ডেনমার্ক

Team Image

বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে ডেনমার্কের গ্রুপে ছিল পোল্যান্ড, মন্টেনেগ্রো, রোমানিয়া, আর্মেনিয়া এবং কাজাখস্তান। ইউরোপিয়ান অঞ্চলে ‘ই’ গ্রুপে যদিও সেরা হতে পারেনি ডেনিশরা। থাকতে হয়েছে পোল্যান্ডের পেছনে। ২৫ পয়েন্ট নিয়ে পোল্যান্ড সরাসরি বিশ্বকাপে। ২০ পয়েন্ট নিয়ে প্লে-অফের জন্য পরের রাউন্ডে যেতে হয় ডেনমার্ককে। যেখানে রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হতে হয় ডেনমার্ককে। প্লে-অফে নিজেদের মাঠে গোলশূন্য ড্র করলেও অ্যাওয়ে ম্যাচে গিয়ে ৫-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে জিতে রাশিয়া বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় ডেনিশরা।

২০১০ সালে বিশ্বকাপে খেলার পর ২০১৪ বিশ্বকাপে অনুপস্থিত ছিল ডেনমার্ক। এবার ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেনদের দুর্দান্ত সাফল্যে আবারও বিশ্বকাপে ঠাঁই করে নেয় স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি। বিশ্বকাপে সি গ্রুপে ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া এবং পেরুর বিপক্ষে লড়াই করতে হবে পেরুকে।

ফুটবল ঐতিহ্য ডেনমার্কের বেশ পুরনো। ফিফা গঠনের আগে থেকেই ডেনিশদের কাছে ফুটবল জনপ্রিয়। ১৯০০ সাল থেকে অলিম্পিকে ফুটবল চালু হলেও ১৯০০ এবং ১৯০৪ অলিম্পিকে ডেনমার্কের কোনো ক্লাব ছিল না। ১৯০৬ সালে এথেন্স অলিম্পিকের ফুটবলে যে চারটি দল অংশ নিয়েছিল তার মধ্যে একমাত্র ডেনমার্কই ছিল জাতীয় দল। সেবার ডেনিশরা জিতেছিল রৌপ্য পদক। ১৯০৮ সাল থেকে অলিম্পিকে জাতীয় ফুটবল দলগুলোর অংশগ্রহণ। পরের অলিম্পিকেই ১৯১২ সালেও ডেনমার্ক জিতে নেয় রৌপ্য পদক। ডেনমার্কের সোনালি যুগ ছিল সেটা। এলো র‌্যাংকিংয়ে (তখনও ফিফা র‌্যাংকিং চালু হয়নি) ১৯১২ থেকে ১৯২০ পর্যন্ত ডেনমার্র্ক থাকতো প্রায়ই এক নম্বরে।

ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই বলতে গেলে ডেনমার্কের সোনালি যুগের শুরু। তবুও ডেনিশ ফুটবল ফেডারেশন তাদের জাতীয় দলকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পাঠাতে পারেনি। কারণ, অর্থনৈতিক সমস্যা। শুধুমাত্র কিছু প্রীতি ম্যাচ এবং আঞ্চলিক টুর্নামেন্টে খেলার জন্য দল পাঠাতে সক্ষম হয় তারা। এমনকি অলিম্পিকে পর্যন্ত খেলতে যেতে দিতে পারেনি তাদের দলকে। ১৯৪৮ অলিম্পিকে খেলার জন্য তাদের দলকে অনুমতি দেয় ডেনমার্ক ফুটবল ফেডারেশন। ১৯৫৪ বিশ্বকাপের আগে তারা বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে পর্যন্ত অংশ নেয়নি। ১৯৫৪ সালে বাছাই পর্বে অংশ নিলেও খেলতে পারেনি।

১৯৬২ বিশ্বকাপেও অংশ নেয়নি। বাকিগুলোর বাছাই পর্বে অংশ নিলেও প্রথম বিশ্বকাপ খেলার জন্য ডেনমার্ককে অপেক্ষা করতে হয় ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত। প্রথম বিশ্বকাপেই চমক দেখায় ডেনিশরা। প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে দেয় তারা। পরের ম্যাচে তো উরুগুয়েতে উড়িয়ে দিয়েছিল তারা। জিতেছে ৬-১ গোলে। তৃতীয় ম্যাচে পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়েছে ২-০ গোলে। ৩ ম্যাচের সবকটিতে জিতে উঠে গিয়েছিল দ্বিতীয় রাউন্ডে। যেখানে স্পেনের মুখোমুখি হয়ে ৫-১ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের।

১৯৯২ ইউরোয় এসে নিজেদের ইতিহাসে সেরা সাফল্যটা পেয়ে যায় ডেনমার্ক। সেমিফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে হারানোর পর ফাইনালে তারা ২-০ গোলে হারিয়ে দেয় তখনকার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারেরমত অংশ নেয় তারা। সেবার তারা খেলে কোয়ার্টার ফাইনালে। ২০০২ বিশ্বকাপেও অংশ নেয় ডেনিসরা। খেলে দ্বিতীয় রাউন্ডে। ২০০৬ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। খেলেছে ২০১০ বিশ্বকাপে। বিদায় নিয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকে।

নরওয়েজিয়ান কোচ অ্যাজ ফ্রিডজফ হ্যারেইডির অধীনে এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে ডেনমার্ক। দলে রয়েছে টটেনহ্যামের তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন। সেভিয়ার ডিফেন্ডার সিমোন জায়ের, রিয়াল বেটিসের ডিফেন্ডার রিজা ডুরমিসি, উদিনেসের জেনস স্ট্রেইগার লারসেন, কোপেনহেগেনের মিডফিল্ডার উইলিয়াম ভিস্ট, সেল্টা ভিগোর পিওনে সিসটো, রোজেনবার্গের স্ট্রাইকার নিকোলাস বেন্ডনার, ফেয়েনুরডের নিকোলাস জোর্গেনসেনরা রয়েছেন শক্তিশালী ডেনমার্ক দলে।

Player Image

ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন

২০১৪ বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি ডেনমার্ক। কিন্তু ২০১৮ বিশ্বকাপ ডেনমার্ক আর মিস করেনি ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেনের মত ফুটবলার থাকার কারণে। বাছাই পর্বে পোল্যান্ড, রোমানিয়ার সঙ্গে পড়েছিল ডেনমার্ক। তবে প্লে-অফ খেলতে হয়েছিল তাদের। রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে প্রথম পর্বে গোলশূন্য ড্র থাকলেও ফিরতি পর্বে এরিকসেনের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে ৫-১ গোলে জয় নিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপে নাম লেখায় ডেনিশরা।

প্লে-অফে হ্যাটট্রিকসহ বাছাই পর্বে এরিকসেনের গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১১টি। তার ওপর ছিলেন কেবল রবার্ট লেওয়ানডস্কি (১৬) এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (১৫টি)। ২০১০ বিশ্বকাপও খেলেছিলেন এরিকসেন। সেবার ডেনমার্কের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়ে রেকর্ডও গড়ে ফেলেছিলেন তিনি, হয়েছিলেন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবলার।

  • পুরো নাম : ক্রিশ্চিয়ান ড্যানমেন এরিকসেন
  • জন্ম : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯২
  • বয়স : ২৬
  • উচ্চতা : ৬ ফিট
  • পজিশন : অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার
  • ডেনমার্কের হয়ে : ৭৭ ম্যাচে ২১ গোল

ফুটবল হাতে নিয়েই যেন পৃথিবীতে এসেছিলেন তিনি। যে কারণে মাত্র তৃতীয় জন্মদিন পালন করার আগেই ফুটবলে যাত্রা শুরু ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেনের। ডেনমার্কের মাঝামাঝি দ্বীপ মিডলপার্টে জন্ম তার। নিজের শহরের হয়ে খেলাটা শুরু করলেও ২০০৫ সালে এসে যোগ দেন ওডেনসি বোল্ডক্লাবে, যারা ডেনিশ ইয়থ চ্যাম্পিয়নশিপে লড়াই করে। নিজের প্রথম বছরেই ওডেনসিকে সেমিফাইনালে তোলেন। ফাইনাল খেলতে না পারলেও এরিকসেন নির্বাচিত হন টুর্নামেন্টের সেরা টেকনিক্যাল খেলোয়াড় হিসেবে।

পরের বছরই ক্লাবকে শিরোপা এনে দেন এরিকসেন। ফাইনালে তার গোলেই শিরোপা ঘরে তুলে নেয় ওডেনসি। ক্লাবের হয়ে অনুর্ধ্ব-১৬, ১৭ এবং ১৮ দলে খেলার কারণে বার্সেলোনা, চেলসি, রিয়াল মাদ্রিদ থেকে শুরু করে উইরোপের অনেক বড় বড় ক্লাবও এরিকসেনকে প্রস্তাব দিয়েছিল তাদের ক্লাবে গিয়ে ট্রায়াল দেয়ার জন্য; কিন্তু শেষ পর্যন্ত এরিকসেন বেছে নিলেন নেদারল্যান্ডসকে। ডাচ ক্লাব আয়াক্সের যুব একাডেমিতে ভর্তি হয়ে গেলেন তিনি। এরিকসেনের মন্তব্য ছিল, ক্যারিয়ারের শুরুতেই চাই না লম্বা পদক্ষেপ দিয়ে ফেলতে। ধীরে ধীরে এগোনোটাই হবে সবচেয়ে ভালো।

২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত এরিকসেন ছিলেন আয়াক্সের ইয়থ একাডেমির খেলোয়াড়। এরপর ২০১০ সালে খেলেন আয়াক্সের সিনিয়র দলে। ২০১০ থেকে ২০১৩ সালকে এরিকসেনের জন্য বলা হচ্ছে উত্থানের বছর। এই তিন মৌসুমেই নিজের জাত পুরোপুরিভাবে চিনিয়েছেন এই ডেনিশ ফুটবলার। সিনিয়র দলের হয়ে খেলা শুরুর বছরই, ডিসেম্বওে তিনি নির্বাচিত হন ডেনিশ ট্যালেন্ট অব দ্য ইয়ারে। একের পর এক গোল করা, খেলা তৈরি করে দেয়া এবং গোলে অ্যাসিস্ট- আয়াক্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত হন এরিকসেন।

ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেনের দুর্দান্ত সাফল্যেই কেবল ২০১০-১১ মৌসুমে এসে সাত বছর পর ডাচ প্রিমিয়ার লিগ আরডিভাইজের ট্রফি ঘরে তুলে নেয় আয়াক্স। সেবারই তিনি নির্বাচিত হন আয়াক্সের ট্যালেন্ট অব দ্য ইয়ারে। ২০১১ সালে নির্বাচিত হন ডাচ ফুটবল ট্যালেন্ট অব দ্য ইয়ার হিসেবে। ১৯৯৬ সালে জন ঢাল টমাসনের পর দ্বিতীয় ডেনিস ফুটবলার হিসেবে জিতলেন এই শিরোপাটি।

ইয়োহান ক্রুয়েফের মত কিংবদন্তি ফুটবলারের নেতৃত্বে জুরি বোর্ড তাকে ট্যালেন্ট অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত করেছিল। ক্রুয়েফ এরিকসেন সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, ‘সে এমন এক খেলোয়াড়, যাকে সত্যি সত্যি আমি আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে পছন্দ করি। এই পুরস্কারটা দিয়ে তো সে কেবল ক্যারিয়ার শুরু করেছে। এটাই তার সারাজীবনের সব অর্জনের উদ্দীপক হিসেবে কাজ করবে।’

২০১১ সালে ডায়নামো জাগরেবের বিপক্ষে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও গোল করেছিলেন এরিকসেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে তিনি দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ট ফুটবলার হিসেবে ঢুকে গেলেন গোলদাতাদের তালিকায়। ২০১৩ সালেই তিনি নির্বাচিত হলেন ডেনিশ ফুটবলার অব দ্য ইয়ারে। একই সঙ্গে টানা তিন মৌসুমে আয়াক্সকে ডাচ লিগের শিরোপা উপহার দেয়ার পর আয়াক্সের সঙ্গে সম্পর্কটা আর ধরে রাখতে চাননি এরিকসেন। তিনি নিজেই চাননি চুক্তি নবায়ন করতে। ক্লাব থেকেও বলে দেয়া হয়, নতুন ক্লাব খুঁজে নিতে। এরপরই টটেনহ্যামের সঙ্গে চুক্তি হয়ে যায় এরিকসেনের। ১১৩ ম্যাচ খেলে ২৫ গোল করে আয়াক্স থেকে বিদায় নিয়ে তিনি যোগ দেন ইংলিশ ক্লাব টটেনহ্যামে।

২০১৩ সাল থেকে শুরু করে এখনও পর্যন্ত খেলে যাচ্ছেন টটেনহ্যামে। খেলেছেন মোট ১৬৬টি ম্যাচ। গোল করেছেন ৪১টি। টটেনহ্যামের হয়ে অভিষেকেই নজর কাড়েন সবার। কোচ আন্দ্রে ভিলাস বোয়াস তার খেলা দেখে মন্তব্য করেছিলেন, ‘এটা ছিল ক্রিশ্চিয়ানের জন গ্রেট অভিষেক। সে সত্যিকারের নাম্বার টেন। একজন ক্রিয়েটিভ প্লেয়ার এবং ব্যক্তিগতভাবে দারুণ একজন প্রতিভাবান ফুটবলার। যেটা অন্যদের চেয়ে তাকে ভিন্ন খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে।’

Coach Image

আগ হারেইদে

আগ হারেইদে। ১৯৫৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর নরওয়ের হারেইদ শহরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পেশাদার ফুটবলে তিনি ছলেন একজন ডিফেন্ডার। শহরের নাম অনুসারে তার নাম রাখা হয় হারেইদে ১৯৭০ সালে ডিফেন্ডার হিসেবে যোগ দেন নরওয়ের ক্লাব হডে। সেখানে ৩৭ ম্যাচ খেলে যোগ দেন আরেক নরওয়াইন ক্লাব মলদেতে। ১৯৭৫-৮১ পর্যন্ত এই ক্লাবের হয়ে ৯৩ ম্যাচে করেছেন ২১ গোল। তারপরেই যোগ দেন ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটি ক্লাবে।

সিটির হয়ে এক মৌসুমে ২৪ ম্যাচ খেলে ক্লাবকে বিদায় জানিয়ে আরেক ইংলিশ ক্লাব নরউইচ সিটিতে নাম লেখান এই ডিফেন্ডার। ১৯৮৭ সালে মলদের হয়ে ক্যারিয়ারের ইতি টানে বর্ষীয়ান এই ফুটবলার। ক্লাব ক্যারিয়ারে ডিফেন্ডার হয়েও ২৬৬ ম্যাচে ৩৫ গোল করেন তিনি। ক্লাবের পাশাপাশি জাতীয় দলেও ছিল তার পদাঙ্ক। নরওয়ে জাতীয় দলের হয়ে ৫০ ম্যাচে ৫ গোল করে ১৯৮৬ সালে দলকে বিদায় জানিয়ে নেমে পড়েন কোচিং পেশায়।

১৯৮৫-৯৭ পর্যন্ত নরওয়াইন ক্লাব মলদের হয়ে কোচের দায়িত্ব পালন করে ১৯৯৪ সালে জেতেন নরওয়ের ফুটবল কাপ। ২০০৩ সালে নরওয়ে জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হওয়ার আগে রসেনবার্গ এবং ব্রান্ডবাইর হয়ে দুই মৌসুম কোচ হিসেবে বিভিন্ন লিগ কাঁপিয়েছেন সাবেক এই ডিফেন্ডার। পাঁচ বছরের নরওয়ে অধ্যায়ে দলকে কোন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টেই নিতে পারেন নি তিনি ২০১০ বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব খুব বাজে ভাবে শুরু করার কারণে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরেই নরওয়ের কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করেন হারেইদে।

২০০৯ সালে সুইডিশ ক্লাব ভাইকিংস এফকের প্রধান কোচ হিসেবে তার নাম প্রকাশ করে ক্লাবটি। তার অধীনে তিন মৌসুমে ক্লাবটি যথাক্রমে ৯ম, ১১তম ,১০ম অবস্থানে থেকে লিগ শেষ করলে বিদায় ঘন্টা বেজে যায় তার। ২০১৪ সালে সুইডেনের শীর্ষ ক্লাব মালমো এফএফ ক্লাবে যোগ দিয়েই দলটিকে করেন লিগ চ্যাম্পিয়ন পাশাপাশি ক্লাবটিকে প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জায়গা করে নিতেও সামনে থেকে ভূমিকা রাখেন।

২০১৫ সালে তাকে প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় ডেনমার্ক ফুটবল ফেডারেশন। তার অধীনেই ২০১৭ সালেই বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দ্বিতীয় হয়ে প্লে অফে সুযোগ করে নেয় ডেনমার্ক। সেখানে আয়ারল্যান্ডকে ৫-১ গোলে হারিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় ডেনমার্ক।

ডেনমার্কের ২৩ সদস্যের মূল দল

গোলরক্ষক : ফ্রেডেরিক রোনো, জোনাস লোসল এবং ক্যাসপার স্মেইচেল।

ডিফেন্ডার : জ্যানিক ভেস্তেরগার্ড, সিমন কেইয়ার (অধিনায়ক), জোনাস নুডসেন, আন্দ্রেস ক্রিস্টেনসেন, ম্যাথিয়াস জার্গেনসেন, হেনরিক ডালসগার্ড, জেন্স স্ট্রেইগার লারসেন।

মিডফিল্ডার : মাইকেল ক্রন-দেলি, উইলিয়াম ভিতভেদ কেভিস্ট, থমাস ডেলানি, ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন, লুকাস লেরাগার, ল্যাস স্কোনে।

স্ট্রাইকার : নিকোলাই জারগেনসেন, মার্টিন ব্র্যাথওয়েট, ক্যাসপার ডলবার্গ, ভিক্টর ফিসচার, ইউসুফ ইউরারি পউলসেন, আন্দ্রেস কর্নেলাস, পিওনে সিস্তো।

ডেনমার্ক

প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ
১৯ অক্টোবর, ১৯০৮, লন্ডন
ডেনমার্ক ৯ : ০ ফ্রান্স

সবচেয়ে বড় জয়
২২ অক্টোবর, ১৯০৮, লন্ডন
ডেনমার্ক ১৭ : ১ ফ্রান্স

সবচেয়ে বড় হার
১৬ মে, ১৯৩৭, ব্রেসলাউ, জার্মানি
জার্মানি ৮ : ০ ডেনমার্ক

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ : এবার নিয়ে ৫ বার, সর্বোচ্চ ফল : কোয়ার্টার ফাইনাল (১৯৯২)
ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ : ৮ বার, চ্যাম্পিয়ন : ১বার, (১৯৯২)।
ফিফা কনফেডারেশন্স কাপে অংশগ্রহণ : ১বার, চ্যাম্পিয়ন : ১ বার (১৯৯৫)।
সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা খেলোয়াড় : পিটার স্মিইচেল (১২৯ ম্যাচ)।
সর্বোচ্চ গোলদাতা : পল নেইলসন, জন ডাল টমাসন (৫২)।

যেভাবে রাশিয়া বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করলো ডেনমার্ক

ডেনমার্ক ৪-০ পোল্যান্ড
ডেনমার্ক ০-১ মন্টেনগ্রো
ডেনমার্ক ১-১ রোমানিয়া
ডেনমার্ক ১-০ আর্মেনিয়া
ডেনমার্ক ৪-১ কাজাখাস্তান
পোল্যান্ড ৩-২ ডেনমার্ক
মন্টেনগ্রো ০-১ ডেনমার্ক
রোমানিয়া ০-০ ডেনমার্ক
আর্মেনিয়া ১-৪ ডেনমার্ক
কাজাখাস্তান ১-৩ ডেনমার্ক
ডেনমার্ক ৫-১ আয়ারল্যান্ড (প্লে-অফ)

বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের পয়েণ্ট টেবিল

অবস্থান

দল

ম্যাচ

জয়

ড্র

পরাজয়

গোল পার্থক্য

পয়েন্ট

পোল্যান্ড

১০

+১৪

২৫

ডেনমার্ক

১০

+১২

২০

মন্টেনগ্রো

১০

+৮

১৬

রোমানিয়া

১০

+২

১৩

আর্মেনিয়া

১০

−১৬

কাজাখাস্তান

১০

−২০

 

সময়সূচি

১৬ জুন, ২০১৮, ১০:০০ পিএম

গ্রুপ সি , মোর্দোভিয়া স্টেডিয়াম

পেরু পেরু ০ - ১ ডেনমার্ক ডেনমার্ক

ম্যাচ রিপোর্ট
২১ জুন, ২০১৮, ০৬:০০ পিএম

গ্রুপ সি , সামারা এরেনা

ডেনমার্ক ডেনমার্ক ১ - ১ অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়া

ম্যাচ রিপোর্ট
২৬ জুন, ২০১৮, ০৮:০০ পিএম

গ্রুপ সি , লুঝনিকি স্টেডিয়াম

ডেনমার্ক ডেনমার্ক ০ - ০ ফ্রান্স ফ্রান্স

ম্যাচ রিপোর্ট
০১ জুলাই, ২০১৮, ১২:০০ এএম

গ্রুপ , নিঝনি নভগোরদ স্টেডিয়াম

ক্রোয়েশিয়া ক্রোয়েশিয়া ১ (৩) - (২) ১ ডেনমার্ক ডেনমার্ক

ম্যাচ রিপোর্ট

আরও

পৃথিবীর ৩৫০ কোটি মানুষের বিশ্বকাপ দেখার রেকর্ড

পৃথিবীর ৩৫০ কোটি মানুষের বিশ্বকাপ দেখার রেকর্ড

বিশ্বকাপ ফুটবলকে বলা হয় ‘গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থ’। কেন বিশ্বকাপকে এই...

মাঠে ফুটবলাররা বারবার কুলি করেন কেন?

মাঠে ফুটবলাররা বারবার কুলি করেন কেন?

ফুটবলাররা যে তরল বস্তু কুলি করে ফেলছেন তা আসলে পানি নয়, সেসব...

জাগো নিউজ-গুডলাক বিশ্বকাপ কুইজের পুরস্কার বিতরণ

জাগো নিউজ-গুডলাক বিশ্বকাপ কুইজের পুরস্কার বিতরণ

রাশিয়া বিশ্বকাপের জমজমাট আসর শেষ হয়েছে কিছুদিন আগে। তবে বিশ্বকাপের আমেজ এখনও...

‘বিশ্বকাপে জার্মানির বিপর্যয়ের কারণ ওজিল নয়’

‘বিশ্বকাপে জার্মানির বিপর্যয়ের কারণ ওজিল নয়’

বিশ্বকাপের ইতিহাসে একবারই মাত্র প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল জার্মানিকে। সেই...