জেনারেটর বদলাতে পঙ্গুতে ৫ ঘণ্টার লোডশেডিং!

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০২:৪৭ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০১৭

৪০ বছরের পুরনো জেনারেটর বদলাতে গিয়েই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় অর্থোপেডিক (পঙ্গু) ও পুনর্বাসন হাসপাতাল শুক্রবার টানা পাঁচ ঘণ্টা অন্ধকারে ডুবে ছিল।

সড়ক দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন ধরনের হাড়ভাঙা রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার একমাত্র সরকারি এ হাসপাতালে টানা কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে জরুরি বিভাগের আগত রোগীদের নিদারুণ ভোগান্তি পোহাতে হয়। হাসপাতালের ইনডোরেও চিকিৎসাসেবা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। জরুরি বিভাগে আসা রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসক, নার্স ও ওয়ার্ডবয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলের গলদঘর্ম হতে হয়। শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পঙ্গু হাসপাতাল ঘুটঘুটে অন্ধকারে ডুবে যায়।

পঙ্গু হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে পঙ্গু হাসপাতালের জরুরি বিভাগে বিকেলের শিফটে প্রতিদিন গড়ে দেড় শতাধিক রোগী আসে। তাদের অধিকাংশেরই ছোটবড় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। শুক্রবার পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম বিপত্তি ঘটে। বিশেষ করে সন্ধ্যা নামতে না নামতেই জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন এমন রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে গিয়ে চিকিৎসকদের বিপাকে পড়তে হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক চিকিৎসক ও নার্স জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক রোগীর অস্ত্রোপচারে বিলম্ব ঘটেছে। জরুরি অস্ত্রোপচারও মোমের আলোতে করতে হয়েছে। তবে তাদের আন্তরিকতার ঘাটতি ছিল না বলে মন্তব্য করেন।

ইনডোরে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের অভিভাবকরা জানান, লোডশেডিং এর কারণে মুমূর্ষু রোগীরা হাঁপিয়ে উঠেছিল। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে আলো না থাকায় ভূতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল।

হাসপাতালের পরিচালক মো. আবদুল গণি মোল্লার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালের জেনারেটরটি চল্লিশ বছরের পুরনো। লোডশেডিং হলে পুরনো এই জেনারেটরটি দিয়ে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছিল। সরকারি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) গত কয়েকসপ্তাহ যাবত নতুন জেনারেটর স্থাপনের কাজ করছিল। শুক্রবার ছুটির দিনে নতুন জেনারেটর স্থাপনের চূড়ান্ত কাজ করার ফলে কয়েকঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। নতুন জেনারেটর স্থাপনের ফলে এখন আর লোডশেডিং এর কারণে অস্ত্রোপচারসহ অন্যান্য চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যাঘাত ঘটবে না।

বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হয়েছে স্বীকার করে আবদুল গণি মোল্লা বলেন, প্রতিদিন বিকেলের শিফটে দেড়শতাধিক অস্ত্রোপচার হয়। লোডশেডিং এর কারণে অন্যান্য দিনেরমতো স্বাভাবিক উপায়ে অস্ত্রোপচার করা যায়নি। তবে লোডশেডিং থাকলেও বড় কোনো ঝামেলা হয়নি।

একে/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :