উরুগুয়ে

Team Image

১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ। আয়োজক লাতিনেরই আরেক সুপার পাওয়ার ব্রাজিল। এর আগে তিনটি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো কাংখিত সাফল্য পায়নি ব্রাজিলিয়ানরা। অথচ, তাদের চেয়ে ফুটবল এতটা আপন নয় আর কোনো দেশের। সেই দেশটি নিজেদের দেশে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হবে- এ কথা যেন গেঁথে গিয়েছিল ব্রাজিলের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে।

১৯৫০ বিশ্বকাপে সাধারণত কোনো সেমিফাইনাল, ফাইনাল ছিল না। প্রথমে গ্রুপ পর্ব অনুষ্ঠিত হওয়ার পর সেরা চারটি দলকে নিয়ে আরও একটি রাউন্ড রবিন লিগ। শেষ পর্বের লিগের সর্বোচ্চ পয়েন্টধারী দলটিই চ্যাম্পিয়ন। কাকতালীয়ভাবে ব্রাজিল-উরুগুয়ের শেষ ম্যাচটিই পরিণত হয়েছিল শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে। যেন, সত্যিকারার্থে ফাইনাল।

এই ম্যাচে ব্রাজিল ড্র করলেও চ্যাম্পিয়ন। উরুগুয়েকে জিততেই হবে। এমন পরিস্থিতিতে ব্রাজিল যেভাবে উড়ছিল, তাতে তারাই নিশ্চিত চ্যাম্পিয়ন- এটা ধরে নিয়েছিল সবাই। এমনকি ম্যাচের দিন দৈনিক ‘ও মুনডো’ ব্রাজিলের গোটা দলের ছবি ছাপিয়ে তার নিচে ক্যাপশন দিয়েছিল- ‘এরাই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন’। আরেকটি জাতীয় উৎসব পালনের মহামঞ্চ হিসেবে প্রস্তুত ছিলো ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন স্টেডিয়াম মারাকানা; কিন্তু ১৯৫০ বিশ্বকাপের সেই ম্যাচে ২-১ গোলে ব্রাজিলকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতে নেয় উরুগুয়ে। সে সঙ্গে ইতিহাসের অন্যতম সেরা চমক উপহার দেয় তারা। শোকের সাগরে ভেসা যায় গোটা ব্রাজিল।

উরুগুয়ের চমক সেই বিশ্বকাপেই থেমে যায়। এরপর আর পারেনি তারা। অথচ, ব্রাজিলের জয়রথ চলছেই। উরুগুয়ে আর কোনো সোনালি প্রজন্ম উপহার দিতে পারেনি। ২০১০ সালে পেরেছিল। দিয়েগো ফোরলান, লুইস সুয়ারেজদের হাত ধরে সেবার উরুগুয়ে সেমিফাইনালও খেলেছিল। কিন্তু সেমিতেই শেষ হয় তাদের দৌড়।

মাঝে সেমিফাইনাল খেলেছিল আরও দুইবার। ১৯৫৪ এবং ১৯৭০ সালে। ২০১৪ সালে আবারও ব্রাজিলে খেলতে গিয়েছিল উরুগুইয়ানরা; কিন্তু কোনো চমক উপহার দিতে পারেনি। বিদায় নিয়েছিল দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই। যদিও, সেবার দিয়েগো ফোরলান ছিলেন একেবারে নিষ্প্রভ। লুইস সুয়ারেজ কামড়কাণ্ডে অভিযুক্ত। বিশ্বকাপটা তাদের জন্য অনেকটা বিষাদময় হয়ে উঠেছিল।

১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের পর থেকেই লাতিন আমেরিকার জায়ান্টদের কাতারে নামা লিখে রাখে উরুগুয়ে। ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলার পর আরেকটি সেমিফাইনাল খেলতে লা সেলেস্তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছিল ৪০ বছর। ২০১০ সালে দিয়েগো ফোরলান, লুইস সুয়ারেজদের কল্যাণে সেমিতে উঠেছিল তারা। এরপরের বছর কোপা আমেরিকার শিরোপাও জিতে নেয় উরুগুইয়ানরা।

দিয়েগো ফোরলান নেই, তবুও উরুগুয়ে এবারও আন্ডারডগ হিসেবে বিশ্বকাপ শুরু করবে এবং যে কোনো অঘটন ঘটাতে পারে তারা। দলের সেরা তারকা নিঃসন্দেহে লুইস সুয়ারেজ। তার সঙ্গে রয়েছেন এডিনসন কাভানির মত অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার। এছাড়া স্ট্রাইকার ক্রিশ্চিয়ান স্টুয়ানি, মিডফিল্ডার ক্রিশ্চিয়ান রদ্রিগেজ, গ্যাস্টন র্যামিরেজ, ডিফেন্ডার ম্যাক্সি পেরেরা, দিয়েগো গোডিন, হোসে মারিয়া জিমেনেজরা রয়েছেন এবারও অস্কার তাবারেজের দলে।

এ গ্রুপে উরুগুয়ে রয়েছে রাশিয়া সৌদি আরব এবং মিসরের সঙ্গে। নিশ্চিতভাবেই গ্রুপটা সমশক্তির দলের কারণে বেশ শক্তিশালী এবং উরুগুয়ের সামনে দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে সহজে পরের রাউন্ডে চলে যাওয়ার।

Player Image

এডিনসন কাভানি

এডিনসন কাভানির নাম শুনলে প্রথমেই মনে পড়ে ঝাঁকড়া চুলের এক লম্বা মানুষের গোলমুখে দু-হাত মেলে দৌড়ানোর চিত্র। পিএসজির হয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন ফ্রেঞ্চ লিগের মাঠ। ইতোমধ্যে ইব্রাহিমোভিচকে টপকে পিএসজির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছেন।

নেইমারের সঙ্গে পেনাল্টি নিয়ে তার দ্বন্দ্ব ফুটবল বিশ্বের কারোরই অজানা নয়। নেইমার আসার আগে দলের প্রধান পেনাল্টি গ্রহণকারী ছিলেন তিনিই; কিন্তু পিএসজিতে নেইমার আসলেই বাধে বিপত্তি। দু’জনের মনোমালিন্যের অবসান ঘটে কাভানির পেনাল্টিত্যাগের মধ্য দিয়েই; কিন্তু তাতেও কী দমে ছিলেন তিনি! একের পর একে গোল করেই চলেছেন এই স্ট্রাইকার।

  • নাম: এডিনসন রবের্তো কাভানি গোমেজ
  • জন্ম : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৭
  • বয়স : ৩১
  • উচ্চতা : ৬ ফিট, ১/২ ইঞ্চি
  • পজিশন : স্ট্রাইকার
  • উরুগুয়ের হয়ে : ১০০ ম্যাচে ৪২ গোল

উরুগুইয়ান ফুটবলার কাভানির পেশাদার ফুটবলের হাতেখড়ি স্বদেশী ক্লাব দানুবিওতে। ২০০৭ সালে দক্ষিণ আমেরিকার যুব চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যেম সাতটি বড় দল তাকে কেনার আগ্রহ জানায়; কিন্তু সবাইকে চমকে ২০০৭ সালে যোগ দেন ইতালিয়ান ক্লাব পালেরমোতে। মাত্র ৪.৪৭ মিলিয়ন ইউরোতে ক্লাবটিতে যোগ দিয়ে ক্রমেই উন্নতি করে জায়গা করেন নেন মূল একাদশে।

১১ মার্চ, ২০০৭ সালে পালেরমোর হয়ে অভিষেক হয় তার। ওই ম্যাচে ০-১ গোলে পিছিয়ে ছিল পালেরমো। ৫৫ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামার ১৫ মিনিটের ভেতরে অসাধারণ ভলিতে গোল করেন কাভানি যেটা অনেকটা ১৯৮৮ ইউরো কাপের ফাইনালে মার্কো ভ্যান বাস্তেনের গোলটার মোট। প্রথম দিকে অনিয়মিত হলেও দ্বিতীয় মৌসুম থেকে নিয়মিত হন পালেরমোর একাদশে। তিন মৌসুম খেলে ১১৭ ম্যাচে ৩৭ গোল করে নাপোলিতে চলে আসেন এই স্ট্রাইকার।

২০১০ সালের জুলাই মাসে ১৭ মিলিয়ন ইউরোতে ইতালিয়ান জায়ান্ট নাপোলিতে নাম লেখান কাভানি। যোগ দিয়েই ক্লাবটিকে দেখাতে থাকেন নানা ট্রফি জয়ের স্বপ্ন। এক সময় তার এবং হিগুয়াইনের জুটি অন্যতম বিধ্বংসী ছিল ইতালিয়ান লিগে। প্রথম মৌসুমেই দলকে কোপা ইতালিয়ান কাপ জিততে সহায়তা করেন কাভানি।

ফাইনালে জুভেন্টাসের বিপক্ষে একটি গোলও করেন। সেই টুর্নামেন্টে ৫ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কারও যেতেন তিনি। পরের দু’ মৌসুম তার দল নাপোলি ভালো করতে না পারলেও নিজে ছিলেন উজ্জ্বল। ২০১২-১৩ মৌসুমে নীলজার্সিধারীদের হয়ে লিগে করে ২৯ গোল। তখন সদ্যই শক্তিশালী হয়ে ওঠে পিএসজির নজরে আসেন তিনি। ৬৪ মিলিয়ন ইউরোতে পিএসজিতে যোগ দেন এই স্ট্রাইকার। এর আগে নাপোলির হয়ে তিন মৌসুমে ১৩৮ ম্যাচে করেন ১০৪ গোল।

২০১৩ সালের ৯ আগস্ট পিএসজির হয়ে ফ্রেঞ্চ লিগে অভিষেক হয় তার। ঐ মাসেরই ১৮ই আগস্ট আজাসিওর বিপক্ষে ফ্রেঞ্চ লিগে নিজের প্রথম গোলটি পেয়ে যান কাভানি। এরপর তিনি শুধু ছুটছেনই। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ইব্রাহিমোভিচের রেকর্ড ১৫৯ গোলকে টপকে পিএসজির ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা অন কাভানি। পিএসজির হয়ে জয় করেন চারটি লিগ শিরোপা, চারটি কোপা দেফ্রান্স এবং চারটি কোপা ডি লিগা।

উরুগুয়ের জাতীয় দলেও নিজের ফর্ম ধরে রেখেছেন দীর্ঘদিন ধরে। ২০০৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কলম্বিয়ার বিপক্ষে উরুগুয়ে জাতীয় দলের হয়ে প্রথমবারের মোট সুযোগ পান কাভানি। নিজের প্রথম গোলটি করেন ওই ম্যাচেই। ২০১০ বিশ্বকাপটা ছিল উরুগুয়ের জন্য মনে রাখার মোট একটি টুর্নামেন্ট।

সেই টুর্নামেন্টের তৃতীয় নির্ধারণী ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে একটি গোলও করেন কাভানি। ২০১৮ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পাশাপাশি উরুগুয়েকে সাহায্য করেন বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে। জাতীয় দলের হয়ে ১০০তম ম্যাচে ওয়েলসের বিপক্ষে ১টি গোলও করেন তিনি। উরুগুয়ের হয়ে সব মিলিয়ে তার গোলসংখ্যা ৪২টি। লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে জুটি বেধে রাশিয়া বিশ্বকাপেও উরুগুয়েকে ভালো কিছু উপহার দেয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন তিনি।

Coach Image

অস্কার তাবারেজ

অস্কার তাবারেজ। ১৯৪৭ সালের ৩ মার্চ উরগুয়ের রাজধানী মন্টেভিডিওতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পেশাদার ফুটবলে তিনি ছিলেন একজন ডিফেন্ডার। ১২ বছরের ফুটবল ক্যারিয়ারে খেলেছেন উরুগুয়ের ক্লাব সুদ আমেরিকা, ফেনিক্স, বেলা ভিস্তা, আর্জেন্টিনার ক্লাব স্পোর্তিভো ইতালিয়ানো এবং মেক্সিকোর ক্লাব পিউবেলাতে। মাত্র ৩২ বছর বয়সেই ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে নেমে পড়েন কোচিং ক্যারিয়ারে। যেখানে তিনি ছিলে অন্য সবার থেকে অনেক বেশি উজ্জ্বল।

১৯৮০ সালে বেলা ভিস্তার হয়ে কোচিং ক্যারিয়ারের শুরু তাবারেজের। ক্লাবটির হয়ে তিন বছর দায়িত্ব পালন করার পর ১৯৮৩ সালে উরুগুয়ের বয়সভিত্তিক দলের কোচ হন তিনি। ১৯৮৩ সালের প্যান আমেরিকান গেমসে এই দলটি নিয়েই গোল্ড মেডেল জয় লাভ করেন তিনি।১৯৮৫ সালে মন্টেভিডিও ওয়ান্ডারার্সের পর ১৯৮৭ সালে যোগ দেন উরুগুয়ের শীর্ষ ক্লাবে পেনারলের কোচ হিসেবে। তার অধীনেই পেনারল নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে পঞ্চমবারের মত কোপা লিবারতোদরেস টুর্নামেন্ট জয় করে ফাইনালে আমেরিকা দে সালিকে হারিয়ে।

তার সাফল্যে মুগ্ধ হয়ে যায় পুরো উরুগুয়ে। প্রথম মেয়াদে তাকে উরুগুয়ের কোচ করা হয় ১৯৮৮ সালে। দেশটির হয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে কোচ হিসেবে ১৯৮৯ সালের কোপা আমেরিকাতে ডাগ আউটে দাঁড়ান তিনি। ব্রাজিলের মারাকানা স্টেডিয়ামে ডিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনার কাছে ফাইনালে হেরে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাকে।

১৯৯০ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের মাত্র ৪টি ম্যাচে দায়িত্ব পেয়েছিলেন তাবারেজ। ইতালিতে অনুষ্ঠিত হওয়া সেই বিশ্বকাপে স্পেন, বেলজিয়াম এবং দক্ষিণ কোরিয়াকে টপকে দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা করে নেয় তাবারেজের উরুগুয়ে। কিন্তু সেখানে স্বাগতিক দেশ ইতালির কাছে হের টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় তারা। ৩৪টি ম্যাচ উরুগুয়ের দায়িত্বে থাকার পর তাকে বহিষ্কার করে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।

উরুগুয়ের কোচের দায়িত্ব হারালেও ক্লাব পর্যায়ে তার কদর ছিল চড়া। ১৯৯১ সালে যোগ দেন আর্জেন্টিনার শীর্ষ পর্যায়ের ক্লাব বোকা জুনিয়র্সে। দুই মৌসুম পর ১৯৯৪ সালে যোগ দেন ইতালিয়ান ক্লাব কালিয়ারিতে। ১৯৯৬ সালে এক মৌসুমের জন্য ছিলেন ইতালির শীর্ষ ক্লাব এসি মিলানের কোচ। সেখান থেকে ১৯৯৭ সালে যান স্প্যানিশ ক্লাব ওভিয়েদোতে।

আবার ফিরে আসেন কালিয়ারিতে। ১৯৯৯ সালে এখান থেকে আর্জেন্টিনার ক্লাব ভেরেজ সার্সফিল্ডের কোচের দায়িত্ব নিতে আর্জেন্টিনায় আসেন তিনি। ২০০২ সালে ছিলে বোকা জুনিয়র্সের কোচ। চার বছর ফুটবল থেকে দূরে ছিলেন। কিন্তু তারপর বর্ষীয়ান এই কোচ যেন নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মিশনে আবার উরুগুয়ের কোচ হয়ে আসেন।

২০০৬ সালে উরুগুয়ের কোচ হয়ে আস্তে আস্তে সাফল্যের উচ্চশিখরে উঠতে থাকেন তিনি। ২০০৭ সালের কোপা আমেরিকায় তার অধীনে উরুগুয়ে চতুর্থ স্থান দখল করেন। সেমিফাইনালে ব্রাজিলের কাছে পেনাল্টি শুট আউটে হেরে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে ৩-১ গোলে হেরে এই স্থান অর্জন করে তারা। ২০১০ বিশ্বকাপ ছিল ৪০ বছর পর উরুগুয়ের সবচেয়ে মর্যাদাকর বিশ্বকাপ।

ফ্রান্স, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং মেক্সিকোকে টপকে গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করে নকআউট পর্বে যায় তারা। সেখানে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ঘানার বিপক্ষে পেনাল্টি শুট আউটে জয়লাভ করে সেমিতে ওঠে তাবারেজের দল। কোয়ার্টারে শেষ মিনিটে আসামোয়া জিয়ানের শট হাত দিয়ে রুখে দেওয়া ঘটনা এখনো বিশ্ব ফুটবলে আলোচনার বিষয়। সেমিতে নেদারল্যান্ডসের কাছে ২-৩ গোলে হেরে বিদায় নেয় তারা। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও একই ব্যবধানে তাদের হারতে হয় জার্মানির কাছে।

বিশ্বকাপের সাফল্য তাবারেজ বয়ে নিয়ে আসেন ২০১১ কোপা আমেরিকাতে। আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত হওয়া এই টুর্নামেন্টে উরুগুয়েকে ১৫তম বারের মত শিরোপা জয় করতে সাহায্য করেন তিনি। ২০১৩ সালের অলিম্পিক গেমসে লুইস সুয়ারেজ, কাভানির মত তারকাদের নিয়েও স্বর্ণ জয় করতে পারেন নি তাবারেজ। ২০১৩ সালের ফিফা কনফেডারেশন্স কাপে সেমিতে ব্রাজিলের কাছ হেরে বিদায় নেয় তারা। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ তেমনটা জুতসই ছিলনা তাবারেজের জন্য। বাছাইপর্বে পঞ্চম স্থান দখল করে জর্ডানের বিপক্ষে প্লে-অফ জিতে মূল পর্বে জায়গা করে নেয় তারা। প্রথম ম্যাচ কোস্টার রিকার বিপক্ষে হেরেও ইংল্যান্ড এবং ইতালির বিপক্ষে জিতে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় তারা। যদিও সেখানে কলম্বিয়ার বিপক্ষে হেরে বিদায় নেয় টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় তাবারেজের উরুগুয়ে।

২০১৫ সালের কোপা আমেরিকাতে আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে এবং জ্যামাইকার গ্রুপে পড়ে তৃতীয় হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে উরুগুয়ে। সেখানে চিলির বিপক্ষে ইসলার বিতর্কিত গোলে ১-০ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় উরুগুয়ে। সেই ম্যাচে রেফারির সাথে বিবাদে জড়িয়ে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছিলেন তাবারেজ। ২০১৬ শতবর্ষী কোপা আমেরিকাতে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় তাবারেজের দলকে।

২০১৮ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে দ্বিতীয় হয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নেয় তাবারেজের উরুগুয়ে। দীর্ঘদিন উরুগুয়ের দায়িত্ব থাকার কারণে বিশ্বফুটবলে অনেকগুলো রেকর্ডও জমা পড়েছে তার ঝুলিতে। জাতীয় দলের কোচ হিসেবে ১৭৩টি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি যা চতুর্থ সর্বোচ্চ। তাছাড়া বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে এক দেশের হয়ে কোচ হিসেবে সর্বোচ্চ ৪৭টি ম্যাচে দায়িত্ব পালনের রেকর্ডটিও তার দখলে।

কোপা আমেরিকাতেও কোচ হিসেবে সর্বোচ্চ ২৬টি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করার রেকর্ডটিও তার। সর্বোচ্চ ৫টি কোপা আমেরিকা টুর্নামেন্টে দলের কোচ হিসেবে ছিলেন তাবারেজ। ফিফার সর্বোচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন সম্মাননা ‘ফিফা অর্ডার অফ মেরিট’ এ ভূষিত হন তাবারেজ।

উরুগুয়ের ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত দল

গোলরক্ষক : ফার্নান্দো মুসলেরা, মার্টিন সিলভা, মার্টিন ক্যাম্পানা।

ডিফেন্ডার : দিয়েগো গোডিন, সেবাস্তিয়ান কোয়াটস, হোসে মারিয়া গিমেনেজ, ম্যাক্সিমিলিয়ানো পেরেইরা, গ্যাস্টন সিলভা, মার্টিন ক্যাসেরেস, গুইলার্মো ভারেলা।

মিডফিল্ডার : নাহিটান নান্দেজ, লুকাস তোরেইরা, ম্যাতিয়াস ভেকিনো, রদ্রিগো ভেনটাঙ্কুর, কার্লোস সানচেজ, ক্রিশ্চিয়ান রদ্রিগেজ, দিয়েগো ল্যাক্সালত।

স্ট্রাইকার : ক্রিশ্চিয়ান স্টুয়ানি, ম্যাক্সি গোমেজ, এডিনসন কাভানি, লুইস সুয়ারেজ, জোনাথন ইউরেটাভিসকিয়া, জিওর্জিয়ান ডি অ্যারাসকায়েতা।

উরুগুয়ে

প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ
১৬ মে, ১৯০১, মন্টেভিডিও
উরুগুয়ে ২ : ৩ আর্জেন্টিনা

সবচেয়ে বড় জয়
২০ জুলাই, ১৯০২, লিমা, পেরু
উরুগুয়ে ৯ : ০ বলিভিয়া

সবচেয়ে বড় হার
২০ জুলাই, ১৯০২, মন্টেভিডিও
উরুগুয়ে ০ : ৬ আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ : এবার নিয়ে ১৩ বার, চ্যাম্পিয়ন : ২ বার (১৯৩০, ১৯৫০)
কোপা আমেরিকায় অংশগ্রহণ : ৪৫ বার, চ্যাম্পিয়ন : ১৫ বার (১৯১৬, ১৯১৭, ১৯২০, ১৯২৩, ১৯২৪, ১৯২৬, ১৯৩৫, ১৯৪২, ১৯৫৬, ১৯৫৯, ১৯৬৭, ১৯৮৩, ১৯৮৭, ১৯৯৫, ২০১১)।
ফিফা কনফেডারেশন্স কাপে অংশগ্রহণ : ২বার, সর্বোচ্চ ফল : সেমিফাইনাল (চতুর্থ : ১৯৯৭, ২০০৩)
সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা খেলোয়াড় : ম্যাক্সি পেরেইরা (১২৪ ম্যাচ)
সর্বোচ্চ গোলদাতা : লুইস সুয়ারেজ (৫০টি)

যেভাবে রাশিয়া বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করলো উরুগুয়ে

উরুগুয়ে ১-৪ ব্রাজিল
উরুগুয়ে ০-০ আর্জেন্টিনা
উরুগুয়ে ৩-০ কলম্বিয়া
উরুগুয়ে ১-০ পেরু
উরুগুয়ে ৩-০ চিলি
উরুগুয়ে ৪-০ প্যারাগুয়ে
উরুগুয়ে ২-১ ইকুয়েডর
উরুগুয়ে ৪-২ বলিভিয়া
উরুগুয়ে ৩-০ ভেনিজুয়েলা
ব্রাজিল ২-২ উরুগুয়ে
আর্জেন্টিনা ১-০ উরুগুয়ে
কলম্বিয়া ২-২ উরুগুয়ে
পেরু ২-১ উরুগুয়ে
চিলি ৩-১ উরুগুয়ে
প্যারাগুয়ে ১-২ উরুগুয়ে
ইকুয়েডর ২-১ উরুগুয়ে
বলিভিয়া ০-২ উরুগুয়ে
ভেনিজুয়েলা ০-০ উরুগুয়ে

বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের পয়েণ্ট টেবিল

অবস্থান

দল

ম্যাচ

জয়

ড্র

পরাজয়

গোল পার্থক্য

পয়েন্ট

ব্রাজিল

১৮

১২

+৩০

৪১

উরুগুয়ে

১৮

  ৯

+১২

৩১

আর্জেন্টিনা

১৮

+৩

২৮

কলম্বিয়া

১৮

+২

২৭

পেরু

১৮

+১

২৬

চিলি

১৮

−১

২৬

প্যারাগুয়ে

১৮

−৬

২৪

ইকুয়েডর

১৮

১০

−৩

২০

বলিভিয়া

১৮

১২

−২২

১৪

১০

ভেনিজুয়েলা

১৮

১০

−১৬

১২

 

সময়সূচি

১৫ জুন, ২০১৮, ০৬:০০ পিএম

গ্রুপ এ , একাতেরিনবার্গ স্টেডিয়াম

মিসর মিসর ০ - ১ উরুগুয়ে উরুগুয়ে

ম্যাচ রিপোর্ট
২০ জুন, ২০১৮, ০৯:০০ পিএম

গ্রুপ এ , রোস্তভ এরেনা

উরুগুয়ে উরুগুয়ে ১ - ০ সৌদি আরব সৌদি আরব

ম্যাচ রিপোর্ট
২৫ জুন, ২০১৮, ০৮:০০ পিএম

গ্রুপ এ , সামারা এরেনা

উরুগুয়ে উরুগুয়ে ৩ - ০ রাশিয়া রাশিয়া

ম্যাচ রিপোর্ট
৩০ জুন, ২০১৮, ১২:০০ এএম

গ্রুপ , ফিশ্ট স্টেডিয়াম

উরুগুয়ে উরুগুয়ে ২ - ১ পর্তুগাল পর্তুগাল

ম্যাচ রিপোর্ট
০৬ জুলাই, ২০১৮, ০৮:০০ পিএম

গ্রুপ , নিঝনি নভগোরদ স্টেডিয়াম

ফ্রান্স ফ্রান্স ২ - ০ উরুগুয়ে উরুগুয়ে

ম্যাচ রিপোর্ট

আরও

পৃথিবীর ৩৫০ কোটি মানুষের বিশ্বকাপ দেখার রেকর্ড

পৃথিবীর ৩৫০ কোটি মানুষের বিশ্বকাপ দেখার রেকর্ড

বিশ্বকাপ ফুটবলকে বলা হয় ‘গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থ’। কেন বিশ্বকাপকে এই...

মাঠে ফুটবলাররা বারবার কুলি করেন কেন?

মাঠে ফুটবলাররা বারবার কুলি করেন কেন?

ফুটবলাররা যে তরল বস্তু কুলি করে ফেলছেন তা আসলে পানি নয়, সেসব...

জাগো নিউজ-গুডলাক বিশ্বকাপ কুইজের পুরস্কার বিতরণ

জাগো নিউজ-গুডলাক বিশ্বকাপ কুইজের পুরস্কার বিতরণ

রাশিয়া বিশ্বকাপের জমজমাট আসর শেষ হয়েছে কিছুদিন আগে। তবে বিশ্বকাপের আমেজ এখনও...

‘বিশ্বকাপে জার্মানির বিপর্যয়ের কারণ ওজিল নয়’

‘বিশ্বকাপে জার্মানির বিপর্যয়ের কারণ ওজিল নয়’

বিশ্বকাপের ইতিহাসে একবারই মাত্র প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল জার্মানিকে। সেই...