ক্রোয়েশিয়া

Team Image

কী নেই দলটিতে! আর্জেন্টিনা কিংবা জার্মার চেয়েও শক্তিশালি মিডফিল্ড যদি কোনো দলের থাকে তো সেটি হচ্ছে ক্রোয়েশিয়া। বিশ্বসেরা দুই ক্লাব বার্সেলোনা এবং রিয়াল মাদ্রিদের দুই সেরা মিডফিল্ডার হচ্ছেন ইভান র্যাকিটিক এবং লুকা মদ্রিচ। যারা দু’জনই ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলার। সঙ্গে মাতেও কোভাচিচ, ইভান পেরিসিকের মত মিডফিল্ডার রয়েছেন এই দলটিতে। মিডফিল্ড যাদের যত বেশি শক্তিশালী, দলটাও তত শক্তিশালী।

শুধু মিডফিল্ড, আক্রমণেও রয়েছেন সেরা তারকা। জুভেন্টাসের মারিও মানজুকিক, এসি মিলানের নিকোলা কালিনিকরা রয়েছেন। ডিফেন্সে ডিজান লোভরেন, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের সিমে ভারসালকো, সাম্পদোরিয়ার ইভান স্ট্রিনিকরা রয়েছেন। ক্রোয়েশিয়াকে যদি কেউ বিশ্বকাপের ফেবারিট বলে সার্টিফিকেট দিয়ে দেয়, তাহলে সেটা মোটেও ভুল হবে না। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জন্য দারুণ সমস্যা তৈরি করতে পারে জ্লাটকো ডালিকের শিষ্যরা।

ফুটবল আকাশে ক্রোয়েশিয়ার উদয় যেন ধুমকেতুর ন্যায়। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে প্রথমবার এসেই সেমিফাইনাল খেলেছিল পূর্ব ইউরোপের দেশটি। ডেভর সুকার জিতেছিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতা গোল্ডেন বুটের পুরস্কার। ক্রোয়েশিয়ার হঠাৎ এই উত্থানে হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন অনেক ফুটবলবোদ্ধা। ১৯৯১ সালে পূর্ব ইউরোপে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে নতুন স্বাধীনতা পাওয়া ক্রোয়েশিয়াকে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের আগেও বাংলাদেশের মানুষ চিনতো না বললেই চলে।

কিন্তু এই এক বিশ্বকাপের বিশ্ববাসী জেনেছে ক্রোয়েশিয়া নামেও একটি দেশ আছে। তবে হ্যালির ধুমকেতুর মতো হঠাৎ উদয় হয়ে আবার যেনো হারিয়ে গিয়েছিল দেশটি। ফিফা র্যাংকিংয়ে বরাবরই উপরের দিকে অবস্থান। কিন্তু মাঠের খেলায় উজ্জ্বল না হলেও বিশ্বকাপে অন্যতম শক্তিশালী একটি দল হিসেবেই পরিচিত ক্রোয়াটরা।

মূলত ১৯৪৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত যুগোস্লোভিয়ার অংশ হিসেবেই খেলতে হয়েছে ক্রোয়েশিয়াকে। যুগোস্লোভিয়া থেকে স্বাধীনতা অর্জনের কিছুকাল আগেই ক্রোয়েশিয়া জাতীয় দল গড়ে ওঠে ১৯৯১ সালে। ১৯৯৩ সালে লাভ করে উয়েফা এবং ফিফার সদস্যপদ। এরপর ১৯৯৬ সালে ইউরো চ্যাম্পিওয়নশিপে প্রথম কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেয় দেশটি। বিশ্বকাপে অভিষেক ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সে এবং অভিষেকেই বাজিমাত। সেমিফাইনালে খেলার পর তারা বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে হয়েছে তৃতীয়। ২০১০ সালে র্যাংকিংয়ের শীর্ষ দশের মধ্যে থাকলেও বিশ্বকাপ খেলতে পারেনি। ২০১৪ বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে প্লে-অফ খেলে ব্রাজিলের টিকিট কাটতে হয়েছিল তাদেরকে। রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনের জন্যও তাদের খেলতে হয়েছিল প্লে-অফ। তাদেরকে পেছনে ফেলে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে আইসল্যান্ড। প্লে-অফে গ্রিসকে ৪-১ গোলে হারিয়ে নাম লেখায় রাশিয়া বিশ্বকাপে।

স্বাধীন ক্রোয়েশিয়া দল গঠন করার পর এত দ্রুত দলটির উত্থান ঘটেছে যে, ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত তাদের বলা হতো ‘বেস্ট মোভার অব দ্য ইয়ার।’ কলম্বিয়ার পর দ্বিতীয় দল হিসেবে ফিফার দেয়া এই খেতাব জিতেছে শুধু ক্রোয়েশিয়াই। এর কারণ, ফিফা র্যাংকিংয়ে ক্রোয়েশিয়া ছিল ১২৫তম স্থানে। চার বছরের ব্যবধানে এই দলটিই র্যাংকিংয়ে দখল করে নিয়েছিল তৃতীয় স্থান।

১৮৭৩ সালে ক্রোয়েশিয়ান শহর রাইজেকা ও জুপাঞ্জার শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ করতেন ইংরেজরা। তাদের মাধ্যমেই ক্রোয়াট অঞ্চলে প্রথম ফুটবলের পরিচিত ঘটে। ১৮৯৬ সাল থেকেই মূলতঃ দেশটিতে ফুটবলের ব্যাপক প্রচলন শুরু হয়। ১৯০৭ সালে এসে প্রথম ফুটবল ক্লাব গড়ে ওঠে এবং আধুনিক ফুটবলের নিয়ম-কানুন প্রকাশ করা হয়।

এরপর দুটো বিশ্বযুদ্ধসহ নানা রাজনৈতিক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ১৯৯১ সালে নতুন করে পথ চলা শুরু করে ক্রোয়েশিয়ান ফুটবল। ১৯৯৬ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ থেকেই মূলতঃ ক্রোয়শিয়ার সোনালি প্রজন্ম গড়ে ওঠে এবং এ দলটিই ইউরোপ কাঁপাতে শুরু করে। যদিও এর পর গতানুগতিক প্রক্রিয়াতেই চলছে ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল। ২০১২ সালে এসে দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের দায়িত্বে আসেন সর্বোচ্চ গোলদাতা ডেভর সুকার। এরপরই ক্রোশিয়ান ফুটবলের পালে আবার হাওয়া লাগতে শুরু করে। বেশ কিছু ফুটবলার নিজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ইউরোপের সেরা লিগগুলোতে নিজেদের আসন তৈরি করে নেয়।

২০১০ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেনি। এক আসর অনুপস্থিত থাকার পর ২০১৪ বিশ্বকাপে আবারও ফিরে আসে তারা। যদিও প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিতে হয় ব্রাজিল এবং মেক্সিকোর কাছে হেরে। সেবার লুকা মদ্রিচ আর ইভান র্যাকিটিকরা ছিলেন অপরিণত। চার বছরের ব্যবধানে এবার তারা অনেক বেশি পরিণত এবং নিশ্চিত- ডেভর সুকারের রেখে যাওয়া ক্রোশিয়ান ঐতিহ্য আবার তারা ফিরিয়ে আনতে পারবেন।

Player Image

লুকা মদ্রিচ

জন্ম থেকে যুদ্ধ এবং শান্তি- এমন কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিত ক্রোয়েশিয়ান তারকা লুকা মদ্রিচ। জন্ম ১৯৮৫ সালে। মাত্র ৬ বছর বয়সেই মদ্রিচ মুখোমুখি হন ক্রোয়েশিয়ান স্বাধীনতা যুদ্ধের। যুগোস্লাভিয়া থেকে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ক্রোয়েশিয়ার এই যুদ্ধ ছিল ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত। যুদ্ধের কারণে মদ্রিচদের পরিবার নিজের এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়। ঠাঁই মেলে তাদের শরনার্থী শিবিরে। তার বাবা যোগ দেন ক্রোয়াট সেনাবাহিনীতে। আর দাদা লুকাসহ পরিবারের আরও ৬ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেয় স্থানীয় সার্ব বিদ্রোহীরা।

শরনার্থী শিবিরেই সাত বছর কাটে মদ্রিচের। এই সাত বছরে নিজের শহর জাডারে এক হাজারেরও বেশি গ্রেনেড হামলা পরিচালিত হয়। যুদ্ধের ভয়াবহতা কমে আসার পর তারা আবার ফিরে আসেন নিজের শহরে। এমন ভয়াবহ যুদ্ধে আর যাই হোক, ফুটবল তো চলতে পারে না।

  • পুরো নাম : লুকা মদ্রিচ
  • জন্ম : ৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৫
  • বয়স : ৩২
  • উচ্চতা : ৫ ফিট, ৮ ইঞ্চি
  • খেলার পজিশন : মিডফিল্ডার
  • ক্রোয়েশিয়ার হয়ে : ১০৪ ম্যাচে ১২ গোল

তবে, মদ্রিচ পরে জানিয়েছিলেন, এত অল্প বয়সে তিনি যুদ্ধ সম্পর্কে কোনো কিছুই জানতেন না। এর কারণও আছে, শরনার্থী শিবিরে মদ্রিচ অনেকগুলো বন্ধু পেয়ে গিয়েছিলেন। আর তাদের পরিবারের বড়রা শিশুদেরকে এমনভাবে রেখেছিলেন, যাতে তাদের মধ্যে যুদ্ধের কোনো প্রভাবই না পড়ে।

এমনই কঠিন পরিস্থিতিতে মদ্রিচ ফুটবল খেলা শুরু করেন শরনার্থী শিবিরেই। বিশেষ করে, তারা যে হোটেলে থাকতেন, তার পার্কিং লটে। শরনার্থী শিবিরে থাকাকালীনই প্রাইমারি স্কুল এবং স্পোর্টস একাডেমিতে ভর্তি হন। বাল্যকালের কোচ ছিলেন টোমিস্লাভ ব্যাসিক। যাকে মদ্রিচ তার খেলোয়াড়ি জীবনের ‘পিতা’ হিসেবে অভিহিত করেন।

যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে নানা আর্থিক দৈন্যতার মধ্য দিয়ে কেটেছে মদ্রিচদের পরিবারের। তবে টোমিস্লাভ ব্যাসিক তাকে ছেড়ে যাননি। ট্রায়াল দেয়ার ব্যবস্থা করিয়েছিলেন বেশ কয়েকটি ক্লাবে। খুবই হালকা-পাতলা, লিকলিকে হওয়ার কারণে বেশ কয়েকটি ক্লাব মদ্রিচকে দলে নিতে অসম্মতি জানায়। তবে ইতালিতে একটি যুব টুর্নামেন্টে দারুণ পারফরম্যান্স দেখানোর কারণে টোমিস্লাভ শেষ পর্যন্ত মদ্রিচকে ডায়নামো জাগরেবের ইয়ুথ একাডেমিতে ভর্তি করানোর সুযোগ পেয়ে যান।

২০০১ সালে ১৬ বছর বয়সে ডায়নামো জাগরেভের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু হয় মদ্রিচের। ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন জাগরেবে। এর মধ্যে আবার দু’বার তিনি লোনে খেলতে যান বসনিয়া-হার্জেগোভিনার ক্লাব রিনজস্কি এবং ক্রোয়েশিয়ান ক্লাব ইন্টার জাপারেসিকে।

২০০৭-০৮ মৌসুমেই ডায়নামো জাগরেবের হয়ে নিজেকে পুরোপুরি চেনাতে শুরু করেন। সেবার দ্বিতীয়বারেরমত ক্রোয়েশিয়ান কাপ জিতে নিতে সক্ষম হয় জাগরেব। ওই সময়ই তার ওপর চোখ পড়ে বার্সেলোনা, আর্সেনাল এবং চেলসির। তবে, মদ্রিচ জানিয়ে দেন, তিনি আরও অপেক্ষা করতে চান।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব টটেনহ্যামের সঙ্গেই ব্যাটে-বলে মিলে গেলো মদ্রিচের। মাত্র ১৬.৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে ডায়নামো জাগরেব থেকে ৬ বছরের চুক্তিতে চলে আসলেন লন্ডনে। তবে টটেনহ্যামে মদ্রিচের শুরুটা হলো খুবই স্লো। কারণ, টটেনহ্যামে আসার পরই হাঁটুর ইনজুরিতে পড়ে যান তিনি।
হ্যারি রেডন্যাপ কোচ হয়ে আসার পরই মডরিচের যেন ভাগ্যটা খুলে যায়। নিজের প্রিয় পজিশন সেন্ট্রাল মিডফিল্ড কিংবা লেফট-সাইডেড মিডফিল্ডে খেলার সুযোগ পেয়ে যান। যে কারণে আর্সেনালের বিপক্ষে ৪-৪ গোলে ড্র ম্যাচে নিজের ক্যারিশম্যাটিক পারফরম্যান্স দেখান তিনি।

হ্যারি রেডন্যাপই বুঝতে পারেন, তার হাতে কী রত্ন রয়েছে। এ কারণে মদ্রিচকে ঘিরেই তিনি পার পুরো দলটি সাজিয়ে নেন এবং টটেনহ্যামের খেলার মূল কেন্দ্রবিন্দু বানিয়ে তোলেন মদ্রিচকে। ডায়নামো জাগরেবে যে পজিশনে তিনি খেলতেন, রেডন্যাপ তাকে সেই পজিশনেই সেট করে ফেলেন। মদ্রিচও যেন নিজেকে ফিরে ফেলেন নতুন করে। স্টোক সিটি, হালসিটি, এমনকি চেলসির বিপক্ষে টটেনহ্যামের ১-০ গোলে জয়েও অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রদর্শণ করেন তিনি। এমনকি চেলসির বিপক্ষে জয়সূচক গোলটিও এসেছে তার পা থেকে।

২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত লন্ডনেই কাটালেন লুকা মদ্রিচ। এ সময়ের মধ্যে নিজেকে শুধু গড়ে তুলেছেন একজন স্পেশালিস্ট মিডফিল্ডার হিসেবে। এরপরই এই ক্রোয়েশিয়ান পাড়ি জমালেন স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে। রিয়াল মাদ্রিদে তিনি ৫ বছরের জন্য নাম লেখালেন ৩০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে।

মদ্রিচের ভাগ্যটা এমনই ভালো যে, রিয়ালের হয়ে প্রথম ম্যাচেই মাঠে নেমেছিলেন বার্সার বিপক্ষে, সুপার কোপা ডি এস্পানার ফাইনালে। ওই ম্যাচ জিতেছিল রিয়াল এবং মাদ্রিদে নিজের প্রথম ম্যাচেই ট্রফি উপহার পেলেন এই ক্রোয়েশিয়ান।

২০১২-১৩ মৌসুম থেকে শুরু। পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি আর। রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডের অন্যতম আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। কার্লো আনচেলত্তির পর জিনেদিন জিদানের হাত ধরে মোট তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতলেন। সঙ্গে একটি লা লিগা শিরোপাও। এই সময়ের মধ্যে বিশ্বের সেরা মিডফিল্ডারের উপাধীটাও লেগে গেছে মদ্রিচের গায়ে। রিয়ালের নিয়মিত একাদশের সদস্য। এখনও পর্যন্ত খেলেছেন ২৫১ ম্যাচ। গোল করেছেন ১৩টি।

জাতীয় দলে ২০০৬ সালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষেই বাসেলে এক প্রীতি ম্যাচে অভিষেক। ওই ম্যাচে ক্রোয়েশিয়া জিতেছিল ৩-২ গোলের ব্যবধানে। এরপর খেলেছেন ২০০৬ বিশ্বকাপে। ২০১০ বিশ্বকাপে ছিল না ক্রোয়েশিয়া। তবে ২০০৮, ২০১২, ২০১৬ ইউরোয় খেলেছেন ক্রোয়াটদের হয়ে। ২০১৪ বিশ্বকাপে তারা খেলেছে ব্রাজিল, মেক্সিকো এবং ক্যামেরুনের বিপক্ষে।

যদিও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। ২০০৮ ইউরোয় টিম অব দ্য টুর্নামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হন। দ্বিতীয় ক্রোয়েশিয়ান হয়ে এই পুরস্কার জেতেন তিনি। ২০১৫ সালে প্রথম ক্রোয়েশিয়ান হিসেবে ফিফা বিশ্ব একাদশের সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৬ এবং ২০১৭ সালেও একই সম্মানে ভূষিত হলেন তিনি। একই সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ান ফুটবলার অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হন ৬ বার। সে সঙ্গে কিংবদন্তি ডেভর সুকারের একই উচ্চতায় উঠে এলেন তিনি।

Coach Image

জলাতকো দালিচ

জলাতকো দালিচ। ১৯৬৬ সালের ২৬ অক্টোবর সাবেক যুগোস্লাভিয়া এবং বর্তমান বসনিয়ার লিভনো শহরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পেশাদার ফুটবলে ছিলেন একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। বসনিয়ায় জন্ম নিলেও ছোট বেলা থেকে ক্রোয়েশিয়াতেই বসবাস করতে থাকেন তিনি। ১৯৮৩ সালে ক্রোয়েশিয়ার ক্লাব হাদুক স্প্লিটের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন। ক্রোয়েশিয়ার বিভিন্ন ক্লাবে খেলা এই ফুটবলার নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেশি সময় কাটিয়েছেন ক্রোয়েশিয়ার ক্লাব ভারতেকসের হয়ে। এই ক্লাবের হয়ে ১৪৪ ম্যাচ খেলে করেন ১৬টি গোল।

২০০০ সালে ফুটবলকে বিদায় জানানোর বছরেই ভারতেকস ক্লাবের সহকারী কোচের ভূমিকায় দেখা যায় তাকে। ২০০৫ সালে এই ক্লাবের প্রধান কোচ হলে ক্লাবকে ক্রোয়েশিয়ান লিগে তৃতীয় স্থানে নিয়ে আসেন। তার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে ২০০৭ সালেই তাকে ক্রোয়েশিয়ার বয়সভিত্তিক দলের সহকারী কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় দেশটির ক্লাব কর্তৃপক্ষ। ২০১১ পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালনের মাঝে রেজিকা এবং দিনামো তিরানার মত ক্লাবের কোচ ছিলেন তিনি।

২০১০ সালে যোগ দেন সৌদি আরবের ক্লাব আল ফয়াসিলিতে। দায়িত্ব নিয়ে ক্লাবের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সাফল্য এনে দেন দালিচ। সৌদি আরবের পেশাদার লিগে উন্নীত করে সৌদি আরবের বর্ষসেরা কোচের পুরস্কার জেতেন। ২০১২ সালে যোগ দেন আরেক সৌদি ক্লাব আল হিলালে। দালিচের কল্যাণে ক্লাবটি সৌদি ক্রাউন প্রিন্স কাপ জয় লাভ করে।

২০১৪ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম সেরা ক্লাব আল এইনে যোগ দিয়ে সাফলু দেখতে শুরু করেন দালিচ। আল এনের হয়ে ইউএই প্রেসিডেন্ট’স কাপ, এরাবিয়ান গালফ লিগ, এরাবিয়ান গলস সুপার কাপ জেতেন। ২০১৬ সালের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জেনবুক হুন্ডাই মটর্সের কাছে হেরে রানার্সআপ হয় দলটি।

২০১৭ সালের অক্টোবর মাসেই তাকে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় ক্রোয়েশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। তার অধীনে ক্রোয়েশিয়া বিশ্বকাপের প্লে অফে সুযোগ করে নেয়। সেখানে তারা গ্রিসকে হারিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়। বিশ্বকাপে সুযোগ করে নেওয়ার জন্য ২০২০ সাল পর্যন্ত তার চুক্তি বাড়িয়েছে ক্রোয়েশিয়া।

ক্রোশিয়ার ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত দল

গোলরক্ষক : ড্যানিয়েল সুবাসিচ, লভরে কালিনিচ, ডমিনিক লিভাকভিচ।

ডিফেন্ডার : সিমে ভ্রাসালকো, ইভান স্ট্রিনিচ, ভেদরান করলুকা, ডেজান লভরেন, টিন ইয়েদভাজ, দুয়ে সালেতা সার, ডোমাগজ ভিদা, ইয়সিপ পিভারিচ।

মিডফিল্ডার : লুকা মদ্রিচ (অধিনায়ক), ইভান রাকিটিচ, মাতেও কোভাচিচ, মারসেলো ব্রজোভিচ, ফিলিপ ব্রাদারিচ, মিলান বাদেলজ।

ফরোয়ার্ড : মারিও মানজুকিচ, ইভান পেরেসিচ, আন্দ্রে ক্রামারিচ, নিকোলা কালিনিচ, মারকো জাকা, আনতে রেবিক।

ক্রোয়েশিয়া

প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ
২ এপ্রিল, ১৯৪০, জাগরেব, ক্রোয়েশিয়া
ক্রোয়েশিয়া ৪ : ০ সুইজারল্যান্ড

আধুনিক ক্রোয়েশিয়া
১৭ অক্টোবর, ১৯৯০, জাগরেব, ক্রোয়েশিয়া
ক্রোয়েশিয়া ২ : ১ যুক্তরাষ্ট্র

সবচেয়ে বড় জয়
৪ জুন, ২০১৬, রাইজেকা, ক্রোয়েশিয়া
ক্রোয়েশিয়া ১০ : ০ সান মারিনো

সবচেয়ে বড় হার
৫ এপ্রিল, ১৯৪২, জেনোয়া, ইতালি
ইতালি ৪ : ০ ক্রোয়েশিয়া

৯ সেপ্টেম্বর, ২০০৯, লন্ডন
ইংল্যান্ড ৫ : ১ ক্রোয়েশিয়া

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ : এবার নিয়ে ৫ বার, সর্বোচ্চ ফল : সেমিফাইনাল (তৃতীয়, ১৯৯৮)
ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ : ৫বার, সর্বোচ্চ ফল : কোয়ার্টার ফাইনাল (১৯৯৬, ২০০৮)।
সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা খেলোয়াড় : দারিহো সরনা (১৩৪ ম্যাচ)।
সর্বোচ্চ গোলদাতা : ডেভর সুকার (৪৫)।

যেভাবে রাশিয়া বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করলো ক্রোয়েশিয়া

ক্রোয়েশিয়া ২-০ আইসল্যান্ড
ক্রোয়েশিয়া ১-০ ইউক্রেন
ক্রোয়েশিয়া ১-১ তুরস্ক
ক্রোয়েশিয়া ১-১ ফিনল্যান্ড
ক্রোয়েশিয়া ১-০ কসোভো
আইসল্যান্ড ১-০ ক্রোয়েশিয়া
ইউক্রেন ০-২ ক্রোয়েশিয়া
তুরস্ক ১-০ ক্রোয়েশিয়া
ফিনল্যান্ড ০-১ ক্রোয়েশিয়া
কসোভো ০-৬ ক্রোয়েশিয়া
ক্রোয়েশিয়া ৪-১ গ্রীস (প্লে-অফ)

বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের পয়েণ্ট টেবিল

অবস্থান

দল

ম্যাচ

জয়

ড্র

পরাজয়

গোল পার্থক্য

পয়েন্ট

আইসল্যান্ড

১০

  ১

+৯

২২

ক্রোয়েশিয়া

১০

+১১

২০

ইউক্রেন

১০

+৪

১৭

তুরস্ক

১০

+১

১৫

ফিনল্যান্ড

১০

−৪

কসোভো

১০

−২১

 

সময়সূচি

১৬ জুন, ২০১৮, ০১:০০ এএম

গ্রুপ ডি , কালিনিনগ্রাদ স্টেডিয়াম

ক্রোয়েশিয়া ক্রোয়েশিয়া ২ - ০ নাইজেরিয়া নাইজেরিয়া

ম্যাচ রিপোর্ট
২১ জুন, ২০১৮, ১২:০০ এএম

গ্রুপ ডি , নিঝনি নভগোরদ স্টেডিয়াম

আর্জেন্টিনা আর্জেন্টিনা ০ - ৩ ক্রোয়েশিয়া ক্রোয়েশিয়া

ম্যাচ রিপোর্ট
২৬ জুন, ২০১৮, ১২:০০ এএম

গ্রুপ ডি , রোস্তভ এরেনা

আইসল্যান্ড আইসল্যান্ড ১ - ২ ক্রোয়েশিয়া ক্রোয়েশিয়া

ম্যাচ রিপোর্ট
০১ জুলাই, ২০১৮, ১২:০০ এএম

গ্রুপ , নিঝনি নভগোরদ স্টেডিয়াম

ক্রোয়েশিয়া ক্রোয়েশিয়া ১ (৩) - (২) ১ ডেনমার্ক ডেনমার্ক

ম্যাচ রিপোর্ট
০৭ জুলাই, ২০১৮, ১২:০০ এএম

গ্রুপ , ফিশ্ট স্টেডিয়াম

রাশিয়া রাশিয়া ২ (৩) - (৪) ২ ক্রোয়েশিয়া ক্রোয়েশিয়া

ম্যাচ রিপোর্ট
১১ জুলাই, ২০১৮, ১২:০০ এএম

গ্রুপ , লুঝনিকি স্টেডিয়াম

ক্রোয়েশিয়া ক্রোয়েশিয়া ২ - ১ ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড

ম্যাচ রিপোর্ট
১৫ জুলাই, ২০১৮, ০৯:০০ পিএম

গ্রুপ , লুঝনিকি স্টেডিয়াম

ফ্রান্স ফ্রান্স ৪ - ২ ক্রোয়েশিয়া ক্রোয়েশিয়া

ম্যাচ রিপোর্ট

আরও

পৃথিবীর ৩৫০ কোটি মানুষের বিশ্বকাপ দেখার রেকর্ড

পৃথিবীর ৩৫০ কোটি মানুষের বিশ্বকাপ দেখার রেকর্ড

বিশ্বকাপ ফুটবলকে বলা হয় ‘গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থ’। কেন বিশ্বকাপকে এই...

মাঠে ফুটবলাররা বারবার কুলি করেন কেন?

মাঠে ফুটবলাররা বারবার কুলি করেন কেন?

ফুটবলাররা যে তরল বস্তু কুলি করে ফেলছেন তা আসলে পানি নয়, সেসব...

জাগো নিউজ-গুডলাক বিশ্বকাপ কুইজের পুরস্কার বিতরণ

জাগো নিউজ-গুডলাক বিশ্বকাপ কুইজের পুরস্কার বিতরণ

রাশিয়া বিশ্বকাপের জমজমাট আসর শেষ হয়েছে কিছুদিন আগে। তবে বিশ্বকাপের আমেজ এখনও...

‘বিশ্বকাপে জার্মানির বিপর্যয়ের কারণ ওজিল নয়’

‘বিশ্বকাপে জার্মানির বিপর্যয়ের কারণ ওজিল নয়’

বিশ্বকাপের ইতিহাসে একবারই মাত্র প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল জার্মানিকে। সেই...