Jago News logo
Banglalink
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ জুন ২০১৭ | ১৩ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

ধর্মঘটে নতি স্বীকার : কোম্পানির দামেই বিক্রি হচ্ছে হার্টের রিং


মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল, বিশেষ সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০২:৩৪ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০১৭, বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৫:৫৩ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০১৭, বৃহস্পতিবার
ধর্মঘটে নতি স্বীকার : কোম্পানির দামেই বিক্রি হচ্ছে হার্টের রিং

একদিন বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সরকারি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের ক্যাথল্যাবে হৃদরোগীদের স্টেন্ট (রিং) অস্ত্রোপচার পুনরায় শুরু হয়েছে।

স্টেন্ট লাগানোর কার্যক্রম পুনরায় শুরুর তথ্যটি আশাব্যঞ্জক হলেও রোগীদেরকে সরকার নির্ধারিত নয়, কোম্পানি নির্ধারিত আগের দামেই রিং কিনতে হচ্ছে।

ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের নির্ধারিত দামে রিং বিক্রি করতে হবে না, এমন শর্ত হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের শীর্ষ কর্মকর্তারা মেনে নেয়ার পরই কেবল কোম্পানিগুলো রিং সরবরাহ শুরু করে।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের একাধিক ক্যাথল্যাবে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ জন রোগীর দেহে রিং লাগানো হয়। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের একাধিক চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের একজন চিকিৎসক বলেন, কোম্পানিগুলোর কাছে হাসপাতাল পরিচালক তথা ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের অসহায় আত্মসমর্পণ শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলাম।

রোগীদের চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার দোহাই দেয়া হলেও বাস্তবে সরকার রহস্যজনক কারণে কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করেছে বলেও মন্তব্য তার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর সম্প্রতি তাদের কাছে রেজিস্ট্রেশনভুক্ত ২১টি কোম্পানির ৪৭ প্রকারের রিংয়ের মূল্য নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ১৭ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে।

বিশেষজ্ঞ কমিটির কাছ থেকে রিংয়ের যুক্তিসঙ্গত মূল্য নির্ধারণ ও অনুমোদন করিয়ে সেই দাম প্রতিটি রিংয়ের গায়ে উল্লেখ করা এবং উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ বাধ্যতামূলকভাবে উল্লেখ করতে কোম্পানিগুলোকে বলা হয়।

গত মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, চারটি কোম্পানি দুই ধরনের রিং (বেয়ার মেটাল ও ড্রাগ ইলুইটিং) সর্বনিম্ন মূল্যে যথাক্রমে ২৫ হাজার ও ৫০ হাজার টাকায় বিক্রির প্রস্তাব করেছে।

তিনি জানান, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রতিটি কোম্পানিকে প্রতিটি রিংয়ের গায়ে দাম, উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ উল্লেখ করতে হবে। এ তিন শর্ত পালন না করলে রিং অননুমোদিত বলে গণ্য হবে। এছাড়া চারটি কোম্পানি যারা স্বেচ্ছায় মূল্য নির্ধারণ করবে জানিয়েছে তাদের রিং ২৫ হাজার ও ৫০ হাজার টাকার বেশি মূল্যে রাখা যাবে না।

এ খবরটি পত্রপত্রিকায় প্রকাশ হলে বুধবার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন হাসপাতালে অঘোষিত ধর্মঘটের ডাক দেয় রিং সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো। ফলে গতকাল (বুধবার) রিং লাগানোর কাজ বন্ধ থাকে।

আগের দামে রিং বিক্রি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান বৃহস্পতিবার দুপুরে জাগো নিউজকে বলেন, কোম্পানিগুলো খুব শিগগিরই প্রতিটি রিংয়ের গায়ে মূল্য লিখে দেবে। মোড়কে লেখা মার্কেটিং রিটেইল প্রাইস (এমআরপি) মূল্যে রিং বিক্রি করতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আফজাল হোসেনের সঙ্গে সকাল থেকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এমইউ/জেডএ/এসআর/পিআর

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Jagojobs