‘বি রেডি, বাড়ি চলে যেতে হবে’

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৩:৫১ পিএম, ২৮ নভেম্বর ২০১৭

‘আমরা যে কীভাবে সাসটেইন করছি তা একমাত্র উপর আল্লাহই জানেন। এটা কাউকে বলার না, আমি আগের মিটিংয়ে বলেছিলাম, সে কথাটা আবারও বলতে হচ্ছে, প্রথম যেদিন মিটিংয়ে এসেছিলাম সেদিন আমি আমার মিসেসকে বলেছিলাম, হয়তো আর ব্যবসা করা যাবে না,বাড়ি চলে যেতে হবে, বি রেডি।’

মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১২টায় রাজধানীর মহাখালীর ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এসব কথা বলছিলেন মেডিকেল ডিভাইস আমদানিকারক কোম্পানির পক্ষে দেশীয় (লোকাল ) এজেন্ট মুক্তিযোদ্ধা এক ব্যবসায়ী।

হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত পেসমেকার ও ভাল্বের মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত এই বৈঠকে বক্তৃতাকালে তিনি অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমানকে উদ্দেশ করে কথাগুলো বলছিলেন। তিনি ব্যবসায়িক হতাশাজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে উল্লেখ করেন তার বক্তব্যে।

এ সময় মহাপরিচালক তাকে বলেন, ‘আপনার ব্যবসা কেন বন্ধ হবে, আপনি কেন বাড়ি যাবেন। আমরা মার্কআপ অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করে দেবো। আপনার এতটুকু ক্ষতিও হবে না।’

mu

এ সময় ও্ই ব্যবসায়ী আবার বলেন, অবসর ভাতা ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতা দিয়ে সংসার চালাতে পারবে কি না হিসাব করে দেখতে মিসেসকে বলেছিলাম।

ব্যবসায়ী বলেন, পেসমেকার ও ভাল্বের বাজার খুবই সীমিত। বছরে এক হাজার দুইশ’ ভাল্ব ও এক হাজার আটশ’-টি পেসমেকারের চাহিদা রয়েছে। এ মেডিকেল ডিভাইস বাতজ্বর বিশেষ করে গরিব রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। ওষুধ প্রশাসনের উদ্যোগের ফলে স্ট্যান্টের (রিং) মূল্যে যে হারে কমেছে পেসমেকার ও ভাল্বের দাম সেভাবে কমবে না কারণ আমরা আগে থেকে ব্যবসার চেয়ে মানবিক দৃষ্টিকোণকে প্রাধান্য দিয়েছি।

ব্যবসায়ীদের নানা হতাশার কথা শুনে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক কৌতুকচ্ছলে বলেন, ব্যবসায়ীরা কখনও লাভের কথা স্বীকার করেন না, তারা কথাই শুরু করেন ব্যবসায় শুধু লসই হয়।

এমইউ/জেডএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :