জার্মানি

Team Image

গোলাপ পাপড়ির মসৃণতা নেই। ছন্দময় ফুটবলও খেলে না। কিন্তু ঠিকই জিতে বেরিয়ে যায় তারা। সংক্ষেপে এটিই জার্মান ফুটবল। জাদু-বাস্তবতা খুঁজতে অন্য কোথাও যেতে পারেন, নিরেট সাফল্য বা জয় পেতে আপনাকে আসতে হবে জার্মানির কাছেই। যান্ত্রিক বা রোবোটিক ফুটবল খেলে জার্মানরাই। জার্ড মুলাররা খেলেছেন, বেকেনবাওয়ার, লোথার ম্যাথিউসরা খেলেছেন। বালাক-লাম-ক্লোসারা খেলেছেন, এখন ওজিল-মুলার-ক্রুসরাও খেলেন। এর ওপর ভিত্তি করেই মেসির আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের মুকুট পরিধান করে জার্মানি।

তবে এটা সত্য, ফুটবল বোদ্ধারা আবিস্কার করতে সক্ষম হয়েছেন, জার্মান ফুটবল ঠিক আগেরমত রোবোটিক নেই। দুর্দান্ত গতি আসে সত্য। তাতে নিখুঁত পাসের ছন্দও মিশেছে। দৃষ্টিনন্দন ফুটবল এখন জার্মানিও খেলে। এ কারণে, এক সময় সফল দলে হলেও যে দলটির সমর্থকের অভাব ছিল, গতি এবং ছন্দময় ফুটবল খেলার কারণে এখন তাদের ভক্ত-সমর্থক বেড়ে গেছে অনেক।

ব্রাজিলে বিশ্বকাপে ২৪ বছরের শিরোপা খরা কাটিয়ে সোনালি ট্রফিটা জিতে নেয় পাওয়ার ফুটবলের পুজারীরা। ২০০২ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলেও ব্রাজিলের কাছে হেরে শিরোপা জেতা হয়নি অলিভার কানদের। সেই ক্ষোভ তারা তুলে নিয়েছে ব্রাজিলেরই মাঠে, তাদেরকে সেমিফাইনালে ৭-১ গোলে হারিয়ে এবং আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতে নিয়ে।

গত কয়েক বছর ধরেই দুর্দান্ত ফুটবল খেলছে জোয়াকিম লো’র শিষ্যরা। সর্বশেষ ফিফা কনফেডারেশন্স কাপের শিরোপাও উঠেছে জার্মাদের হাতে। এবারও রয়েছে ফর্মের চূড়ায়। যে কারণে, সবারই আগাম ভবিষ্যদ্বাণীতে রাশিয়া বিশ্বকাপের সম্ভাব্য সেরা এবং শিরোপা জয়ের প্রথম ফেবারিটের নাম জার্মানি।

তবুও বিশ্বকাপের আগে নিজ দলের রক্ষণভাগ এবং ফাইনাল থার্ড নিয়ে খানিক চিন্তিত জার্মান কোচ লো। যে দলটি তিনি ঘোষণা করেছেন রাশিয়া বিশ্বকাপের জন্য। সেখানে ঠাঁই দেননি গত বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল দিয়ে জার্মানিকে শিরোপা জেতানো মারিও গোৎসেকে। গত বিশ্বকাপজয়ী দলের সেরা তিন তারকা এবার নেই। ফিলিপ লাম, বাস্তিয়ান শোয়েনস্টাইগার এবং মিরোস্লাভ ক্লোসা। তবুও জার্মানি বিশ্বকাপের সেরা দল।

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দ্বিতীয় সেরা দল জার্মানি। পাঁচবার শিরোপা জিতে সবার উপরে ব্রাজিল। এরপরই রয়েছে চারবার শিরোপা জেতা জার্মানি। সমান চারবার বিশ্বকাপ জেতার কৃতিত্ব রয়েছে ইতালিরও। ১৯৫৪, ১৯৭৪, ১৯৯০ এবং ২০১৪ সালের শিরোপা জেতা ছাড়াও, ১৯৯৬, ১৯৮২, ১৯৮৬ এবং ২০০২ সালের ফাইনাল খেলেছিল জার্মানি। এছাড়া ২০১৪ সালের আগের দুই আসরেই তৃতীয় স্থান অর্জন করে তারা।

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছে জার্মানি, সবচেয়ে বেশি গোল করার কৃতিত্বটাও জার্মানিরই দখলে। ফুটবলের জার্মানির দাপটকে মেনে নিয়ে বলা হয়ে থাকে, ‘ফুটবল ৯০ মিনিটের খেলা এবং শেষপর্যন্ত জার্মানরাই জেতে।’ এবারের জার্মানি দলেও রয়েছে সময়ের সেরা গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নুয়্যার। তার সাথে আছেন মেসুত ওজিল, থমাস মুলার, মার্কো রেউস, আন্দ্রে শুর্লে, টনি ক্রুসদের মতো তারকা ফুটবলাররা। বিশ্বকাপের এফ গ্রুপে জার্মানির প্রতিপক্ষ মেক্সিকো, সুইডেন এবং দক্ষিণ কোরিয়া।

Player Image

মেসুত ওজিল

মেসুত ওজিল। প্রত্যেকটি ম্যাচ শুরুর আগেই মাঝমাঠে দাঁড়িয়ে দু’হাত তুলে তার মুনাজাত করার দৃশ্য অতি পরিচিত। প্রিমিয়ার লিগ কিংবা জার্মানির হয়ে খেলার সময় এটি করে থাকেন ওজিল। মাঠে নামলেই সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা জানিয়ে খেলা শুরু করেন এই মিডফিল্ডার। তুর্কি-জার্মান বংশের তৃতীয় বংশধর ওজিল জার্মানির পাশাপাশি তুর্কিরও নাগরিকত্ব রয়েছে। যে কারণে দেখা যায় তুরস্কের প্রতি তার অনুভূতি এখনো সমান সচল। কয়েকদিন আগেই তুর্কি প্রেসিডেন্টকে নিজের ক্লাবের জার্সি উপহার দেন ওজিল। যদিও এটি নিয়ে পরবর্তীতে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। পরে সমাধানও হয়ে গেছে ওই ঘটনার।

  • নাম: মেসুত ওজিল
  • জন্ম : ১৫ অক্টোবর, ১৯৮৮
  • বয়স : ২৯
  • উচ্চতা : ৫ ফিট, ১১ ইঞ্চি
  • পজিশন : এটাকিং মিডফিল্ডার
  • জার্মানির হয়ে : ৮৯ ম্যাচে ২২ গোল

তৎকালীন পশ্চিম জার্মানিতে জন্ম নেওয়া ওজিলের ফুটবল অধ্যায় শুরু হয় ওয়েস্টফালিয়া গেলসেঙ্কিরখেনের হয়ে ১৯৯৫ সালে। সেখান থেকে ২০০৩ সালে যোগ দেন জার্মান ক্লাব শালকে০৪ এর যুব দলে। ২০০৫ সালেই মূল দলে জায়গা করে নিতে সমর্থ হন তিনি।

শালকের বিপক্ষে তার পারফরম্যান্স এতটাই উঁচু মানের ছিল যে জার্মান মিডিয়া এক খবরে বলেছিল, ‘দ্য নেক্সট বিগ থিং’। অবশ্যই ওজিল পরবর্তীতে বড় কিছু হয়ে উঠেছিলেন। শালকের হয়ে ৩০ ম্যাচে গোলশূন্য থেকে ৫ মিলিয়ন ইউরোতে আরেক জার্মান ক্লাব ওয়েডার ব্রেমেনে যোগ দেন ওজিল।

ওয়ের্ডার ব্রেমেনের হয়েই মূলতঃ উঠতি বয়সে নিজেকে প্রমাণ করেন ওজিল। ব্রেমেনের হয়ে দুই মৌসুমে ৭১ ম্যাচে করেন ১৩ গোল। জার্মানির হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে জার্মানিকে তৃতীয় হতে সাহায্যও করেন তিনি। তখনই নজরে পড়ে যান বিশ্বসেরা ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের। মাত্র ১৫ মিলিয়ন ইউরোতে ওজিলকে ব্রেমেন থেকে তুলে আনে রিয়াল।

হোসে মরিনহোর অধীনে প্রথম মৌসুমেই কোপা দেল রে শিরোপা জয় করেন। মৌসুমে ২৫টি এসিস্ট করে সমর্থক এবং কোচের প্রশংসায় ভাসেন এই মিডফিল্ডার। পরের মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে দীর্ঘদিন পর লা লিগা জয়ের আনন্দে মাতেন মরিনহোর অধীনেই।

ওজিল শো চলে পরবর্তী মৌসুমেও। ২৬ এসিস্ট করলেও কোচের আস্থা কুড়াতে না পারার খেসারত দিতে হয় তাকে। ৫০ মিলিয়ন ইউরোতে আর্সেনালের কাছে তাকে বিক্রি করে দেয় রিয়াল। আর্সেনালে হয়ে তার পারফরম্যান্সের ঘাটতি দেখা যায় নি এতটুকু। পাঁচ মৌসুমে আর্সেনালের হয়ে জিতেছেন তিনটি এফএ কাপ শিরোপা। তাছাড়া একটি কমিউনিট শিল্ডও জয় করেছেন। ১৯৬ ম্যাচে গানারদের হয়ে তার গোলসংখ্যা ৩৭টি।

২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে নরওয়ের বিপক্ষে জার্মানির জার্সি গায়ে অভিষেক হয় ওজিলের। ২০১০ ফিফা বিশ্বকাপেও দলে ছিলেন। পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে গোল্ডেন বলের মনোনয়নও পেয়েছিলেন। জার্মানির হয়ে ২০১২ ইউরো কাপের দলে থাকলেও এবারও তাকে তৃতীয় হয়ে সন্তুষ্ট হতে হয়। সেমিতে ইতালির বিপক্ষে হেরে যায় তার দল।

কিন্তু ২০১৪ সালের আর আশাহত হননি ওজিল। গ্রুপ পর্ব উৎরে শেষ ষোলোতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ১১৯ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করে জার্মানিকে পরের রাউন্ডে ওঠান। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালেও ছিলেন জার্মানি দলে। যেখানে তার দল ২৪ বছর পর বিশ্বকাপ ট্রফি জয়লাভ করে। রাশিয়া বিশ্বকাপেও দলের অন্যতম প্রধান খেলোয়াড় হিসেবে মাঠ মাতাবেন ওজিল।

Coach Image

জোয়াকিম লো

জোয়াকিম লো। ১৯৬০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম জার্মানির সোনাউ শহরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পেশাদার ফুটবলে ছিলেন একজন এটাকিং মিডফিল্ডার। ১৯৭৮ সালে ফুটবল অধ্যায়ের সূচনা করেন জার্মান ক্লাব ফ্রাইবুর্গের হয়ে। বুন্দেসলিগার দ্বিতীয় বিভাগের দলটির হয়ে ’৮০ সাল পর্যন্ত ৭১টি ম্যাচ খেলে যোগ দেন আরেক জার্মান ক্লাব স্টুটগার্ডে।

প্রথম একাদশে ঠিকমত সুযোগ না পাওয়ার দরুন ক্লাব ছেড়ে চলে যান ফ্রাঙ্কফুর্টে। সেখানে এক মৌসুমে ২৪ ম্যাচ খেলে ১৯৮২ সালে আবার ফিরে আসেন নিজের সাবেক ক্লাব ফ্রাইবুর্গে। দুই মৌসুমে ক্লাবটির হয়ে ৬৫ ম্যাচে করেন ২৫ গোল। ১৯৮৫ সালে যোগ দেন কারলস্রার এসসি ক্লাবে। কিন্তু এক মৌসুমে ২৪ ম্যাচে মাত্র ২ গোল করেন তিনি। নিজেকে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়া তৃতীয়বারের মত ফ্রাইবুর্গে আসেন ১৯৮৫ সালে। পরবর্তী চার মৌসুমে ১১৬ ম্যাচ খেলে ৩৮ গোল করে দলটির প্রধান কাণ্ডারি হয়ে ওঠেন তিনি। ক্যারিয়ারের শেষ দিকে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ক্লাবে খেলে ১৯৯৫ সালে এফসি ফ্রাউয়েনফিল্ডের হয়ে ফুটবল ক্যারিয়ারকে বিদায় জানান লো।

ক্লাব ফুটবলের মত জাতীয় ফুটবলে অতো উজ্জ্বল ছিলেন না তিনি। তখনকার পশ্চিম জার্মানির বয়সভিত্তিক দলটার হয়ে মাত্র চার ম্যাচে খেলার সুযোগ হয়েছিল তার। কিন্তু কখনোই জার্মানির প্রধান দলের হয়ে খেলার সুযোগ হয়নি লোর।

ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে নেমে পড়েন কোচিং পেশায়। ১৯৯৪ সালে যোগ দেন এফএসি ফ্রুয়েনফিল্ডের হয়ে। অবশ্য এই দলের কোচ থাকাকালীন খেলোয়াড় হিসেবেও মাঠে খেলেছিলেন তিনি। ১৯৯৬ সালে স্টুটগার্ডের সহকারী কোচ হিসেবে যোগ দিলেও পরবর্তীতে প্রধান কোচের ভূমিকায় দেখা যায় তাকে। কোচ হিসেবে স্টুটগার্ডের হয়ে প্রথম ম্যাচটি মোকাবেলা করেন শালকে০৪ এর বিপক্ষে।

সেই ম্যাচে তার দল ৪-০ গোলে জয় পায়। ১৯৯৭ সালে স্টুটগার্ডকে জার্মান কাপের ফাইনালে তোলেন। সেখানে বায়ার্নের কাছে হেরে রানার্সআপ হয় তার দল। ঐ মৌসুমে লিগে চতুর্থ স্থান দখল করে তার স্টুটগার্ড। পরের মৌসুমেও চলে লোর সাফল্যগাথা। উয়েফা কাপ উইনার্স কাপের ফাইনালে চেলসির কাছে হেরে বিদায় নিলে সেটিই হয় তার ক্লাবের হয়ে শেষ ম্যাচে। ৪৬টি জয়ের পাশাপাশি ২৩টি হারে স্টুটগার্ডের কোচ থেকে বিদায় নেন তিনি।

১৯৯৮ সালের জুলাইতে তুর্কিশ ক্লাব ফেনারবাচের কোচ হিসেবে নিয়োগ পান লো। তুর্কিশ লিগে তৃতীয় স্থান দখল করে ইউরোপা লিগের প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিলে লোর বিদায়ও নিশ্চিত হয়ে যায়। ১৯৯৯ সালে জার্মান ক্লাব কারলস্রারের কোচ হলেও তেমন সুবিধা করতে পারেন নি দলটির হয়ে। ১৮টি ম্যাচের ভেতর মাত্র ১টিতে জয় পেয়েছিল তখন দলটি। সর্বশেষ দল হিসেবে লিগ শেষ করায় বহিষ্কার হতে হয় তাকে। জার্মান ছেড়ে আবার ফিরে আসেন তুরস্কে। তবে এবার আদানাস্পোরের কোচ হিসেবে। চার মাসের কোচিং ক্যারিয়ারের ক্লাবটির হয়ে একটি ম্যাচও জিততে পারেন নি।

তুরস্ক অধ্যায় শেষ করে ২০০১ সালে অস্ট্রিয়ান ক্লাব তিরোল ইন্সব্রাকের কোচ হিসেবে তার নাম ঘোষণা করে ক্লাবটি। প্রথম মৌসুমেই ক্লাবটিকে অস্ট্রিয়ান লিগ জেতান। পরবর্তী মৌসুমে ক্লাবটি দেউলিয়া হয়ে গেলে চাকরিবিহীন থাকেন লো। ২০০৩ সালের জুলাইতে অস্ট্রিয়া ভিয়েনের কোচ হলে চাকরি খুঁজে পান লো। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের তৃতীয় বাছাইপর্ব থেকে ক্লাবটি মার্শেরি কাছে হেরে বিদায় নেয়। ইউরোপা লিগেও বুরুশিয়া ডর্টমুন্ডের কাছে হেরে বিদায় নেয় অস্ট্রিয়া ভিয়েন। ২০০৪ সালের ২৪ মার্চ নিজেই ক্লাবটির কোচের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন।

২০০৪ সালে হওয়া ইউরো কাপে জার্মানদের ব্যর্থতার দরুন কোচের পদ ছাড়েন রুডি ভোলার। তার স্থলাভিষিক্ত হন ইয়ুর্গেন ক্লিনসম্যান। ইয়োকিম লো ক্লিনসম্যানের সহকারী হিসেবে জার্মান জাতীয় দলে যোগ দেন। ক্লিনসম্যানের অধীনে ২০০৫ ফিফা কনফেডারেশন্স কাপের সেমিফাইনাল খেলে তারা। এছাড়াও ঘরের মাঠে ২০০৬ বিশ্বকাপে তৃতীয় হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের। ক্লিন্সম্যান এবং লোর আক্রমণাত্মক কৌশলে কনফেডারেশন্স কাপের এক টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ১৫টি গোল করার রেকর্ড গড়ে জার্মানি।

২০০৬ সালের বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন না হওয়ায় চুক্তি বাড়াতে আগ্রহী ছিলেন না ক্লিনসম্যান। ফলে তার স্থলাভিষিক্ত হন জোয়াকিম লো। কোচ হয়েই তিনি ঘোষণা করেন ক্লিনসম্যানের আক্রমণাত্মক কৌশলেই তিনি খেলিয়ে যাবেন দলটিকে। তার প্রথম লক্ষ্যই ছিল ২০০৮ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়ন হওয়া। ইউরো কাপের বাছাইপর্বে ১৩ ম্যাচে ১১ জয় এবং ১ হারে সবার উপরে থেকে মূলপর্বে খাল নিশ্চিত করে তারা। ইউরো কাপের মূল পর্বে দাপটের সঙ্গে খেলেই ফাইনালে ওঠে তারা কিন্তু স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা স্বপ্ন ধুলিস্যাত হয়ে তাদের।

লোর অধীনে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও দুর্দান্ত পারফর্ম করে জায়গা করে নেয় মূল পর্বে। এবারও ভাগ্য সহায় হয়নি তাদের। সেমি ফাইনালে সেই স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়ে তৃতীয় হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় জার্মানদের। ২০১২ সালের ইউরো কাপ তাদের জন্য ছিল রীতিমত ভয়াবহ। সেমি ফাইনালে মারিও বালোতেল্লির অসাধারণ নৈপুণ্যে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় তারা।

২০১৪ বিশ্বকাপের শুরু থেকেই সাফল্য পেতে শুরু করেন লো। প্রথম ম্যাচেই পর্তুগালকে ৪-০ গোলে হারায় তারা। পরের দুটি ম্যাচে ঘানার সাথে পিছিয়ে থেকেও ২-২ গোলে ড্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে শেষ ষোল নিশ্চিত করে তারা। সেখানে তারা মুখোমুখি হয় আলজেরিয়ার। যাদেরকে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টারে মুখোমুখি ফ্রান্সের।

দেশমের ফ্রান্সকে ১-০ গোলে সেমিতে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়ে ৭-১ গোলের বিশাল জয় নিয়ে ফাইনালে মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনার। যেখানে আর্জেন্টিনার হতাশাকে বাড়িয়ে দিয়ে অতিরিক্ত সময়ে মারিও গোৎসের গোলে চতুর্থবারের মত বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয় জার্মানি।

ফ্রান্সে হওয়া ২০১৬ সালের ইউরো কাপের সেমিফাইনালে ওঠে লোর জার্মানি। কিন্তু স্বাগতিক দলের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিলে মনঃক্ষুণ্ণ হন এই জার্মান কোচ। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘আমরা সেরা দল ছিলাম ম্যাচে।’ এর ঠিক এক বছর পরেই দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে ফিফা কনফেডারেশন্স কাপ জয় করেন তিনি। দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে চিলির বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে ট্রফি জিতের রীতিমত সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। ২০১৮ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বেও সবার উপরে থেকে বিশ্বকাপ যাত্রা নিশ্চিত করে জোয়াকিম লোর জার্মানি।

জার্মানির ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত দল

গোলরক্ষক : ম্যানুয়েল নুয়্যার, মার্ক আন্দ্রে টার স্টেগান, কেভিন ট্র্যাপ।

ডিফেন্ডার : মারভিন প্ল্যাটেনহার্ডট, জোনাস হেক্টর, মাথিয়াস গিনটার, ম্যাটস হামেলস, নিকলাস শুলে, জেরোমে বোয়াটেং, জসুয়া কিমিচ, আর্ন্তোনিও রুডিগার।

মিডফিল্ডার : সামি খেদিরা, হুলিয়ান ড্রাক্সলার, টনি ক্রুস, মেসুত ওজিল, থমাস মুলার, লিওন গোরেৎজা, সেবাস্তিয়ান রুডি, হুলিয়ান ব্র্যান্ডট, ইলকে গুন্ডোগান।

ফরোয়ার্ড : টিমো ওয়ার্নার, মার্কো রেউস, মারিও গোমেজ।

জার্মানি

প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ
৫ এপ্রিল ১৯০৮, বাসেল, সুইজারল্যান্ড
সুইজারল্যান্ড ৫ : ৩ জার্মানি

সবচেয়ে বড় জয়
১ জুলাই, ১৯১২, স্টকহোম, সুইডেন
জার্মানি ১৬ : ০ রাশিয়ান রাজতন্ত্র

সবচেয়ে বড় হার
১৩ মার্চ, ১৯০৯, অক্সফোর্ড, ইংল্যান্ড
ইংল্যান্ড অ্যামেচার ৯ : ০ জার্মানি

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ : এবার নিয়ে ১৮ বার, চ্যাম্পিয়ন : ৪ বার (১৯৫৪, ১৯৭৪, ১৯৯০, ২০১৪)
ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ : ১২ বার, চ্যাম্পিয়ন : ৩ বার, (১৯৭২, ১৯৮০, ১৯৯৬)।
ফিফা কনফেডারেশন্স কাপে অংশগ্রহণ : ৩বার, চ্যাম্পিয়ন : ১বার (২০১৭)।
সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা খেলোয়াড় : লোথার ম্যাথিউস (১৫০ ম্যাচ)।
সর্বোচ্চ গোলদাতা : মিরোস্লাভ ক্লোসা (৭১)।

যেভাবে রাশিয়া বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করলো জার্মানি
জার্মানি ২-০ উত্তর আয়ারল্যান্ড
জার্মানি ৩-০ চেক প্রজাতন্ত্র
জার্মানি ৬-০ নরওয়ে
জার্মানি ৫-১ আজারবাইজান
জার্মানি ৭-০ স্যান ম্যারিনো
উত্তর আয়ারল্যান্ড ১-৩ জার্মানি
চেক প্রজাতন্ত্র ১-২ জার্মানি
নরওয়ে ০-৩ জার্মানি
আজারবাইজান ১-৪ জার্মানি
স্যান ম্যারিনো ০-৮ জার্মানি

বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের পয়েণ্ট টেবিল

অবস্থান

দল

ম্যাচ

জয়

ড্র

পরাজয়

গোল পার্থক্য

পয়েন্ট

জার্মানি

১০

১০

+৩৯

৩০

উত্তর আয়ারল্যান্ড

১০

+১১

১৯

চেক প্রজাতন্ত্র

১০

+৭

১৫

নরওয়ে

১০

+১

১৩

আজারবাইজান

১০

−৯

১০

স্যান ম্যারিনো

১০

১০

−৪৯

 

সময়সূচি

১৭ জুন, ২০১৮, ০৯:০০ পিএম

গ্রুপ এফ , লুঝনিকি স্টেডিয়াম

জার্মানি জার্মানি ০ - ১ মেক্সিকো মেক্সিকো

ম্যাচ রিপোর্ট
২৩ জুন, ২০১৮, ১২:০০ এএম

গ্রুপ এফ , ফিশ্ট স্টেডিয়াম

জার্মানি জার্মানি ২ - ১ সুইডেন সুইডেন

ম্যাচ রিপোর্ট
২৭ জুন, ২০১৮, ০৮:০০ পিএম

গ্রুপ এফ , কাজান এরেনা

দক্ষিণ কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়া ২ - ০ জার্মানি জার্মানি

ম্যাচ রিপোর্ট

আরও

বাংলাদেশকে চাপে রাখতে ভারতের নতুন কৌশল

বাংলাদেশকে চাপে রাখতে ভারতের নতুন কৌশল

বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রথম দুই হোম ম্যাচের জন্য দুটি ভেন্যু বেছে নিয়েছিল ভারত।...

ফুটবলারদের কাতার-পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু ২৫ সেপ্টেম্বর

ফুটবলারদের কাতার-পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু ২৫ সেপ্টেম্বর

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে দেশে ফিরে ফুটবলারদের প্রায় দুই সপ্তাহ ছুটি দিয়েছেন...

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একমাত্র জয়টি ৪০ বছর আগে

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একমাত্র জয়টি ৪০ বছর আগে

কথায় আছে- শেষ ভালো যার, সব ভালো তার। মঙ্গলবার রাতে তাজিকিস্তানের দুশানবেতে...

চট্টগ্রামের পর দুশানবে, কাল আবারও আফগানদের সামনে বাংলাদেশ

চট্টগ্রামের পর দুশানবে, কাল আবারও আফগানদের সামনে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের প্রথম টেস্ট ঘিরে গত পাঁচদিন ক্রীড়ামোদীদের চোখ ছিল চট্টগ্রামে।...