কলম্বিয়া

Team Image

১৯৯৮ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপে অংশ গ্রহণ করার পর যেন হারিয়েই গিয়েছিল লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়া। ২০১৪ বিশ্বকাপের আগে আবারও উত্থান ঘটে দেশটির। রাদামেল ফ্যালকাও নামে এক ফুটবলারের হাত ধরে ব্রাজিল বিশ্বকাপে নাম লিখেছিল কলম্বিয়া; কিন্তু কি দুর্ভাগ্য, সেই রাদামেল ফ্যালকাওই খেলতে পারেননি বিশ্বকাপে। হাঁটুর ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপের আগেই ছিটকে যান তিনি।

কলম্বিয়া থমকে যায়নি। বিশ্বকাপে খেলেছে। উদ্ভব ঘটিয়েছে নতুন তারকার। হামেশ রদ্রিগেজ। তরুণ এই ফুটবলারের হাত ধরেই বিশ্বকাপে প্রথমবারেরমত কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে দ্য কপি গ্রোয়ার্সরা। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তারা হেরে যায় স্বাগতিক ব্রাজিলের কাছে। যদিও শেষ ম্যাচে ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমারের কোমর ভেঙে দিয়েছিলেন কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার জুনিগা। হামেশ রদ্রিগেজ হয়েছিলেন টুর্নামেন্টের তরুণ উদীয়মান ফুটবলার এবং জিতে নিয়েছিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতা গোল্ডেন বুটের পুরস্কার।

২০১৪ সালের ধারাবাহিকতায় এবারও কলম্বিয়া উঠে এসেছে বিশ্বকাপ ফুটবলে। লাতিন আমেরিকান অঞ্চলে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সঙ্গে সমান তালে তাল মিলিয়েই নাম লিখেছে রাশিয়া বিশ্বকাপে। আগেরবার ফ্যালকাও খেলতে না পারলেও এবার তিনি রয়েছেন। যদিও বয়স বেড়ে গেছে। তবুও হামেশ রদ্রিগেজদের সঙ্গে মিলে নিশ্চিত, এই বিশ্বকাপও কাঁপাবে কলম্বিয়া, সন্দেহ নেই।

কার্লোস ভালদেরামার কথা শুনলে যে কেউ বলে দেবেন- তিনি তো কলম্বিয়ান ফুটবলার। ১৯৯০,১৯৯৪ কিংবা ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ঝাঁকড়া চুলের এই ফুটবলারকে দেখে অনেকেই মুগ্ধ হতেন। শুধু চুলের কারণেই নয়, তার অসাধারণ ক্রীড়াশৈলির কারণেও। ওই সময় আরেক ঝাঁকড়াচুলের ফুটবলার, গোলরক্ষক রেনে হিগুইতাকেও মনে রেখেছে বিশ্ব, তার ভিন্নরকম স্টাইলের কারণে। যদিও, তার ভুলের কারণে, ১৯৯০ বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার রজার মিলা গোল দিয়ে বসেছিল কলম্বিয়াকে। এ কারণে এখনও হিগুইতাকে কলম্বিয়ানরা মনে করেন খলনায়ক হিসেবে।

ভালদেরামার পর বিশ্ববাসী কলম্বিয়াকে নতুন করে চেনে পপস্টার শাকিরার কারণে। ২০০৬ এবং ২০১০ সালের বিশ্বকাপ দুটিতে মাঠের বাইরের তারকা ছিলেন শাকিরা। তবে লাতিন আমেরিকার হওয়ায় যে দেশটি ফুটবলের কারণে বেশি পরিচিত হওয়ার কথা, তা হয়েছে রাদামেল ফ্যালকাও এবং হামেশ রদ্রিগেজের কারণে। সময়ে অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার ফ্যালকাও। আর রিয়াল মাদ্রিদ ও বায়ার্ন মিউনিখ মাতানো হামেশ রদ্রিগেজ তো রয়েছেনই।

১৯৯৮ সালে ভালদেরামার আমলেই সর্বশেষ বিশ্বকাপ খেলেছিল কলম্বিয়া। এরপর প্রায় ১৬ বছর অনুপস্থিত ছিল বিশ্বকাপে। ২০১৪ বিশ্বকাপের আগে ফিফা র্যাংকিংয়েও অভাবনীয় উন্নতি ঘটায় তারা। নিজেদের ইতিহাসের সেরা অবস্থান, তিন নম্বরেও উঠে এসেছিল কলম্বিয়ানরা। বর্তমান র্যাংকিং অবশ্য, ১৬।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে কলম্বিয়ার সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত হলো, ১৯৬২ বিশ্বকাপে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মার্কোস কোলের সরাসরি কর্নার কিক থেকে করা গোল। যা ফুটবল ইতিহাসে পরিচিতি পেয়েছে, অলিম্পিক গোল নামে। ম্যাচটিতে ৪-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও ৪-৪ গোলে ড্র করে করে মাঠ ছাড়ে কলম্বিয়া।

ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম সেরা কামব্যাক হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে ওই ম্যাচটি। অথচ সোভিয়েত ইউনিয়নের তখনকার গোলরক্ষক ছিলেন লেভ ইয়াসিন। যাকে মনে করা হয় ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা গোলরক্ষকদের একজন। কলম্বিয়ান ফুটবলের স্বর্ণযুগ বলা হয় ১৯৯০-এর দশককে। ওই সময়েই ভালদেরামা-হিগুইতাদের মতো বেশ কিছু ভালোমানের ফুটবলারের আগমন ঘটে দলটিতে।

তবে ১৯৯৪ বিশ্বকাপের পর বিমানবন্দরে ফিরে আততায়ীর গুলিতে আন্দ্রেস এসকোবার নিহত হওয়ার ঘটনার পর ফুটবলে অনেকটাই পিছিয়ে যায় দেশটি। ২০০১ সালে নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাফল্য তুলে নেয় কলম্বিয়া। জিতে নেয় লাতিনের বিশ্বকাপ নামে পরিচিত, কোপা আমেরিকার শিরোপা।

মূলতঃ ১৯৩৮ সাল থেকে কলম্বিয়ানদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে যাত্রা শুরু। নিজেদের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে ৩-১ গোলে হার। বিশ্বকাপে এবার নিয়ে তাদের অংশগ্রহণ মোট সাতবার। ১৯৬০ সালের পর দীর্ঘবিরতি নিয়ে ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে অংশ নেয় কলম্বিয়া। এরপর টানা তিন বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ১৯৯৮ সালের পরে আবারও বিরতি। তবে ২০১১ সালের পর থেকে নতুন সোনালি প্রজন্মের উদয় ঘটেছে লাতিন আমেরিকার দলটিতে। ২০১৪ সালের পর এই নিয়ে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ খেলছে তারা।

Player Image

হামেশম রদ্রিগেজ

২০১৪ বিশ্বকাপের আগে হামেশ রদ্রিগেজকে খুব কম মানুষই চিনতো। কিন্তু ব্রাজিল বিশ্বকাপে এসে হামেশ নিজেকে এতটা পরিচিত করে তোলেন যে, বিশ্বকাপের পরপরই রিয়াল মাদ্রিদের মত বিশ্বসেরা ক্লাব তার পেছনে দৌড়ানো শুরু করে।

যদিও ২০১৪ বিশ্বকাপের আগে হামেশ নিজেকে কলম্বিয়ায় অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছিলেন। বিশেষ করে কলম্বিয়ান সুপারস্টার রাদামেল ফ্যালকাওয়ের ইনজুরির কারণে, হামেশ রদ্রিগেজের ওপরই চলে আসে পুরো ফোকাসটা এবং তার ওপরই সব আস্থা এবং ভরসা রাখতে শুরু করে কলম্বিয়ানরা।

  • নাম: হামেশ ডেভিড রদ্রিগেজ রুবিও
  • জন্ম : ১২ জুলাই, ১৯৯১
  • বয়স : ২৬ বছর
  • উচ্চতা : ৫ ফিট, ১১ ইঞ্চি
  • পজিশন : অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার
  • কলম্বিয়ার হয়ে : ৬২ ম্যাচে ২১ গোল

যে কারণে ওই বিশ্বকাপে কলম্বিয়ান স্কোয়াডে তাকে ১০ নম্বর জার্সি দেয়া হয়। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই গ্রিসের বিপক্ষে প্রথম দুই গোলের জোগান দিয়েছিলেন হামেশ। খেলার একেবারে শেষ মুহূর্তে একটি গোল নিজেও করেন তিনি। যাতে কলম্বিয়া ৩-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছিল। প্রথম ম্যাচেই জিতে নিলেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

দ্বিতীয় ম্যাচেও আইভরি কোস্টেও বিপক্ষে দারুণ এক হেডে গোল করেন হামেশ। হুয়ান ফার্নান্দো কুইন্তারোর গোলে অ্যাসিস্ট করেন। এবারও ম্যাচ সেরার পুরস্কার উঠলো তার হাতে। গ্রুপের শেষ ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে মাঠে নামেন পরিবর্তিত হিসেবে। নেমেই জ্যাকসন মার্টিনেজের দুই গোলে অ্যাসিস্ট করেন তিনি। নিজেও করেন একটি গোল। গ্রুপ পর্ব শেষে ফিফা তাকেই সেরা পারফরমার নির্বাচিত করেছিল ব্রাজিল বিশ্বকাপে।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অভিষেকেই ম্যাচ সেরা হওয়ার রেকর্ড খুবই বিরল। যে রেকর্ডটা নিজের নামের পাশে লিখে নিয়েছেন হামেশ রদ্রিগেজ। ২০১১ সালে ভলিবিয়ার বিপক্ষে অভিষেক হয় হামেশ রদ্রিগেজের। ওই ম্যাচেই অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখান রদ্রিগেজ। ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে রাদামেল ফ্যালকাওকে দিয়ে দুর্দান্ত এক গোল করান তিনি। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হওয়ার জন্য এই পারফরম্যান্সই ছিল যথেষ্ট। এরপর কোচ হোসে প্যাকারম্যানের অধীনে দারুণ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকায় দেখা যায় তাকে কলম্বিয়া জাতীয় দলে।

পেরুর বিপক্ষে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম গোল করেন হামেশ। যে ম্যাচে তার গোলের জয় দিয়ে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে ৬ নম্বর থেকে ৫ নম্বরে উঠে আসে কলম্বিয়া। দারুণ গতিময়, সতীর্থদের দিয়ে গোল করানো এবং খেলা তৈরি (প্লে-মেকার) করার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে রদ্রিগেজের। এ কারণেই দেখা গেলো, বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে উরুগুয়ের বিপক্ষে দুই ম্যাচে অসাধারণ দক্ষতায় দুটি গোলের উপলক্ষ তৈরি করে দিয়েছেন তিনি।

এরপর চিলির বিপক্ষে প্রায় ৩০ গজ দুর থেকে নেয়া এক ফ্রি-কিকে অসাধারণ দক্ষতায় করলেন দুর্দান্ত এক ভলি। শেষ পর্যন্ত কলম্বিয়া জিতেছে ৩-১ ব্যবধানে এবং বাছাই পর্বের দ্বিতীয় স্থানে নিয়ে আসে কলম্বিয়াকে। এরপর প্যারাগুয়েরর সঙ্গে দুই গোলের দুটিই করেছিলেন তিনি। ওই বছরের শেষ দিকে ব্রাজিলের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্রয়ের ম্যাচে কলম্বিয়ার গোলে অ্যাসিস্ট করেছিলেন তিনি।

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে উরুগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নেমে কলম্বিয়ার হয়ে জোড়া গোল করেন হামেশ। ২-০ গোলে উরুগুয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টারে উন্নীত হয় কলম্বিয়া। এই দুই গোলের মধ্যে প্রথম গোলটি ছিল প্রায় ৩০ গজ দুর থেকে দুর্দান্ত এক ভলিতে। যেটাকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা গোল হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।

উরুগুয়ের কোচ অস্কার তাবারেজ তো হামেশকে, ‘বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়’ হিসেবেই আখ্যায়িত করলেন। এই ম্যাচেও সেরা হলেন তিনি। চার ম্যাচে তিনবার ম্যান অব দ্য ম্যাচ হলেন হামেশ। হামেশের ওই গোলটিই শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটিতে ব্রাজিল বিশ্বকাপের সেরা গোল হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। শুধু তাই নয়, ফিফা বর্ষসেরা গোল হিসেবে পুস্কাস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে হামেশকে। কোয়ার্টার ফাইনালেও ব্রাজিলের বিপক্ষে একটি গোল করেন তিনি। যদিও ওই ম্যাচে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদেরকে।

হামেশ এরপর ২০১৫ কোপা আমেরিকা এবং ২০১৬ কোপা আমেরিকার শতবর্ষের আসরেও খেলেন। ২০১৮ বিশ্বকাপের বাছাই পর্বেও কলম্বিয়ার সুপারস্টার ছিলেন হামেশ। তার গোলেই চতুর্থ দল হিসেবে বিশবকাপে উন্নীত হয় কলম্বিয়া।

ছোটবেলা থেকে ফুটবলই তার ধ্যান-জ্ঞ্যান। ২০০৬ সালে নাম লেখান কলম্বিয়ান দ্বিতীয় বিভাগের দল এনভিগাদোয়। এই দলটিকে কলম্বিয়ার প্রথম বিভাগে তুলে দেন হামেশ। ২০০৮ সালে আর্জেন্টিনার ক্লাব বেনফিল্ডে যোগ দেন তিনি। ২ বছর আর্জেন্টিনায় কাটান তিনি। এরপরই ২০১০ সালে পর্তুগিজ ক্লাব পোর্তোয় যোগ দেন।

তিন মৌসুমে ৬৩ ম্যাচ খেলে গোল করেন ২৫টি। ২০১৩ সালে যোগ দেন ফরাসি ক্লাব মোনাকোয়। ৩৪ ম্যাচ খেলে করেন ১১ গোল। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপের পরই তাকে কিনে নেয় রিয়াল মাদ্রিদ। যদিও রিয়ালে এসে নিজের যোগ্যতার সঠিক প্রয়োগ ঘটাতে পারলেন না সুযোগের অভাবে। তবুও খেলেছেন ৭৭ ম্যাচ। অবশেষে ২০১৭ সালে লোনে চলে যান জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে রিয়ালের মাঠেই রিয়ালের জালে গোল করেন তিনি। বুঝিয়ে দিলেন তার যোগ্যতা মোটেও কম নয়।

Coach Image

হোসে পেকারম্যান

হোসে পেকারম্যান। ১৯৪৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আর্জেন্টিনার ভিলা ডোমিঙ্গেজ শহরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পেশাদার ফুটবলে ছিলেন একজন মিডফিল্ডার। ১৯৭০ সালে আর্জন্টিনোস জুনিয়র্সের হয়ে অভিষেক হয় তার। ১৩৭ ম্যাচে ১২ গোল করে চার বছর পর যোগ দেন কলম্বিয়ার ক্লাব ইন্ডিপেন্দিয়েন্তে মেদেলিন ক্লাবে। ১৯৭৪-৭৭ সাল পর্যন্ত ১০১ ম্যাচে ১৫ গোল করেন তিনি। মাত্র ২৮ বছর বয়সেই ফুটবলকে বিদায় জানান হাঁটুর গুরুত্বর ইনজুরিতে। নিজের জীবিকা নির্বাহের জন্য কিছুদিন ট্যাক্সি ড্রাইভারের কাজও করেছেন তিনি।

১৯৮১ সালে কোচিং অধ্যায় শুরু করেন আর্জেন্টাইন ক্লাব সাচারিতা জুনিয়র্সের যুব দলের কোচ হিসেবে। ১৯৮২ থেকে পরবর্তী দশ বছর ছিলেন আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের যুব দলের কোচের দায়িত্বে। ১৯৯২ সালে আসেন সলো সলো ক্লাবের যুব দলের দায়িত্বে। ১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মত আর্জেন্টিনার যুব দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।

অনূর্ধ্ব-১৭ এবং অনূর্ধ্ব-২০ আর্জেন্টিনা দলের দায়িত্ব পালন করা পেকারম্যান বড় সাফল্য পান এই যুব দলের হয়ে। কাতারে হওয়া ১৯৯৫ যুব বিশ্বকাপ, মালায়শিয়ায় হওয়া ১৯৯৭ যুব বিশ্বকাপ এবং আর্জেন্টিনায় হওয়া ২০০১ সালের যুব বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা পেকারম্যানের অধীনে থেকেই। তাছাড়া ১৯৯৭ এবং ১৯৯৯ সালে ল্যাটিন আমেরিকার যুব বিশ্বকাপও জয় করেন পেকারম্যান। ১৯৯৮ সালে ড্যানিয়েল পাসারেল্লা আর্জেন্টিনার কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করলে পেকারম্যানকে আহ্বান জানানো হয় কোচ হওয়ার কিন্তু কোচ হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নিজের কাজ চালিয়ে যান।

২০০১ সালে আর্জেন্টিনা যুব দলের কোচের দায়িত্ব ছাড়ার পর কিছুদিন বিশ্রামে থাকেন তিনি। ২০০৪ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর আর্জেন্টিনার নতুন কোচ হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয় পেকারম্যান। তার অধীনে আর্জেন্টিনা ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষগে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে ১-১ গোলে ড্র করে পরবর্তীতে পেনাল্টি শুট আউটে হেরে বিদায় না আলবিসেলেস্তারা। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন না করতে পারায় বহিষ্কার হতে হয় পেকারম্যানকে।

আর্জেন্টিনার কোচ থেকে বহিষ্কার হলেও কোচিং চালিয়ে যান তিনি। ২০০৭ সালে দায়িত্ব পান ক্লাব টলুসার। ২০০৯ সালে মেক্সিকান ক্লাব টাইগ্রেসের কোচ হন তিনি। যদিও খারাপ পারফরম্যান্সের দরুন সেখান থেকে বহিষ্কার হন তিন। ২০১০ সালে আবারো তার আর্জেন্টিনার কোচ হওয়ার পাশাপাশি জাপান ফুটবল দলের কোচ হওয়ার গুঞ্জন মাথাচাড়া দিয়ে উঠলেও সেটি আর বাস্তব হয়নি।

২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে কলম্বিয়ার জাতীয় দলের কোচ হন পেকারম্যান। ওই সময়ে পেকারম্যান ছিলেন বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে কলম্বিয়ার তৃতীয় কোচ। তার অধীনে কলম্বিয়া ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়। যদিও বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে কলম্বিয়া দল নিয়ে অতিরিক্ত কাজ করার কারণে সমর্থকদের সমালোচনা সহ্য করতে হয় তাকে।

বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে তারা। যদিও সেখানে স্বাগতিক ব্রাজিলের কাছে হেরে বিদায় নে হলুদ জার্সিধারীরা। টানা দ্বিতীয়বারের মত ২০১৮ বিশ্বকাপেও কলম্বিয়াকে খেলার সুযোগ করে দেন পেকারম্যান। কলম্বিয়া জাতীয় দলের হয়ে ৭২টি ম্যাচে কোচ হিসেবে থেকে জিতেছেন ৪০টিতেই যেখানে হার রয়েছে ১৪টিতে।

কলম্বিয়ার ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত দল

গোলরক্ষক : ডেভিড ওসপিনা, ক্যামিলো ভার্গাস,হোসে ফার্নান্দো কুয়াদ্রাদো।

ডিফেন্ডার : ক্রিশ্চিয়ান জাপাতা, অস্কার মুরিলো, সান্তিয়াগো অ্যারিয়াস, ইয়েরি মিনা, ইয়োহান মোজিকা, ফরিদ দিয়াজ, ডেভিসন সানচেজ।

মিডফিল্ডার : উইলমার ব্যারিওস, কার্লোস সানচেজ, অ্যাবেল অ্যাগুইলার, হামেশ রদ্রিগেজ, হুয়ান গুইলের্মো কুয়াদ্রাদো, মাতেউস উরিব, জেফারসন লার্মা, হুয়ান ফার্নান্দো কুইন্তেরো।

ফরোয়ার্ড : রাদামেল ফ্যালকাও (অধিনায়ক), কার্লোস বাক্কা, লুইস মুরিয়েল, মিগুয়েল বোরজা, হোসে ইজকুয়ের্দো।

 কলম্বিয়া

প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ
১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৮, পানামা সিটি
মেক্সিকো ৩ : ১ কলম্বিয়া

সবচেয়ে বড় জয়
২৬ মার্চ, ২০১৫, রিফা, বাহরাইন
বাহরাইন ০ : ৬ কলম্বিয়া

সবচেয়ে বড় হার
২৪ মার্চ, ১৯৫৭, লিমা, পেরু
ব্রাজিল ৯ : ০ কলম্বিয়া

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ : এবার নিয়ে ৬ বার, সর্বোচ্চ ফল : কোয়ার্টার ফাইনাল (২০১৪)
কোপা আমেরিকায় অংশগ্রহণ : ২১ বার, চ্যাম্পিয়ন : ১ বার (২০০১)।
ফিফা কনফেডারেশন্স কাপে অংশগ্রহণ : ১বার, সর্বোচ্চ ফল : সেমিফাইনাল (চতুর্থ, ২০০৩)
সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা খেলোয়াড় : কার্লোস ভালদেরামা (১১১ ম্যাচ)
সর্বোচ্চ গোলদাতা : রাদামেল ফ্যালকাও (২৯টি)

যেভাবে রাশিয়া বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করলো কলম্বিয়া
কলম্বিয়া ১-১ ব্রাজিল
কলম্বিয়া ২-২ উরুগুয়ে
কলম্বিয়া ০-১ আর্জেন্টিনা
কলম্বিয়া ২-০ পেরু
কলম্বিয়া ০-০ চিলি
কলম্বিয়া ১-২ প্যারাগুয়ে
কলম্বিয়া ৩-১ ইকুয়েডর
কলম্বিয়া ১-০ বলিভিয়া
কলম্বিয়া ২-০ ভেনিজুয়েলা
ব্রাজিল ২-১ কলম্বিয়া
উরুগুয়ে ৩-০ কলম্বিয়া
আর্জেন্টিনা ৩-০ কলম্বিয়া
পেরু ১-১ কলম্বিয়া
চিলি ১-১ কলম্বিয়া
প্যারাগুয়ে ০-১ কলম্বিয়া
ইকুয়েডর ০-২ কলম্বিয়া
বলিভিয়া ২-৩ কলম্বিয়া
ভেনিজুয়েলা ০-০ কলম্বিয়া

বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের পয়েণ্ট টেবিল

অবস্থান

দল

ম্যাচ

জয়

ড্র

পরাজয়

গোল পার্থক্য

পয়েন্ট

ব্রাজিল

১৮

১২

+৩০

৪১

উরুগুয়ে

১৮

  ৯

+১২

৩১

আর্জেন্টিনা

১৮

+৩

২৮

কলম্বিয়া

১৮

+

২৭

পেরু

১৮

+১

২৬

চিলি

১৮

−১

২৬

প্যারাগুয়ে

১৮

−৬

২৪

ইকুয়েডর

১৮

১০

−৩

২০

বলিভিয়া

১৮

১২

−২২

১৪

১০

ভেনিজুয়েলা

১৮

১০

−১৬

১২

 

সময়সূচি

১৯ জুন, ২০১৮, ০৬:০০ পিএম

গ্রুপ এইচ , মোর্দোভিয়া স্টেডিয়াম

কলম্বিয়া কলম্বিয়া ১ - ২ জাপান জাপান

ম্যাচ রিপোর্ট
২৪ জুন, ২০১৮, ১২:০০ এএম

গ্রুপ এইচ , কাজান এরেনা

পোল্যান্ড পোল্যান্ড ০ - ৩ কলম্বিয়া কলম্বিয়া

ম্যাচ রিপোর্ট
২৮ জুন, ২০১৮, ০৮:০০ পিএম

গ্রুপ এইচ , সামারা এরেনা

সেনেগাল সেনেগাল ০ - ১ কলম্বিয়া কলম্বিয়া

ম্যাচ রিপোর্ট
০৩ জুলাই, ২০১৮, ১২:০০ এএম

গ্রুপ , স্পার্টাক স্টেডিয়াম

ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড ১ (৪) - (৩) ১ কলম্বিয়া কলম্বিয়া

ম্যাচ রিপোর্ট

আরও

ঢাকায় ফিরে বিশ্বকাপ বাছাই নিয়ে যা বললেন জেমি ডে

ঢাকায় ফিরে বিশ্বকাপ বাছাই নিয়ে যা বললেন জেমি ডে

ফিফা র‌্যাংকিং যদি শক্তির মাপকাঠি হয় তাহলে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয় পর্বে ‘ই’...

বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলতে চায় ইরান

বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলতে চায় ইরান

কাতার-২০২২ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয় পর্বের মিশন শুরুর আগে বাংলাদেশ কোচ জেমি ডে...

বাংলাদেশ-ভারত বিশ্বকাপের ম্যাচ যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে

বাংলাদেশ-ভারত বিশ্বকাপের ম্যাচ যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে

কাতার-২০২২ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয় পর্বের ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অ্যাওয়ে ম্যাচটি হবে কলকাতার...

নির্ধারিত হলো বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ

নির্ধারিত হলো বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ

লাওসকে হারিয়ে কাতার-২০২২ বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাইয়ের দ্বিতীয় পর্বে ওঠার পর বাংলাদেশের অপেক্ষা...