ফ্রান্স

Team Image

রাশিয়া বিশ্বকাপে টপ ফেবারিট দলগুলোর একটি ফ্রান্স। ব্রাজিল, জার্মানি, স্পেনের পরই ফ্রান্সের সম্ভাবনার কথা উঠে আসছে সবার মুখে। এমনকি সবাই লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার চেয়েও এগিয়ে রেখেছে ফরাসিদের নাম। একঝাঁক তারকা ফুটবলারের সমন্বয় ঘটেছে এবারের ফ্রান্স দলটিতে।

১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক দিদিয়ের দেশমের অধীনেই এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে ফ্রান্স। আন্তোনিও গ্রিজম্যান, পল পগবা, কাইলিয়ান এমবাপে, অলিভিয়ের জিরু, লরেন্ত কোসেনলি, রাফায়েল ভারানে, উসমান ডেম্বেলে, স্যামুয়েল উমতিতি, ব্লাইজ মাতুইদি, এনগোলা কন্তে, লুকাজ ডিগনে, লুকাজ হার্নান্দেজ, হুগো লরিস- তারকার অভাব নেই ফরাসি দলটিতে। প্রতিটি পজিশনেই সেরা সেরা ফুটবলার রয়েছে ফ্রান্স দলটিতে।

এই দলটিই তো ২০১৬ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে ফাইনালে উঠে গিয়েছিল। সেবার দুর্ভাগ্য, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের কাছে হেরে শিরোপা জেতা হয়নি। না হয়, ফরাসিদের কোনো অংশেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। কী গোলরক্ষক, কী ডিফেন্স, কী মিডফিল্ড আর কী ফরোয়ার্ড লাইন- কোথাও ঘাটতি নেই ফরাসীদের। ১৫ জুলাই মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে যদি ফরাসি অধিনায়ক হুগো লরিসের হাতে শিরোপা উঠে তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

১৯৯৮ সালে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছিল ফ্রান্স। এরপর আরও একবার, ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপেও সুযোগ এসেছিল স্বপ্নের ট্রফিটি তুলে ধরার; কিন্তু সেবার তীরে এসে তরি ডুবে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী এই দলটির। ফাইনালে ইতালির কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় নীল হয় তারা।

ফাইনালে ইতালিয়ান ডিফেন্ডার মার্কো মাতেরাজ্জি জিদানকে উত্তেজিত করে না তুললে কিংবা জিদানও যদি উত্তেজিত না হয়ে মাতেরাজ্জিকে হেড বাটটি না মেরে বসতেন, তাহলে হয়তো ইতিহাস ভিন্নভাবেই লেখা হতো। অথবা ইতালির কিংবদন্তি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফন যদি জিদানদের সামনে সেবার চীনের প্রাচীরের মত দাঁড়িয়ে না থাকতেন, তাহলেও হয়তো ফরাসীদের নামের পাশে লেখা হতো ২টি বিশ্বকাপ ফুটবল শিরোপা।

জার্মানি, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলের সঙ্গে ফ্রান্স চতুর্থ দল যারা ফিফা স্বীকৃত বড় তিনটি টুর্নামেন্টেরই শিরোপা জিতেছে। বিশ্বকাপ, কনফেডারেশন্স কাপ এবং অলিম্পিক ফুটবলের স্বর্ণ পদক। ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপ, ১৯৮৪ ও ২০০০ সালের ইউরো এবং ১৯৮৪ সালের অলিম্পিক ফুটবলের স্বর্ণ জয় করে ফ্রান্স।

ইউরোপের যে চারটি দল ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল তাদের মধ্যে ফ্রান্স একটি। ৬বার বাছাই পর্ব থেকে বাদ পড়লেও ফ্রান্স মাত্র তৃতীয় দল, যারা প্রতিটি বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে হলেও অংশ নিয়েছে। যদিও ১৯৫০ বিশ্বকাপে শেষের দিকে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলেও নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছিল তারা।

১৯৫৮ বিশ্বকাপে রেমন্ড কোপা এবং জ্যাঁ ফন্তেঁর অধীনে ফ্রান্স সেমিফাইনাল খেলেছিল এবং তৃতীয় হয়েছিল সেবার। ১৯৮৪ সালে ব্যালন ডি’অর জয়ী মিশেল প্লাতিনির নেতৃত্বে ফ্রান্স প্রথম বড় কোনো সাফল্য অর্জন করে। জিতে নেয় ইউরোর শিরোপা। দিদিয়ের দেশনের নেতৃত্বে তিনবারের ফিফা বর্ষসেরা ফুটবরার জিনেদিন জিদান ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সকে এনে দেন প্রথম বিশ্বকাপের শিরোপা। দুই বছর পর, ২০০০ সালে আবারও ইউরো জেতে ফরাসিরা। ২০০১ এবং ২০০৩ ফিফা কনফেডারেশন্স কাপও জিতে নেয় ফ্রান্স। ২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে রানারআপ এবং ২০১৬ ইউরোর ফাইনালে উঠে রানারআপ হতে হয়েছে ফ্রান্সকে।

এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে সি গ্রুপে অস্ট্রেলিয়া, পেরু এবং ডেনমার্কের বিপক্ষে খেলবে ফ্রান্স। অতীতের ব্যর্থতাগুলো ভুলে, সাফল্যের খণ্ড খণ্ড স্মৃতিগুলোকে দিদিয়ের দেশমরা সামনে রাখছেন অনুপ্রেরণা হিসেবে। যেগুলো কাজে গিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপে সাফল্য খুঁজবে তারা।

Player Image

কাইলিয়ান এমবাপে

যেসব উদীয়মান তারকাদের নিয়ে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে তাদের মেধ্য এগিয়ে কাইলিয়ান এমবাপে। ফ্রান্সের এই ১৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডকে ইতোমধ্যে কেনার জন্য তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ; কিন্তু পিএসজিতেই আপাতত তাবু গেঁড়েছেন ফ্রান্সের এই তারকা ফুটবলার। মূলতঃ মোনাকোর হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুর্দান্ত পারফর্ম করেই নজরে আসেন সবার। সেখান থেকে এখন বিশ্বসেরাদের কাতারে।

এমবাপের ফুটবলে হাতেখড়ি হয় তার বাবার হাত ধরে। এস বন্ডি ক্লাবের কোচ ছিলেন তার বাবা উইলফ্রেড। সেখানে বসেই নিজের প্রতিভা বিকশিত করতে থাকেন তিনি। এমবাপেকে ১১ বছর বয়সেই রিয়াল মাদ্রিদ এবং ভ্যালেন্সিয়ার মত দল কেনার জন্য চেষ্টা করে। চেলসিতে একবার ট্রায়ালও দিয়েছিলেন তিনি। চেলসির যুব দলের হয়ে চার্ল্টনের বিপক্ষে একটি ম্যাচে অংশ নিলেও শেষ পর্যন্ত মোনাকোতে গিয়েই থিতু হন।

  • নাম: কাইলিয়ান এমবাপে লত্তিন
  • জন্ম : ২০ ডিসেম্বর, ১৯৮৮
  • বয়স : ১৯
  • উচ্চতা : ৫ ফিট, ১০ ইঞ্চি
  • পজিশন : ফরোয়ার্ড
  • ফ্রান্সের হয়ে : ১২ ম্যাচে ৩ গোল

মোনাকোর যুব দলের হয়ে ভালো পারফরম্যান্সের দরুণ সুযোগ পান মূল স্কোয়াডে। ২০১৫ সালের ২ ডিসেম্বর ফ্রেঞ্চ লিগে কায়েনের বিপক্ষে অভিষেক হয় তার। ২১ বছর আগের থিয়েরি অঁরির সবচেয়ে কম বয়সে ফ্রেঞ্চ লিগে অভিষেক হওয়ার রেকর্ড ভেঙ্গে তিনি গড়েন নতুন রেকর্ড। ২০১৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ক্লাবের হয়ে প্রথম গোলটি করেন মাত্র ১৭ বছর ৬২ দিন বয়সে। যা মোনাকোর ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার মর্যাদা এনে দেয় তাকে।

২০১৬ সালে মোনাকোর সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হন তিনি। ওই বছরের ডিসেম্বরে রেনেসের বিপক্ষে ক্লাব ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক করেন তিনি। এমবাপে মূলতঃ লাইমলাইটে আসেন মোনাকোর হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ম্যানসিটির বিপক্ষে। ম্যানসিটিকে ইত্তিহাদে ৩-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় তার দল। ওই মৌসুমে ৪৪ ম্যাচে ২৬ গোল করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেন তিনি।

২০১৭ সালের আগস্টে ৩১ তারিখে মোনাকো থেকে পিএসজিতে লোনে চলে আসেন এমবাপে। লোন হলেও মৌসুম শেষে তাকে কেনার অপশন হাতে থাকবে পিএজির। যেখানে ১৪৫ মিলিয়ন ইউরোতে তাকে কিনে নেওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয় পিএসজি, যা তাকে এনে দেই পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামী ফুটবলারের খেতাব। পিএসজিতে যোগ দিয়ে আরো শাণিত এমবাপে। নেইমার, কাভানির সঙ্গে তার যুগলবন্দী ফ্রেঞ্চ লিগ তথা ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের ভেতরেও সবচেয়ে ভয়ানক ত্রয়ীর খ্যাতি পায়। পিএসজির হয়ে এক মৌসুমেই করেন ৪৪ ম্যাচে ২১ গোল।

২০১৪ সালে সুযোগ পান ফ্রান্স অনূর্ধ্ব-১৭ দলে। সেখান থেকে ২০১৬ সালে আসেন ফ্রান্স অনূর্ধ্ব-১৭ দলে। যুব ইউরো কাপের সেমিফাইনালে পর্তুগালের বিপক্ষে অসাধারণ নৈপূণ্য দেখিয়ে ফ্রান্সকে ৩-১ গোলের জয় এনে দেন এমবাপে। ২০১৭ সালের মার্চে ডাক পান ফ্রান্স জাতীয় দলে। জাতীয় দলের হয়ে প্রথম গোলটি পান ২০১৭ সালের আগস্টে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে গোলটি করেন তিনি। বিশ্ব নন্দিত কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারের মতে, ‘প্রতিভায় টইটম্বুর’ এই ফুটবলার বিশ্বকাপের মত জ্বলে ওঠার অপেক্ষায় রয়েছেন।

Coach Image

দিদিয়ের দেশম

দিদিয়ের দেশম। ১৯৬৮ সালের ১৫ই অক্টোবর ফ্রান্সের বায়োনে জন্ম নেন দেশম। পেশাদার ফুটবলে ছিলেন একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। কিন্তু ফুটবলার হওয়ার আগে রাগবির প্রতি আসক্ত ছিলেন দেশম। আভির বায়োনাইসের হয়ে স্কুল পর্যায়ে খেলা শুরু করেন।

১৯৮৩ সালে তাকে প্রথম নজরে আনে ফ্রেঞ্চ ক্লাব নান্তেস। ১৯৮৫ সালেই নান্তেসের হয়ে ফ্রেঞ্চ লিগে অভিষেক হয় তার। ১৯৮৯ সালে যোগ দেন আরেক ফ্রেঞ্চ ক্লাব মার্শেইতে। এক মৌসুমে বোর্দোতে লোনে কাঁটিয়ে ১৯৯০ সালে আবার ফিরে আসেন এখানে। মার্শেইতে ফিরে পরপর দুটি ফ্রেঞ্চ লিগ জেতার পাশাপাশি একমাত্র ফ্রেঞ্চ ক্লাব হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় করেন ১৯৯৩ সালে।

১৯৯৪ সালে মার্শেই ছেড়ে যোগ দেন ইতালিয়ান জায়ান্ট জুভেন্টাসে। তুরিনের বুড়িদের হয়ে তিনটি ইতালিয়ান লিগ জয়ের পাশাপাশি জয় করেন একটি কোপা ইতালিয়া, দুটি ইতালিয়ান সুপার কাপ, একটি উয়েফা সুপার কাপ। জুভেন্টাসের হয়ে নিজের দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় করেন ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে। খেলোয়াড়ি জীবনে ১৯৯৫ এর পরবর্তী দুই মৌসুম চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠেও শেষ হাসি হাসতে পারেননি দেশম।

জুভেন্টাসের সাথে পাট চুকিয়ে ১৯৯৯ সালে যোগ দেন ইংলিশ ক্লাব চেলসিতে। চেলসির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হার্থা বার্লিনের বিপক্ষে একটি গোলও করেছিলেন। ক্যারিয়ারের শেষ দিকে চেলসি ছেড়ে ভ্যালেন্সিয়াতে গিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে দলকে ওঠালে ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে হারের ম্যাচে বেঞ্চেই ছিলেন দেশম। পরবর্তীতে ৩২ বছর বয়সেই ফুটবলের ইতি টানেন ফ্রান্সের এই ফুটবলার।

ক্লাব ক্যারিয়ারের সংগে জাতীয় দলের হয়েও ছিলেন উজ্জ্বল। ১৯৮৯ সালে যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য ডাক পান তিনি। তিনি যে সময়ে ফ্রান্সের হয়ে খেলা শুরু করেন সে সময়টা ছিল ফ্রান্সের অন্ধকার পর্যায়। ১৯৯০ এবং ১৯৯৪ সালে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে নি ফ্রান্স। ১৯৯২ সালের ইউরো কাপের প্রথম রাউন্ড থেকেও বিদায় নেয় তারা।

’৯৬ সালের ইউরো কাপে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড হাতে মাঠে নামেন দেশম। ঐ টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে খেলে তারা যা ১৯৮৬ বিশ্বকাপের পর তাদের সেরা সাফল্য। ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে ফাইনালে জিনেদিন জিদানের কল্যাণে ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়ন হয় ফ্রান্স। সেই ম্যাচেও অধিনায়ক হিসেবে ছিলেন তিনি এবং বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিলেন।

দেশমের অধিনায়কত্বে ২০০০ সালের ইউরো কাপেও চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। ফ্রান্সের জার্সি গায়ে নিজের শেষ ম্যাচটি খেলেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। জাতীয় দলের হয়ে ১০৩টি ম্যাচে ৪ গোল করে অবসর নেন তিনি।

খেলোয়াড় হিসেবে অবসরের পরই কোচ হিসেবে তার নাম ঘোষণা করে ফ্রেঞ্চ লিগে খেলা মোনাকো। ২০০৩ সালে ক্লাবটিকে কোপ দে লা লিগ জয়ের পাশাপাশি ২০০৪ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালেও তোলেন দলটিকে। ২০০৫-০৬ মৌসুমে বাজে শুরুর জন্য ১৯ সেপ্টেম্বর ২০০৫ সালে মোনাকোর কোচ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।

২০০৬ সালের জুলাইতে নিজের নতুন গন্তব্য হিসেবে খুঁজে পান জুভেন্টাসকে। ফাবিও ক্যাপেলোর স্থলাভিষিক্ত হন তিনি। অবনমন হওয়ার পর ক্লাবটিকে আবার ইতালিয়ান লিগে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন দেশম। কিন্তু ক্লাব কর্তৃপক্ষের সাথে বনিবনা না হওয়ায় ২০০৭ সালে জুভেন্টাসকে দ্বিতীয় বিভাগ লিগ চ্যাম্পিয়ন করে পদত্যাগ করেন তিনি।

২০০৯ সালের ৫মে নিজের সাবেক ক্লাব মার্শেইতে ফিরে আসেন কোচ হিসেবে। প্রথম মৌসুমেই ক্লাবটিকে লিগ শিরোপা জয় করান ১৮ বছর পর। ২০১২ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ’৯৩ সালের পর প্রথমবারের মত কোয়ার্টার ফাইনালে তোলেন মার্শেইকে। মার্শেরি হয়ে ঐ বছরেই টানা তৃতীয়বারের মত জয় করেন কোপা দে লা লিগ। ২০১১-১২ মৌসুমে লিগে দশম স্থান দখল করে ক্লাবের সাথে সমোঝতার মাধ্যমেই পদত্যাগ করেন দেশম।

২০১২ সালের জুলাইতে প্রথমবারের মত ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ পান সাবেক এই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফুটবলার। ইউরো কাপে ব্যর্থতার পর কোচের পদ থেকে বহিষ্কার হন লরা ব্লা। তার স্থলাভিষিক্ত হন দেশম। দায়িত্ব নিয়েই ফ্রান্সকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করে দেন তিনি।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে অফে ইউক্রেনকে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ গোলে হারিয়ে ২০১৪ বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় তারা। যদিও ২০১৪ বিশ্বকাপে তেমন ভালো পারফরম্যান্স করতে পারে নি ফ্রান্স। চুক্তি বাড়িয়ে ২০১৬ ইউরো কাপ পর্যন্ত করেন দেশম। নিজ দেশে হওয়া ইউরো কাপের ফাইনালে পর্তুগালের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের অপ্রত্যাশিত গোলে রানার্সআপ হয় ফ্রান্স। তাছাড়া বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের গ্রুপ পর্বের সেরা হয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপে জায়গা করেন দেশমের দল।

ফ্রান্সের ২৩ সদস্যের মূল স্কোয়াড

গোলরক্ষক : হুগো লরিস, স্টিভ মান্দান্দা, আলফোন্সে আরেওলা

ডিফেন্ডার : জিব্রিল সিদিব, বেঞ্জামিন পাভার্দ, স্যামুয়েল উমতিতি, রাফায়েল ভারানে, প্রেসনেল কিমপেম্বে, আদিল র্যামি, বেঞ্জামিন মেন্ডি, লুকাস হার্নান্দেজ।

মিডফিল্ডার : পল পগবা, কোরেন্তিন তোলিসো, ব্লাইজ মাতুইদি, এনগোলো কন্তে, স্টিভেন জঞ্জি।

ফরোয়ার্ড : আন্তোনিও গ্রিজম্যান, অলিভিয়ের জিরু, কাইলিয়ান এমবাপে, ওসমান ডেম্বেলে, ফ্লোরিয়ান থাউবিন, নাবিল ফেকির, থমাস লেমার।

ফ্রান্স

প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ
১ মে, ১৯০৪, ব্রাসেলস, বেলজিয়া
বেলজিয়াম ৩ : ৩ ফ্রান্স

সবচেয়ে বড় জয়
৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৫, অক্সেরে, ফ্রান্স
ফ্রান্স ১০ : ০ আজারবাইজান

সবচেয়ে বড় হার
২২ অক্টোবর, ১৯০৮, লন্ডন
ডেনমার্ক ১৭ : ১ ফ্রান্স

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ : এবার নিয়ে ১৫ বার, চ্যাম্পিয়ন : ১ বার ( ১৯৯৮)
ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ : ৯ বার, চ্যাম্পিয়ন : ২ বার (১৯৮৪, ২০০০)।
ফিফা কনফেডারেশন্স কাপে অংশগ্রহণ : ২বার, চ্যাম্পিয়ন : ২ বার (২০০১, ২০০৩)।
সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা খেলোয়াড় : লিলিয়াম থুরাম (১৪২ ম্যাচ)।
সর্বোচ্চ গোলদাতা : থিয়েরি অঁরি (৫১টি)

যেভাবে রাশিয়া বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করলো ফ্রান্স

ফ্রান্স ২-১ সুইডেন
ফ্রান্স ৪-০ নেদারল্যান্ডস
ফ্রান্স ৪-১ বুলগেরিয়া
ফ্রান্স ০-০ লুক্সেমবার্গ
ফ্রান্স ২-১ বেলারুশ
সুইডেন ২-১ ফ্রান্স
নেদারল্যান্ডস ০-১ ফ্রান্স
বুলগেরিয়া ০-১ ফ্রান্স
লুক্সেমবার্গ ১-৩ ফ্রান্স
বেলারুশ ০-০ ফ্রান্স

বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের পয়েণ্ট টেবিল

অবস্থান

দল

ম্যাচ

জয়

ড্র

পরাজয়

গোল পার্থক্য

পয়েন্ট

ফ্রান্স

১০

+১২

২৩

সুইডেন

১০

+১৭

১৯

নেদারল্যান্ডস

১০

+৯

১৯

বুলগেরিয়া

১০

−৫

১৩

লুক্সেমবার্গ

১০

−১৮

বেলারুশ

১০

−১৫

 

সময়সূচি

১৬ জুন, ২০১৮, ০৪:০০ পিএম

গ্রুপ সি , কাজান এরেনা

ফ্রান্স ফ্রান্স ২ - ১ অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়া

ম্যাচ রিপোর্ট
২১ জুন, ২০১৮, ০৯:০০ পিএম

গ্রুপ সি , একাতেরিনবার্গ স্টেডিয়াম

ফ্রান্স ফ্রান্স ১ - ০ পেরু পেরু

ম্যাচ রিপোর্ট
২৬ জুন, ২০১৮, ০৮:০০ পিএম

গ্রুপ সি , লুঝনিকি স্টেডিয়াম

ডেনমার্ক ডেনমার্ক ০ - ০ ফ্রান্স ফ্রান্স

ম্যাচ রিপোর্ট
৩০ জুন, ২০১৮, ০৮:০০ পিএম

গ্রুপ , কাজান এরেনা

ফ্রান্স ফ্রান্স ৪ - ৩ আর্জেন্টিনা আর্জেন্টিনা

ম্যাচ রিপোর্ট
০৬ জুলাই, ২০১৮, ০৮:০০ পিএম

গ্রুপ , নিঝনি নভগোরদ স্টেডিয়াম

ফ্রান্স ফ্রান্স ২ - ০ উরুগুয়ে উরুগুয়ে

ম্যাচ রিপোর্ট
১০ জুলাই, ২০১৮, ১২:০০ এএম

গ্রুপ , সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়াম

ফ্রান্স ফ্রান্স ১ - ০ বেলজিয়াম বেলজিয়াম

ম্যাচ রিপোর্ট
১৫ জুলাই, ২০১৮, ০৯:০০ পিএম

গ্রুপ , লুঝনিকি স্টেডিয়াম

ফ্রান্স ফ্রান্স ৪ - ২ ক্রোয়েশিয়া ক্রোয়েশিয়া

ম্যাচ রিপোর্ট

আরও

বাংলাদেশকে চাপে রাখতে ভারতের নতুন কৌশল

বাংলাদেশকে চাপে রাখতে ভারতের নতুন কৌশল

বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রথম দুই হোম ম্যাচের জন্য দুটি ভেন্যু বেছে নিয়েছিল ভারত।...

ফুটবলারদের কাতার-পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু ২৫ সেপ্টেম্বর

ফুটবলারদের কাতার-পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু ২৫ সেপ্টেম্বর

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে দেশে ফিরে ফুটবলারদের প্রায় দুই সপ্তাহ ছুটি দিয়েছেন...

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একমাত্র জয়টি ৪০ বছর আগে

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একমাত্র জয়টি ৪০ বছর আগে

কথায় আছে- শেষ ভালো যার, সব ভালো তার। মঙ্গলবার রাতে তাজিকিস্তানের দুশানবেতে...

চট্টগ্রামের পর দুশানবে, কাল আবারও আফগানদের সামনে বাংলাদেশ

চট্টগ্রামের পর দুশানবে, কাল আবারও আফগানদের সামনে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের প্রথম টেস্ট ঘিরে গত পাঁচদিন ক্রীড়ামোদীদের চোখ ছিল চট্টগ্রামে।...