ইংল্যান্ড

Team Image

ফুটবলের জন্মস্থান নিয়ে বিতর্ক চলছেই। কেউ বলেন চীনে, কেউ বলেন ইংল্যান্ডে। তবে, একটি বিষয় নিয়ে কারও অন্তত বিতর্ক করার সুযোগ নেই। সেটা হচ্ছে - প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ১৮৭২ সালে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা ইংল্যান্ডের ম্যাচটিকেই অফিসিয়ালি ধরা হয়ে থাকে প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ হিসেবে। দ্য ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) হচ্ছে ফুটবলের সবচেয়ে আদি সংস্থা। ১৫৪ বছর আগে, ১৮৬৩ সালে।

এত পুরনো সংগঠন এবং বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের মালিক ইংল্যান্ড। অথচ সে তুলনায় তাদের ঝুলিতে সাফল্য খুবই কম। একটি মাত্র বিশ্বকাপ। ১৯৬৬ সালে ঘরের মাঠে আয়োজক হিসেবেই বিশ্বকাপের শিরোপা তুলে ধরে ববি চার্লটন, ববি মুর এবং জিওফ হাস্টরা। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জিততে পারেনি কখনও। জয় তো দুরে থাক, ফাইনাল খেলারও যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি তারা।

প্রতিবারই বিশ্বকাপে ইংলিশরা অংশ নেয় টপ ফেবারিট হিসেবে। বিশ্বকাপে দল পাঠানোর আগে ইংলিশ মিডিয়া তাদের দলকে অভিহিত করে সোনালি প্রজন্ম হিসেবে। যদিও, আসল সোনালি প্রজন্ম কোনটা সেটা ঠিক বলা যায় না। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে শিরোপাজয়ী দলটিকে তো নিঃসন্দেহে সোনালি প্রজন্ম বলে দেয়া যায়। স্বাগতিক হওয়ার সুবিধা নিয়ে বিশ্বকাপ জয় করে নিয়েছিল যারা। এরপর ইংলিশদের বিশ্বকাপ দৌড় সর্বোচ্চ কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত। যদিও বেকহ্যাম, জেরার্ড, ল্যাম্পার্ডদের স্কোয়াডকে কেউ কেউ সোনালি প্রজন্মের নতুন সংস্করণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল; কিন্তু তারাও ভালো কিছু উপহার দিতে পারেনি শেষ পর্যন্ত।

স্কটল্যান্ডের সঙ্গেই আনুষ্ঠানিক ফুটবলে পথচলা শুরু ইংল্যান্ডের। ১৯৭০ সালের ৫ মার্চ দু’দেশের কিছু প্রতিনিধি মিলে একটি ম্যাচ খেলে। যদিও ওই ম্যাচকে অফিসিয়াল স্বীকৃতি দেয়া হয় না। যেটার আয়োজক ছিল এফএ। ফিরতি ম্যাচ খেলতে ১৮৭২ সালে স্কটল্যান্ডে যায় ইংল্যান্ড। ৩০ নভেম্বর খেলা ম্যাচটিই স্বীকৃতি পায় প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ হিসেবে।

সেই থেকে পরবর্তী ৪০ বছর চারটি বৃটিশ দেশ মিলে খেলে বৃটিশ হোম চ্যাম্পিয়নশিপ। ওই চারটি হচ্ছে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং আয়ারল্যান্ড। নাক উঁচা ইংল্যান্ড নিজেদের মধ্যে ম্যাচ ব্যাতীত বাইরে দেশগুলোর সঙ্গে ফুটবল খেলার কথা যেন চিন্তাই করত পারতো না। ১৯০৪ সালে ফিফা গঠন হওয়ার ২ বছর পর তারা আন্তর্জাতিক সংস্থাটির সদস্য হয়। ১৯০৮ সালের আগে ব্রিটেনের বাইরে খেলতে যায়নি ইংলিশরা। এমনকি নিজেদের কোনো নির্ধারিত হোম ভেন্যুও ছিল না তখন। ১৯২৩ সালে লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়াম নির্মাণ করার পর প্রথম হোম ভেন্যু পায় এফএ।

তবে ফিফার সঙ্গে শুরুতে ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরোধ ছিল তুঙ্গে। মূলতঃ সেই নাক উঁচা জাতি হওয়ার কারণেই বিশ্ব ফুটবলে ফিফার আধিপত্য মেনে নিতে পারেনি ইংলিশরা। তাদের ধারণা, ফুটবলের নিয়ন্তা মানেই এফএ। যার জের ধরে ১৯২৮ সালে ফিফা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয় ইংলিশরা। যে কারণে বিশ্বকাপের প্রথম আসরগুলোতে শুধু ইংল্যান্ডই নয়, ব্রিটিশ হোম রাষ্ট্রের কেউই যোগ দেয়নি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৬ সালে পূনরায় ফিফায় ফিরে আসে ইংলিশরা এবং শুরুর ২০ বছর পর, ১৯৫০ সালে প্রথম তারা বিশ্বকাপে অংশ নেয়। ১৯৫০ বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে গ্রুপ পর্বেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় ইংল্যান্ড। তাদের ফুটবল ইতিহাসে এই পরাজয়কে মনে করা হয় অন্যতম লজ্জাজনক পরাজয় হিসেবে।

১৯৪৯ সালে ঘরের মাঠে প্রথম বিদেশি কোনো দলের কাছে পরাজয়ের লজ্জা পায় ইংল্যান্ড। ওয়েম্বলিতে তাদেরকে হারিয়ে দেয় রিপাবলিক আয়ারল্যান্ড। ১৯৫৩ সালে ওয়েম্বলিতে হাঙ্গেরির কাছে হারে ৬-৩ গোরে। ফিরতি ম্যাচে বুদাপেস্টে গিয়ে হাঙ্গেরির কাছে হেরে আসে ৭-১ গোলে। নিজেদের ইতিহাসে ওটাই ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় পরাজয়। ১৯৫৪ বিশ্বকাপে খেলতে এসে ইংল্যান্ড প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে এবং উরুগুয়ের কাছে হেরে বিদায় নেয়। ১৯৫৮ এবং ১৯৬২ সালের বিশ্বকাপে খেলতে গিয়ে একবার গ্রুপ পর্ব আরেকবার কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেয় তারা।

১৯৬৬ বিশ্বকাপের স্বাগতিক হয়ে জিতে নেয় প্রথম এবং একমাত্র শিরোপা। যদিও সাবেক ফিফা সভাপতি হোয়াও হ্যাভেলাঞ্জ অভিযোগ তুলেছেন ১৯৬৬ এবং ১৯৭৪ বিশ্বকাপ ছিল পাতানো। যেখানে দুই স্বাগতিক ইংল্যান্ড এবং পশ্চিম জার্মানি বিশ্বকাপ জিতে নেয়।

বিশ্বকাপ জয়ের পরেরবার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে অংশ নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যেতে পেরেছিল তারা। ১৯৭৪ এবং ১৯৭৮ বিশ্বকাপে বাছাই পর্বই উতরাতে পারেনি। ১২ বছর বিরতি দিয়ে ১৯৮২ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করে নেয় ইংলিশরা। সেবারের দৌড় ছিল দ্বিতীয় রাউন্ড।

১৯৮৬ বিশ্বকাপে খেলেছিল কোয়ার্টার ফাইনাল। সেবার ম্যারাডোনার হাতের গোল এবং গোল অব দ্য সেঞ্চুরির কাছে হেরে বিদায় নেয় ইংল্যান্ড। ১৯৯০ বিশ্বকাপে উঠেছিল সেমিফাইনালে এবং চতুর্থ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতাই অর্জন করতে পারেনি। ১৯৯৮ সালে দ্বিতীয় রাউন্ড এবং ২০০২ এবং ২০০৬ বিশ্বকাপে খেলে কোয়র্টার ফাইনাল। ২০১০ সালে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে পারলেও ২০১৪ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় তারা।

এবার গ্যারেথ সাউথগেটের অধীনে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে কী করবে সেটা সময়ই বলে দেবে। তবে, ইংল্যান্ড যে এবার একেবারে তারুণ্য নির্ভর দল নিয়ে বিশ্বকাপে যাচ্ছে, সেটা সাউথগেটের স্কোয়াড ঘোষণা দেখেই বোঝা গেলো। রাশিয়া বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে এবার বলা যেতে পারে সর্বকনিষ্ট দল।

রাশিয়া বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড খেলবে জি গ্রুপে বেলজিয়াম, পানামা এবং তিউনিসিয়ার বিপক্ষে। ১৮ জুন, ভলগোগ্রাদ এরেনায় তিউনিসিয়ার বিপক্ষে শুরু হবে ইংলিশদের বিশ্বকাপ মিশন।

Player Image

হ্যারি কেইন

রাশিয়া বিশ্বকাপে ইংলিশদের নেতৃত্বের আর্মব্যান্ড বাধা থাকতে হ্যারি কেনের হাতে। কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের হাতেই বেধে দিচ্ছেন আর্মব্যান্ডটি। শুধু অধিনায়ক হিসেবেই নয়, ইংলিশদের সব আশা-ভরসার প্রতীক হয়ে রাশিয়ায় খেলতে যাচ্ছেন টটেনহ্যাম হটস্পারের এই তারকা ফুটবলার।

১৯৬৬ সালে ববি মুর, ববি চার্লটন, জিওফ হাস্টদের পর ইংলিশদের বিশ্বকাপ শিরোপা উপহার দিতে পারেনি আর কেউ। হ্যারি কেনরা পারবেন কি না জানা নেই। যদিও, তাদেরকে সম্ভাব্য ফেবারিটের তালিকায়ও রাখতে চাচ্ছে না কেউ। তবুও, যারা ইংল্যান্ডের পক্ষে বাজি ধরার সাহস পাচ্ছেন, তাদের ভরসার সবচেয়ে বড় জায়গা হচ্ছেন হ্যারি কেন। কেন নিজেও নেতৃত্ব পাওয়ার পর ঘোষণা দিয়েছেন, ‘রাশিয়া যাবো বিশ্বকাপ জয় করতেই।’

  • পুরো নাম : হ্যারি অ্যাডওয়ার্ড কেন
  • জন্ম : ২৮ জুলাই, ১৯৯৩
  • বয়স : ২৪
  • উচ্চতা : ৬ ফিট, ২ ইঞ্চি
  • খেলার পজিশন : স্ট্রাইকার
  • ইংল্যান্ডের হয়ে: ২৩ ম্যাচে ১২ গোল

টটেনহ্যাম হটস্পারের হয়ে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে যে পারফরম্যান্স তিনি দেখিয়েছেন, তাতে হ্যারিকেই রিয়ালের আগামীর তারকা মনে করছেন কেউ কেউ। যে রিয়ালকে ঘাটের পানি পান করিয়েছেন, সেই রিয়ালই হ্যারি কেনকে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে নিয়ে যাওয়ার জন্য উঠে-পড়ে লেগেছে।

লন্ডনের ওয়ালথামস্টোয় জন্মগ্রহণ করেন কেন। লন্ডনে জন্ম হলেও বাবার দিক থেকে তিনি আবার আইরিশ বংশোদ্ভূত। হ্যারি কেনের ছোট বেলাতেই তার পরিবার চলে আসে চিংফোর্ডে। সেখানেই তিনি লার্কসউড প্রাইমারি একাডেমিতে ভর্তি হন। ২০০৪ সাল পর্যন্ত ছিলেন সেখানে। স্থানীয় ক্লাব রিডগেওয়ে রোবার্সের হয়ে খেলা শুরু করেন তিনি। এরপর আট বছর বয়সেই চলে আসেন আর্সেনাল ইয়থ একাডেমিতে।

এক মৌসুম পরই কেনকে ছেড়ে দেয় আর্সেনালের ইয়থ একাডেমি। কেনকে ছেড়ে দেয়ার পর আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার খুব হতাশা প্রকাশ করেন এ নিয়ে। এরপর কেন সোজা চলে যান টটেনহ্যামের ইয়থ একাডেমিতে। সেখানে ট্রায়াল দেন তিনি। কিন্তু সফল হতে পারেননি। যে কারণে আবারও পুরনো ক্লাবে ফিরে আসেন। ২০০৪ সালে তিনি যোগ দেন ওয়ার্টফোর্ড একাডেমিতে। চার থেকে ৬ সপ্তাহের একটি ট্রায়ালে অংশ নিতে হয় তাকে। এরপর ১১ বছর বয়সে টটেনহ্যামে আবারও একটি সুযোগ পেয়ে যান ট্রায়াল দেয়ার জন্য।

টটেনহ্যামে প্রথমে মিডফিল্ডার হিসেবে ক্যারিয়ারটা শুরু করেন হ্যারি কেন। এরপর পরিণত হন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারে। দারুণ ছটফটে এক ফুটবলার ছিলেন। মাঠে নামার জন্য উদগ্রিব থাকতেন। সুযোগ পেলেই মাঠে নেমে নিজেকে চেনানোর নিরন্তন চেষ্টা থাকতো তার। ২০০৮-০৯ সেশনে তিনি টটেনহ্যামের অনুর্ধ্ব-১৬ দলের হয়ে খেলেন। যে দলটি প্রতিদ্ব›দ্বীতা করেছিল মেক্সিকোর কোপা চিভাস টুর্নামেন্টে এবং সুইজারল্যান্ডের বেলিনজোনা টুর্নামেন্টে। যেখানে তিন গোল করেছিলেন হ্যারি কেন। ২০০৯ সালে, তার ১৬তম জন্মদিনে টটেনহ্যামের স্কলারশিপ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন তিনি।

২০০৯-১০ মৌসুমে কেন টটেনহ্যাম অনুর্ধ্ব-১৮ দলের হয়ে খেলেন ২২টি ম্যাচ এবং করেন ১৮টি গোল। ২০০৯ সালেই টটেনহ্যাম সিনিয়র দলের হয়ে অভিষেক ঘটে যায় তার। ২০১০ সালে টটেনহ্যামের সঙ্গে প্রথম পেশাদার চুক্তি করলেও তিন বছর তিনি লোনে খেলেন বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে। লেইটন ওরিয়েন্ট, মিলওয়াল, নরউইচ সিটি এবং সেল্টার সিটির হয়ে তিন মৌসুম কাটানোর পর আবারও ফিরে আসেন টটেনহ্যামে।

২০১৩-১৪ মৌসুমে এসে হোয়াইট হার্ট লেনে ইংলিশ লিগ কাপে হাল সিটির বিপক্ষে টটেনহ্যাম সিনিয়র দলের হয়ে প্রথম গোল করেন। যদিও ম্যাচটি জিততে পারেনি টটেনহ্যাম। ড্র হয়েছিল ২-২ গোলে। খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। যেখানে ৮-৭ গোলে জিতেছিল কেনের ক্লাব। তিনি নিজে একটি স্পট কিক নিয়েছিলেন। ৯টি শটের ৫মটি নিয়েছিলেন তিনি এবং গোলও করেছিলেন।

২০১৪-১৫ মৌসুমে নিজেকে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসেন হ্যারি কেন। তবে, তার ক্যারিয়ারের পরিস্ফুটন ঘটে মূলত ২০১৫-১৬ মৌসুমে। সার্জিও আগুয়েরো এবং জেমি ভার্দিকে পেছনে ফেলে ২৫ গোল করে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতে নেন। তার হাতে ওঠে প্রিমিয়ার লিগের গোল্ডেন বুট। একই সঙ্গে লিগে তৃতীয় হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নাম লেখায় টটেনহ্যাম।

পরের মৌসুমেও সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার উঠলো কেনের হাতে। এবার তিনি করেছেন ২ গোল। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে ৫ম খেলোয়াড় হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার গোল্ডেন বুট জিতে নেন তিনি। নিজেকে গোলমেশিন হিসেবে পরিচিত করে তোলা হ্যারি কেনের গোলক্ষুদা কমেনি মোটেও। ২০১৭-১৮ মৌসুমেও একইভাবে গোলের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন তিনি। জানুয়ারিতেই টটেনহ্যাম কিংবদন্তি টেডি শেরিংহ্যামের ক্লাব সর্বোচ্চ ৯৭ গোলের রেকর্ড ভেঙ্গে দেন তিনি। এখনও পর্যন্ত ১০৫ গোল করেছেন তিনি টটেনহ্যামের হয়ে।

হ্যারি কেনের সবচেয়ে বড় সাফল্য মেসি-রোনালদোর সাম্রাজ্যের পতন ঘটানো। দীর্ঘদিন এই দুই ফুটবলারই এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ গোলাদাতার রেকর্ড ধরে রেখেছিলেন। ২০১৭ সালে এসে ৫৬ গোল করে মেসি-রোনালদোকে পেছনে ফেলেন তিনি। হয়ে যান এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ গোলদাতা ফুটবলার।

২০১০ সাল থেকে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের হয়ে খেলা শুরু করেন। অনুধ্ব-১৭, অনুর্ধ্ব-১৯, অনুধ্ব-২০, অনুর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে খেলেন তিনি। ২০১৫ সালে অভিষেক ঘটে সিনিয়র দলের হয়ে। সে হিসেবে এবারই প্রথম বিশ্বকাপ খেলবেন তিনি। এর আগে খেলেছেন কেবল ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের প্রায় সবগুলো ম্যাচেই খেলেছেন তিনি। মোট ২৩ ম্যাচ খেলে গোল করেছেন তিনি ১২টি।

Coach Image

গ্যারেথ সাউথগেট

গ্যারাথ সাউথগেট। ১৯৭০ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের ওয়াটফোর্ডে জন্ম নেন তিনি। ওয়াটফোর্ডে জন্ম নিলেও পেশাদার ফুটবল শুরু করেন ক্রিস্টাল প্যালেসের ইয়ুথ একাডেমীর হয়ে। রাইট এবং সেন্ট্রাল মিডফিল্ড দুই পজিশনেই পারদর্শী ছিলেন সাউথগেট। ক্রিস্টাল প্যালেসের হয়েছে ১৫২ ম্যাচ খেলা সাবেক এই ফুটবলার ১৯৯৩ সালে ক্লাবটি অধিনায়ক হন।

প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমন হলে সাউথগেটও ক্লাব ছেড়ে এস্টন ভিলায় যোগ দেন ২.৫ মিলিয়ন পাউন্ডে। প্রথম মৌসুমেই তাদের হয়ে লিগ এবং জেতার পাশাপাশি এস্টন ভিলাকে ইউরোপা লিগে খেলার সুযোগ হয় তার। ১৯৯৯-০০ মৌসুমে এস্টন ভিলার হয়ে প্রিমিয়ার লিগে প্রত্যেকটি ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। পরের মৌসুমের এফএ কাপের ফাইনালে উঠলে ইউরো কাপের শুরুর আগেই ট্রান্সফার হয়ে অন্য ক্লাবে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন তিনি।

ভিলা পার্কের পরিচালক তাকে রাখার চেষ্টা করলেও তিনি ব্যর্থ হন। ২০০১ ভিলার সাথে পাট চুকিয়ে যোগ দেন আরেক ইংলিশ ক্লাব মিডলসবার্গে। চার মৌসুমে ভিলা পার্কে ১৯২ ম্যাচ খেলে করেছেন ৭ গোল। ২০০১ সালে এই ক্লাবে যোগ দিয়ে ঐ বছরেই ক্লাবের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের খেতাব জেতেন সাউথগেট।

পরের মৌসুমে অধিনায়ক হিসেবে মিলেনিয়াম স্টেডিয়ামে লিগ কাপের ট্রফি জয় করেন তিনি। ২০০৪ সালের দিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে রিও ফার্দিনান্দের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার গুঞ্জন চাওর হলেও সেটি আর বাস্তব হয়নি। মিডলসবার্গ এবং ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি তিনি খেলেন ২০০৬ সালের ইউরোপা কাপের ফাইনালে। যেখানে সাউথগেটের দল সেভিয়ার কাছে ০-৪ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়।

ক্লাব ফুটবলের পাশাপাশি জাতীয় দলেও বেশ উজ্জ্বল ছিলেন এই ব্রিটিশ সাবেক ফুটবলার। ১৯৯৫ সালে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয় তার। ১৯৯৬ সালের ইউরো কাপের সেমিফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে পেনাল্টি শুট আউটে বাদ যায় ইংল্যান্ড। সেই শুটআউটে একমাত্র ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে পেনাল্টি মিস করেছিলেন সাউথগেট। তাছাড়া দেশের হয়ে ১৯৯৮ বিশ্বকাপ এবং ইউরো ২০০০ কাপও খেলেন তিনি। ২০০২ বিশ্বকাপে তাকে দলে না নেওয়ায় বেশ হতাশ হয়েছিলেন ইংলিশ এই ফুটবলার। ইংল্যান্ডের হয়ে ৫৭ ম্যাচে দুই গোল করে ২০০৪ সালে অবসর নেন তিনি।

ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে পুরোদস্তুর কোচ হিসেবে মিডলসবার্গের ডাগআউটে বসেন ২০০৬ সালে। প্রথম দিকে কোচিং লাইসেন্স নিয়ে ঝামেলা থাকলেও সহসাই সেটা মিটে যায়। প্রথম মৌসুমে মিডসলবার্গ প্রিমিয়ার লিগে ১২তম স্থান দখল করেন। ম্যানেজারিং অধ্যায়ে তার বড় জয়টি আসে ২০০৮ সালে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ৮-১ ব্যবধানে।

২০০৮ সালে প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমন হয়ে গেলে সমর্থকদের রোষাণলে পড়েন সাউথগেট। কিন্তু দৃঢ় প্রত্যয়ী এই ইংলিশ ম্যান ক্লাবের কাছে কথা দেন পরের মৌসুমেই ক্লাবকে আবার প্রিমিয়ার লিগে ফেরত আনবেন। কিন্ত ২০০৯ সালে চ্যাম্পিয়ন শিপে ডার্বির কাছে ২-০ গোলে হেরে লিগে ৪র্থ স্থান দখল করায় তাকে বহিষ্কার করে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

২০১৩ সালের আগসে ইংল্যান্ডের বয়সভিত্তিক দলের দায়িত্ব দেওয়া হয় সাউথগেটকে। তার অধীনে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২১ দল ইউরো অনূর্ধ্ব-২১ কাপে জায়গা করে নিলেও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় তারা। ইউরো ২০১৬ তে ব্যর্থতার পর ইংল্যান্ডের জাতীয় দলের কোচের পদ থেকে রয় হজসনকে অপসারণের পর তার স্থলাভিষিক্ত হন সাম আলার্দিস। এক ম্যাচেই বিতর্কে জড়িয়ে পদত্যাগ করেন তিনিও। তারপরেই ৩০ নভেম্বর ২০১৬ সালে সাউথগেটকে ইংল্যান্ডের প্রধান কোচের দায়িত্ব দেয় এফএ। তার অধীনে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়।

ইংল্যান্ডের ২৩ সদস্যের দল

গোলরক্ষক : জ্যাক বাটল্যান্ড, জর্ডান পিকফোর্ড, নিক পোপ।

ডিফেন্ডার : কাইল ওয়াকার, জন স্টোনস, হ্যারি ম্যাগুইরে, কেইরান ট্রিপার, ড্যানি রোজ, অ্যাশলে ইয়াং, ফিল জোনস, গ্যারি কাহিল, ফাবিয়ান ডেলফ, ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আর্নল্ড।

মিডফিল্ডার : এরিক ডায়ার, ডেলে আলি, হেসে লিনগার্ড, জর্দান হেন্ডারসন, রুবেন লফটাস-চেক।

ফরোয়ার্ড : জ্যামি ভার্ডি, মার্কস রাশফোর্ড, রাহিম স্টার্লিং, হ্যারি কেইন (অধিনায়ক), ড্যানি ওয়েলবেক।

ইংল্যান্ড

প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ
৩০ নভেম্বর, ১৮৭২, পার্টিক, স্কটল্যান্ড
স্কটল্যান্ড ০ : ০ ইংল্যান্ড

সবচেয়ে বড় জয়
৩১ জুলাই, ১৮৮২, বেলফাস্ট
ইংল্যান্ড ১৩ : ০ আয়ারল্যান্ড

সবচেয়ে বড় হার
২৩ মে, ১৯৫৪, বুদাপেস্ট, হাঙ্গেরি
হাঙ্গেরি ৭ : ১ ইংল্যান্ড

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ : এবার নিয়ে ১৫ বার, চ্যাম্পিয়ন : ১ বার (১৯৬৬)
ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ : ৯ বার, সর্বোচ্চ ফল : সেমিফাইনাল (১৯৬৮, ১৯৯৬)।
সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা খেলোয়াড় : পিটার শিলটন (১২৫ ম্যাচ)।
সর্বোচ্চ গোলদাতা : ওয়েইন রুনি (৫৩)।

যেভাবে রাশিয়া বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করলো ইংল্যান্ড
ইংল্যান্ড ২-১ স্লোভাকিয়া
ইংল্যান্ড ৩-০ স্কটল্যান্ড
ইংল্যান্ড ১-০ স্লোভেনিয়া
ইংল্যান্ড ২-০ লিথুনিয়া
ইংল্যান্ড ২-০ মাল্টা
স্লোভাকিয়া ০-১ ইংল্যান্ড
স্কটল্যান্ড ২-২ ইংল্যান্ড
স্লোভেনিয়া ০-০ ইংল্যান্ড
লিথুনিয়া ০-১ ইংল্যান্ড
মাল্টা ০-৪ ইংল্যান্ড

বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের পয়েণ্ট টেবিল

অবস্থান

দল

ম্যাচ

জয়

ড্র

পরাজয়

 গোল পার্থক্য

পয়েন্ট

ইংল্যান্ড

১০

+১৫

২৬

স্লোভাকিয়া

১০

+১০

১৮

স্কটল্যান্ড

১০

+৫

১৮

স্লোভেনিয়া

১০

+৫

১৫

লিথুনিয়া

১০

−১৩

মাল্টা

১০

−২২

 

সময়সূচি

১৮ জুন, ২০১৮, ১২:০০ এএম

গ্রুপ জি , ভলগোগ্রাদ এরেনা

তিউনিসিয়া তিউনিসিয়া ১ - ২ ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড

ম্যাচ রিপোর্ট
২৪ জুন, ২০১৮, ০৬:০০ পিএম

গ্রুপ জি , নিঝনি নভগোরদ স্টেডিয়াম

ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড ৬ - ১ পানামা পানামা

ম্যাচ রিপোর্ট
২৮ জুন, ২০১৮, ১২:০০ এএম

গ্রুপ জি , কালিনিনগ্রাদ স্টেডিয়াম

ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড ০ - ১ বেলজিয়াম বেলজিয়াম

ম্যাচ রিপোর্ট
০৩ জুলাই, ২০১৮, ১২:০০ এএম

গ্রুপ , স্পার্টাক স্টেডিয়াম

ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড ১ (৪) - (৩) ১ কলম্বিয়া কলম্বিয়া

ম্যাচ রিপোর্ট
০৭ জুলাই, ২০১৮, ০৮:০০ পিএম

গ্রুপ , সামারা এরেনা

সুইডেন সুইডেন ০ - ২ ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড

ম্যাচ রিপোর্ট
১১ জুলাই, ২০১৮, ১২:০০ এএম

গ্রুপ , লুঝনিকি স্টেডিয়াম

ক্রোয়েশিয়া ক্রোয়েশিয়া ২ - ১ ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড

ম্যাচ রিপোর্ট
১৪ জুলাই, ২০১৮, ০৮:০০ পিএম

গ্রুপ , সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়াম

বেলজিয়াম বেলজিয়াম ২ - ০ ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড

ম্যাচ রিপোর্ট

আরও

বাংলাদেশকে চাপে রাখতে ভারতের নতুন কৌশল

বাংলাদেশকে চাপে রাখতে ভারতের নতুন কৌশল

বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রথম দুই হোম ম্যাচের জন্য দুটি ভেন্যু বেছে নিয়েছিল ভারত।...

ফুটবলারদের কাতার-পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু ২৫ সেপ্টেম্বর

ফুটবলারদের কাতার-পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু ২৫ সেপ্টেম্বর

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে দেশে ফিরে ফুটবলারদের প্রায় দুই সপ্তাহ ছুটি দিয়েছেন...

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একমাত্র জয়টি ৪০ বছর আগে

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একমাত্র জয়টি ৪০ বছর আগে

কথায় আছে- শেষ ভালো যার, সব ভালো তার। মঙ্গলবার রাতে তাজিকিস্তানের দুশানবেতে...

চট্টগ্রামের পর দুশানবে, কাল আবারও আফগানদের সামনে বাংলাদেশ

চট্টগ্রামের পর দুশানবে, কাল আবারও আফগানদের সামনে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের প্রথম টেস্ট ঘিরে গত পাঁচদিন ক্রীড়ামোদীদের চোখ ছিল চট্টগ্রামে।...