চিকিৎসার বাইরে ২৮ লাখ ডায়াবেটিস রোগী!

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৪:৫৮ পিএম, ১৪ নভেম্বর ২০১৮

নীরব ঘাতক ব্যাধি হিসেবে দেশে আবির্ভূত হচ্ছে ডায়াবেটিস। দেহে বহু ব্যাধির আহ্বায়ক এই ডায়াবেটিসে বর্তমানে দেশের ৭৩ লাখ লোক আক্রান্ত। আক্রান্তদের মধ্যে ৪৫ লাখ রোগীকে ডায়াবেটিস সেবার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। বাকি ২৮ লাখ ডায়াবেটিস রোগী চিকিৎসাসেবার আওতায় আসেননি। ডায়াবেটিস হয়েছে এমন শতকরা ৫০ ভাগ লোক জানেন না যে তাদের ডায়াবেটিস আছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এমনই এক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বুধবার বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালিত হচ্ছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘ডায়াবেটিস প্রতিটি পরিবারের উদ্বেগ’।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির উদ্যোগে সচেতনতামূলক পোস্টার লিফলেট-বিতরণ ছাড়াও বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় শাহবাগে পদযাত্রার আয়োজন করা হয়।

পদযাত্রায় সমিতির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত সমিতির, বারডেম, এনএইচএন ও এসসিডিপির উদ্যোগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে, রবীন্দ্র সরোবরসহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিনামূল্যে ডায়াবেটিস নির্ণয় করা হয়।

সকাল সাড়ে ১০টায় বারডেম মিলনায়তনে রোগী ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মধ্যে আলোচনা প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১২টায় বারডেম মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির ন্যায়পাল মেজর জেনারেল অধ্যাপক এ আর খান।

সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ কে আজাদ খানের সভাপতিত্বে সভায় সমিতির মহাসচিব মো সাইফ উদ্দিন, বারডেম হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাফর আহমেদ লতিফ। এতে অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় পরিষদের সদস্য ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

দিবসটি উপলক্ষে রেডিও টিভির মাধ্যমে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারের উদ্যোগ নেয়া হয়। এ ছাড়া সমিতির নিজস্ব প্রকাশনা কান্তি ও ডায়াবেটিস নিউজলেটার বিশেষ সংখ্যা ও কয়েকটি সংবাদপত্রে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়।

সারাদেশে অবস্থিত অধিভুক্ত সমিতিগুলো উপলক্ষে সকালে পদযাত্রা বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। সমিতির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন বিআইএইচএস ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ ও দিবসটি উপলক্ষে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করে।

এ ছাড়া এবার সারা দেশের ৮০০টি স্থানে বিনামূল্যে ডায়াবেটিস পরীক্ষার এক বিশেষ কর্মসূচি নেয়া হয়। এ কর্মসূচি ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।

কর্মসূচির আয়োজকরা বলেন, এ কারণে দেশের সব শ্রেণির মানুষকে এ রোগটি সম্পর্কে সচেতন করে তোলা প্রয়োজন। সকলেরই উচিত সময় সময় রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা করে দেখা যে, তার ডায়াবেটিস আছে কি না।

এমইউ/জেডএ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :