ঢামেকে বিনামূল্যে ওষুধ পাচ্ছে না শ্বাসকষ্টের শিশু রোগীরা

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০১:২২ পিএম, ০৯ জানুয়ারি ২০১৮
ঢামেকে বিনামূল্যে ওষুধ পাচ্ছে না শ্বাসকষ্টের শিশু রোগীরা

‘বাচ্চার বয়স কত?’ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের শিশু বহির্বিভাগে সম্প্রতি চিকিৎসা নিতে আসা এক অসুস্থ শিশুর মায়ের কাছে এভাবেই বয়স জানতে চাইছিলেন চিকিৎসক। প্রশ্নোত্তরে শিশুটির মা জানায়, ‘স্যার, ওর বয়স ৫ বছর।’ বয়স শুনে চিকিৎসক বলেন, এই ট্যাবলেটটি দুই ভাগ করে অর্ধেক অংশ করে খাওয়াবেন, খেয়াল রাখবেন ভুল করে বাচ্চা যেন আবার পুরো ট্যাবলেট না খেয়ে ফেলে।

দেশের অন্যতম বৃহৎ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের প্রায় শতভাগ ওষুধ বিনামূল্যে দেয়ার দাবি করলেও অনুসন্ধানে জানা গেছে হাসপাতালে তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ (এআরআই) আক্রান্ত (ব্রঙ্কিওলাইটিস, অ্যাজমা ও অন্যন্য) ছোট শিশুরা বিনামূল্যে ওষুধ পাচ্ছে না।

চিকিৎসকরা বয়স ও ওজনভেদে এআরআই আক্রান্ত শিশুদের প্রধানত তিন ধরনের ডোজ ব্যবহার করেন। দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ৪ মিলিগ্রাম ও ছয় থেকে চৌদ্দ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ৫ মিলিগ্রাম এবং ১৫ বছরের ওপরের বয়সী শিশুদের জন্য ১০ মিলিগ্রাম মালটিলোকাস্ট নামের ওষুধ সেবনের নিয়ম রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢামেক হাসপাতালে শুধুমাত্র ১০ মিলিগ্রাম ডোজের মালটিলোকাস্ট ওষুধ সরবরাহ থাকায় অধিকাংশ এআরআই আক্রান্ত শিশুদের বিনামূল্যেও ওষুধ প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিশু বিভাগের একাধিক চিকিৎসক জাগো নিউজকে বলেন, দেশব্যাপী চলমান শৈত্যপ্রবাহের কারণে তীব্র শীতে ছোট শিশুরা ব্রঙ্কিওলাইটিস, অ্যাজমা, অ্যালার্জি ও অন্যান্য এআরআই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অথচ এসব শিশুদের বিনামূল্যের ওষুধ সরবরাহ করা যাচ্ছে না। বিষয়টি হাসপাতাল পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের একাধিকবার জানানো হলেও সরবরাহ না থাকার অজুহাত দেখিয়ে দায় সারছে।

তারা বলেন, হাসপাতালে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার ওষুধ কেনা হলেও শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ না থাকার বিষয়টি পীড়াদায়ক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধুমাত্র ১০ মিলিগ্রামের ওষুধ সরবরাহ থাকায় চিকিৎসকরা শিশুদের বয়স পাঁচ বছর বা বেশি হলে প্রতি বেলায় অর্ধেক ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিচ্ছেন। একজন চিকিৎসক বলেন, ওষুধ খুলে ফেলার পর দ্বিতীয়বার সেবনে কার্যকারিতা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

শুধুমাত্র ১০ মিলিগ্রাম মালটিলোকাস্ট সরবরাহ থাকার ব্যাপারে জানতে চাইলে শিশু বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক রাজেশ মজুমদার এ তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ৪ ও ৫ মিলিগ্রামের সরবরাহ না থাকার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। বিকল্প উপায় হিসেবে পাঁচ বছর বা বেশি হলে অর্ধেক করে সেবনের পরামর্শ দিয়ে বিনামূল্যে ওষুধ দেয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

এমইউ/এআরএস/আরআইপি