আইসিডিডিআরবির অবদানের প্রশংসা করলেন যুক্তরাজ্যের মন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৪:৫৯ পিএম, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ব্রিটেনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন এবং নারী ও সমতাবিষয়ক মন্ত্রী পেনি মরডন্ট তার সংক্ষিপ্ত বাংলাদেশ সফরকালে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) পরিদর্শন করেছেন।

মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) আইসিডিডিআর-বি ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় তিনি সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচানোয় জনস্বাস্থ্য প্রচেষ্টায় আইসিডিডিআরবি ও যুক্তরাজ্যের কয়েক দশকের দীর্ঘ অংশীদারত্বের প্রশংসা করেন।

পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার অ্যালিসন বেইক, যুক্তরাজ্যের উন্নয়ন সংস্থা ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ডিএফআইডি) বাংলাদেশের প্রধান জিম ম্যাকআলপিন এবং ডিএফআইডির প্রতিনিধিদল।

পেনি মরডন্ট মহাখালীতে অবস্থিত আইসিডিডিআর,বি-র ঢাকা হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র, বিভিন্ন ওয়ার্ড, মাতৃদুগ্ধদান পরামর্শ কক্ষ, টিকাদান কক্ষ, পুষ্টি পুনর্বাসন ইউনিট এবং গবেষণাগার ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি হাজার হাজার মানুষকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করায় আইসিডিডিআরবি-র ভূয়সী প্রশংসা করেন।

পেনি মরডন্টের কাছে আইসিডিডিআর,বি-র পুষ্টি ও ক্লিনিক্যাল সার্ভিসেস বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বিগত চার দশকের বেশি সময় ধরে চলমান আইসিডিডিআরবি-যুক্তরাজ্যের দীর্ঘ অংশীদারত্বের বিভিন্ন অর্জন তুলে ধরেন। এ সময় তিনি আইসিডিডিআর,বি-র সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম উদ্ভাবন শিশুদের মারাত্মক নিউমোনিয়া এবং অক্সিজেন স্বল্পতার চিকিৎসায় সাশ্রয়ী বাবল সিপ্যাপের বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করেন।

এর বাইরেও ইয়েমেন, ইথিওপিয়া, সুদানে মানবিক মানবিক বিপর্যয় মোকাবেলায় অংশগ্রহণসহ কক্সবাজারে চলমান রোহিঙ্গ্যা সংকটে আইসিডিডিআর,বি-র কার্যক্রম সম্পর্কে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।

ICDDRB-2

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী মরডন্ট জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে দেশে-বিদেশে আইসিডিয়ার,বি-র দীর্ঘ অবদানের প্রশংসা করে বলেন, ‘আইসিডিডিআরবি এবং ডিএফআইডির মাঝে বিদ্যমান অংশীদারত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং আমরা প্রতিবছর হাজারও মানুষের জীবন বাঁচানোয় আইসিডিডিআরবির গবেষণা ও অন্যান্য উদ্যোগে সহায়তা করতে পেরে গর্বিত। বিশ্বজুড়ে সংকটপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায়ও মানুষের জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে আইসিডিডিআরবি অসামান্য ভূমিকা রয়েছে।’

সফরকালে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে, নতুন নতুন গবেষণা এবং চিন্তাভাবনা সম্পর্কে জেনে মুগ্ধ হয়েছেন বলে জানান মন্ত্রী পেনি মরডন্ট।

ডায়রিয়ার প্রকোপরোধে খুবই ক্ষুদ্র পরিসরে ১৯৬০ সালে ঢাকায় এবং ১৯৬৪ সালে চাঁদপুরের মতলবে গবেষণার কাজ শুরু করে আইসিডিডিআরবি (পূর্বের নাম কলেরা রিসার্চ ল্যাবরেটরি)। বিগত ছয় দশকে খাবার স্যালাইনসহ নানা যুগান্তকারী উদ্ভাবন এবং গবেষণার মাধ্যমে সংস্থাটি ডায়রিয়া, কলেরা, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য হুমকি থেকে লাখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে।

আইসিডিডিআরবির এই যুগান্তকারী কার্যক্রমে যে কয়েকটি দেশ অসামান্য অবদান রাখছে যুক্তরাজ্য তাদের মধ্যে অন্যতম। যুক্তরাজ্য ১৯৭৫ সাল থেকে আইসিডিডিআরবিকে সহায়তা দিয়ে আসছে যা স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে সংস্থাটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে বিশেষ অবদান রেখেছে। এ পর্যন্ত দেশটি আইডিডিডিআরবিকে ৩৬ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড সহায়তা করেছে। সফরকালে পর্যবেক্ষণদলটি আইসিডিডিআরবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেছেন।

এমইউ/এসআর/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :