বিএনপি রোগ-চিকিৎসা নিয়েও রাজনীতি করে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১১:০২ পিএম, ২৫ এপ্রিল ২০১৮

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, তারা রোগ নিয়ে, চিকিৎসা নিয়েও রাজনীতি করে। তাদের নেত্রী জেলে। আদালতের মাধ্যমেই বিএনপির নেত্রীর মুক্তি সম্ভব। তারা আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপি নেত্রীর মুক্তির কথা বলছেন, কিন্তু আন্দোলন করতে যে জনসমর্থনের প্রয়োজন বিএনপির তা নেই।

বুধবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ২১তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবসকে সামনে রেখে শহীদ ডা. মিলন হলে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তিসহ সবক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের জন্য যা চিন্তা করেন তাই বাস্তবায়ন করেন। তার নেতৃত্বে সব বাধা অতিক্রম করে বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। কারণ আওয়ামী লীগ জনগণ ছাড়া আর কাউকে ভয় পায় না।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক। চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণার প্রতি তার বিশেষ নজর রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতার ফলেই চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটে আরও তিনটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘রোগী এবং স্বাস্থ্যসেবাদানকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা আইন’ জাতীয় সংসদে পাস করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড রিসার্চ কাউন্সিলের (বিএমআরসি) সভাপতি অধ্যাপক ডা. সৈয়দ সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে ত্যাগের মনোভাব নিয়ে রোগীদের সেবা প্রদান ও নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা এবং চিকিৎসা সেবায় সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে ঘোষণার বাস্তব প্রতিফলন ঘটানোর সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সংশ্লিষ্ট সকলকে চালিয়ে যেতে হবে।

বিএসএমএমইউয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল হান্নানের সঞ্চালনায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী, স্বাচিপের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ।

শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিএসএমএমইউয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সাহানা আখতার রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী আসগর মোড়ল।

এ ছাড়া বিএসএমএমইউয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম, সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. জুলফিকার রহমান খান, শিশু কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হোসেন, অনকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জিল্লুর রহমান ভূঁইয়া প্রমুখ বক্তব্য দেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের ৩০ এপ্রিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক সদিচ্ছায় প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের প্রথম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

এমইউ/জেডএ/বিএ

আপনার মতামত লিখুন :