Jago News logo
Banglalink
ঢাকা, শনিবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৭ | ১৬ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

দেশে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে


নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২:১৪ এএম, ১০ জানুয়ারি ২০১৭, মঙ্গলবার
দেশে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে

বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগের হার দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশেষত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস সংক্রান্ত জটিলতা এখন উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে খাদ্যাভাস পরিবর্তনের মাধ্যমে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি ইচ্ছা করলেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ জন্য সচেতনতার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার, অধিক ফল, বেশি করে সবজিগ্রহণ ও মানুষের খাদ্যাভাস পরিবর্তন জরুরি।

সোমবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভাসের প্রভাব’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি।

সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) নামে একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এ সেমিনারের আয়োজন করে। আয়োজনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনপ্রশাসন বিভাগ, পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, কানাডার ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুরের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্র (আইডিআরসি) এর অর্থায়নে গবেষণা কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ‘বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভাসের প্রভাব’ শীর্ষক গবেষণার টিম লিডার ডা. মোহাম্মদ রেজাউল করিম। গবেষণা কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরেন সিএনআরএস পরিচালক এম আনিসুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডা. নুজহাত জাহান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনপ্রশাসন বিভাগের সভাপতি ড. আখতার হোসেনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সি. ইমদাদ হক প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশে ফাস্ট ফুড গ্রহণের মাত্রা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। ফাস্ট ফুড গ্রহণ যাতে না বাড়ে সে জন্য সচেতনতার পাশাপাশি আমাদের ভেজালবিরোধী অভিযান জোরালো করা দরকার। তিনি ‘জাংক ফুড’ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে কঠোর আইন করার কথা উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা খাদ্যের পুষ্টিগুণ তুলে ধরতে গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন। একই সঙ্গে তারা নিরাপদ খাবার নিশ্চিতে ও এই বিষয়ে সাফল্য আনতে বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং কৃষক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তার মধ্যে কার্যকরী যোগসূত্র স্থাপনের আহ্বান জানান।

গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশে প্রায় ৫১ শতাংশের অধিক অসংক্রামক রোগে মারা যায়। এদের বড় একটা অংশ হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারে আক্রান্ত।

এতে উল্লেখ করা হয়, আগের চেয়ে শহর ও গ্রামে প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণের হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ২০১৪ সালের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শহরে ভোক্তাদের প্রায় ৭০ শতাংশের অধিক এবং গ্রামে ৫৯ শতাংশ মানুষ কোন না কোনভাবে ক্ষতিকর এই প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ করে। জরিপে বলা হয়, সবজি ও ফল আগের চেয়ে কম খাওয়ার কারণে এই প্রবণতা বাড়ছে।

বাংলাদেশের ১৬টি উপজেলা ও ৮ জেলায় এই গবেষণা কার্যক্রম চালানো হয়। জেলাগুলো হচ্ছে খুলনা, সাতক্ষীরা, মৌলভী বাজার, সিলেট, সুনামগঞ্জ, শেরপুর, জামালপুর ও পাবনা।

এমএ/বিএ

আপনার মন্তব্য লিখুন...