বিশ্ব থ্রম্বোসিস দিবস : সচেতন হলেই প্রতিরোধ সম্ভব

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:২৬ এএম, ১৩ অক্টোবর ২০১৮

কোনো কারণে শরীরের রক্তনালিতে রক্তজমাট বেঁধে গেলে তাকে থ্রম্বোসিস বলে। বিশ্বে প্রতি চারজনের মধ্যে একজন থ্রম্বোসিসের জটিলতায় মারা যান। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রতিদিন কেউ না কেউ থ্রম্বোসিসজনিত রোগ বা এর জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন কিংবা পঙ্গুত্ববরণ করছেন। অথচ সচেতন হলেই এ রোগটি প্রতিরোধ সম্ভব।

আজ বিশ্ব থ্রম্বোসিস দিবস। এ দিবসের প্রাক্কালে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের ভাসকুলার সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সাকলাইন রাসেল দিবসটির তাৎপর্য় তুলে ধরেন।

তিনি জানান, বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে বিশ্বের ৯০টি দেশে এ দিবস পালিত হচ্ছে আজ। ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের ভাসকুলার সার্জারি বিভাগে প্রথমবারের দিবসটি পালিত হবে। এ উপলক্ষে আজ দুপুর ১২টায় বারডেম মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

যে কারণে দিবসটি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

হার্ট বা রক্তনালিতে রক্তজমাট বাঁধতে পারে। একে থ্রম্বোসিস বলে। হার্টবিট অনিয়মিত থাকলে, হার্টের ভাল্বে সমস্যা থাকলে, হার্টে কৃত্রিম ভাল্ব লাগানো থাকলে, ব্লকজনিত কারণে হার্টের ওয়াল দুর্বল থাকলে হার্টের মধ্যে রক্তজমাট বাঁধতে পারে। হার্টের মধ্যে রক্ত জমে গেলে নানা ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। ব্রেইনের দিকে গেলে স্ট্রোক করতে পারে।

রক্তের দলা হাত বা পায়ের দিকেও যেতে পারে। হাত বা পায়ে গেলে নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে। হঠাৎ করে হাতে বা পায়ে তীব্র ব্যথা হবে। সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধে এ ব্যথা যাবে না। আস্তে আস্তে হাত বা পা ঠান্ডা হয়ে যাবে। নীলচে কালো হয়ে যাবে। এমনকি হাত বা পা অনুভূতিহীন হয়ে অকেজো হয়ে যেতে পারে। এ অবস্থাকে একিউট লিম্ব ইসকেমিয়া বলে।

এসব উপসর্গ দেখা দিলে মাত্র ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় হাতে থাকবে। এ সময়ের মধ্যে অপারেশন করে রক্তের দলা না সরালে অকালে হাত বা পা হারাতে হতে পারে। এসব রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে একজন ভাসকুলার সার্জন দেখাতে হবে।

অনেকের ঘাড়ে অতিরিক্ত হাড় থাকে। এ হাড় ঘাড়ের রক্তনালিতে চাপ দেয়। তখন রক্তনালি স্ফিত হয়ে সেখানে রক্তজমাট বাঁধতে পারে। জমাটবদ্ধ রক্ত হাতে গিয়ে হাত নষ্ট করতে পারে। পেটের বা বুকের মূল রক্তনালিও স্ফিত হয়ে যেতে পারে। একে এনিউরিজম বলে। এক্ষেত্রেও রক্তজমাট বেঁধে পা নষ্টের কারণ হতে পারে।

অন্যদিকে যারা বিমানে যাতায়াত করেন, বিপদ হতে পারে তাদেরও। বিমানের ইকোনোমি ক্লাসে বেশিরভাগ যাত্রী যাতায়াত করেন। ইকোনোমিক ক্লাসের সিটগুলো খুব কাছাকাছি থাকে। একেবারে একটার সাথে আরেকটা লেগে যাওয়ার দশা। ফলে মানুষ নড়াচড়া করে কম। একেবারে অনড় হয়ে বসে থাকেন।

পা-গুলো দীর্ঘসময় নড়াচাড়া না করার দরুণ ইকোনোমি ক্লাসের যাত্রীদের গভীর শিরায় ব্লক হতে পারে। একে ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস বা ডিভিটি বলে! একে ইকোনোমি ক্লাস সিন্ড্রোম বলে।

এছাড়া আরও কিছু সমস্যায় মানুষ নড়াচড়া কম করে। যেমন পায়ে প্লাস্টার লাগানো, বড় অপারেশন, প্রেগনেন্ট মা, অনেক বেশি মুটিয়ে যাওয়া, দীর্ঘসময় একভাবে শুয়ে থাকা।

ডিভিটি হলে কী হতে পারে?

২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা পেলে রোগী সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যেতে পারে। যত দেরিতে চিকিৎসা শুরু হবে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা তত কমে যাবে। ডিভিটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। পায়ের জমাটবদ্ধ রক্তের দলা ছুটলেই বিপদ!

ফুসফুসের রক্তনালি বন্ধ হয়ে মিনিটেই রোগী মারা যেতে পারে। একে পালমোনারি এম্বোলিজম বলে। বিমানে যাত্রার সময় কিছুক্ষণ পরপর পা নাড়ালে, অপারেশনের পর দ্রুত সময়ে স্বাভাবিক নড়াচড়া করলে, দীর্ঘসময় শুয়ে বা বসে না থাকলে ডিভিটি প্রতিরোধ করা যায়।

এমইউ/বিএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :