়াম
বসনিয়া ৩-৪ বেলজিয়াম
এস্তোনিয়া ০-২ বেলজিয়াম
সাইপ্রাস ০-৩ বেলজিয়াম
জিব্রাল্টার ০-৬ বেলজিয়াম

বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের পয়েণ্ট টেবিল

অবস্থান

দল

ম্যাচ

জয়

ড্র

পরাজয়

গোল পার্থক্য

পয়েন্ট

বেলজিয়াম

১০

+৩৭

২৮

গ্রীস

১০

+১১

১৯

বসনিয়া

১০

+১১

১৭

এস্তোনিয়া

১০

−৬

১১

সাইপ্রাস

১০

−৯

১০

জিব্রাল্টার

১০

১০

−৪৪

 

সময়সূচি

১৮ জুন, ২০১৮, ০৯:০০ পিএম

গ্রুপ জি , ফিশ্ট স্টেডিয়াম

বেলজিয়াম বেলজিয়াম ৩ - ০ পানামা পানামা

ম্যাচ রিপোর্ট
২৩ জুন, ২০১৮, ০৬:০০ পিএম

গ্রুপ জি , স্পার্টাক স্টেডিয়াম

বেলজিয়াম বেলজিয়াম ৫ - ২ তিউনিসিয়া তিউনিসিয়া

ম্যাচ রিপোর্ট
২৮ জুন, ২০১৮, ১২:০০ এএম

গ্রুপ জি , কালিনিনগ্রাদ স্টেডিয়াম

ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড ০ - ১ বেলজিয়াম বেলজিয়াম

ম্যাচ রিপোর্ট
০২ জুলাই, ২০১৮, ১২:০০ এএম

গ্রুপ , রোস্তভ এরেনা

বেলজিয়াম বেলজিয়াম ৩ - ২ জাপান জাপান

ম্যাচ রিপোর্ট
০৬ জুলাই, ২০১৮, ১২:০০ এএম

গ্রুপ , কাজান এরেনা

ব্রাজিল ব্রাজিল ১ - ২ বেলজিয়াম বেলজিয়াম

ম্যাচ রিপোর্ট
১০ জুলাই, ২০১৮, ১২:০০ এএম

গ্রুপ , সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়াম

ফ্রান্স ফ্রান্স ১ - ০ বেলজিয়াম বেলজিয়াম

ম্যাচ রিপোর্ট
১৪ জুলাই, ২০১৮, ০৮:০০ পিএম

গ্রুপ , সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়াম

বেলজিয়াম বেলজিয়াম ২ - ০ ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড

ম্যাচ রিপোর্ট

আরও

বাংলাদেশকে চাপে রাখতে ভারতের নতুন কৌশল

বাংলাদেশকে চাপে রাখতে ভারতের নতুন কৌশল

বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রথম দুই হোম ম্যাচের জন্য দুটি ভেন্যু বেছে নিয়েছিল ভারত।...

ফুটবলারদের কাতার-পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু ২৫ সেপ্টেম্বর

ফুটবলারদের কাতার-পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু ২৫ সেপ্টেম্বর

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে দেশে ফিরে ফুটবলারদের প্রায় দুই সপ্তাহ ছুটি দিয়েছেন...

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একমাত্র জয়টি ৪০ বছর আগে

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একমাত্র জয়টি ৪০ বছর আগে

কথায় আছে- শেষ ভালো যার, সব ভালো তার। মঙ্গলবার রাতে তাজিকিস্তানের দুশানবেতে...

চট্টগ্রামের পর দুশানবে, কাল আবারও আফগানদের সামনে বাংলাদেশ

চট্টগ্রামের পর দুশানবে, কাল আবারও আফগানদের সামনে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের প্রথম টেস্ট ঘিরে গত পাঁচদিন ক্রীড়ামোদীদের চোখ ছিল চট্টগ্রামে।...